খেলাধুলা

সিপিএলে গায়ানার হয়ে খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজে মিরাজ

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ একটি সিরিজ শেষ করে দেশে ফেরার পর কয়েক দিনের বিশ্রাম নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার আবারও ক্রিকেটের ব্যস্ততায় ফিরছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন তিনি।

 

আজ সকালে একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ক্যারিবিয়ানের পথে রওনা হন মিরাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। এবারের সিপিএলে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলবেন এই অলরাউন্ডার।

 

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করে মিরাজ লিখেছেন, ‘নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ক্যারিবিয়ানে, সিপিএলের পথে। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে ক্যারিবিয়ান অভিযানে নামতে প্রস্তুত।’

 

সিপিএলে এবারই অবশ্য প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন না মিরাজ। ২০১৭ সালে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স তাকে দলে নিয়েছিল। তবে সেই আসরে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি তার। এবার গায়ানার জার্সিতে ক্যারিবিয়ান এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে অভিষেক হতে পারে তার।

 

আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবির জায়গায় মিরাজকে দলে নিয়েছে গায়ানা। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে নবি বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাইরে থাকায় তার বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশি অলরাউন্ডারকে বেছে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

 

চলতি সিপিএলে এখন পর্যন্ত বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে তারা। ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দলটি। ৯ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস।

 

গায়ানার সর্বশেষ ম্যাচেও এসেছে বড় জয়। জ্যামাইকা কিংসমেনকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ খেলবে গায়ানা। সেই ম্যাচেই মিরাজের মাঠে নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চুরির পর যেভাবে উদ্ধার করা হলো ক্রিকেটারের টাকা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ডভ্যান থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটার এসএম মেহরব হাসানের তিন লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার চার আসামির একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী নগরীর কাজলা মৃধাপাড়ায় তার ভাড়া বাসার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টায় রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।   তিনি জানান, চুরির ঘটনায় গ্রেফতার চারজনের মধ্যে মোজাম্মেল হক পুলিশকে জানান, চুরি হওয়া লাগেজ থেকে নেওয়া তিন লাখ টাকা তার ভাড়া বাসায় রয়েছে। পরে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে টাকাগুলো উদ্ধার করে।   জাতীয় ক্রিকেট লিগ শেষে বুধবার ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরে বিভাগীয় ক্রিকেট দল। দলের ৫৪টি লাগেজ কাভার্ডভ্যানে পাঠানো হয়েছিল। সকালে কাভার্ডভ্যান থেকে মালামাল নামানোর সময় আটটি লাগেজ কম পাওয়া যায়। এ নিয়ে ক্রিকেটার মেহরব হাসান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।   পরে বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, তারা রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলে করে চলন্ত কাভার্ডভ্যানে উঠে দরজার তালা ভেঙে আটটি লাগেজ নামিয়ে নিয়েছিলেন।   পুলিশ ওই লাগেজগুলোও উদ্ধার করে। তবে লাগেজের মধ্যে অন্যান্য মালামাল পাওয়া গেলেও তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়নি। পরে মোজাম্মেল হকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়।   এ ঘটনায় মামলা হলে বৃহস্পতিবারই আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে রুবেল আহমেদ (৩৮) নামের এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিসিবির গাড়ি থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা উদ্ধার

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত। ছবি : এক্স থেকে

মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানের দায়ে স্পেন ফুটবল দলকে ফিফার শাস্তি

ছবি : সংগৃহীত

এবার ফুলের নামেও মেসি, পাপড়িতে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা

ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগের পুত্র আর্যবীর শেবাগ। ছবি : সংগৃহীত
বাবার পথেই আর্যবীর: ১৪৩ বলে করলেন দুর্দান্ত ১৭৩ রান

ব্যাট হাতে ঝড় তোলাই ছিল তাঁর পরিচয়। বলের পর বল সীমানাছাড়া করে প্রতিপক্ষের বোলারদের বুকে কাঁপন ধরানো সেই ব্যাটার ছিলেন বীরেন্দর শেবাগ।     আগ্রাসন ব্যাটিংই যেন বিনোদন। এবার যেন সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দেখা মিলল ভারতের সাবেক ওপেনারের ছেলে আর্যবীর শেবাগের কাছ থেকে।  রক্ত বলে কথা! ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন আর্যবীর। বাবার মতোই ওপেনিংয়ে নেমে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে ১৪৩ বলের ইনিংসটি খেলেন ১৮ বছর বয়সী ব্যাটার।     দিল্লির হয়ে বিধ্বংসী ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৯ চার ও ৮টি ছক্কায়। দিল্লির মোট রানের ৫৯.৮৬ শতাংশ তার ব্যাট থেকেই এসেছে। নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করে দিল্লি।       ছেলের ব্যাটিং নিয়ে আগেই নিজের দর্শন জানিয়েছিলেন শেবাগ।     তার পরামর্শ ছিল, বড় রানের চিন্তা নয়, নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে। শেবাগ বলেছিলেন, ‘আর্যবীরকে বলেছি, চাপ থাকবেই। কিন্তু মাঠে গিয়ে স্বাধীনভাবে খেলবে। নিজের সামর্থ্য প্রকাশ করবে। বড় রান করার চিন্তা করো না।     নিজের খেলাটা খেললে বড় রান এমনিতেই আসবে।’     সেটারই প্রতিফলন যেন দেখালেন আর্যবীর। সম্প্রতি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অভিষেক হয় তার। সেখানে তিন ম্যাচে করেন ১০৯ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৪৭ রানের।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এএফসি অ্যাওয়ার্ডে দুই বিভাগে মনোনয়ন পেল বাফুফে

ছবি: সংগৃহীত

এমবাপ্পের সঙ্গে জুটি সফল নয়, ভিনিসিয়ুসকে ছাড়ার পরামর্শ দেশাইয়ের

ছবি: সংগৃহীত

চোট কাটাতে অস্ট্রেলিয়ায় নাহিদ রানা, মাঠে ফিরতে অপেক্ষা ডিসেম্বর পর্যন্ত

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কোটি কোটি ডলার আয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাগ্যে শূন্য: ক্ষোভ ক্যারিবীয় বোর্ডের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের আয় বণ্টন নিয়ে বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস ডেরিং। তার দাবি, ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত একটি সিরিজ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড দুই থেকে তিন কোটি মার্কিন ডলার আয় করতে পারলেও সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাপ্তি থাকে শূন্য। বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান আর্থিক কাঠামোকেই ক্যারিবীয় ক্রিকেটের দুরবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।   সম্প্রতি ‘দ্য স্কুপ’ অনুষ্ঠানে অঞ্জলি দোশিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ডেরিং। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব থেকে অর্জিত আয়ের পুরো অংশ স্বাগতিক দেশের কাছে চলে যাওয়ায় তুলনামূলক ছোট ক্রিকেট বোর্ডগুলো ক্রমেই আর্থিক সংকটে পড়ছে।   ১৯৯৭ সালের সিদ্ধান্তেই বদলে যায় ক্রিকেটের অর্থনীতি ডেরিং জানান, ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদস্যদেশগুলো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের রাজস্ব বণ্টনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এর আগে সফরকারী দলকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা ট্যুর ফি দেওয়ার প্রচলন ছিল। তবে নতুন নিয়মে সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া সম্পূর্ণ আয় নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ পায় স্বাগতিক দেশ। ওই সিদ্ধান্তের সময় আইসিসির ১০টি সদস্যদেশের মধ্যে ৯টি দেশ নতুন ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেয়। একমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিরোধিতা করেছিল বলে জানান ডেরিং। তার মতে, সেই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এখনো বহন করছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট।   ভারতের বিশাল বাজারের বিপরীতে ক্যারিবীয়দের সীমিত আয় ক্রিস ডেরিং বলেন, ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে ক্রিকেটের বাণিজ্যিক বাজার অত্যন্ত বড়। ফলে সেখানে আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজন করে সম্প্রচারস্বত্বসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করা সম্ভব। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট আয়োজন করতে হয় ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রে। অ্যান্টিগা কিংবা সেন্ট কিটসের মতো তুলনামূলক কম জনসংখ্যার অঞ্চলে ভারতের সমপরিমাণ বাণিজ্যিক আয় করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি জানান, অতীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। বিভিন্ন দেশ তাদের সফরে নিতে আগ্রহী থাকত এবং সেই সফর থেকে পাওয়া অর্থ অনেক সময় নিজেদের দেশে সিরিজ আয়োজনের আয়ের চেয়েও বেশি হতো। কিন্তু রাজস্ব বণ্টনের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে সেই গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হারিয়েছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট।   আর্থিক সংকটে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকেও কাটছাঁট দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপের প্রভাব পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট পরিচালনা ও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকেও। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের চুক্তির মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে সাত মাস করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলের হয়ে খেলার পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিরিজেও অনেক সময় তারকা খেলোয়াড়দের ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে ক্যারিবীয় দলকে।   রাজস্ব বণ্টনব্যবস্থাকে অন্যায্য বলছেন ডেরিং ক্যারিবীয় বোর্ডের প্রধান নির্বাহীর মতে, ক্রিকেটের অর্থনৈতিক কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ও ছোট বোর্ডগুলোর বাস্তবতা সমানভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ১৯৯৭ সালের ভোটাভুটিতে ৯-১ ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, ওই সময়ই সিদ্ধান্তটির সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তার আপত্তি গ্রহণ করা হয়নি। ডেরিংয়ের দাবি, নতুন নিয়ম চালুর মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর পরিণতিতে ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেট। মাঠের লড়াইয়ে ভারতের সঙ্গে সমানে সমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ভারতের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে চার ম্যাচ শেষে দুই দলই দুটি করে জয় পেয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ। ওই ম্যাচের ফলেই নির্ধারিত হবে সিরিজের চূড়ান্ত বিজয়ী। মাঠের পারফরম্যান্সে লড়াই চালিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামোয় পরিবর্তন না এলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ছোট বাজারের ক্রিকেট বোর্ডগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডেরিং।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

গেইল-লুইসকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন শাই হোপ

ছবি: সংগৃহীত

রেফারিকে পক্ষপাতের অভিযোগ, ফুলহ্যাম কোচ আরবেলোয়াকে ২৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা

0 Comments