জাতীয়

সিগারেটের টাকা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে মারধর, পরে দোকানির ক্ষমা চেয়েছেন

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থীকে সিগারেটের মূল্য পরিশোধ নিয়ে মারধরের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত মুদি দোকানি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও বাজার কমিটির উপস্থিতিতে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত দোকানি ইলিয়াস হোসেন ওই এলাকার ‘খান স্টোর’-এর মালিক।

 

জানা যায়, বিকেলে শেখপাড়া বাজারে যাওয়ার সময় জাহিদ দোকানটি থেকে ১০ টাকার একটি সিগারেট কেনেন। সঙ্গে নগদ টাকা না থাকায় তিনি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন। তবে দোকানির এ ধরনের কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকায় তিনি সেখান থেকে চলে যান।

 

এরপর দোকানি শিক্ষার্থীর পিছু নিয়ে ইবি মার্টের কাছে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ঘটনাটি জানাজানি হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেটে অবস্থান নেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা ঘটনার বিচার দাবি করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান প্রত্যাহার করেন।

 

রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, অভিযুক্ত দোকানি ও বাজার কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

বৈঠকে দোকানি ইলিয়াস হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে শিক্ষার্থীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তির সঙ্গে এমন আচরণ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেন। বাজার কমিটির পক্ষ থেকেও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

 

দোকানি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমার এমন করা উচিত হয়নি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। লিখিত মুচলেকা দিয়েছি এবং বিষয়টি সমাধান হয়েছে।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দোকানিকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন। দোকানিও মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করেছেন। একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু অর্থায়নের ৫৮ শতাংশই ঋণ, অনুদান বাড়ানোর তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাচ্ছে, তার বড় অংশই ঋণনির্ভর। প্রতি এক মার্কিন ডলার অনুদানের বিপরীতে প্রায় ২ দশমিক ৭০ ডলার ঋণ পেয়েছে দেশটি। জলবায়ু অভিযোজন খাতে প্রাপ্ত অর্থের ৫৮ শতাংশই এসেছে ঋণ হিসেবে। এ পরিস্থিতিতে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন অ্যানেক্সে আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: জলবায়ু ও প্রকৃতির জন্য অর্থায়ন বিষয়ক একটি প্রতিফলন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।   চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংলাপে সহযোগিতা করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। এতে সহায়তা দেয় সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি)।   জলবায়ু অর্থায়নে ঋণের চাপ ও স্থানীয় সংকট আয়োজকদের গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু অর্থায়নের মূল সমস্যা শুধু অর্থের ঘাটতি নয়; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থ পৌঁছানো এবং প্রকল্পের সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। ‘গোফোরইমপ্যাক্ট’ (GO4IMPact) কর্মসূচির আওতায় সাতক্ষীরা ও নওগাঁ অঞ্চলে পরিচালিত মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকার মাত্র ৩৫ শতাংশ পরিবার সারা বছর নিরাপদ পানির সুবিধা পায়। গবেষণায় আরও উঠে আসে, স্থানীয় বাজেটে পানি সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবার রক্ষণাবেক্ষণের তুলনায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে অর্থের সুষম বণ্টন এবং দীর্ঘমেয়াদি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।   তৃণমূলের চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনার তাগিদ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের সফলতা শুধু কত অর্থ পাওয়া গেল, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নতুন নীতিগত প্ল্যাটফর্মকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।   ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে ন্যায্য অর্থায়নের দাবি চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. জাকির হোসেন খান বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের মৌলিক অধিকারকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি জলবায়ু অর্থায়নে ঋণের বোঝা কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। জাকির হোসেন খান আরও বলেন, পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নির্ধারিত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সীমার মধ্যে সাতটি ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকৃতির অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে সুশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দীপক এলমার বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, সুস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু অর্থ সংগ্রহ করলেই চলবে না; সেই অর্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তায় কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।   জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান সংলাপে সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত না করে কোনো উন্নয়ন উদ্যোগ টেকসই করা সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতির অবক্ষয় ও দূষণকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির পানি ও খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ বলেন, জলবায়ু অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার। আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস. হোসেন প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালু রাখতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।   নতুন নীতি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু সংলাপের মাধ্যমে ‘ন্যাচার অ্যান্ড গভর্ন্যান্স পলিসি প্ল্যাটফর্ম’ (এনজিপিপি) নামে একটি স্বাধীন উপদেষ্টা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্ল্যাটফর্মটি জলবায়ু, প্রকৃতি ও সুশাসন বিষয়ে গবেষণা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করবে। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ এর কারিগরি সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে প্ল্যাটফর্মটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনে সম্মতি জানিয়েছেন।   এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়নসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্মটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর (ইন-চার্জ) মো. তাহমিদুল ইসলাম জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে তরুণদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নতুন প্ল্যাটফর্মটির সফলতা কামনা করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

ছবি: সংগৃহীত

সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন: শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, আটক ৭

ছবি: সংগৃহীত
দৌলতদিয়া ঘাটে অনিয়মের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া এবং নিরাপদে পারাপার নিশ্চিত করতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় ঘাটের বিভিন্ন কার্যক্রমে কিছু অনিয়ম দেখতে পান তিনি। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরির কর্মীদের হাজিরা খাতা যাচাই করেন এবং ঘাটের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।   এ সময় হাজিরা খাতা যাচাইসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে কিছু অনিয়ম তাঁর নজরে আসে। আসন্ন দুর্গাপূজায় যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে—এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘাটের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।   পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পারাপার নিশ্চিত করতে ফেরিঘাটে অত্যাধুনিক চারটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। পূজার সময় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে ঘাটগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, যাত্রীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। পরিদর্শনে চিহ্নিত অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. আশিকুজ্জামান, সংস্থাটির জিএম (মেরিন) বাপ্পি কুমার অধিকারী, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।  

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

শাহ আমানত বিমানবন্দরে দেড় মাসে ৯ বার চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত বাংলাদেশ-কিরগিজস্তান

ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে জোর, তিন মাস পর অগ্রগতি দেখতে চান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ফাইল ছবি
১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত দাম্মাম-রিয়াদগামী সব ফ্লাইট

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন।   বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ তথ্য জানিয়েছেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন যাত্রাসূচি যথাসময়ে জানানো হবে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় মদিনা রুটে উড়োজাহাজের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এ রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রতি ফ্লাইটে ১৪৮টি আসন বেড়েছে।   এ ছাড়া যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন দায়িত্বে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড পেতে যেসব শর্ত মানতে হবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী

0 Comments