মতামত

নাশকতা প্রতিরোধ, নাগরিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার

নাসির উদ্দিন নভেম্বর ০৮, ২০২৬

আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিনেট ভবনের সামনে, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠ এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে।

 

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিনেট ভবন গেটের কর্মীরা জানান-- সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে সিনেট ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর পরপরই অল্প সময়ের ব্যবধানে মুহসীন হলের মাঠের দিক থেকে দ্বিতীয় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর মাত্র এক থেকে দুই মিনিট পর টিএসসি এলাকায় আরো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

 

এভাবে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে গত কিছুদিন ধরে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও দৈনন্দিন নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, এই ঘটনাগুলো পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও নাশকতার উদ্দেশ্যে ঘটানো হচ্ছে।

 

গত ১ নভেম্বরের পর রাজধানীতে অন্তত ১৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত আদাবর, শাহবাগ, খিলগাঁও, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশীতে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। এমন ধারাবাহিক ঘটনা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের মালিক বা যাত্রীদের ক্ষতি করে না; এটি পুরো নগরবাসীর মনে ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

 

ডিএমপি জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দাহ্য পদার্থের কেনাবেচা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্যসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই তথ্য উদ্বেগজনক, তবে তদন্ত চলাকালীন অভিযোগ ও সন্দেহকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

 

পুলিশের দায়িত্ব শুধু গ্রেপ্তার নয়; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে প্রমাণ সংগ্রহ, স্বাধীন বিচার নিশ্চিত করা এবং নির্দোষ কাউকে সন্দেহবশত হয়রানি থেকে রক্ষা করাও। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোরতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা—এ দুটি একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

 

আর এখানেই দরকার সমন্বিত পদক্ষেপ। ককটেল তৈরির উপকরণ ও দাহ্য পদার্থের অবৈধ সরবরাহ বন্ধে ডিবি, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, বিটিসি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন। পেট্রোল পাম্প, রাসায়নিকের বিক্রেতা ও অনলাইন সরবরাহ-চ্যানেল নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বাস টার্মিনাল, গ্যারাজ, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সিসিটিভি নজরদারি এবং র‍্যাপিড রেস্পন্স টীম শক্তিশালী করা দরকার।

 

গণপরিবহন ব্যবস্থাপনাকেও দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটি বাসে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জরুরি প্রস্থানের ব্যবস্থা, চালক-কন্ডাক্টরের প্রশিক্ষণ এবং সন্দেহজনক ব্যাগ বা ব্যক্তি শনাক্তের নির্দেশনা থাকা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়; এটি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরও নৈতিক ও ব্যবসায়িক দায়িত্ব।

 

নাশকতার মূল লক্ষ্য জনগণকে ভীত করে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করা। তাই নাগরিকদের উচিত গুজবে কান না দেওয়া, সন্দেহজনক বস্তু বা ব্যক্তির তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। এসব ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে দরকার আতঙ্ক নয়, সংহতি!

 

রাষ্ট্রকে এখন শুধু ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া নয়, টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার, প্রমাণভিত্তিক তদন্ত, নিরাপদ গণপরিবহন এবং নাগরিকদের আস্থা পুনরুদ্ধার—এই চারটি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আতঙ্ক দূর হবে না। ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

Tags

নাগরিক-নিরাপত্তা নাশকতা ককটেল-বিস্ফোরণ আইনশৃঙ্খলা ঢাকা সম্পাদকীয়
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

নাশকতা প্রতিরোধ, নাগরিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার

আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিনেট ভবনের সামনে, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠ এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে।   নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিনেট ভবন গেটের কর্মীরা জানান-- সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে সিনেট ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর পরপরই অল্প সময়ের ব্যবধানে মুহসীন হলের মাঠের দিক থেকে দ্বিতীয় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর মাত্র এক থেকে দুই মিনিট পর টিএসসি এলাকায় আরো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।   এভাবে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে গত কিছুদিন ধরে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও দৈনন্দিন নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, এই ঘটনাগুলো পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও নাশকতার উদ্দেশ্যে ঘটানো হচ্ছে।   গত ১ নভেম্বরের পর রাজধানীতে অন্তত ১৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত আদাবর, শাহবাগ, খিলগাঁও, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশীতে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। এমন ধারাবাহিক ঘটনা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের মালিক বা যাত্রীদের ক্ষতি করে না; এটি পুরো নগরবাসীর মনে ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে।   ডিএমপি জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দাহ্য পদার্থের কেনাবেচা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্যসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই তথ্য উদ্বেগজনক, তবে তদন্ত চলাকালীন অভিযোগ ও সন্দেহকে আলাদা করে দেখা জরুরি।   পুলিশের দায়িত্ব শুধু গ্রেপ্তার নয়; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে প্রমাণ সংগ্রহ, স্বাধীন বিচার নিশ্চিত করা এবং নির্দোষ কাউকে সন্দেহবশত হয়রানি থেকে রক্ষা করাও। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোরতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা—এ দুটি একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।   আর এখানেই দরকার সমন্বিত পদক্ষেপ। ককটেল তৈরির উপকরণ ও দাহ্য পদার্থের অবৈধ সরবরাহ বন্ধে ডিবি, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, বিটিসি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন। পেট্রোল পাম্প, রাসায়নিকের বিক্রেতা ও অনলাইন সরবরাহ-চ্যানেল নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বাস টার্মিনাল, গ্যারাজ, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সিসিটিভি নজরদারি এবং র‍্যাপিড রেস্পন্স টীম শক্তিশালী করা দরকার।   গণপরিবহন ব্যবস্থাপনাকেও দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটি বাসে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জরুরি প্রস্থানের ব্যবস্থা, চালক-কন্ডাক্টরের প্রশিক্ষণ এবং সন্দেহজনক ব্যাগ বা ব্যক্তি শনাক্তের নির্দেশনা থাকা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়; এটি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরও নৈতিক ও ব্যবসায়িক দায়িত্ব।   নাশকতার মূল লক্ষ্য জনগণকে ভীত করে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করা। তাই নাগরিকদের উচিত গুজবে কান না দেওয়া, সন্দেহজনক বস্তু বা ব্যক্তির তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। এসব ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে দরকার আতঙ্ক নয়, সংহতি!   রাষ্ট্রকে এখন শুধু ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া নয়, টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার, প্রমাণভিত্তিক তদন্ত, নিরাপদ গণপরিবহন এবং নাগরিকদের আস্থা পুনরুদ্ধার—এই চারটি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আতঙ্ক দূর হবে না। ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

নাসির উদ্দিন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সি পরা অধিনায়কের বিদায়ী মুহূর্ত, পেছনে জাতীয় দলের সতীর্থ ও দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়াম।

এক ফুটবলীয় মহাকাব্যের সমাপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি, ট্রাম্পের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মার্কিন ক্যাপিটল ভবন এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অবস্থানের প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা

এলপিজির দাম বাড়ছেই, সাধারণ মানুষের স্বস্তি কোথায়?

এলপিজির মুল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতিঃ জনস্বার্থ রক্ষায় চাই কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গায় একই সড়ক নির্মাণকাজ ঘিরে দুই দফা উদ্বোধনী আয়োজন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি
উন্নয়নের উদ্বোধন নয়, জনসেবার জবাবদিহিতা দরকার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে একটি সীমান্তবর্তী সড়কের নির্মাণকাজ একই দিনে দুইবার ‘উদ্বোধন’—এ ঘটনা প্রথমে হাস্যকর মনে হলেও মূলত এটি জনপ্রতিনিধিত্ব, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক উদ্বেগজনক চিত্র। সকালে বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং বিকেলে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ একই সড়কে পৃথক অনুষ্ঠান করেন; এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি ও সমালোচনাও উঠেছে। প্রকৃত সমস্যা শুধু দুই নেতার প্রতিযোগিতা নয়। ৩ কিলোমিটার ৫৫০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কে ব্যয় হচ্ছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৩১ টাকা, যা জনকোষ থেকে বাস্তবায়িত উন্নয়ন কার্যক্রম।  সড়কটি সম্পন্ন হলে বিজিবির টহল ও সীমান্ত নজরদারির পাশাপাশি পদ্মাতীরবর্তী মানুষের যাতায়াত সহজ হবে—অর্থাৎ এর গুরুত্ব নিঃসন্দেহে জনগুরুত্বপূর্ণ।  কিন্তু নির্মাণকাজ শুরুর পরও এলজিইডি জানিয়েছে, সড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনো হয়নি; দুজনই মূলত তদারকিতে গিয়েছিলেন।  তাহলে প্রশ্ন হলো, অসম্পূর্ণ প্রকল্পকে রাজনৈতিক প্রদর্শনীর মঞ্চ কেন? উন্নয়নকর্মে জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততা অবাঞ্ছিত নয়। বরং সংসদ সদস্যের তদারকি, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় এবং ঠিকাদারি কাজের মান নিশ্চিতের দায়িত্ব একসঙ্গে কাজ করা উচিত। কিন্তু সেই সম্পৃক্ততা যখন কারা ‘উদ্বোধন করলেন’ তা নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন জনগণের প্রকৃত প্রশ্ন—সড়কের মান, সময়মতো সম্পন্ন হওয়া, ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ—অবহেলিত থাকে। এলজিইডি বলছে প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে; তাই এখনই প্রয়োজন কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান নিয়মিত প্রকাশ করা। সুশাসনকর্মীদের আশঙ্কাও যথার্থ—রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব উন্নয়নের চেয়ে শিষ্টাচারকে প্রাধান্য দিলে তার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।  চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক ও অবকাঠামোগত সমস্যা নতুন নয়; সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কিছু প্রকল্প মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়েও শেষ হয়নি, আবার কোনো কোনো এলাকায় সড়কের অভাবে বছরের বড় অংশ পানিবন্দি থাকে হাজারো পরিবার।  এই বাস্তবতায় সরকারের উচিত শুধু নতুন সড়ক ঘোষণা নয়, বরং প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সূচি, ব্যয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা সমাধানের পথ তিনটি। প্রথমত, স্থানীয় প্রশাসনকে প্রকল্প পরিদর্শন ও উদ্বোধনের সুস্পষ্ট প্রোটোকল তৈরি করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি প্রকল্পের মালিকানা দাবির প্রতিযোগিতায় পরিণত না হয়। দ্বিতীয়ত, এলজিইডি, দুদক ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে ঠিকাদারি কাজের মান যাচাই এবং ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত প্রকাশে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, দুই পক্ষের নেতাকেই প্রমাণ করতে হবে—জনগণের ভোট ও আস্থা কেবল ফিতা কাটার অধিকারের জন্য নয়, বরং সেবার মান বাড়ানোর জন্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ চায় এমন সড়ক, যা বর্ষায় ডুববে না, নির্মাণের পর ভেঙে পড়বে না এবং যার জন্য কাউকে দুইবার ‘উদ্বোধন’ করতে হবে না। উন্নয়নের প্রকৃত উদ্বোধন হয় কাজ শেষ হলে, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত হলে এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হলে।

নাসির উদ্দিন নভেম্বর ০২, ২০২৬
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শ্রমিকদের আন্দোলন, ন্যায্য মজুরি ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব

ইনফোগ্রাফিকঃ এআই

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জাপান সফর, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ–জাপান অংশীদারত্ব: প্রতিশ্রুতি থেকে সমৃদ্ধির পথে

ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ও কক্সবাজারের পর্যটন নিরাপত্তা সংকট
ইনানীর ট্র্যাজেডি: কক্সবাজারে পর্যটনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আঘাত?

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের প্রাণহানি শুধু একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নয়; এটি পর্যটন খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স না থাকা এবং আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে কার্যক্রম চালিয়ে গেল, সেই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই মৃত্যুর দায় নির্ধারণে ব্যর্থতা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের পথ খুলে দিতে পারে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটিতে অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ছিল না। গত ১১ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে ২১ দিনের মধ্যে ই-ফায়ার লাইসেন্স নেওয়ার নোটিশ দেওয়ার কথাও জানা গেছে। প্রশ্ন হলো, নোটিশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল? ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করাই যদি প্রশাসনের শেষ দায়িত্ব হয়, তবে সেই তদারকির কার্যকারিতা কোথায়? নিয়ম লঙ্ঘনের পরও প্রতিষ্ঠান চালু থাকলে কেবল মালিকপক্ষ নয়, নজরদারির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা আবশ্যক। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন ও রিসোর্টের ম্যানেজারকে আটকের খবর এসেছে। কিন্তু তদন্তের পরিধি যেন কেবল তাৎক্ষণিকভাবে দায়ী কাউকে শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি, লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করতে হবে। তদন্তের ফল প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে জবাবদিহির প্রকৃত পরীক্ষা। কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। এ খাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিপুল কর্মসংস্থান, স্থানীয় ব্যবসা ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ। কিন্তু পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের জীবনই যদি নিরাপদ না থাকে, তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে পর্যটকদের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এমন ঘটনা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মনে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে পর্যটন ব্যবসায়। এ অবস্থায় কক্সবাজারসহ দেশের সব পর্যটন এলাকায় হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরিভিত্তিতে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি নির্গমনপথ ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ইনানীর এই মর্মান্তিক ঘটনা যেন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কিংবা সাময়িক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। মানুষের জীবন রক্ষায় আইন প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দায়িত্ব। পর্যটনশিল্পের সুনাম শুধু আকর্ষণীয় গন্তব্যে নয়, পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপরও নির্ভরশীল। এই মৌলিক সত্য উপেক্ষা করলে ইনানীর ট্র্যাজেডি কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে দীর্ঘস্থায়ী আস্থার সংকটে রূপ নিতে পারে।

নাসির উদ্দিন অক্টোবর ২৯, ২০২৬

রেল সেবা অ্যাপে টিকিট কেনার পরামর্শ রেলওয়ের

দুর্গাপূজা উদযাপনে পুলিশের দিকনির্দেশনা

২২ দিন ইলিশ ধরা যাবে না

0 Comments