আন্তর্জাতিক

শুধু পৃথিবীতে নয়, চাঁদের আশপাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

মহাকাশে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে এবার চাঁদের আশপাশের এলাকাকেও ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের আওতায় আনার সক্ষমতা তৈরির কথা জানিয়েছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব। এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশনীতি ও সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

ওয়াশিংটনের বাইরে বুধবার আয়োজিত বিমান, মহাকাশ ও সাইবারবিষয়ক এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে চাঁদের কক্ষপথের আশপাশ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় লড়াই করা, টিকে থাকা এবং প্রয়োজন হলে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা থাকে। তাঁর মতে, যুদ্ধের জন্য একটি নতুন সীমান্ত তৈরি হচ্ছে এবং সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীকে মানিয়ে নিতে হবে।

 

একই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননও চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রস্তুতির কথা জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্পেস ফোর্স মহাকাশ ও চাঁদের আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, মানবজাতি মহাকাশের আরও গভীরে প্রবেশ করছে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রস্তুত থাকা স্পেস ফোর্সের দায়িত্ব।

 

এর কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা জানিয়েছিল। একই সম্মেলনে বিমানবাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইংক জানান, যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে ‘কক্ষপথে থাকা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র’ মোতায়েন করেছে। তবে অস্ত্রটির ধরন, অবস্থান কিংবা ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর পরই গ্যাগননের বক্তব্যে চাঁদের আশপাশের এলাকাকে সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আনা হয়।

 

সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে চীনের কথাও উল্লেখ করেছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। গ্যাগনন বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যতে যুদ্ধকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত করার চেষ্টা করতে পারে। তাঁর দাবি, চীনের মতো দেশগুলো মহাকাশব্যবস্থার বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

 

২০২৪ সালে চীন নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গঠন করে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, মহাকাশসংক্রান্ত বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বাহিনীটি গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে। মহাকাশের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং এর অস্ত্রায়ন, সামরিকীকরণ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে বেইজিং। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণা ও সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন কিংবা চাঁদের আশপাশে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখার মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

 

১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই স্বাক্ষরকারী দেশ। ওই চুক্তি অনুযায়ী, চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তুগুলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে হবে। মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশে পাঠানো কোনো বস্তু বা মহাকাশযানের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে তার দায় নিতে হবে। তবে মহাকাশে সব ধরনের প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিতে একই ধরনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক সক্ষমতা ও পরিকল্পনা চুক্তির কোন সীমার মধ্যে পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতার পরীক্ষা চালিয়েছে। এসব পরীক্ষা পৃথিবী থেকে পরিচালিত হয়েছে এবং সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এবার মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে চাঁদের আশপাশের মহাকাশও সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে। এতে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। দুই বছর আগে জাতিসংঘেও মহাকাশের সামরিকীকরণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে বিভিন্ন মার্কিন প্রতিবেদনে রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক একটি অস্ত্র তৈরির বিষয়টি উঠে আসে। মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি এবং মোতায়েন না করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান জাতিসংঘে একটি যৌথ প্রস্তাবও দিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে এ ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ রয়েছে।

 

তবে ওই প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দেয়। পরে মস্কোর পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা প্রস্তাব আনা হয়, যেখানে মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র ‘চিরকালের জন্য’ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাবও পাস হয়নি।

 

এদিকে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গ্যাগনন জানান, আগামী পাঁচ বছরে স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করে প্রায় ২৫ হাজারে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বাড়তি সদস্যদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডে যুক্ত করা হবে।

 

গ্যাগননের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন ধরনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করছে। এর লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার মতো সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলা।

 

তবে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চুক্তির সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্যাগনন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স মহাকাশের সব এলাকায় নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। তবে মহাকাশে গুলি, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে স্পেস ফোর্সের নির্দিষ্ট নীতি কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন গ্যাগনন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

 

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বিকট বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তেলবাহী ট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনে আঘাত করার কারণে এসব বিস্ফোরণ ঘটেতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।   বৃহস্পতিবার সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আইআরআইবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আনাদোলুর।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে কয়েক মিনিট আগে বিস্ফোরণগুলো ঘটে।   সূত্রগুলো বলেছে, ইরানের অনুমোদনহীন পথে চলাচল করতে গিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে।   তবে কতটি ট্যাংকার এই ঘটনায় জড়িত, সেগুলোর পরিচয় কী, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা কিংবা কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ বিস্ফোরণের খবর সামনে এল। ইরান এরই মধ্যে তেহরানের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত নয়—এমন নৌপথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার হাইব্রিড তৎপরতায় ইইউর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি

সংগৃহীত ছবি

সংঘাতের উত্তাপে রিয়াদ, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত
১,৮৬০ হুতি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর

হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরুর পর থেকে ১৮৬০ জন হুতি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে ইয়েমের সৌদি সমর্থিত সরকার। বৃহস্পতিবার ভোরে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, চলমান ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে কয়েকটি ফ্রন্টে হুতিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে তারা ২১০৩টি ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ পরিচালনা করেছে।   সৌদি আরব সমর্থিত ইয়ামেন সরকার আরও জানিয়েছে, তাদের বাহিনী পশ্চিম তাইজ অঞ্চলের উপকূল পর্যবেক্ষণকারী কৌশলগত পাহাড়ি অবস্থানগুলো দখল করে নিয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রশাদ আল-আলিমি গত রবিবার ইরান সমর্থিত গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ থেকে রাজধানী সানাসহ সমস্ত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে এই ‘ডন অব ইয়ামেন’ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। ২০১৪ সাল থেকে সানা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের যুদ্ধ মূলত বাবেল মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকাগুলোতে কেন্দ্রভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের কারণে প্রণালিটিতে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ার পর থেকে এই জ্বালানি রপ্তানি রুটটির গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত মাসে হুতিদের দখলে নেওয়া মোখা শহর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিকটের কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে গত মঙ্গলবার একটি নতুন অভিযান শুরু করে ইয়েমেনি সরকার সমর্থিত যৌথ বাহিনী।   সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

হরমুজ ইস্যুতে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় ইরান

ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহকে ইরানের ২০ কোটি ডলার সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে রুশ হামলায় ৫ শিশুসহ নিহত ২৮

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট, মধ্য এশিয়ার বাজারে ইরানের নতুন সুযোগ

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মধ্য এশিয়ার বাজারে তেল রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ইরানের সামনে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তেল বিক্রিতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে থাকা তেহরান এরই মধ্যে এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।   ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশেও। বিশেষ করে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান ঐতিহাসিকভাবে জ্বালানির বড় একটি অংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে।   রাশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট দেখা দেওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে এসব দেশ। এরই মধ্যে তাজিকিস্তান ইরান থেকে তেল ও বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি শুরু করেছে। পাশাপাশি কিরগিজস্তানে একটি যৌথ তেল শোধনাগার স্থাপনের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে।   তবে মধ্য এশিয়ার বাজারে ইরানের এই উদ্যোগ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। কারণ ইরান থেকে মধ্য এশিয়ায় তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে হবে। রেলপথে এই পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনা করা বেশ জটিল এবং ব্যয়বহুল হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান হলে কিংবা রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলো পুনরায় চালু হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে তুলনামূলক কম দামে রাশিয়ার জ্বালানি আবারও মধ্য এশিয়ার বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানের জন্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হতে পারে।   এর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে মধ্য এশিয়ায় ইরানের তেল বাণিজ্যের বর্তমান সুযোগ ভবিষ্যতে কতটা স্থায়ী রূপ নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।   সূত্র: আল-জাজিরা

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে ভবন ধসে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৩, উদ্ধার ১১

ছবি: সংগৃহীত

লাওসে চীনের সামরিক স্থাপনায় যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল

ছবি: সংগৃহীত

কূটনীতির মাধ্যমেই জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় ইরান

0 Comments