পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে এসেছে চীনের নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাহাজ তিনটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।
জাহাজগুলো হলো—‘থাং শান’, ‘দা ছিং’ ও ‘থাই হু’। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজগুলো পৌঁছানোর পর কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের পক্ষ থেকে চিফ স্টাফ অফিসার চীনা নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী ব্যান্ড পরিবেশন করে।
সফরকারী নৌ সদস্যদের স্বাগত জানাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, চীনা নাগরিক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’ তাদের অভ্যর্থনা জানায়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, সফরকালে চীনা জাহাজগুলোর অধিনায়ক, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মিলিটারি অ্যাটাশেসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট এবং চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এ ছাড়া চীনের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ ও ঘাঁটি পরিদর্শনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থানে যাবেন। একইভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরাও সফরকারী চীনা জাহাজ পরিদর্শন করবেন।
এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের নৌবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি উভয় দেশের নৌবাহিনীর কার্যক্রম ও পেশাগত দক্ষতা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
সফর শেষে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর চীনা নৌবাহিনীর জাহাজ তিনটি বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডকে কেবল বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি সীমিত হয়ে যায়। বরং বিশ্বজুড়ে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে প্রয়োজন তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের এই কর্মসূচি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক সোশ্যাল প্রোটেকশন উইক ২০২৭’-এর উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে। মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় আরও জোরদার করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব শুধু দেশের অভ্যন্তরে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগের তাৎপর্য রয়েছে। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সহায়তার সমন্বয় ঘটানো। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পথও অনুসন্ধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং আয়বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে কর্মসূচির সমন্বয় যত বেশি কার্যকর হবে, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগও তত বাড়বে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে উপকারভোগীদের প্রয়োজন চিহ্নিত করা এবং তাদের কাছে যথাযথভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কর্মসূচির আওতা ও বাস্তবায়নপদ্ধতি এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে ঝুঁকিতে থাকা মানুষ বঞ্চিত না হন। এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে এ খাতে দেশের উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে বৃহত্তর বৈশ্বিক সামাজিক সুরক্ষার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করার মাধ্যমে সর্বজনীন সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয় নয়; মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সহায়তার কার্যকর সমন্বয় ঘটানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে উপকারভোগীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এডিবির ‘এশিয়া-প্যাসিফিক সোশ্যাল প্রোটেকশন উইক ২০২৭’-এর উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি অধিবেশনে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে সামাজিক সুরক্ষাকে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বজনীন বৈশ্বিক প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, আর্থিক ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করা এবং জনসেবা সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী ও স্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া: স্থায়িত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক তিনদিনের এক কর্মশালায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। অর্থ বিভাগের স্ট্রেংদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস)-এর আওতায় গাজীপুরের একটি হোটেলে (৮ থেকে ১০ অক্টোবর) ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড অডিট ফলো-আপ স্কিম কর্মশালাটির আয়োজন করে। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। তিনি সংশোধিত ‘মডেল ঝুঁকিভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সনদ ও নির্দেশিকা ২০২৬’ উন্মোচন করেন। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষকদের দায়িত্ব, প্রতিবেদন প্রদানের প্রক্রিয়া এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। অর্থসচিব বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা চালু করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগকে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে তিন বছরে তিন ধাপে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে স্থায়ী নিরীক্ষা ইউনিট বা অধিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য নির্দিষ্ট জনবল, নিয়োগবিধি, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিরীক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। এসব অধিদপ্তর বিভিন্ন ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি জনবল সংকট, দক্ষতার ঘাটতি, দুর্বল সমন্বয় এবং স্থায়ী সাংগঠনিক কাঠামোর অভাবের কথা জানায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯৩টি, গণপূর্ত অধিদপ্তর ৭০টি, এলজিইডি ৭৮টি ব্যয়কেন্দ্রে নিরীক্ষার মাধ্যমে ৩০০টি পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ৪১টি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮২টি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ছয়টি করে নিরীক্ষা প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। কর্মশালায় ২০২৬-২০৩১ সালের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এতে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, পর্যাপ্ত বাজেট, পেশাগত দক্ষতা এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরীক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামে এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে নজরদারি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হচ্ছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসক বলেন, বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে প্রশাসন। কোথাও গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি কিংবা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, দেশে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের ২১টি মাদার প্ল্যান্টের মধ্যে সাতটি চট্টগ্রামে এবং বাকি ১৪টি মোংলায় অবস্থিত। এসব প্ল্যান্টে কোন প্রতিষ্ঠান কত পরিমাণ এলপিজি আমদানি করছে এবং আমদানি করা গ্যাস কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এলপিজি আমদানিকারকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। আমদানির পর কতটুকু গ্যাস পরিবেশকদের কাছে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে কতটুকু খুচরা বাজারে পৌঁছাচ্ছে, সে তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এলপিজির নতুন দাম কার্যকরের পর অতিরিক্ত মূল্য আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে। বিক্রেতারা নতুন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিচ্ছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ডিলারদের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, দাম বাড়ানোর আগে চট্টগ্রামের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও বাজার তদারকি অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপিজি আমদানিতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১ শতাংশ। বাকি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে প্রায় ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসক বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি ও সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও এর সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মূল্য কারসাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধে তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।