জাতীয়

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রকল্প নিয়েছে বিএনপি: নাহিদ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রকল্প নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় বিএনপি ও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

 

এ সময় দলের সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নাহিদ বলেন, যখন আওয়ামী লীগকে ট্যাকল দিতে পারছে না, তখন বিএনপি ঐক্যের কথা বলছে। তারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আজও উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা গায়ের জোরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এভাবে জোর করে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না।

 

রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সারা দেশে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি। জামায়াতের সঙ্গে তারা এজেন্ডাভিত্তিক জোট করলেও আদর্শিক কোনো জোট করেননি বলে জানান নাহিদ।

 

সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের বিষয়ে নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ও আদর্শিক জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর জন্য শুভকামনা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নির্ধারিত ৫১ মেডিকেল সেন্টার, প্রকাশ তালিকা

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশের ৫১টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)। দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতির অংশ এই তালিকা প্রকাশ করল মালয়েশিয়া।   শুক্রবার এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, তাদের ‘অ্যাক্রেডিটেড মেডিকেল সেন্টার’ বিভাগে এসব মেডিকেল কেন্দ্র ও সেগুলোর ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে।   অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলো হলো: মতিঝিলের এশিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, ফকিরাপুলের ওয়াদি হেলথ চেকআপ, মতিঝিলের মেডিনেট মেডিকেল সার্ভিসেস, মতিঝিলের রামিন হেলথ সেন্টার, পুরানা পল্টনের ইবনে ওমর মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, একই এলাকার ইউনিটি মেডিকেল চেকআপ সেন্টার, এ এফ মেডিকেল সেন্টার, স্টার মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, নয়াপল্টনের আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক, একই এলাকার সানলাইট ডায়াগনস্টিক, রিলায়েন্স ল্যাব, প্রাইম ডায়াগনস্টিক, বিজয়নগরের পারফেক্ট মেডিকেয়ার।   বনশ্রীর ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল, রামপুরার লিডিং হেলথ চেকআপ লিমিটেড, একই এলাকার ডায়নামিক ল্যাব, পশ্চিম রামপুরার ডেল্টা হেলথ কেয়ারেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাবে।   বনানীতে গ্লোবাল মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সারা মেডিকেল সেন্টার ও সারা হেলথ কেয়ার, কাকলীর পুষ্প ক্লিনিক, চেয়ারম্যান বাড়ির এলবি হেলথকেয়ার, প্রগতি সরণির ইনডেক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা যাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা।   উত্তরা এলাকার মধ্যে আছে দক্ষিণখানের জান্নাহ মেডিকেল সার্ভিসেস, উত্তরা সেক্টর-৪ এর মাইল্যাব মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আব্দুল্লাহপুরের আইচি হাসপাতাল, গাজীপুরের শাহিদা খাতুন ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার।   ধানমন্ডিতে গ্রিন রোডের ল্যাব সায়েন্স ডায়াগনস্টিক, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মানিকদীর ইশতিয়াক মেডিকেল সেন্টার, মাটিকাটার মেডিপ্যাথ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কাফরুলের স্মার্ট মেডিকেল সেন্টার।   নিউ ইস্কাটনে আছে ইউনিকেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস, মগবাজারের গ্রিনল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, কাকরাইলের কেয়ার ওয়েভ, মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, তেজগাঁওয়ের জারা হেলথ কেয়ার, তেজগাঁও বিমানবন্দর সড়কের এভারগ্রিন মেডিকেল সেন্টার, তেজগাঁওয়ে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের ওয়ার্ল্ড হরাইজন মেডিকেল সার্ভিসেস।   অন্যান্যগুলোর মধ্যে আছে নয়াপল্টনের হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সুরক্ষা মেডিকেল সেন্টার, উত্তর বাড্ডার ল্যাব কোয়েস্ট লিমিটেড, মাদানি অ্যাভিনিউয়ের স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সেন্টার, ক্যান্টনমেন্ট মানিকদীর ট্রু হেলথ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পুরানা পল্টনের আনাস মেডিকেল সেন্টার লিমিটেড, পুরানা পল্টনের আল-জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নয়াপল্টনের ওয়ান প্লাস মেডিকেল সেন্টার, ডিআইটি অ্যাভিনিউয়ের ভিটা হেলথ মেডিকেল, বিজয়নগরের কমফোর্ট মেডিকেল চেকআপ সেন্টার, ফকিরাপুলের মেডিফ্লাই হেলথ সার্ভিসেস, পশ্চিম রামপুরার পিওর হেলথ মেডিকেল সেন্টার, চেয়ারম্যান বাড়ির সানমুন মেডিকেল সেন্টার।   এফডব্লিউসিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় থাকা কেন্দ্রগুলো স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নিবন্ধিত এবং মালয়েশিয়ান কোম্পানি ‘বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি’র প্রয়োজনীয় অডিট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।   আগ্রহী কর্মীরা ইলেকট্রনিক ভিসা উইথ রেফারেন্স (ই-ভিডিআর) আবেদনের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার আগে তাদের জন্য এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।   মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মেডিকেল অনুমোদন গতিশীল করা এবং পদ্ধতিগত বাধা দূর করার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে দাবি ওঠার মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ করা হলো।   সরকার ইতোমধ্যে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মেডিকেল সেন্টারগুলোকে অতিরিক্ত ফি আদায় বা চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি না করার বিষয়ে কঠোর বার্তাও দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে এক সভায় ৬২ রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে কথা বলেন মোহাম্মদ ফজলুল ইসলাম ইয়াসিন। তিনি সরকারের কাছে মেডিকেল অনুমোদন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) জন্য যৌক্তিক প্রসেসিং ফি নির্ধারণের আহ্বান জানান।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি ৮০ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব কারাগারে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৭ নির্দেশনা

ফাইল ছবি

হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

আইন পেশায় সফল হতে হলে মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও পূর্ণ অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।    তিনি বলেছেন, একজন মানুষ বিপদে পড়ে আইনজীবীর কাছে এলে নিজের আস্থা, বিশ্বাস, ভরসা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তার হাতে তুলে দেন। তাই মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করে তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি উপস্থাপন এবং পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা আইনজীবীর প্রধান কর্তব্য।   শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনবিষয়ক ১৭তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ও আইইউবি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।   আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। এ পেশায় শুধু অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগী হলে চলবে না; প্রয়োজন পূর্ণকালীন অঙ্গীকার, পেশাদারত্ব, অধ্যবসায় ও গবেষণা। আদালতে প্রতিটি শব্দ ও যুক্তির গুরুত্ব রয়েছে। তাই যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য ও শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে আইনজীবীদের। মক্কেল কত টাকা পারিশ্রমিক দিলেন, সেটি নয়; বরং তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি তুলে ধরতে পেরেছেন কি না, সেটিই একজন আইনজীবীর কাছে মুখ্য হওয়া উচিত।   অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়াকে আইনজীবীদের পেশাগত জাকাত হিসেবে অভিহিত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আইন পেশায় মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।   আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তৃতভাবে কাজ করে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগের প্রশ্নটি সামনে আসে। তবে সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের ধরন, ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। আগে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল অস্ত্র, বোমা ও গুলি। বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক বিরোধ, বাণিজ্য বন্ধ এবং ভিসা বিধিনিষেধের মতো বিষয়ও রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।   তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়িত্ব রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও দায়িত্বের প্রতিফলন। তরুণদের মেধা, প্রজ্ঞা, যুক্তি, পরিশ্রম ও অঙ্গীকার দিয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।   অনুষ্ঠানে আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেন, বাংলাদেশে আইসিআরসির হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি এবং আইইউবির স্কুল অব ল-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান।   প্রতিযোগিতায় দেশের ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯টি দল অংশগ্রহণের জন্য লিখিত আইনি যুক্তি ও গবেষণাপত্র জমা দেয়। সেখান থেকে নির্বাচিত ১৬টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, সশস্ত্র সংঘাতের সময় মানবিক সুরক্ষা ও আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি গবেষণা, বিশ্লেষণ এবং যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৬

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রকল্প নিয়েছে বিএনপি: নাহিদ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করল বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত

মাতারবাড়ী নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি শফিকুর রহমানের

ছবি: সংগৃহীত
‘ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি একটি ভাইরাস’: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয়, বরং এটি একটি ভাইরাস—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা না হলে দেশে বারবার বিপ্লবের পরিস্থিতি তৈরি হবে।   শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুনতে শুনতেই তাঁর জীবনের ৫৫ বছর পার হয়েছে। তবে এই দিবস থেকে রাজনীতিবিদদের যে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে তা প্রতীয়মান হয় যে তাঁরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করেননি। জনগণের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের পরিণতি ৭ নভেম্বরের মতো হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ওই সময় সিপাহিদের বিদ্রোহের পেছনে বিভিন্ন কারণ ছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ মুজিবুর রহমান দেশের ইসলামী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করেছিলেন। অথচ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এসব সংগঠন সক্রিয় ছিল এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও অল্প সময়ের মধ্যে শেখ মুজিব জনগণের আস্থা হারান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, গণমাধ্যম ও আনসার বাহিনী থাকার পরও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। বাহিনীটিকে ব্যাপক ক্ষমতা ও ভারী অস্ত্র দেওয়া হয়।   রক্ষীবাহিনীর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শফিকুর রহমান দাবি করেন, বাহিনীটির সদস্যদের জবাবদিহির বাইরে রেখে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিনা বিচারে ৩৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, যাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদার হত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।   শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠনের মাধ্যমে এক নেতার অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর অভিযোগ, সে সময় দেশে দুর্নীতি, সম্পদ লুটপাট, ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানুষের অধিকার হরণের ঘটনা ঘটেছিল।   ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করার কারণে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। শুরুতে এতে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   নিজের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই সময় তিনি সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৭ নভেম্বরের পরদিন কারফিউ জারি থাকলেও জুমার নামাজের জন্য তিন ঘণ্টা তা শিথিল করা হয়েছিল। নামাজে যাওয়ার সময় মসজিদ, বাড়ির ছাদ ও রাস্তায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি এবং তাঁদের উচ্ছ্বাস দেখেছিলেন বলে জানান তিনি।   তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সিপাহিরা ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে রাস্তায় নামলে সাধারণ মানুষ তাকবির দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান। ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। সিপাহিরা বিপ্লব ঘটালেও জনগণ তাতে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছিল—এ কারণেই দিবসটির নাম বিপ্লব ও সংহতি দিবস হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   বক্তব্যে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যাঁর যে অবদান রয়েছে, তাঁকে সেই স্বীকৃতি দিতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষণা, পতাকা উত্তোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথভাবে স্মরণ করা উচিত। বিশেষ করে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অবদান অনেক সময় আলোচনায় আসে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   শফিকুর রহমান বলেন, নিজের বা নিজ দলের নেতৃত্বের বাইরে অন্য কারও অবদান স্বীকার না করার মানসিকতা থেকে রাজনীতিবিদদের বেরিয়ে আসতে হবে। ১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরের ঘটনাগুলোকে তিনি দুঃশাসন, একদলীয় শাসন এবং কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, বেঁচে থাকার অধিকার, চাকরির সুযোগ, ন্যায়বিচার এবং নারী-পুরুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল এবং চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া বাকিগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে ওই চারটিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।   ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তাঁর মতে, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব ও ম্যান্ডেট রক্ষা করা উচিত ছিল।   এরশাদের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় বছর ক্ষমতায় থাকা এই শাসকও গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার—বাকস্বাধীনতা ও বেঁচে থাকার অধিকার—খর্ব করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের মুখে তাঁকেও ক্ষমতা ছাড়তে হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।   জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সে সময় নানা বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছিল।   বিএনপি সরকারের সঙ্গে জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর দাবি, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠনের সময় জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন নিয়ে সমর্থন দিয়েছিল। তবে তারা সরকারে যোগ না দিয়ে বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সমর্থনের বিনিময়ে তাদের মূল দাবি ছিল, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।   তিনি বলেন, ওই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ১৯৯৪ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন শুরু করে। সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনীতিতে সমঝোতা ও নমনীয়তা না থাকলে তা জনগণের রাজনীতি হয়ে উঠতে পারে না।   আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ, দ্বিতীয় দিনে যাচ্ছেন দেড় হাজারের বেশি ভ্রমণপিপাসু

ছবি: সংগৃহীত

৮ নভেম্বর থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি, কয়েক দিন কমবে তাপমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের আহ্বান এইচআরডব্লিউর

0 Comments