বিশ্ব

শি জিনপিংকে ‘বল্ড ঈগল’ উপহার দিলেন ট্রাম্প

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক টাকমাথা ঈগলের একটি ভাস্কর্য উপহার দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে চীনা প্রেসিডেন্টকে এ উপহার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 


নৈশভোজে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আপনারা সত্যিই অসাধারণ মানুষ। বেইজিং সফরের সময় চীনের জনগণের আতিথেয়তা ছিল দারুণ। এক দশকেরও বেশি সময় পর আপনি ওয়াশিংটনে ফিরেছেন। আমরা একই সম্মান আপনাকে দেখাতে চাই।’


দুই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অটুট রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দুই দেশের নেতা হিসেবে বুঝি যে আমাদের ব্যবস্থা আলাদা। কিন্তু আমাদের জনগণের সম্পর্ক অটুট এবং আমরা কখনো এত ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করিনি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’


ভাষণের শেষে শি-কে টাকমাথা ঈগলের একটি ভাস্কর্য উপহার দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই পাখি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক এবং ‘আমেরিকার স্বাধীন ও উড়ন্ত চেতনার প্রতীক’।


ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট শি-কে একজন অসাধারণ মার্কিন শিল্পীর তৈরি এই উপহারটি দিচ্ছি। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা শিল্পী। ভাস্কর্যটি তৈরির নকশায় মেলানিয়া ও আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি।’


তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভাস্কর্যটি বেইজিংয়ে ‘সুন্দর ও সম্মানজনক’ কোনো স্থানে রাখা হবে।


হোয়াইট হাউসের এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ ছিল ‘ব্ল্যাক-টাই’ আয়োজন। এতে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যালফাবেটের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


অন্যদিকে শি জিনপিং বলেন, তিনি ও ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে গভীর আলোচনা করেছেন এবং ‘অনেক বিষয়ে অভিন্ন বোঝাপড়ায়’ পৌঁছেছেন। এর ফলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি শি।


শি বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করতে হবে।’ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পরিচালনায় ‘নতুন পদ্ধতি’ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।


এর আগে বৃহস্পতিবার শি আটলান্টার একটি চিড়িয়াখানায় দুটি চীনা জায়ান্ট পান্ডা উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পাঁচ বছরে এক লাখ মার্কিন শিক্ষার্থীকে চীনে পড়াশোনার সুযোগ দিতে নতুন শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তিনি।


শি বলেন, ‘জায়ান্ট পান্ডা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের দূত হিসেবে কাজ করে আসছে।’


তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
শি জিনপিংকে ‘বল্ড ঈগল’ উপহার দিলেন ট্রাম্প

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক টাকমাথা ঈগলের একটি ভাস্কর্য উপহার দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে চীনা প্রেসিডেন্টকে এ উপহার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  নৈশভোজে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আপনারা সত্যিই অসাধারণ মানুষ। বেইজিং সফরের সময় চীনের জনগণের আতিথেয়তা ছিল দারুণ। এক দশকেরও বেশি সময় পর আপনি ওয়াশিংটনে ফিরেছেন। আমরা একই সম্মান আপনাকে দেখাতে চাই।’ দুই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অটুট রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দুই দেশের নেতা হিসেবে বুঝি যে আমাদের ব্যবস্থা আলাদা। কিন্তু আমাদের জনগণের সম্পর্ক অটুট এবং আমরা কখনো এত ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’ ভাষণের শেষে শি-কে টাকমাথা ঈগলের একটি ভাস্কর্য উপহার দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই পাখি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক এবং ‘আমেরিকার স্বাধীন ও উড়ন্ত চেতনার প্রতীক’। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট শি-কে একজন অসাধারণ মার্কিন শিল্পীর তৈরি এই উপহারটি দিচ্ছি। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা শিল্পী। ভাস্কর্যটি তৈরির নকশায় মেলানিয়া ও আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভাস্কর্যটি বেইজিংয়ে ‘সুন্দর ও সম্মানজনক’ কোনো স্থানে রাখা হবে। হোয়াইট হাউসের এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ ছিল ‘ব্ল্যাক-টাই’ আয়োজন। এতে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যালফাবেটের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে শি জিনপিং বলেন, তিনি ও ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে গভীর আলোচনা করেছেন এবং ‘অনেক বিষয়ে অভিন্ন বোঝাপড়ায়’ পৌঁছেছেন। এর ফলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি শি। শি বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করতে হবে।’ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পরিচালনায় ‘নতুন পদ্ধতি’ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার শি আটলান্টার একটি চিড়িয়াখানায় দুটি চীনা জায়ান্ট পান্ডা উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পাঁচ বছরে এক লাখ মার্কিন শিক্ষার্থীকে চীনে পড়াশোনার সুযোগ দিতে নতুন শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তিনি। শি বলেন, ‘জায়ান্ট পান্ডা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের দূত হিসেবে কাজ করে আসছে।’ তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন স্থায়ী সদস্য চায় না পাকিস্তানসহ ১২ দেশ

তেলের দাম কমার প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় কমল তেলের দাম

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের নিরাপত্তা আমাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার অংশ: মিসর

সংগৃহীত ছবি
হামলার শঙ্কায় মক্কাসহ সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা

ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম স্থান মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের একাধিক অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এই সতর্কতা জারি করেছে। সাধারণত সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলেই কেবল দেশটির জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে মক্কা নগরীতে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ইয়ানবু গভর্নরেট এবং তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলেও আলাদা সতর্কতা জারি করা হয়।  তবে সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা তুলে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা হামলা চালানোর ঠিক আগমুহূর্তে সাধারণত এই সতর্কসংকেত সচল হয়ে ওঠে। গত সপ্তাহে রিয়াদ অভিযোগ করে বলেছিল, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা চালিয়েছে হুথিরা। তবে হুথিদের ছোড়া ড্রোন গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করা হয়। যদিও মক্কা নগরীতে হামলার চালানোর এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে হুথি। এর কয়েক দিনের মাথায় ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সৌদির রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের হামলা চালায়; যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের হয়ে দেশটিতে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সম্প্রতি হুথিদের হামলা জোরদার হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের আবর্তে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে ইয়েমেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ভূখণ্ড দখল করে নেয় হুথিরা। এর মাধ্যমে সৌদির তেল রপ্তানির প্রধান পথ বাব আল-মানদেব প্রণালির উপকূলীয় অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। এর আগে, গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের আকাশসীমায় রিয়াদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলেও তা অমান্য করে সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেয় হুথি বিদ্রোহীরা। এর পরপরই ২০২২ সাল থেকে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায় এবং শুরু হয় একের পর এক হামলা। পরবর্তীতে সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ জারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং সৌদির তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বিভিন্ন ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালাতে শুরু করে  হুথি বিদ্রোহীরা। হুথিদের এসব ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্ববাজারের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদিসহ পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর ইরান ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করেছে। সূত্র: এএফপি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

তীব্র পানির সংকটে ইসরায়েল

জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু

রয়টার্স ছবি

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের দাবি

ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় সেনাসদস্যসহ দুজন গ্রেপ্তার

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার দুই বাসিন্দা ও ভারতের সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।     প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-২৪ পরগণার স্বরূপনগরের বিথারি-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দাহারকান্দ সীমান্ত দিয়ে এ দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন। তারা গতকাল রাতে কাঁটাতারের সীমান্ত পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্যরা হাতেনাতে আটক করেন।     এরপর তাদের কলকাতা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা গৌতম অধিকারী নামে এক সেনা সদস্যের নাম বলেন। তার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলির মাগরা। তিনি রাজস্থানের যোদপুরে মোতায়েন ছিলেন। কিন্তু ছুটিতে বর্তমানে বাড়িতে ছিলেন।       নাম আসার পর পুলিশ ওই সেনাসদস্যকে তার বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তার করে।     ওই দুই বাংলাদেশি কেন ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিলেন সেটি জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আদালত তাদের তিনজনের ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর  করেছেন।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আসামের ধুবড়িতে ১৪শ পরিবারের উচ্ছেদে আদানি প্রকল্প শুরু

ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি, নিউইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর ‘উইং অব জায়ন’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে তোপের মুখে ইসরায়েল

0 Comments