জাতীয়

সামাজিকভাবে প্রতিরোধ না হলে মাদক দমন সম্ভব নয়: ফেনীতে জয়নাল আবেদীন এমপি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী জেলায় সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি।

 

অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহ অবস্থা থেমে নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত সামাজিকভাবে প্রতিরোধ না হবে ততদিন শুধুমাত্র পুলিশ দিয়ে এটা দমন সম্ভব নয়। মাদক কারবারিদের প্রতি আমাদের নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এখন থেকে এদের দমন না করি, তাহলে তা আর সহজে দমন করা সম্ভব হবে না। তাই মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ার আগেই আসুন আমরা সবাই মিলে গ্রাম পর্যায়ে সতর্ক ও সচেতনতা বৃদ্ধি করি।’

 

ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের বক্তব্য দেন, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) সাজেদ কামাল, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নাদেরুজ্জামান ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, ‘১২ ইউনিয়নে মাদক বিরোধী কমিটি করা হয়েছে। মাদক নিয়ে আমরা সোচ্চার। পাশাপাশি পূজা উদযাপনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কাজ করবে। কোন ধরনের অঘটন যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো৷ দুর্গাপূজা যাতে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে সবাই সহযোগিতা করবো।’

 

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) সাজেদ কামাল বাসসকে বলেন,‘পূজা উদযাপনে অপতৎপরতাকারী যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবে পুলিশ। আমরা কাজ শুরু করেছি৷ ইতিমধ্যে শহরে প্রবেশের তিন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া পূজা শুরু হওয়ার আগে থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ টহল দেওয়া হবে। প্রতিটি এলাকায় আমাদের টিম টহল দিবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সামাজিকভাবে প্রতিরোধ না হলে মাদক দমন সম্ভব নয়: ফেনীতে জয়নাল আবেদীন এমপি

ফেনী জেলায় সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি।   অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহ অবস্থা থেমে নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত সামাজিকভাবে প্রতিরোধ না হবে ততদিন শুধুমাত্র পুলিশ দিয়ে এটা দমন সম্ভব নয়। মাদক কারবারিদের প্রতি আমাদের নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এখন থেকে এদের দমন না করি, তাহলে তা আর সহজে দমন করা সম্ভব হবে না। তাই মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ার আগেই আসুন আমরা সবাই মিলে গ্রাম পর্যায়ে সতর্ক ও সচেতনতা বৃদ্ধি করি।’   ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের বক্তব্য দেন, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) সাজেদ কামাল, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নাদেরুজ্জামান ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল।   উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, ‘১২ ইউনিয়নে মাদক বিরোধী কমিটি করা হয়েছে। মাদক নিয়ে আমরা সোচ্চার। পাশাপাশি পূজা উদযাপনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কাজ করবে। কোন ধরনের অঘটন যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো৷ দুর্গাপূজা যাতে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে সবাই সহযোগিতা করবো।’   ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) সাজেদ কামাল বাসসকে বলেন,‘পূজা উদযাপনে অপতৎপরতাকারী যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবে পুলিশ। আমরা কাজ শুরু করেছি৷ ইতিমধ্যে শহরে প্রবেশের তিন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া পূজা শুরু হওয়ার আগে থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ টহল দেওয়া হবে। প্রতিটি এলাকায় আমাদের টিম টহল দিবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৪, ২০২৬

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন বসছে ৯ নভেম্বর

ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদের আহ্বান বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
টিকটকের পরিচয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন, ঘর ছেড়ে পালানো কুমিল্লার ৪ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল কুমিল্লার চার স্কুলছাত্রী। সঙ্গে নিয়েছিল পরিবারের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার। তবে নিখোঁজের পর পুলিশের তৎপরতায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।   পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর সকালে কুমিল্লা নগরীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীসহ চার ছাত্রী বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পৃথক চারটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।   ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় চার শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর ঘর ছাড়ার পরিকল্পনা পুলিশ সুপার জানান, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহার করত এবং টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিল। অনলাইনে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা জীবনযাপনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা পরিবার থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস, নিজেরা উপার্জন এবং অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করে। তবে যাদের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়েছিল, তাদের প্রকৃত পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।   চার হাজার টাকায় মোবাইল বিক্রি করে ঢাকায় যাত্রা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি ছাড়ার দিন কুমিল্লার বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে এক শিক্ষার্থী। সেই অর্থ এবং সঙ্গে নেওয়া স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা প্রথমে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পেরে তারা হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এক শিক্ষার্থীর দাদার বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সঠিক ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে অটোরিকশায় ঘোরাঘুরির সময় পুলিশের নজরে আসে তারা। পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাদের নিরাপদ হেফাজতে নেয়।   উদ্ধার হয়েছে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল সুপার মার্কেটের একটি দোকান থেকে বিক্রি করা মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকারও জব্দ করা হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত আট তরুণের কেউ শিক্ষার্থীদের বাড়ি ছাড়তে প্ররোচিত করেছে কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ। তাদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে।   অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্মার্টফোন ব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং অনলাইন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সম্প্রতি কুমিল্লায় শিক্ষার্থী নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত তথ্য পাওয়ায় এবার চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থী বর্তমানে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাসিনার দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমানের মাত্র ১৫০ টাকা: চিফ হুইপ

কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় রুহুল কবির রিজভীর নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।   আজ বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার অপচেষ্টা করেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া কিছু পান্ডা।’   তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনা বাংলাদেশ থেকে পলায়ন করা পতিত ফ্যাসিস্টদের অনুশোচনার অভাব ও দেশবিরোধী কার্যকলাপের ধারাবাহিকতার অংশ। ড. ইউনূসের প্রতি এ অসম্মানজনক আচরণ পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ।’   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার কারণেই জেএফকে বিমানবন্দরে প্রফেসর ইউনূসের ওপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।’   তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস শুধু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টাই ছিলেন না, তিনি নোবেলজয়ী ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। জেএফকে বিমানবন্দরে শুধু তাঁর প্রতি অসদাচরণ করা হয়নি, বরং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হেয় করা হয়েছে।’   বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী দুঃশাসনে দেশ গুম-খুন ও গুপ্তহত্যার এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। সেই অপশাসনের সহযোগী দুষ্কৃতকারীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারাই ড. ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। বিদেশের মাটিতে সংঘটিত এ অপ্রীতিকর ঘটনা বাংলাদেশের জনগণের মনে এ ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত করেছে যে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তপরায়ণ মনোভাব ও হিংসাশ্রয়ী আচরণের কোনো কমতি হয়নি।’   তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রাজনীতির ব্যাপ্তি এখনো আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। এ কারণেই তিনি নিজেদের কর্মীদের দেশে-বিদেশে উসকানি দিচ্ছেন এবং বাংলাদেশেও নানামুখী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছেন বলে বাংলাদেশের জনগণের কাছে তা প্রতিনিয়ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।’   বিবৃতিতে রিজভী জেএফকে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আওয়ামী দুষ্কৃতকারীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় ধিক্কার ও তীব্র নিন্দা জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৪, ২০২৬

এলপিজি নিয়ে জনগণকে জিম্মির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা : জ্বালানিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

যুগ্মসচিব জসিম উদ্দীনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার

সংগৃহীত ছবি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাফল্য, ডিএমপির পুরস্কার পেলেন শ্রেষ্ঠরা

0 Comments