সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত তথ্যপ্রবাহের কারণে প্রচলিত সাংবাদিকতা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। এর ফলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যেতে পারে—সম্প্রতি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের গবেষক চার্লস এডওয়ার্ড গেহরকে।
তার মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পশ্চিমা গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও পরিবর্তিত শিরোনামের একটি ধারা দেখা যায়। কখনো বলা হচ্ছিল ইউক্রেন দ্রুত হারবে, আবার কখনো বলা হচ্ছিল তারা জয়ের পথে। অনেক দর্শকের কাছে এটি পক্ষপাত মনে হলেও, গবেষকের মতে, আসল সমস্যা ছিল তথ্য যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় না নেওয়া।
তিনি বলেন, অতীতে সাংবাদিকতার তথ্য ধীরে আসত এবং ঘটনার পর যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন সামাজিক মাধ্যমে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও, ছবি ও নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ প্রথমে এসব দেখেই নিজেদের মত তৈরি করে ফেলে। এরপর যখন যাচাই করা সংবাদ প্রকাশিত হয়, তখন সেটি দেরিতে আসা বা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র এখন শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। তথ্যও বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ড্রোন ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর ভিডিও ও তাৎক্ষণিক দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সাংবাদিকদের কাজ হলো তথ্য যাচাই করা, সোর্স নিশ্চিত করা ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা; যা সময়সাপেক্ষ। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্যে সময়ের ব্যবধান তৈরি হয়।
এই ব্যবধানই মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। কারণ মানুষ এখন আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্লিপ দেখে, পরে সংবাদ পড়ে। দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলে সংবাদমাধ্যমকেই অনেক সময় বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়।
গেহরকের মতে, সাংবাদিকতা এখন এক ধরনের ‘গতির ফাঁদে’ পড়েছে। দ্রুত খবর দিতে গেলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার যাচাই করতে সময় নিলে প্রাসঙ্গিকতা হারানোর আশঙ্কা থাকে। তাই সাংবাদিকতার সামনে বড় প্রশ্ন হলো, কীভাবে দ্রুততা ও নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা যায়।
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমকে শুরুতেই নিশ্চিত উত্তর দেওয়ার বদলে অনিশ্চয়তা স্বীকার করে স্বচ্ছভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ খবরটি যে যাচাই করা হয়নি, তা বলতে হবে। নয়তো মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
তার মতে, দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহের এই যুগে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা টিকিয়ে রাখতে হলে কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। তথ্যসূত্র : দ্য কনভারসেশন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত (৬২১ বিলিয়ন ডলার) ও মালয়েশিয়ার (৫১৬ বিলিয়ন ডলার) মতো অর্থনীতির কাতারে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মিশর (৪৩০ বিলিয়ন ডলার) ও পাকিস্তানকে (৪০৮ বিলিয়ন ডলার) পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে এখনো শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব। দেশ তিনটির জিডিপি যথাক্রমে ১.৬৪ ট্রিলিয়ন, ১.৫৪ ট্রিলিয়ন এবং ১.৩৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট জিডিপি ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। উন্নত আর্থিক ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অবস্থানে রেখেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন, যার জিডিপি ১৯.৫৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার। শিল্প উৎপাদন, রফতানিনির্ভর উৎপাদন খাত এবং দ্রুত সম্প্রসারিত ভোক্তা বাজার চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কৌশলগত অবস্থান ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেশটির অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই অগ্রগতি দেশের রফতানি, প্রবাসী আয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থান ধরে রাখতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তথ্যসূত্র: আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আইটলুক ও ফিনটেক নিউজ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই অবৈধ দখল ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তথা বিজেপি সরকার। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বুলডোজার নামিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে অবৈধ দোকান, হকার ও বহুতল ভবন। সোমবার হাওড়া পুরসভার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পাঁচতলা ভবনের অংশ ভেঙে ফেলে প্রশাসন। অভিযোগ, ভবনটির জন্য মাত্র দুইতলা নির্মাণের অনুমতি থাকলেও পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছিল। এর আগে শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন এলাকায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শত শত দোকান ও হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। বিজেপি সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু। রাজ্যজুড়ে অবৈধ দখল ও নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান চলবে। তিনি বলেন, সরকারি জমি দখল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইন মানতে হবে, না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতার ফুটপাত, রাস্তা ও রেলস্টেশন ঘিরে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান ও স্থাপনা। পার্ক সার্কাস, গড়িয়াহাট, এসপ্ল্যানেড, বড়বাজার ও তপসিয়ার মতো এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা রয়েছে। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের আশপাশে চা, খাবার, পোশাক ও নিত্যপণ্যের অস্থায়ী দোকানে ভরে থাকত পথঘাট। এতে যাত্রী চলাচল ও যানজটে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল বলে দাবি প্রশাসনের। গত ১২ মে কলকাতার তপসিয়া-তিলজলা এলাকায়ও বড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অবৈধ চামড়ার কারখানায় আগুনে দুইজন নিহত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কলকাতা পুরসভার দাবি, তপসিয়া-তিলজলা এলাকায় এক হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। গত এক দশকে নির্মিত প্রায় ৭০ শতাংশ ভবনই অবৈধ। তবে কলকাতা হাইকোর্ট পরে ২২ জুন পর্যন্ত ওই এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয়। অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, যথাযথ নোটিশ ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু হকার ও দোকান মালিক। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে ব্যবসা করলেও কোনো আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি। এক দোকানি বলেন, ১৫ বছর ধরে জুসের দোকান চালাচ্ছিলাম। রাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন কোথায় যাব? আরেকজন বলেন, পুনর্বাসন না দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না। এদিকে রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযানকে নির্মম আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে। তবে বিজেপি সরকার বলছে, শহরকে অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
পর্যটকদের জন্য চালু থাকা ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধার মেয়াদ বড় পরিসরে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড। মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশটির মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর ফলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চালু হওয়া ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা থেকে সরে আসছে ব্যাংকক। করোনাভাইরাস মহামারির পর পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ এবং ইউরোপের ২৯ দেশের শেনজেন অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছিল। নতুন নীতির আওতায় ভিসামুক্ত অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা আবার ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হচ্ছে। কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য এই সময় আরও কমিয়ে ১৫ দিন করা হবে। ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের মুখপাত্র রাচাদা ধানাদিরেক বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ অপব্যবহার করছে। তিনি বলেন, থাই অর্থনীতির জন্য পর্যটন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন নিরাপত্তা উদ্বেগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। থাই কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ৬০ দিনের দীর্ঘ সময়সীমা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করেছিল। এর মধ্যে অবৈধ ব্যবসা, অনুমতিহীন বিদেশি শ্রমিক এবং অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিস্তারও ছিল। নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রকৃত এবং উচ্চ ব্যয়ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যটকদের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমাই যথেষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচার, মানবপাচার, অনুমোদন ছাড়া হোটেল ও ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে একাধিক আলোচিত গ্রেপ্তারের পরই নীতিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। বরং যারা আইনশৃঙ্খলা এড়িয়ে যেতে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে, তাদের ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। তিনি বলেন, অপব্যবহার রোধে স্থলসীমান্ত দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ দুইবার ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। ২০২৪ সালের সম্প্রসারণের আগে যে নিয়ম ছিল, এবারও সেই পদ্ধতিই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তবে নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো জানায়নি সরকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ থাইল্যান্ডের জন্য সময়টি বেশ স্পর্শকাতর। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১০ শতাংশের বেশি আসে পর্যটন খাত থেকে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি পর্যটক আগমন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি বছরে ৩ কোটি ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা বহাল রেখেছে থাই সরকার। সূত্র : আল জাজিরা