আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ নাইজেরিয়ায় গত এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
নাইজেরিয়ার ‘গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু এ কথা জানান। শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট টিনুবু বলেন, ২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৮১ শতাংশ কমেছে। ২০২৩ সাল থেকে ‘অপারেশন সেফ করিডোর’ কর্মসূচির এক লাখ ২৪ হাজার সন্ত্রাসী অস্ত্র সমর্পণ করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে স্বেচ্ছায় অস্ত্র সমর্পণ এবং সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসন করা হয়।
দেশটিতে ১৯৯৯ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং কয়েক বছরের সামরিক শাসনের অবসানের স্মরণে এ দিবসটি পালন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ নাইজেরিয়া বর্তমানে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। দেশটিতে আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধী চক্র মুক্তিপণের জন্য সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে চলেছে। স্কুল, গির্জা ও মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এসব ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ছাড়া দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম শুরুতে উত্তরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা ঘন বনাঞ্চল ব্যবহার করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও হামলা শুরু করেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে গোষ্ঠীগুলো পুরনো জায়গা ছেড়ে নতুন করে ঘাঁটি বানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে জয় পেলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেস বা নিদেনপক্ষে হাউস বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে কীভাবে সে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, তার কিছু পরিকল্পনা আটছেন। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুন্ন থাকবে নাকি ডেমোক্র্যাটরা ছিনিয়ে নেবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলো হোয়াইট হাউসের দায়িত্বে থাকা ক্ষমতাসীন দলের জন্য মাঝে মাঝে বেশ নিষ্ঠুর প্রমাণিত হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দিনগুলো বেশ ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ হতে পারে। কংগ্রেসের যেকোনো কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতে পেলেই তা ডেমোক্র্যাট দলকে সাক্ষ্য দেওয়ার বা নথি পেশ করার জন্য বাধ্যতামূলক সমন জারি করার ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী বছরের শুরুতে তদন্ত শুরু করার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন বা তহবিল জুগিয়ে দেবে। আলোচনার সাথে পরিচিত ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং সম্ভবত খোদ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও; তদন্ত করা হবে কিনা তা বিবেচনা করে দেখছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য তদন্ত এবং সাক্ষীদের একটি তালিকা তৈরি করতে শুরু করেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তারা অন্তত চারটি বিষয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সামনে আনতে পারে। ১. ট্রাম্পের পরিবার এবং অর্থায়ন ডেমোক্র্যাটরা এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ট্রাম্প পরিবারের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া লাভজনক চুক্তিগুলোই হবে যেকোনো প্রাথমিক তদন্তের প্রধান লক্ষ্য। হাউস ওভারসাইট কমিটির সদস্য ও ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি সুহাস সুব্রামনিয়াম বলেছেন, ‘আমরা এটি নিশ্চিত করতে চাই যেন করদাতাদের ডলার বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করা হয় এবং দুর্নীতির কারণে তা চুরি বা কারও পকেটে না যায়।’ তদন্তের জন্য বিবেচনাধীন বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশাসন এবং করপোরেট সংস্থাগুলোর; বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থাগুলোর; মধ্যকার সম্পর্ক, পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে থাকতে পারে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাতারের উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমান এবং ট্রাম্প পরিবারের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া কোটি কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি। সুব্রামনিয়াম বলেন, ’আমার কাছে যা চমকপ্রদ মনে হচ্ছে তা হলো কেবল এই প্রশাসন, মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা এবং এমনকি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারই যে দুর্নীতিগ্রস্ত ও আত্মস্বার্থ চরিতার্থকারী তা-ই নয়, বরং তারা এই বিষয়ে বেপরোয়া এবং প্রকাশ্য ছিলেন।’ হোয়াইট হাউস অবশ্য বারবার যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ‘কংগ্রেসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে এবং পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা আরও দ্বিগুণ করার দিকে মনোনিবেশ করছেন।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমেরিকান জনগণের জীবনমান উন্নত করার কোনো এজেন্ডা ডেমোক্র্যাটদের নেই, তাদের কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তবসম্মত এজেন্ডাকে বাধাগ্রস্ত করার এবং ভিত্তিহীনভাবে নিশানা বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’ হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, কংগ্রেসে যারাই থাকুক না কেন, প্রশাসন যেকোনো তদারকি বা তদন্তের অনুরোধের জবাব দিতে সবসময় প্রস্তুত। ২. হেগসেথ এবং পেন্টাগন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন— যার মধ্যে রয়েছে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা, গোলাবারুদের ঘাটতি, যুদ্ধব্যয় এবং সৈন্যদের ও সামরিক স্থাপনাগুলোর দুর্বল প্রস্তুতির অভিযোগ। গত এপ্রিলে, হাউস ডেমোক্র্যাটদের একটি দল হেগসেথের বিরুদ্ধে বিরল অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করে। তারা ইরানের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর অপরাধ ও অপকর্মের’ অভিযোগ আনে। হাউসে অভিশংসন পাসের জন্য কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়, তবে দোষী সাব্যস্ত করা—এবং পদ থেকে অপসারণের—জন্য সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন পড়ে। মার্কিন ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো মন্ত্রিসভার কর্মকর্তাকে এভাবে পদ থেকে সরানো যায়নি। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে, কংগ্রেসের শুনানির মাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রচার তৈরি হবে, তা শেষ পর্যন্ত হেগসেথকে বরখাস্ত বা পদত্যাগে বাধ্য করতে পারে। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং প্রেসিডেন্সি সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ডেভিড মিলার বলেন, ‘যদি এটি হোয়াইট হাউসের জন্য খারাপ দেখায় এবং তাদের গণমাধ্যমের মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো ওই কর্মকর্তাদের বিদায় করে দিতে পারেন। কারণ তিনি এ ধরণের নেতিবাচক সংবাদ চান না। এক অর্থে এটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি জয় হতে পারে।’ সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়কার হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রধান নীতিশাস্ত্র বিষয়ক আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই যুদ্ধ কখনোই মার্কিন কংগ্রেস দ্বারা অনুমোদিত হয়নি, এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে তা আমার কাছে বড় বিষয় নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করার অধিকার রাখে। এবং আইনপ্রণেতাদের উচিত এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য এই লোকদের ডেকে আনা।’ পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন এক বিবৃতিতে হেগসেথের ট্র্যাক রেকর্ডকে সমর্থন করে তাকে একজন ‘পরিবর্তনকারী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘যেকোনো মানদণ্ডেই, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের নেতৃত্বে যুদ্ধ বিভাগ আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।’ ৩. অভিবাসন এবং আইসিই অভিযান শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাটরা সম্ভাব্য সংসদীয় তদন্তের জন্য অভিবাসন আইন প্রয়োগকে একটি মূল অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই তদন্তগুলোতে দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান চলাকালীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইসিই এজেন্টদের দ্বারা সংঘটিত অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে এই তদন্তগুলো কঠিন এবং রাজনৈতিকভাবে জটিল প্রমাণিত হতে পারে। ২০২৪ সালে ট্রাম্প নথিপত্রহীন অভিবাসীদের গণ-বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন; যা তাঁর অনেক সমর্থকের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, অনেক আমেরিকান, যাদের মধ্যে ওই নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করা ব্যক্তিরাও রয়েছেন, চলতি বছরে আমেরিকার শহরগুলোতে আইসিই দ্বারা ব্যবহৃত কিছু কৌশলের ব্যাপারে অস্বস্তি বোধ করছেন। এর অর্থ হলো ডেমোক্র্যাটদের আইসিই-এর কৌশলের বিরোধিতা করা এবং একই সাথে সামগ্রিক অভিবাসন উদ্বেগগুলোকে খারিজ না করে দেখানোর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে। ৪. ট্রাম্পের তৃতীয় অভিশংসন ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন করার চেষ্টা করার সম্ভাবনার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত। আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো কিছু প্রতিনিধি অভিশংসনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এর কারণ হিসেবে তাঁরা ইরানের সাথে অননুমোদিত যুদ্ধ এবং অন্যান্য কথিত অভিশংসনযোগ্য অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যরা আরও সতর্ক পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের যুক্তি হলো, যেকোনো অভিশংসনের শেষ পরিণতি হিসেবে সিনেটে ভোট দিয়ে ট্রাম্পকে পদ থেকে অপসারণ করার সম্ভাবনা খুবই কম। তা ছাড়া, অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার মতো কোনো নির্দিষ্ট কারণে দলটি একমত হতে পারবে কিনা তাও অস্পষ্ট। অক্টোবরে ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি চাইলে যা খুশি করতে পারি।’ তিনি আরও যোগ করেন যে তার প্রথম মেয়াদের অভিশংসন প্রচেষ্টা এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি মামলাগুলোকে তিনি ’অত্যন্ত অবৈধ বিষয়’ হিসেবে দেখেন। হাউস ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কোমার গত জুনে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা হলো একঘেয়ে স্বভাবের লোক যারা কেবলই ট্রাম্পের পেছনে লাগতে যাচ্ছে।’ ডেমোক্র্যাটদের জন্য এর কোনো গ্যারান্টি নেই যে সম্ভাব্য কোনো তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল বয়ে আনবে। তবে সুহাস সুব্রামনিয়াম বলেছেন যে তাঁদের এই প্রচেষ্টা একটি বার্তা দেবে। তিনি বলেন, ‘লোকজন কী ভাববে সেই ভয়ে, অথবা এটি সফল হবে না মনে করে, কিংবা তারা যদি আমাদের বাধা দেয় এবং সেই কারণে আমরা যদি কিছু না করি, তবে তা খারাপ হবে। এটি কেবল আগামী দুই বছরের জন্যই নয়, বরং আগামী ২০ বছরের জন্যও ক্ষতিকর হবে।’
বিশ্বভ্রমণে বের হওয়া বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘ভিলা ভি ওডিসি’র যাত্রা কম্বোডিয়ায় স্থগিত করা হয়েছে। জ্বালানির ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জাহাজে বসবাস করা প্রায় ২০০ যাত্রী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস জানিয়েছে, যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামানো এবং তাদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে তারা। একই সঙ্গে আর্থিক পুনর্গঠন ও নতুন মূলধন সংগ্রহের জন্য আগামী ৬০ দিন সময় নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ প্রক্রিয়ার ফলাফল নিশ্চিত নয় বলেও সতর্ক করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, আগে প্রতি কেবিনে মাসিক জ্বালানি ব্যয় গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার থাকলেও এশিয়ার কিছু এলাকায় তা বেড়ে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াকে এর জন্য দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জ্বালানি খরচ কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বন্দরে বেশি সময় অবস্থানের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, জ্বালানির পুরো বাড়তি খরচ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ যাত্রা স্থগিত হওয়ায় দীর্ঘ সময় সমুদ্রে বসবাসের পরিকল্পনা করা যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জাহাজে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগও করেছিলেন বলে জানায় এনডিটিভি। যাত্রী ল্যানেট ক্যানেন ও জোহান বোদিন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তাদের বলা হয়, একই দিন বেলা ২টার মধ্যে জাহাজ ছেড়ে যেতে হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকটের বিষয়টি যাত্রীরা বেশ কিছুদিন ধরেই জানতেন। এর আগে একজন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী জাহাজে এসে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করলেও শেষ পর্যন্ত সেই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয়নি।
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ইসরায়েলপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। পাসপোর্ট সমর্পণের আদালতের নির্দেশ অমান্য করার পরপরই তার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার ব্রাজিলের সুপ্রিম ফেডারেল কোর্ট অর্থপাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা করেননি। এরপর মঙ্গলবার ফেডারেল পুলিশ তার সব ব্রাজিলীয় পাসপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে। একাধিক কূটনৈতিক ও পরিবারসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ফ্লাভিও বলসোনারো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন এবং সেখানে তার ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তিনি কীভাবে এবং কোন পথে ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত দিয়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রবেশের কোনো রেকর্ড নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরে যান ফ্লাভিও বলসোনারো। লুলা ৫১.৭৯% ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বলসোনারো পান ৪৮.২১% ভোট। পরাজয়ের পর থেকেই তিনি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার দাবি জানান এবং ভোটগ্রহণের সময় বৃদ্ধি করাকে ‘চক্রান্ত’ বলে অভিযোগ তোলেন। ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সূত্র: বিবিসি