খেলাধুলা

দুই সুপার ওভারের ‘পাগলাটে’ এক ম্যাচ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিনের প্রথম ম্যাচে আজ গ্রুপ পর্বের খেলায় রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, উষ্ণতা সবই ছিল আকাশচুম্বী। মূল ম্যাচ টাই হয়ে গেছে সুপার ওভারে। তবে এক সুপার ওভারেও ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটেনি। লেগেছে দুই সুপার ওভার। তাতেই ‍বুঝা যায় ম্যাচের আবহ। শেষমেশ দ্বিতীয় সুপারে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বলা চলে দুই সুপার ওভারের ‘পাগলাটে’ এক জয়ের অবিস্বরণীয় কীর্তি গড়ল ডি কক-রিকেলটন-মিলাররা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে প্রোটিয়ারা। আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম ৮ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন। ওপেনিং জুটি থেমেছে ১২ রানেই। এরপর কুইন্টন ডি কক এবং রায়ান রিকেলটন মিলে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। দুজন এগিয়েছেন দেখেশুনে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে মারক্রামকে হারিয়ে ৪৩ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ারপ্লে শেষে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বের হয়ে এসেছেন ডি কক এবং রিকেলটন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ছুটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। দুজনই চলে যান ফিফটির খুব কাছে। ফিফটি ছুঁয়েছেনও তারা। আফগান বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে এগিয়েছেন রিকেলটন এবং ডি কক। দলের ১২৮ রানের মাথাতে থেমেছেন ডি কক। ৪১ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। রিকেলটনও একই ওভারে ফিরেছেন। আগ্রাসনের পাঠ দিয়ে ২৮ বলে ৬১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে গেছেন রায়ান রিকেলটন। দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯ বলে ২৩ রান করে বিদায় নিয়েছেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ১৫ বলে ২০ রানের ক্যামিও খেলে টিকে ছিলেন ডেভিড মিলার। শেষ দিকে ৭ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলেছেন মার্কো ইয়ানসেন। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আফগানিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ২ উইকেট নেন রশিদ খান। ১ উইকেট তোলেন ফজলহক ফারুকী। জবাব দিতে নেমে আফগানিস্তানকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে প্রোটিয়া বোলারদের তুলোধুনো করেছেন গুরবাজ। বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটিয়ে বের করেছেন রান। ওপেনিং জুটিতে এসেছে ৫১ রান। গুরবাজের সঙ্গী ইবরাহিম জাদরান ১০ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। দ্রুত আরও ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানরা। গুলবাদিন নাইব এবং সেদিকউল্লাহ আতাল সাজঘরে ফিরে যান। ২ বলে ০ রান করেছেন নাইব, আতাল করেন ৩ বলে ০ রান।

পাঁচে নেমে যোগ দিয়েছেন ডারউইশ রাসুলি। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান তোলে ৫৬ রান। দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে রানের গতি কিছুটা কমেছে আফগানদের। তবে এক প্রান্ত ধরে তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন গুরবাজ। চালিয়েছেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি। প্রোটিয়া বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন গুরবাজ। একের পর এক দারুণ শটে রান বের করেছেন। হাঁকিয়েছেন চার-ছক্কা। ফিফটির পর চলে যান সেঞ্চুরির খুব কাছে। সেঞ্চুরির একদম কাছে গিয়ে হতাশ করেছেন গুরবাজ। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলে দলের ১২১ রানের মাথাতে বিদায় নেন তিনি। একই ওভারে বিদায় নেন ১৮ বলে ১৫ রান করে রাসুলিও। এরপর ৬ বলে ৫ রান করে মোহাম্মদ নবীও ফিরে গেছেন সাজঘরে। চাপের মুখে দলের হাল ধরেছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং রশিদ খান। পরিস্থিতি সামলে রান বের করেছেন। হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারিও। শেষ দিকে শেষ ৩ ওভারে আফগানদের দরকার ছিল ৩০ রান। ক্রিজে ছিলেন রশিদ এবং ওমরজাই। টানা দুই ওভারে আউট হয়েছেন ওমরজাই এবং রশিদ। ১৭ বলে ২২ রান করেন ওমরজাই। ১২ বলে ২০ রান করে ফিরেছেন রশিদ। শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল আফগানদের। স্ট্রাইকে ছিলেন নূর আহমেদ। প্রথম বলেই আউট হয়ে যেতে পারতেন নূর। তবে না, সেই বলেই নো বল করে ফেলেন কাগিসো রাবাদা। শেষ ওভারে আরও একটি নো বল করে আফগানদের মুখে ম্যাচটা তুলে দেন রাবাদা। শেষ দিকে সমীকরণ চলে আসে ৩ বলে ২ রানে। রাবাদার বল থেকে ২ রান নিতে যান নূর আহমেদ এবং ফজলহক ফারুকী। তবে রান আউট হয়ে যান ফারুকী, আসে ১ রান। ম্যাচ টাই!! মানে সুপার ওভার। নূর ৯ বলে ১৫ রান করে টিকে ছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩ উইকেট নেন লুঙ্গি এনগিডি। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন মার্কো ইয়ানসেন, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ এবং জর্জ লিন্ডে।

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমেছে আফগানিস্তান। ব্যাট হাতে নামেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বোলিংয়ে আসেন লুঙ্গি এনগিডি। প্রথম বলেই চার মেরে দেন ওমরজাই। পরের বলে ছক্কা হাঁকান ওমরজাই। পরের বলে ১ রান। স্ট্রাইকে আসেন গুরবাজ। ১ রান নেন গুরবাজও। ৪ বলে ১২ রান তোলে আফগানিস্তান। পরের বলে চার মারেন ওমরজাই। যদিও বলটা ধরে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন কাগিসো রাবাদা। শেষ বলে নেন ১ রান। এক ওভারে এসেছে ১৭ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে দাঁড়ায় ১৮ রানের লক্ষ্য। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে নামেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এবং ডেভিড মিলার। বোলিংয়ে ছিলেন আফগান পেসার ফজলহক ফারুকী। প্রথম বলে মিলার ১ রান নেন। স্ট্রাইকে আসেন ব্রেভিস। পরের বলে ছক্কা হাঁকান ব্রেভিস। পরের বলেই আউট হয়েছেন তিনি। স্লোয়ার বাউন্সার দিয়েছিলেন ফারুকী। বুঝতে পারেননি ব্রেভিস। বল ব্যাটে লেগে আকাশে উঠে যায়। ক্যাচ ধরে ফেলেন গুরবাজ। ৩ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার ৭ রান, হারিয়ে ফেলে ১ উইকেট। এরপর ক্রিজে আসেন ত্রিস্টান স্টাবস। এসেই চার মেরে দেন তিনি। ২ বলে দরকার ৭ রান। তবে পরের বল হয়েছে ডট, মানে ১ বলে দরকার ৭ রান। শেষ বলে দারুণ এক ছক্কায় ম্যাচ আবার টাই করে ফেলেন স্টাবস। আবারও সুপার ওভার!

দ্বিতীয় সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান স্টাবস। পরের বলে আসে ১ রান, তার পরের বলে ২ রান। স্ট্রাইকে এবার ডেভিড মিলার। পরের দুই বলে দুই ছক্কায় দলের রান ২১ রানে নিয়ে যান ডেভিড মিলার। শেষ বলে এসেছে ২ রান। এক ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২৩ রান। আফগানদের হয়ে বোলিংয়ে ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানদের হয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন মোহাম্মদ নবী এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বোলিংয়ে প্রোটিয়া স্পিনার কেশব মহারাজ। প্রথম বলেই হয়েছে ডট। পরের বলে নবী আউট হয়ে যান। ৪ বলে দরকার ২৪ রান। ম্যাচটা প্রায় সেখানেই জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে ক্রিজে আসেন গুরবাজ। হাঁকান দারুণ এক ছক্কা। পরের বলেও ছক্কা হাঁকিয়ে দেন গুরবাজ। সমীকরণ চলে আসে ২ বলে ১২ রানে। পরের বলে আবারও ছক্কা হাঁকান গুরবাজ। টানা ৩ ছক্কায় সমীকরণ নেমে আসে ১ বলে ৬ রানে। পরের বলে মহারাজ দেন ওয়াইড। ১ বলে ৫ রান দরকার। তবে এবার আর জাদু দেখাতে পারেননি গুরবাজ। আউট হয়ে গেছেন। দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

তর্কসাপেক্ষে স্মরণকালের সর্বসেরা ম্যাচের দেখাই যেন পাওয়া গেল। দুই সুপার ওভারের রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে সমর্থকদের হার্ট অ্যাটাকের দশা করে ম্যাচে শেষ হাসি হাসলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এভারটনকে হারিয়ে সিটির পাশে আর্সেনাল

ঘরের মাঠে ম্যাচ জুড়ে আক্রমণে ছড়ি ঘোরাল আর্সেনাল। দুই অর্ধে দেখা মিল দুই গোলের। এভারটনকে হারিয়ে পয়েন্টের হিসাবে ম্যানচেস্টার সিটির পাশে বসল মিকেল আর্তেতার দল।   এমিরেটস স্টেডিয়ামে শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা। গোল করেছেন দুই ডিফেন্ডার এজরি কন্সা ও গাব্রিয়েল মাগালাইস।   দিনের শুরুতে অ্যাস্টন ভিলার মাঠে সিটির হারে দলটিকে ধরে ফেলার সুযোগ আসে আর্সেনালের সামনে। সেটিই কাজে লাগাল তারা।   আট ম্যাচে দুই দলেরই সমান ২১ পয়েন্ট, গোল পার্থক্যে এখনও শীর্ষে আছে সিটি।   ম্যাচের সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। কর্নারের পর জটলার ভেতর থেকে বল জালে পাঠিয়ে এই ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ইংলিশ সেন্টার-ব্যাক কন্সা।   আধিপত্য ধরে রেখে ৬৮তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকরা। বেন হোয়াইটের ক্রসে কাছ থেকে হেডে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান সেন্টার-ব্যাক মাগালাইস।   পুরো ম্যাচে ৫৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২০টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে আর্সেনাল। এভারটনের আট শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।   আট ম্যাচে দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পাওয়া এভারটন ১০ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনার সঙ্গে রেয়ালের তুলনা মরিনিয়োর চোখে ‘অন্যায্য’

ছবি: সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে থাকছেন না আশরাফুল, ব‍্যাটিং কোচ সালাউদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত

সাত জয়ের পর থামল ম্যানসিটির জয়যাত্রা, ভিলার কাছে হার

ছবি: সংগৃহীত
পদত্যাগের চিন্তা নেই, সমর্থন নিয়েই এগোচ্ছেন ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলে এখনো তার প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন রয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগের কথা ভেবেছেন কি না, এমন প্রশ্নও হাসিমুখে এড়িয়ে গেছেন তিনি।   বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি নিজের নেতৃত্ব নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে তার নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এসব মতবিরোধকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন ইনফান্তিনো।   তার ভাষ্য, বিভিন্ন বিষয়ে মতের অমিল থাকতেই পারে। ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে সেগুলো মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি।   ২০১৬ সাল থেকে ফিফার নেতৃত্বে থাকা ইনফান্তিনোকে প্রায় দুই মাস আগে পদত্যাগের দাবির মুখেও পড়তে হয়েছিল। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের প্রধানেরা একটি চিঠিতে তার বিরুদ্ধে আস্থা ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন। তাদের অভিযোগে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ আস্থা নষ্ট করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।   বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের একটি প্রস্তাব। এর আওতায় ফিফা পরিচালিত প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে বিতর্কের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তাবটি বাতিল করেন ইনফান্তিনো।   এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থিওডোর থিওডোরিদিসের মতে, এ বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।   বিতর্কের মধ্যেই বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন ইনফান্তিনো। তার সাম্প্রতিক সফরের তালিকায় ছিল মরক্কো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, কেপ ভার্দে ও জাপান। এসব সফরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নিজের অবস্থান ও সমর্থন ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।   এদিকে, আগামী বছর ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে ইনফান্তিনোর সামনে। সাম্প্রতিক বিতর্কের পরও বিশ্ব ফুটবলে নিজের সমর্থন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এই কর্মকর্তা।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এল ক্লাসিকোর আগে কৌশল নিয়ে মুখ খুললেন না মরিনিও, সাংবাদিকদের সঙ্গে রসিকতা

ছবি: সংগৃহীত

তিলক ভার্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রোমাঞ্চকর জয় ভারতের

আবারও মাঠ কাঁপাবেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদিনহো

ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসে অস্থিরতা: পিছিয়ে গেল পিএসজির ম্যাচ

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে। লিগ আঁয় পিএসজি ও অলিম্পিক লিওঁর ম্যাচটি রোববার থেকে সরিয়ে সোমবার রাতে নির্ধারণ করা হয়েছে।   নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সপ্তাহান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপের আশঙ্কায় স্থানীয় পুলিশ এই পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। পিএসজির গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচের পর থেকে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা সামলাতে হচ্ছে।   লিগ কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ম্যাচটির তারিখ পরিবর্তনের জন্য পুলিশের করা অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে।   সাত ম্যাচে সমান ১৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে লিওঁ শীর্ষে ও পিএসজি দুই নম্বরে আছে। পিএসজির মাঠে আসন্ন ম্যাচটি সোমবার সরিয়ে নেওয়ায় তা লন্ডনে অনুষ্ঠেয় ব্যালন দ’র অনুষ্ঠানের সঙ্গে একই সময়ে পড়ে গেছে। ফলে পিএসজির মনোনীত খেলোয়াড়দের পক্ষে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষার মান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন ফ্রান্সের নাগরিকরা। একটি হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে প্রায় আট লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল।   ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সমর্থনে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং কিছু সহিংসতা, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায়ও ঘটে।   এই সপ্তাহান্তে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

ব্যালন ডি’অরের আগেই মার্কার বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন কেইন

ছবি: সংগৃহীত

বিসিবি একাদশের সঙ্গে ড্রয়ে শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচ

সংগৃহীত ছবি

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন যারা

0 Comments