জাতীয়

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানাল সচিবালয় কর্মচারীরা

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বেলাল হোসেন এবং মহাসচিব নিজাম উদ্দিন আহমেদ এ ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান শুরু করার সিদ্ধান্ত কর্মজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

 

বিবৃতিতে তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

উল্লেখ্য, দুই দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত ও সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সমন্বিত সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।   তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কেবল কোনো একটি সংস্থার কাজ নয়; বরং সবার সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনার মতো মারাত্মক সমস্যা প্রতিহত করা সম্ভব।   বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), চট্টগ্রাম-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সড়কে প্রতিদিনই মূল্যবান প্রাণ ঝরে যাচ্ছে এবং অপূরণীয় জানমালের ক্ষতি হচ্ছে। এই মানবিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিকারের উপায় বের করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।   মহাসড়কে যেখানে-সেখানে যানবাহন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও যানবাহনের ফিটনেস সনদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অনিয়ম বা অন্যায্য তদবির সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী।    তিনি স্পষ্ট জানান, একমাত্র বিআরটিএ কর্তৃক বৈধভাবে সার্টিফায়েড ড্রাইভিং লাইসেন্সই দেশের সড়কে যানবাহন চালানোর জন্য গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে।   রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা ও ‘চাঁদের গাড়ি’ ব্যবহার করে অপরাধীরা বিভিন্ন অসামাজিক ও সহিংস কার্যক্রম চালাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি চালক ও মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে কোনো অপরাধী চক্র সিএনজি অটোরিকশাকে অপরাধের বাহন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না পায়।   চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হালিম এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেড পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

ষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কল্যাণ ও ক্ষমতায়নে বার্ডোর কার্যক্রম প্রশংসনীয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আইজিপি পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন, আলোচনায় তিন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তার বক্তব্যের পর রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে অপসারণের দাবি উঠেছে।   এ পরিস্থিতিতে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য নতুন আইজিপি হিসেবে আলোচনায় এসেছেন পুলিশের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য আইজিপি হিসেবে তিনজন কর্মকর্তার নাম নিয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের নিয়োগসংক্রান্ত ফাইলও প্রস্তুত রয়েছে। তবে বর্তমান আইজিপিকে অপসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেই পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়া এগোতে পারে।   আলোচনায় থাকা তিন কর্মকর্তা হলেন— ১. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ — ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার। ২. ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান — রেলওয়ে পুলিশের প্রধান। ৩. মো. আহসান হাবিব পলাশ — অতিরিক্ত আইজিপি ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক।   এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নামও আলোচনায় এসেছে।   তবে কিছু বিতর্কের কারণে শেষ পর্যন্ত তারা বিবেচনার বাইরে থাকতে পারেন বলে সূত্রের দাবি।   সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশে ফেরার পর আইজিপি পদে পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত বর্তমান আইজিপিকে সরানো কিংবা নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।   গত ২৬ অক্টোবর পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ারে’ যেতে দ্বিধা করবে না।   একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা হয়, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ আখ্যা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   আইজিপির এ বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা তুলে ধরে তার বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়।   বিতর্কের পর ২৬ অক্টোবর রাতেই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।   সেখানে জানানো হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারবহির্ভূত শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে রূপক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছেন।   এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আইজিপি অসাবধানতাবশত এমন মন্তব্য করেছেন।   পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরও আইজিপি পদে পরিবর্তনের আলোচনা থামেনি। তবে সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে চলমান আলোচনা এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে রূপ নেয়নি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে : হুমায়ুন কবীর

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ পর্যায়ে : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত থাকবে: প্রশাসক

মিরপুরসহ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।   তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।   আজ বুধবার সকালে ও বিকেলে দুই দফায় রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবৈধ দখল ও ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। মিরপুর, শাহ আলী, দারুস সালাম ও পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।   অভিযান চলাকালে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু হকার ও দখলদার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচলের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মার্কেট কমিটির নেতারা এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন।   তিনি বলেন, জনগণের হাঁটার পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। তাই ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত থাকবে।   প্রশাসক আরও বলেন, পরাজিত শক্তি ও ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেউ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার উদ্যোগ ব্যাহত করার চেষ্টা করলে তা সফল হতে দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   অভিযানে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, ডিএনসিসির দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।   সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ফুটপাতের দখল রোধে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ডিএনসিসি প্রশাসন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৮, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি

সংগৃহীত ছবি

নিরাপত্তাজনিত সতর্কতায় সাময়িকভাবে বন্ধ জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার কার্যক্রম

0 Comments