বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ায় দেশের পীর, মাশায়েখ, আলেম, ওলামা, ইমাম ও খতিবদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আলেম-ওলামাদের এই স্পষ্ট অবস্থান ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেসসচিব এ এ এম সালেহ শিবলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের সব ঘরানার শীর্ষ ইসলামী নেতৃবৃন্দ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন’ মর্মে একটি খবর বুধবার দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
এই সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় শীর্ষ স্থানীয় আলেম-ওলামাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘জাতির একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের এই অবস্থান জনগণকে সঠিক পথ ও নির্দেশনা দেবে। আলেম-ওলামাদের এই স্পষ্ট অবস্থান ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের জনগণ তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয় সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা পাবে বলে মনে করি।’
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আমি সম্মানিত আলেম-ওলামাদের ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দেশের সম্মানিত পীর, মাশায়েখ, আলেম, ওলামা, ইমাম ও খতিবদের অব্যাহত সহযোগিতা চাই।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নির্বাচনের দিনটি অনেকের কাছেই উৎসবের দিনের মতো। সকাল থেকেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, পরিচিত মুখের সঙ্গে কুশল বিনিময়—সব মিলিয়ে এক ধরনের নাগরিক আনন্দ বিরাজ করে। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের এই মুহূর্তকে ঘিরে থাকে প্রত্যাশা ও গর্বের অনুভূতি। কিন্তু সেই আনন্দের মধ্যেই যদি হঠাৎ শুনতে হয়, ‘আপনার ভোট তো দেওয়া হয়ে গেছে’—তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে ভর করতে পারে হতাশা, ক্ষোভ কিংবা অসহায়ত্ব। তবে এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। আইন অনুযায়ী প্রকৃত ভোটার তার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৩১ অনুসারে, কেউ ছদ্মবেশে আগেই ভোট দিয়ে থাকলেও প্রকৃত ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার বিশেষভাবে সচেতন থাকা জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন, কীভাবে নিজের অধিকার নিশ্চিত করবেন, তা জানা থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তেও আপনি সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন। প্রিসাইডিং অফিসারকে অবহিত করুন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি দেখেন আপনার নামের পাশে স্বাক্ষর বা টিপসই দেওয়া আছে, সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পোলিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারকে বিষয়টি জানান। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখিয়ে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করুন। উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে নিয়ম অনুযায়ী দাবি জানানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ‘টেন্ডারড ভোট’ বা প্রদত্ত ভোটের আবেদন করুন আইন অনুযায়ী, আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আপনি প্রকৃত ভোটার এবং আপনার ভোট অন্য কেউ ছদ্মবেশে দিয়েছে, তবে প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে ‘টেন্ডারড ব্যালট পেপার’ দিতে বাধ্য। একে বাংলায় ‘প্রদত্ত ভোট’ বলা হয়। এটি আপনার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার একটি আইনি ব্যবস্থা। কীভাবে টেন্ডারড ভোট দেবেন? প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে একটি আলাদা ব্যালট পেপার দেবেন, যার পেছনে ‘টেন্ডারড ব্যালট পেপার’ বা ‘প্রদত্ত ব্যালট পেপার’ লেখা থাকবে। আপনি পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল দেবেন এবং ব্যালটটি নিয়ম অনুযায়ী ভাঁজ করবেন। মনে রাখতে হবে, এই ব্যালট সাধারণ ব্যালট বাক্সে ফেলা হয় না। এটি প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হয় এবং পরে বিশেষ খামে সংরক্ষণ করা হয়। ভোট গণনায় এর গুরুত্ব কতটা? প্রাথমিক গণনায় সাধারণত টেন্ডারড ভোট গণনা করা হয় না। তবে কোনো আসনে জয়ের ব্যবধান খুব কম হলে বা ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালতের নির্দেশে এসব ভোট গণনা হতে পারে। ফলে আপনার একটি ভোটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ছদ্মবেশে ভোট দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়া আইনত অপরাধ। প্রিসাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে পারেন। নির্বাচন আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী এ অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শান্তভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী আপনার অধিকার প্রয়োগ করুন। সচেতন থাকুন, আইন জানুন এবং নিজের ভোটাধিকার নিশ্চিত করুন। সূত্র : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (ধারা ৩১ ও সংশ্লিষ্ট বিধান); বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভোটগ্রহণ নির্দেশিকা; দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (প্রতারণা ও ছদ্মবেশ সংক্রান্ত ধারা)
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার শিলুয়া এলাকার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিএনপি প্রার্থীর সহযোগীরা হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাংচুর করেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া এলাকা ও নাসির উদ্দীন মিঠু জুড়ীর বাসার সামনে ঘটনাগুলো ঘটে। হামলার ঘটনায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, শিবির নেতা তারেক, আব্দুল্লাহ, এনসিপির একজন নেতাসহ অন্তত ১০ জন মারাত্মক আহত হন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেট হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলায় আহত তারেক রহমান জানান, চাকু দিয়ে দুই জনকে স্টেপ করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। এদিকে জুড়ী বাজারে বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর বাসার সামনে আরও তিনজন দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। তাদেরকে মিঠুর লোকজন আহত করেছে বলে জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ নামের একজন আহত ব্যক্তি। জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা হয়েছে। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার খবর শুনে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাতের মধ্যে জুড়ী থানার সামনে অবরোধ করেন জামায়াত নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ জনতা। এসময় থানার সামনে উপস্থিত হয়ে ইউএনও মো. মারুফ দস্তেগী অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। পরে বিক্ষোভরতদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন। মারুফ দস্তেগী বলেন, যেই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য ইতিমধ্যেই একটি মামলা ফাইল করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলা ফাইল হবার পরে পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, আগামীকাল রাতের পরদিন ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনের সর্বশেষ কার্যক্রম, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ আগামীকাল সকাল থেকে শুরু হবে। ইলেকশন নির্বিঘ্নে করার জন্য আমাদের হাতে অনেক কাজ রয়েছে। এই কাজগুলো করার জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। ইউএনও বলেন, পুলিশ ইতিমধ্যেই অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পরশুদিন নির্বাচনের জন্য বাকি কাজগুলো জনগণের সহযোগিতায় সম্পন্ন করা হবে। এবিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু বলেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন শিলুয়া এলাকায় যান। সেখানে গিয়ে টাকা বিতরণ করার চেষ্টা করলে তার নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এদিকে আরও কয়েকজন তার বাসার সামনে হামলার চেষ্টা করে। তিনি ইউএনওকে বিষয়টি অবগত করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়া, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতা ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকসহ নানাভাবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি ঘরোয়াভাবে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। জামায়াত আমিরের একান্ত সহকারী ডা. নজরুল ইসলাম কালবেলাকে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার সারাদিনই নানারকম কাজে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি সকালে তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালকদের নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর তিনি সকাল ১১ টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। ডা. নজরুল ইসলাম আরও জানান, এরপর জামায়াত আমির সারাদেশের যেসব স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং কথা বলেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করেন। উল্লেখ্য যে, গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে জামায়াত আমির ১৫ দিনে প্রায় সারাদেশ সফর করে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। নিজের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ তে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ইইউ’র নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক:- এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস এর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইইউ’র স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ইইউ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেন। এ সময় ইইউ’র পক্ষ থেকে আশ্বাস প্রদান করা হয় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ’র ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কাজ করবে। ভবিষ্যতে ইইউ ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।