আন্তর্জাতিক

সালাম দেওয়ায় ও ইনশাআল্লাহ বলায় ভারতে নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভিডিওতে সালাম দেওয়া, ইনশাআল্লাহ ও জাযাকাল্লাহ বলায় ভারতের অতিরিক্ত এসপি মর্যাদার এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা আইপিএস পরীক্ষায় পাস করে পুলিশে যোগ দেওয়া এ নারীর নাম বুশরা বানু।

 

তিনি পশ্চিমবঙ্গের খগড়পুরে এসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর একটি ভিডিওতে আইপিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলেন বুশরা। আর ওই ভিডিওতে তিনি আসসালামু আলাইকুম বলে সালাম দেন এবং কথার মাঝে ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার করেন। এবং শেষে যাজাকাল্লাহ বলেন। 

 

আর এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন। এরপর তাকে অতিরিক্ত এসপির পদ থেকে আর্মড পুলিশের ডেপুটি কমানড্যান্ট হিসেবে বদলি করে দেওয়া হয়।

 

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

 

মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ তার সমালোচনা করে। তিনি তার বক্তব্যে কেন ‘জয় হিন্দ’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ শব্দ ব্যবহার করেননি সেটি নিয়ে কথা তোলে তারা।

 

উগ্র সংগঠনটি এ নিয়ে বলেছে, এই নারী পুলিশ কর্মকর্তার ভিডিও নিয়ে তারা পশ্চিমবঙ্গের হোম সেক্রেটারিকে অবহিত করেছে। তারা অভিযোগে বলেছে, “তিনি তার বক্তব্য শুরু করেছেন আসসালামু আলাইকুম বলে। ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার এবং শেষে জাযাকাল্লাহ বলেছেন। কিন্তু বক্তব্যে বন্দে মাতরম বা জয় হিন্দ ব্যবহার করেননি। ভারতের একজন কর্মরত অফিসার হিসেবে নিরপেক্ষ থাকা উচিত এবং যখন জনগণের সঙ্গে কথা বলবেন তখন জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতে হবে। আমরা তার বক্তব্য ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে বলেছি।

 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
১৫০ বাংলাদেশিকে কাশ্মীর থেকে আটকের দাবি ভারতের

জম্মু ও কাশ্মীরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে অন্তত ১৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করার কথা জানিয়েছে ভারত। সোমবার (৫ অক্টোবর) আটককৃতদের পুশব্যাকের জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমানে করে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।   কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে অবৈধ অভিবাসী শনাক্তকরণ জরিপ চালিয়ে প্রায় ৫০০ জনকে আটক করে শ্রীনগর শহরের উপকণ্ঠে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক ধাপে ১৫০ জনের এই দলটিকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং আগামী ৭ অক্টোবর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।   ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কর্তৃক চলতি বছরের মে মাসে গঠিত জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম মাঠপর্যায়ের জম্মু ও কাশ্মীর পরিদর্শনের দুই মাস পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দীর্ঘ দিন ধরে কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী এই আটককৃত অভিবাসীরা মূলত ভাঙ্গারি কুড়ানোসহ নানা ধরনের শ্রমিকের কাজ করে আসছিলেন।   আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকও রয়েছেন, যাদের পর্যায়ক্রমে বহিষ্কার করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কমিটিকে জানানো হয়, জম্মু ও কাশ্মীরে ৭ হাজার ৬৫৬ জন রোহিঙ্গা এবং ৫০৪ জন বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যাদের বিরুদ্ধে মোট ১১৭টি মামলা রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন রোধ এবং ধর্মীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন পর্যালোচনা করে আগামী এক বছরের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি।   সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে সক্রিয় মক্কা চুক্তি, সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত

দারিদ্র্যের ফাঁদে কিডনি বিক্রি, নেপালের এক গ্রামের করুণ গল্প

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেন সংঘাত: সৌদির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে বার্তা

ছবি: সংগৃহীত
বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে হুতিদের বিতাড়িত করেছে ইয়েমেন সরকার

সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী হুতি বিদ্রোহীদের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে বিতাড়িত করার দাবি করেছে।   ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী সোমবার বাব আল-মান্দেব প্রণালির চারপাশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে মোখা শহর পর্যন্ত এলাকা পুনর্দখলের জন্য আকস্মিক ও দ্রুতগতির অভিযান চালায়।   এর মাধ্যমে গত মাসে ইরান-সমর্থিত হুতিদের দখল করা বেশিরভাগ এলাকা থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।   সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলার সহায়তায়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী সোমবার শেষদিকে মোখার উপকণ্ঠে পৌঁছায় এবং হুতি যোদ্ধারা পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে পিছু হটে বলে চার সরকারি সূত্র জানিয়েছে।   ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শহরটির পতন হয়েছে। সরকারি বাহিনী ইতিমধ্যেই ধুবা জেলায় একটি বিমানঘাঁটিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নিয়েছে, যা ওই প্রণালির মুখে অবস্থিত।   প্রণালিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ এবং গত মাসে হুতিরা এই প্রণালি দখল করায় জ্বালানি বাজারে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্বাধীনভাবে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার কতটা অগ্রগতি করেছে তা যাচাই করতে পারেনি।   অন্যদিকে, ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানাসহ জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা বিদ্রোহীরা ইয়েমেন সরকারের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।   তবে উপকূলীয় এলাকা হুতিদের হাত থেকে মুক্ত করা হলেও সমুদ্রপথে তাদের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না; কারণ তারা সমুদ্র থেকে দূরে দেশের ভেতরের অংশ বা উপকূলের অন্যান্য জায়গা থেকেও ড্রোন দিয়ে জাহাজে আক্রমণ করতে পারে।   হুতিরা এরই মধ্যে তাইজ শহরের কাছে অনেকটা এগিয়ে গেছে। তারা একটি পাহাড়ি রাস্তার কিছু অংশ দখল করে সেখানকার সরকারি বাহিনীকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন ইয়েমেন সরকারের পাঁচ সামরিক কর্মকর্তা। তবে সরকারের একজন কর্মকর্তা রাস্তাটি বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।   ওদিকে, হুতিরা সৌদি আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচলেও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা, নারীদেরও সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৩২ জনের

ছবি: সংগৃহীত

আজ বৈঠকে বসছে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট

ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলে বিমান বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল ফ্লাই দুবাই সহ-পাইলটের

ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনকে কুঠার দিয়ে হামলার পর উড়োজাহাজটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি। তদন্তকারীদের কাছে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   ওমানের নাগরিক হামামি ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর সহ-পাইলট ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইয়েনেট জানিয়েছে, ইসরায়েলের দিকে যাওয়ার পথে জর্ডানের আকাশসীমায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আঘাত করেন হামামি। ক্যাপ্টেনকে হত্যার পর স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল তার। এতে সন্দেহ এড়ানো এবং ইসরায়েলে অবতরণের প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনো ভবন বা উড়োজাহাজে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরে হামলা সম্ভব না হলে তেল আবিবের কোনো সুউচ্চ ভবন অথবা জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমানটি বিধ্বস্ত করার বিকল্প পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে হামামির পরিকল্পনা সফল হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার প্রতিরোধ করেন, জরুরি সংকেত পাঠান এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। পরে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা হামামিকে নিয়ন্ত্রণে নেন। উড়োজাহাজে থাকা দুই অবসরপ্রাপ্ত পাইলটের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানান, হামলার কয়েক মিনিট আগে হামামি নামাজ পড়ার কথা বলেছিলেন। এরপর কুঠার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাই দুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই হামামি হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তেল আবিবে কোন বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করে, তা খুঁজে দেখার পর তিনি ফ্লাই দুবাইকে বেছে নেন বলেও দাবি করা হয়েছে। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও এক সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন হামামি। ইতালির সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেনকে আক্রমণের পর হামামি বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। এতে বিমানটি এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর হামামির অতীত নিয়েও তদন্ত হচ্ছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার নিজ দেশ ওমানে তাকে আগে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল এবং তার উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ২৯ বছর বয়সী হামামি ওমানের নাগরিক। তার বাবা ওমানের এবং মা সিরিয়ার। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি সেখানে বসবাস করেছিলেন। অনলাইনে আল-কায়েদার প্রতি সমর্থনসূচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভোট জরিপে পিছিয়ে লুলা, টপকে গেলেন বলসোনারোর ছেলে

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ঘিরে আরও তিন রণতরিসহ ২০০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments