রাঙামাটির সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে দেড় লাখ টাকার সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ৩৬ বস্তা ইউরিয়া সার, আট বস্তা টিএসপি সার ও ২৭ বস্তা জৈব সার।
সোমবার সকালে রাঙামাটি ও ভারত সীমান্তের বরকল উপজেলার ছোট হরিণা বাজার ঘাট চেকপোস্ট এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে এসব সার জব্ধ করে রাঙামাটি ছোট হরিণা ১২ ব্যাটালিয়ন।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙামাটি ও ভারত সীমান্তের বরকল উপজেলার ছোট হরিণা বাজারঘাট চেকপোস্ট এলাকায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে সারের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই পালিয়ে যায় পাচারকারীরা।
বিজিবির রাঙামাটি ছোট হরিণা ১২ ব্যাটালিয়ন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী বলেন, সীমান্তে অবৈধ চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কেবল সংরক্ষণের অভাবে রাঙামাটিতে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার আম। পাকা আম দ্রুত পচে যায়; কিন্তু রাঙামাটিতে দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে পরিবহণ ও বাজারজাত সম্ভব হয় না। সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোথাও নেই হিমাগার, গড়ে ওঠেনি কৃষিজাত খাদ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা। ফলে প্রতি বছর আমসহ রাঙামাটিতে উৎপাদিত বিপুল ফলমূল পচে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলোর তথ্যমতে, মৌসুমি ফল উৎপাদনে দেশের পার্বত্য অঞ্চলের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে কাঁঠাল, লিচু ও আনারসের পাশাপাশি এখন বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে আমের উৎপাদন। চলতি মৌসুমে রাঙামাটি জেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা ৪০ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে; কিন্তু অধিক ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের কপালে ভাঁজ। বিশেষ করে জেলার কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পরিবহণ ও বাজারজাতের সংকটে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না স্থানীয় বাগান মালিক ও কৃষকরা। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলমূল সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোথাও গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় হিমাগার ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা। ফলে প্রতি মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত কয়েকশ কোটি টাকার আম নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় সঠিক সময়ে পরিবহণ করতে না পারায় বাগানেই বিপুল পরিমাণ আম পচে নষ্ট হয়ে যায়, যা স্থানীয় চাষিদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ। মৌসুমে ভালো ফলন হলেও সংরক্ষণের অভাবে বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম পান না। অথচ অধিক ফলনে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আম বিদেশেও রফতানি শুরু হয়েছে। ঢাকায় চলতি মৌসুমে পাহাড়ের ফলমূল নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ফলের মেলা। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার টন। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ইতোমধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ২৮৫ টন। ফলন বেশি হওয়ায় রাঙামাটিতে বিদেশি জাতের আম আবাদে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা। কমছে দেশি জাতের আমের আবাদ। বর্তমানে রাঙামাটিতে রাংগুয়াই (মিয়ানমারের জাত), আম্রপালি (ভারতের জাত), বারি-৪, মিয়াজাকি বা সূর্যডিম, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ব্রুনাই কিং ও কাটিমনের মতো বিশ্বখ্যাত ও দামি বিদেশি জাতের আমের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠছে। তবে দেশি জাতের মধ্যে হাড়িভাঙা আমের আবাদও যথেষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে সুস্বাদু আম্রপালি বাজারের শেষভাগে আসায় এর চাহিদা ও কদর সবচেয়ে বেশি বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা। জেলা সদরের বনরুপা সমতাঘাটে গিয়ে দেখা যায়, আমের দাম কম। উৎপাদন বেশি হলেও পরিবহণ সংকট ও সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় এ বছর আমের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে জানান বাগান মালিকরা। বর্তমানে স্থানীয় হাটে খুচরা দামে রাংগুয়াই আম ১০০ টাকায় ৪-৫ কেজি পাওয়া যাচ্ছে। আর আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায় ২-৩ কেজি। পাইকারি দাম আরও অনেক কম। তবে ব্যানানা ও সূর্যডিম জাতের আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০-১৫০ টাকায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটির অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) অরুণ চন্দ্র রায় জানান, পাহাড়ে সাধারণত আম চাষে কেমিক্যাল বা হরমোনের ব্যবহার খুবই সীমিত। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত আমগুলো নিরাপদ রাখতে কৃষি বিভাগ ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির সম্প্রসারণ করছে। পাইকারি আম ব্যবসায়ী মো. জালাল হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে রাঙামাটি থেকে আম কিনে বাইরে নিয়ে বিক্রি করছেন। চলতি বছর ৩০ মণ আম কিনেছেন। এবার মৌসুমে রাঙামাটির বাজারে প্রচুর আম আসছে, তাই দামও কিছুটা কমে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় কৃষকরা আমের ভালো দাম পেতেন। আর সরকার বাগানিদের বালাইনাশকে ভর্তুকি দিলে পরিচর্যা খরচ কমত। রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের সুমেত চাকমা বলেন, তিনি গত প্রায় এক দশক ধরে আম চাষ করছেন। তার প্রায় ৫০-৬০ একর জমিতে আমসহ মিশ্রফলের বাগান রয়েছে। এবারও ফলন খুব ভালো হয়েছে, তবে দাম নিয়ে হতাশ তিনি। আম বাজারে নেওয়ার ঝামেলা এড়াতে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বাগানেই বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, রাঙামাটির বেশিরভাগ আম বাগান কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক। ওই সব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ থাকায় পরিবহণ ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি উৎপাদনেও বেশি খরচ হয়। তাই কৃষক অনেকেই বাগানসহ আম বেচে দেন। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে আমসহ প্রচুর মৌসুমি ফলের উৎপাদন হয়; কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে এবং পরিবহণ সংকটের কারণে বিপুল ফলমূল পচে নষ্ট হয়ে যায়। কেবল আম নষ্ট হয় কয়েকশ কোটি টাকার। এতে কৃষকদের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটির বর্তমান উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাঙামাটিতে এখন বিদেশি জাতের আম ব্যাপকহারে আবাদ হচ্ছে। অধিক ফলনে কৃষকরা এতে ঝুঁকছেন। এবার মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে; কিন্তু পরিবহণ ও বাজারজাতের সংকটে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। যদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকত তাহলে তারা ভালো দাম পেতেন। জেলায় কোথাও হিমাগার বা কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ গড়ে উঠলে পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূল থেকে কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের উন্নয়ন হতে পারত। তাই তিন পার্বত্য জেলায় উৎপাদিত ফলমূলসহ কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের জন্য আমরা সরকারের কাছে বারবার প্রস্তাবনা দিয়ে আসছি। কেবল সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর আমসহ কোটি কোটি টাকার ফলমূল নষ্ট হয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাগান গেটের পাশ থেকে একদিন বয়সী মেয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকমৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) লাভলু। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটের দিকে আমরা খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় ওই মেয়ে শিশুকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, কে বা কারা ওই নবজাতক কে ফেলে গেছে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের সিসি ফুটেজ দেখে কে বা কারা নবজাতকের ফেলে গেল সেটিও দেখার চেষ্টা চলছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার পুখরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে জড়িতরা দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের গ্রাম্য আধিপত্যের বিরোধের জেরে হামিরদী ইউনিয়নের মৌজী মহসরদী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মানিকদী ইউনিয়নের পুখরিয়া, ব্রাহ্মণকান্দাসহ পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, পুখরিয়া বাসস্ট্যান্ড ও গ্রাম্য আধিপত্যকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।