জাতীয়

রাজনীতির নতুন মঞ্চ ফেসবুক, কতটা বদলাচ্ছে ভোটের মাঠ?

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সভা-সমাবেশ, মিছিল, পোস্টার ও ব্যানারের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুক এখন রাজনীতিবিদদের সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানোর বড় মাধ্যম। তবে অনলাইনে জনপ্রিয়তা কি শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সেও প্রতিফলিত হচ্ছে?

 

একসময় নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান ভরসা ছিল মাঠের জনসভা, মিছিল, পোস্টার, ব্যানার ও দেয়াল লিখন। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন একজন রাজনীতিবিদকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে সবসময় মঞ্চে উঠতে হয় না; একটি ফেসবুক পোস্টই মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

 

ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, এক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বক্তব্য, কর্মসূচি, প্রতিক্রিয়া ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণাও প্রথমে আসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণআন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দলীয় প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ড তৈরিতেও ফেসবুককে গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনীতিবিদরা।

 

রাজনীতিবিদদের সরাসরি যোগাযোগের নতুন মাধ্যম:

রাজনৈতিক নেতাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এখানে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি মানুষের কাছে বক্তব্য পৌঁছানো যায়। সংবাদ সম্মেলন বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা না করে একজন নেতা নিজের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেন।

সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক ঘটনাও দেখা গেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা প্রথমে এসেছে কোনো নেতার ফেসবুক পোস্টে। পরে সেটিই সংবাদমাধ্যমের অন্যতম প্রধান সংবাদে পরিণত হয়েছে।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের অনেকেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেসবুকে যুক্ত হয়েছেন। তাদের পেজ বা প্রোফাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, শুভেচ্ছা বার্তা কিংবা বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে শুধু প্রচারণার জন্য ব্যবহার করছেন না। তারা রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন, প্রতিপক্ষের বক্তব্যের জবাব দিচ্ছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন।

এ কারণে অনেক সময় একজন রাজনীতিবিদের ফেসবুক পোস্ট নিজেই সংবাদ হয়ে যাচ্ছে।

 

ফলোয়ার কি রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার মাপকাঠি?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের জনপ্রিয়তা বোঝার ক্ষেত্রে ফলোয়ারের সংখ্যা এখন একটি আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদের ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইলে লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের নেতাদের অনেকেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। একইভাবে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও বড় অনলাইন অনুসারী গড়ে উঠেছে।

তবে ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বা নির্বাচনী সক্ষমতা পুরোপুরি পরিমাপ করা যায় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা মানেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়া নয়।

 

অনলাইন জনপ্রিয়তা বনাম ভোটের ফল:

সাম্প্রতিক নির্বাচনী রাজনীতিতে এর বেশ কিছু উদাহরণ দেখা গেছে। কোনো কোনো প্রার্থী অনলাইনে ব্যাপক আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত ফল পাননি।

ঢাকার বিভিন্ন আসনে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রার্থী ছিলেন অত্যন্ত দৃশ্যমান। তার বক্তব্য, প্রচারণা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে সেই অনলাইন জনপ্রিয়তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এতে একটি বিষয় পরিষ্কার—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক পরিচিতি বাড়াতে পারে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে পারে, কিন্তু ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের সংগঠন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং ভোটকেন্দ্রিক বাস্তব রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, ফেসবুকের জনপ্রিয়তা এখনো ভোটের সমার্থক হয়ে ওঠেনি।

 

তরুণ রাজনীতিবিদরা কেন এগিয়ে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের স্বাভাবিক যোগাযোগই তাদের রাজনৈতিক প্রচারণায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

তরুণ রাজনীতিবিদরা সাধারণত ভিডিও, লাইভ, ছোট পোস্ট, ইনফোগ্রাফিক, মিম কিংবা বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। একটি বক্তব্য মুহূর্তেই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে পুরোনো ধারার রাজনীতিবিদদের অনেকেই এখনো সংবাদমাধ্যম, জনসভা ও সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বেশি নির্ভরশীল।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রয়েছেন। বরং তাদের অনেকেই নিজস্ব অ্যাডমিন বা ডিজিটাল টিমের মাধ্যমে নিয়মিত অনলাইন উপস্থিতি বজায় রাখছেন।

 

প্রচারণার বাইরে ‘ফেসবুক অ্যাক্টিভিজম’:

রাজনীতিবিদদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুধু নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্যক্তিগত মতামত, সমসাময়িক ঘটনা, প্রতিপক্ষকে নিয়ে মন্তব্য কিংবা বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতেও তারা সক্রিয় হচ্ছেন।

কখনো কোনো পোস্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, আবার কখনো সমালোচনার মুখে সেটি মুছে ফেলা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরে সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশও করতে দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে তরুণ রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে বেশি দৃশ্যমান।

এখানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্য যখন ফেসবুকে প্রকাশিত হয়, তখন সেটি শুধু সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রতিপক্ষ, সাধারণ নাগরিক এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর কাছেও তা দ্রুত পৌঁছে যায়।

ফলে রাজনৈতিক নেতার একটি মন্তব্য কখনো কখনো উত্তেজনা, বিভাজন কিংবা সামাজিক বিরোধের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

 

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্ব:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনীতিবিদদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাড়িয়েছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের বক্তব্যের সামাজিক প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য হয়তো সেখানে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ শুনেছেন। কিন্তু একই বক্তব্য ফেসবুকে প্রকাশিত হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং দীর্ঘ সময় অনলাইনে থেকে যেতে পারে।

তাই রাজনৈতিক নেতাদের ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা আরও বেশি প্রয়োজন।

বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে দেওয়া বক্তব্য যদি ঘৃণা, সহিংসতা কিংবা বৈষম্যকে উসকে দেয়, তাহলে সেটির প্রভাব বাস্তব জীবনেও পড়তে পারে।

এ কারণে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারণার ইতিবাচক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি অবশ্যই যুক্ত করতে হবে।

 

ফেসবুক কি ভবিষ্যতের প্রধান রাজনৈতিক মঞ্চ?

বাংলাদেশে ফেসবুক এখন শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সংবাদ, বিনোদন, ব্যবসা এবং রাজনৈতিক মতামত প্রকাশেরও অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম।

ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা বাড়বে।

তবে রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য শুধু অনলাইন উপস্থিতি যথেষ্ট হবে না। মাঠপর্যায়ের সংগঠন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়তো রাজনীতির নতুন মঞ্চ হয়ে উঠেছে, কিন্তু এখনো সেটি বাস্তব রাজনৈতিক মাঠের বিকল্প নয়।

আগামী দিনে প্রশ্নটি সম্ভবত আর হবে না যে রাজনীতিবিদরা ফেসবুক ব্যবহার করবেন কি না। বরং প্রশ্ন হবে—তারা কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন, কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করবেন এবং অনলাইন জনপ্রিয়তাকে কীভাবে বাস্তব রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করবেন।

ডিজিটাল রাজনীতির এই যাত্রায় ফেসবুক গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার হবে, নাকি রাজনৈতিক বিভাজনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে—তার উত্তর নির্ভর করবে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীলতার ওপরও।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় এবি পার্টির শোক, ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা দাবি

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও ২৪ জন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি উদ্যোগ দাবি করেছে দলটি।   সোমবার (১২ অক্টোবর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব দাবি জানান।   বিবৃতিতে নেতারা নিহত বাংলাদেশিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আহত বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট সবার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তাঁরা।   এবি পার্টির নেতারা বলেন, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং এতে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় বাংলাদেশিদের হতাহত হওয়ার খবর প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক বা সামরিক বিরোধের কারণে বেসামরিক মানুষের জীবন ও স্থাপনা ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাই বিদেশে তাঁদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি। রিয়াদে আহত বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।   সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবি পার্টির দুই নেতা।   বিবৃতিতে তাঁরা হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এ ধরনের হামলাকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করার ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানান তাঁরা।   এ ছাড়া বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। চলমান সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন দলটির নেতারা।   বিবৃতির শেষাংশে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং সৌদি আরবে কর্মরত ও বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ইসির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, আলোচনায় ভোটের সময়সূচি

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের সম্ভাবনা, পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ, দুই দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৫৬ রোগী

ছবি: সংগৃহীত
ছয় বছর পর খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, চলছে স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা

দীর্ঘ ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।   দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ এবং গণনার দায়িত্ব পালন করছেন জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য। গণনা ও যাচাই কার্যক্রম শেষে এসব দানের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।   প্রাপ্ত তথ্যমতে, এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার এসব মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব নির্ধারণ করা হচ্ছে।   ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ স্থানীয় মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। মসজিদটিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষ দান করে থাকেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার আইনের মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

মধুমতির ভাঙনে বিলীন শতাধিক বসতভিটা, হুমকিতে ফরিদপুরের দুই গ্রামের অস্তিত্ব

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি, তিন ক্যাটাগরিতে প্রজ্ঞাপন জারি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
দিল্লিতে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠক, যাচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছেন বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। আগামী মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে এতে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে যোগ দেবে।     ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ছাড়া বাকি ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন। এর আগে ১২ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসবেন।     বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে না যাওয়ার বিষয়ে সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।     এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও যাননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারত তাকে ওই অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, আমন্ত্রণটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।     ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এ জোটের লক্ষ্য। এর সাত সদস্যদেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। জোটটির সচিবালয় ঢাকায়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।     সরকারি চিঠিতে চারজনকে মনোনয়ন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠিতেও উঠে এসেছে। ৪ অক্টোবর বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো চিঠিতে ১২ ও ১৩ অক্টোবরের বৈঠকের জন্য চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম নেই।     চিঠি অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।     এদিকে ৫ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিমসটেক সচিবালয়ের একটি জরুরি চিঠিতে বৈঠকের প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের মনোনয়ন পাঠিয়েছে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার মনোনয়ন পাওয়া গেছে। বাকি তিন দেশ মিয়ানমার, নেপাল ও থাইল্যান্ডকে দ্রুত প্রতিনিধিদের নাম পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর সদস্যদেশগুলোর কাছে মনোনয়ন চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল সচিবালয়।     দিল্লির বৈঠকে থাকছেন যারা বিমসটেক সচিবালয় ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগের দিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক পরিচালনা করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন।     বৈঠকে ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুংতেন দর্জি, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল কো কো ও, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দনা আবেরত্নে এবং থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসাক থংস্রি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।     আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দিল্লির বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। মানব পাচার, মাদক পাচার, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের পাশাপাশি সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।     গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক যৌথ কার্যকরী দলের একাদশ বৈঠকের প্রতিবেদন ও সুপারিশও এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।       ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৯ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই বৈঠকে বাংলাদেশসহ সাত সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সন্ত্রাসবাদ দমন) সুহেল এজাজ খান।     বৈঠকে প্রচলিত নিরাপত্তা হুমকির পাশাপাশি নতুন ধরনের অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়। সন্ত্রাসবাদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়।     এ ছাড়া মানব পাচার, মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির রাসায়নিকের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ, আইনি ও আইন প্রয়োগসংক্রান্ত সহযোগিতা এবং উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গঠিত উপদলগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।     আট বছর আগে সিদ্ধান্ত, প্রথম বৈঠক এবার বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০১৮ সালে। ওই বছরের ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত জোটের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর নেতারা নিয়মিতভাবে এ বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত হন।     কাঠমান্ডু ঘোষণায় সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।     তবে ওই সিদ্ধান্তের পর এত দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে বিমসটেকের ২০তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের ধারণাপত্র অনুমোদন করা হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর এবার দিল্লিতে প্রথমবারের মতো বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

ছবি: সংগৃহীত

জনগণের প্রতিটি পয়সা দেশের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

0 Comments