জাতীয়

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ গেলে লাভ-ক্ষতি কী?

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও ভারতের প্রতিক্রিয়া, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অন্য দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে ঢাকার সামনে এখন বড় প্রশ্ন—এই জোটে যুক্ত হওয়া কি কৌশলগত সুবিধা, নাকি পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ঝুঁকির সূচনা?

 

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে। মক্কায় স্বাক্ষরিত হওয়ায় চুক্তিটি পরিচিতি পেয়েছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ হিসেবে।

 

৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান চুক্তিতে সই করে। এর মূল ধারণা হলো—জোটের কোনো সদস্য রাষ্ট্র সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে শুধু ওই দেশের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে না; অন্য সদস্যরাও সম্মিলিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।

 

এই কাঠামোর কারণে অনেকেই চুক্তিটিকে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কমান্ড কাঠামো এই জোটে এখনো নেই।

 

চুক্তিতে সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, যৌথ সামরিক মহড়া এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ও রয়েছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দলিল প্রকাশ না হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে।

 

বাংলাদেশের নাম আলোচনায় কেন?

সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামোতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে বাংলাদেশকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশের পরই যোগদানের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরও চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হলে বাংলাদেশের সেটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা স্বাভাবিক।

তবে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নয়। স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকা সামরিক জোটে সরাসরি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সাধারণত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘদিনের মূলনীতি—‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। ফলে কোনো সামরিক জোটে প্রবেশের সিদ্ধান্ত এই ঐতিহ্যবাহী ভারসাম্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

 

কী সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশ?

সমর্থকদের মতে, মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

প্রথমত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। তুরস্ক বর্তমানে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, নৌযান ও বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার সৌদি আরব। দেশটির সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়লে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তৃতীয়ত, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের ভূমিকা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, এ ধরনের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই কিছু সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তার মতে, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা—এই তিনটি দেশের সক্ষমতা একসঙ্গে বাংলাদেশের জন্য নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

 

সৌদি আরব কেন বাংলাদেশকে চাইতে পারে?

বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি শুধু ঢাকার আগ্রহ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। জোটের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোরও নিজস্ব কৌশলগত হিসাব রয়েছে।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্রও কিনেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর রিয়াদ নিজের নিরাপত্তার জন্য একক কোনো শক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চাইছে না বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন।

তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প। পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী এবং পারমাণবিক সক্ষমতা। অন্যদিকে সৌদি আরব দিতে পারে অর্থনৈতিক শক্তি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।

এই তিন দেশের সক্ষমতা পরস্পরের পরিপূরক। ফলে ভবিষ্যতে জোটটি শুধু সামরিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও মুসলিম-অধ্যুষিত একটি দেশের অংশগ্রহণ সেই কাঠামোর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারে—এমন ধারণাও রয়েছে।

 

তাহলে আরব দেশগুলো কেন যোগ দিচ্ছে না?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সৌদি আরবের প্রতিবেশী অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশ এখনো এই জোটে যোগ দেয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও মিশরের মতো দেশগুলো আপাতত বাইরে রয়েছে। এর পেছনে তাদের নিজস্ব কূটনৈতিক হিসাব রয়েছে।

উপসাগরীয় অনেক দেশ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কোনো একটি সামরিক শিবিরে সরাসরি যুক্ত হলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে কাতারের সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ একটি বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র ভাগ করে ব্যবহার করে। ফলে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক বিরোধে যাওয়ার মতো কোনো কাঠামোতে দোহা যেতে চাইবে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন।

অতীতের অভিজ্ঞতাও আরব দেশগুলোর জন্য সতর্কতার কারণ। বিভিন্ন সময়ে একাধিক আঞ্চলিক সামরিক জোট তৈরি হলেও সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে পরিণত হয়নি।

তাই নতুন কোনো প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিতে যোগ দেওয়ার আগে অন্য দেশগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

 

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোথায়?

সুবিধার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি বড় ঝুঁকিও রয়েছে।

 

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক:

বাংলাদেশ কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হলে ভারতের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের এই কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে দেখবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এমন কোনো সিদ্ধান্ত, যা দিল্লির নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়, তা বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা তৈরি করতে পারে।

গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে ভারত বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সামরিক প্রতিযোগিতা বা প্রক্সি রাজনীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক:

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ইরানকে ঘিরে।

মক্কা জোটের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোর একটি যদি ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতে জোট ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে ঢাকাকে একটি কঠিন কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

 

জ্বালানি নিরাপত্তা:

বাংলাদেশের জন্য এটি সবচেয়ে বাস্তব ঝুঁকিগুলোর একটি।

কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানি চুক্তি রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হরমুজ প্রণালিনির্ভর।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হলে এই নৌপথে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ যদি এমন কোনো সামরিক জোটের অংশ হয়, যার সঙ্গে ইরানের সরাসরি বিরোধ তৈরি হয়, তাহলে জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পরোক্ষ চাপ পড়তে পারে।

 

অন্য দেশের যুদ্ধে বাংলাদেশ জড়াবে কি?

এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মক্কা চুক্তির মূল নীতি যদি হয়—এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা—তাহলে কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?

ধরা যাক, জোটের কোনো একটি দেশের সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশের যুদ্ধ শুরু হলো। বাংলাদেশ কি সেই সংঘাতে সামরিকভাবে পাশে দাঁড়াবে? নাকি বলবে, সংঘাতটি বাংলাদেশের সরাসরি স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়?

সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার আগে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।

কারণ অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক জোটে কোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকে। কিন্তু পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সামরিক প্রতিশ্রুতির বিষয়টি অনেক বেশি স্পর্শকাতর।

 

কূটনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন:

বাংলাদেশের আরেকটি বড় শক্তি হলো ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি।

ঢাকা একই সঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কোনো একটি শক্তির বলয়ে পুরোপুরি ঢুকে না গিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করাই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কৌশল।

সামরিক জোটে যোগ দিলে সেই ভারসাম্য কতটা বজায় রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হয়, তাহলে শুধু সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নয়—ভারত, ইরান, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশের সামনে তাই কঠিন হিসাব:

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে সম্ভাবনা ও ঝুঁকির দরজা খুলতে পারে।

একদিকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, সৌদি শ্রমবাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে ভারতের সম্ভাব্য উদ্বেগ, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা, জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি এবং দূরের কোনো সংঘাতে বাংলাদেশের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশের সরাসরি সামরিক হুমকি এবং জোটের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর নিরাপত্তা বাস্তবতা এক নয়। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যে ধরনের আঞ্চলিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, বাংলাদেশকে সেই একই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় না।

তাই শুধু আবেগ, ধর্মীয় সম্পর্ক কিংবা তাৎক্ষণিক কৌশলগত সুবিধার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করাই হবে ঢাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব রাজনীতির পুরোনো সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, চীন-রাশিয়ার উত্থান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নতুন জোট—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জন্যও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

এই বাস্তবতায় মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে সেটি নিরাপত্তার নতুন ছাতা হবে, নাকি বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে—তার উত্তর নির্ভর করবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত, বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির মাত্রা এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন এগোবে না: ভারতের হাইকমিশনার

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। তবে সেসব চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। পরে সাক্ষাৎ নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।   দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।   বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং করাও উচিত নয়। দেশের মানুষ ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা ভালোভাবে বুঝবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব দুই দেশেরই রয়েছে।   তিনি বলেন, ‘আমরা বলি, সীমান্তের সঙ্গে আমরা স্বপ্নও শেয়ার করি। সেজন্য প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান। কেউ বড় কিংবা ছোট নয়।’   বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবেই। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি ভারতের চ্যালেঞ্জও বুঝতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে দুই দেশকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।   অতীতের সম্পর্ক ও ঘটনাপ্রবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীত আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু অতীতে আটকে যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই। অতীতে আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’   দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতের হাইকমিশনার। কীভাবে দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা অতীত ভুলতে পারি না। তবে অতীতে আটকে গেলে উন্নয়ন হবে না। কীভাবে দুই দেশের ফ্রি ট্রেড করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ থাকবে, কিন্তু এই বাধা অতিক্রম করেই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি ২৪ সেপ্টেম্বর

ছবি: সংগৃহীত

নবম পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন একনজরে

ছবি: সংগৃহীত

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ গেলে লাভ-ক্ষতি কী?

ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতির নতুন মঞ্চ ফেসবুক, কতটা বদলাচ্ছে ভোটের মাঠ?

সভা-সমাবেশ, মিছিল, পোস্টার ও ব্যানারের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুক এখন রাজনীতিবিদদের সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানোর বড় মাধ্যম। তবে অনলাইনে জনপ্রিয়তা কি শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সেও প্রতিফলিত হচ্ছে?   একসময় নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান ভরসা ছিল মাঠের জনসভা, মিছিল, পোস্টার, ব্যানার ও দেয়াল লিখন। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন একজন রাজনীতিবিদকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে সবসময় মঞ্চে উঠতে হয় না; একটি ফেসবুক পোস্টই মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।   ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, এক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বক্তব্য, কর্মসূচি, প্রতিক্রিয়া ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণাও প্রথমে আসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।   বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণআন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দলীয় প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ড তৈরিতেও ফেসবুককে গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনীতিবিদরা।   রাজনীতিবিদদের সরাসরি যোগাযোগের নতুন মাধ্যম: রাজনৈতিক নেতাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এখানে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি মানুষের কাছে বক্তব্য পৌঁছানো যায়। সংবাদ সম্মেলন বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা না করে একজন নেতা নিজের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক ঘটনাও দেখা গেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা প্রথমে এসেছে কোনো নেতার ফেসবুক পোস্টে। পরে সেটিই সংবাদমাধ্যমের অন্যতম প্রধান সংবাদে পরিণত হয়েছে। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের অনেকেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেসবুকে যুক্ত হয়েছেন। তাদের পেজ বা প্রোফাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, শুভেচ্ছা বার্তা কিংবা বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে শুধু প্রচারণার জন্য ব্যবহার করছেন না। তারা রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন, প্রতিপক্ষের বক্তব্যের জবাব দিচ্ছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন। এ কারণে অনেক সময় একজন রাজনীতিবিদের ফেসবুক পোস্ট নিজেই সংবাদ হয়ে যাচ্ছে।   ফলোয়ার কি রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার মাপকাঠি? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের জনপ্রিয়তা বোঝার ক্ষেত্রে ফলোয়ারের সংখ্যা এখন একটি আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদের ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইলে লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের নেতাদের অনেকেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। একইভাবে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও বড় অনলাইন অনুসারী গড়ে উঠেছে। তবে ফলোয়ারের সংখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বা নির্বাচনী সক্ষমতা পুরোপুরি পরিমাপ করা যায় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা মানেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়া নয়।   অনলাইন জনপ্রিয়তা বনাম ভোটের ফল: সাম্প্রতিক নির্বাচনী রাজনীতিতে এর বেশ কিছু উদাহরণ দেখা গেছে। কোনো কোনো প্রার্থী অনলাইনে ব্যাপক আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত ফল পাননি। ঢাকার বিভিন্ন আসনে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রার্থী ছিলেন অত্যন্ত দৃশ্যমান। তার বক্তব্য, প্রচারণা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে সেই অনলাইন জনপ্রিয়তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায়নি। এতে একটি বিষয় পরিষ্কার—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক পরিচিতি বাড়াতে পারে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে পারে, কিন্তু ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের সংগঠন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং ভোটকেন্দ্রিক বাস্তব রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, ফেসবুকের জনপ্রিয়তা এখনো ভোটের সমার্থক হয়ে ওঠেনি।   তরুণ রাজনীতিবিদরা কেন এগিয়ে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের স্বাভাবিক যোগাযোগই তাদের রাজনৈতিক প্রচারণায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। তরুণ রাজনীতিবিদরা সাধারণত ভিডিও, লাইভ, ছোট পোস্ট, ইনফোগ্রাফিক, মিম কিংবা বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। একটি বক্তব্য মুহূর্তেই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে পুরোনো ধারার রাজনীতিবিদদের অনেকেই এখনো সংবাদমাধ্যম, জনসভা ও সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বেশি নির্ভরশীল। তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রয়েছেন। বরং তাদের অনেকেই নিজস্ব অ্যাডমিন বা ডিজিটাল টিমের মাধ্যমে নিয়মিত অনলাইন উপস্থিতি বজায় রাখছেন।   প্রচারণার বাইরে ‘ফেসবুক অ্যাক্টিভিজম’: রাজনীতিবিদদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুধু নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্যক্তিগত মতামত, সমসাময়িক ঘটনা, প্রতিপক্ষকে নিয়ে মন্তব্য কিংবা বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতেও তারা সক্রিয় হচ্ছেন। কখনো কোনো পোস্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, আবার কখনো সমালোচনার মুখে সেটি মুছে ফেলা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরে সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশও করতে দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে তরুণ রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে বেশি দৃশ্যমান। এখানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্য যখন ফেসবুকে প্রকাশিত হয়, তখন সেটি শুধু সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রতিপক্ষ, সাধারণ নাগরিক এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর কাছেও তা দ্রুত পৌঁছে যায়। ফলে রাজনৈতিক নেতার একটি মন্তব্য কখনো কখনো উত্তেজনা, বিভাজন কিংবা সামাজিক বিরোধের কারণ হয়ে উঠতে পারে।   মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্ব: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনীতিবিদদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাড়িয়েছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের বক্তব্যের সামাজিক প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য হয়তো সেখানে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ শুনেছেন। কিন্তু একই বক্তব্য ফেসবুকে প্রকাশিত হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং দীর্ঘ সময় অনলাইনে থেকে যেতে পারে। তাই রাজনৈতিক নেতাদের ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা আরও বেশি প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে দেওয়া বক্তব্য যদি ঘৃণা, সহিংসতা কিংবা বৈষম্যকে উসকে দেয়, তাহলে সেটির প্রভাব বাস্তব জীবনেও পড়তে পারে। এ কারণে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারণার ইতিবাচক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি অবশ্যই যুক্ত করতে হবে।   ফেসবুক কি ভবিষ্যতের প্রধান রাজনৈতিক মঞ্চ? বাংলাদেশে ফেসবুক এখন শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সংবাদ, বিনোদন, ব্যবসা এবং রাজনৈতিক মতামত প্রকাশেরও অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। তবে রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য শুধু অনলাইন উপস্থিতি যথেষ্ট হবে না। মাঠপর্যায়ের সংগঠন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়তো রাজনীতির নতুন মঞ্চ হয়ে উঠেছে, কিন্তু এখনো সেটি বাস্তব রাজনৈতিক মাঠের বিকল্প নয়। আগামী দিনে প্রশ্নটি সম্ভবত আর হবে না যে রাজনীতিবিদরা ফেসবুক ব্যবহার করবেন কি না। বরং প্রশ্ন হবে—তারা কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন, কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করবেন এবং অনলাইন জনপ্রিয়তাকে কীভাবে বাস্তব রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করবেন। ডিজিটাল রাজনীতির এই যাত্রায় ফেসবুক গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার হবে, নাকি রাজনৈতিক বিভাজনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে—তার উত্তর নির্ভর করবে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীলতার ওপরও।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইপিইউ সেক্রেটারিকে আ.লীগের চিঠি, পাল্টা জবাব দিলেন সংসদ সদস্যরা

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে অপহরণের ১০ দিন পর উদ্ধার সাড়ে ৪ মাসের শিশু, দম্পতি গ্রেপ্তার

মক্কা প্যাক্টে অংশ নিতে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

 সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “সব ধরনের সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।”    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।    রিজভী বলেন, “দেশে চলমান বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি একটি বৈশ্বিক সংকট। তবে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই।”    সরকার এবং দল হিসবে বিএনপি একে অপরের সহযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে।” দ্রুত সব ধরনের সংকটের সমাধান হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।    রিজভী আরও বলেন, “দেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আন্দোলন ও সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া বহু নির্যাতন সহ্য করেছেন। তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তিনি গণতন্ত্রের মা, গণতন্ত্রের প্রতীক। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই আজ সুসংগঠিত। তিনি তার অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন। সংকট আসবেই, তবে তা মোকাবিলা করতে হবে।”    তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সেই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে খালেদা জিয়া তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম একপর্যায়ে প্রবল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।”   বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “তারেক রহমান জনগণের কাছে যে অঙ্গীকারগুলো করেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনগণের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।”    তিনি বলেন, “জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নির্ধারিত বাজেটের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয় করে গ্যাস সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীতে থাকা টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেই ত্রুটি সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলা করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে।”   রিজভী বলেন, “গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের যে অঙ্গীকার ৩১ দফায় দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়া যে কর্মসূচি দিয়ে গেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এসব কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।”    তিনি বলেন, “দল ও সরকার দুটি আলাদা সত্তা হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। তাই সরকারের দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ ব্যক্তি বিএনপির নেতা হওয়াটাই স্বাভাবিক। জনগণ যখন একটি দলকে ভোট দিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তখন সেই দলের যোগ্য নেতাকর্মীরাই রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।”   তিনি বলেন, “তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন। এতে দল ও সরকারের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি বা বৈসাদৃশ্য নেই। বিএনপির সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। যারা দলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন, তারা দলের দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সরকারের যেসব মন্ত্রী বিএনপির নেতা, তারাও মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তাদের পদ ও সাংগঠনিক অবস্থান অনুযায়ী পালন করবেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনও সুযোগ নেই।”   তিনি বলেন, “সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সততার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করা। জনগণের স্বার্থে আন্তরিকভাবে কাজ করতে গেলে সংকট আসতে পারে। কিন্তু সেই সংকট যদি সরকার বা দলের নিজেদের তৈরি না হয়, তাহলে জনগণ তা বুঝতে পারে এবং মেনে নেয়।জনগণ মূলত দেখতে চায়, সংকটের সময় সরকার কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করছে। বর্তমান সরকার সেই আন্তরিকতার চরম নিদর্শন দেখাচ্ছে। তাই জনগণের স্বার্থে পরিচালিত এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার জনকল্যাণের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না।”

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন: কমবে ৮০ কিমি দূরত্ব, চট্টগ্রাম যেতে লাগতে পারে সাড়ে ৩ ঘণ্টা

ছবি: সংগৃহীত

১৬ মিনিটে লোকেশন, ১৭ মিনিটে এনআইডি—অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নাগরিকের তথ্য

ঢাকার বাতাস আজ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’

0 Comments