বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের কয়েকজন ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) কাছে একাধিক চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব চিঠিতে দেশে ফিরতে না পারা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দলটির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন তারা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ও মতবিনিময় বৈঠকে এসব চিঠির বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত রোববার রাতে বাংলাদেশে আসেন অ্যান্ডা ফিলিপ। তার সফরের আগে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি বৈঠকগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও সময়কার সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও আলোচনায় আসে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের পাঠানো চিঠিতে দেশে ফেরার সুযোগ, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং তাদের আমলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার ছিল। তবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিদের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংসদ সদস্য বলেন, অ্যান্ডা ফিলিপ দীর্ঘদিন ধরে আইপিইউর সঙ্গে যুক্ত থাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিদের কারও কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তাদের পাঠানো চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিপরীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন তথ্য বর্তমান সংসদ সদস্যরা আইপিইউ প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরছেন।
সোমবার সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। এ সময় স্পিকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন আইপিইউ মহাসচিবের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্পিকার বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল প্রহসনের নির্বাচন। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের অবসান ঘটে। তিনি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরে নারী ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভাতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারী এমপিরা।
সোমবার বিকেলে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আইপিইউর কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আইপিইউকে দেওয়া বিভিন্ন চিঠিতে ২০২৪ সালের আগের সময়ের গুম, খুন, নিপীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের জনগণকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং ছাত্রনেতারা অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার কিছু তথ্য আইপিইউ প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, আইপিইউর কাছে বর্তমান সরকারকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি। তবে সরকার ও বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার বিকেলে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দমন-পীড়নের চিত্র তার কাছে তুলে ধরা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতন ও গুমের শিকার হওয়া কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীকে এ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া গুমের শিকার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী এবং গুমের শিকার বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ কয়েকজনকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিনকাসেম, নাজিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজনেরও বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ভুক্তভোগী সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অতীতে তাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হয়রানির ঘটনা আইপিইউ মহাসচিবের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সোমবার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। বৈঠকে জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা ও সংলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে সংসদকে পরিণত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সমতাভিত্তিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আইপিইউ মহাসচিবের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামে নতুন করে আলোচনায় আসছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফারুক ওরফে কাইল্ল্যা ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। এ সময় তার সহযোগী মো. ইসমাইল হোসেন ডালিমকেও আটক করা হয়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় কাইল্ল্যা ফারুকের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ফারুক ও ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও একটি চাপাতি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-২। যেসব অভিযোগ রয়েছে এসআরবি-২-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ফারুকের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, চণ্ডীপুরে স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জিম্মি করে অর্থ দাবি এবং মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বসিলা ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইয়ে জড়িত কিশোর ও তরুণদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, জোরপূর্বক জমি দখল করে বালু ভরাট এবং মাদক কারবারিদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে বলে জানানো হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফারুকের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং দাঙ্গা, গুরুতর আঘাত, বলপূর্বক গ্রহণ, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আরও দুটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি সিআর মামলাও রয়েছে। অস্ত্র আইনে এবং স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ‘কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার বলা হয়নি’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, ফারুককে মাদক কারবারিদের গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার বলা হয়নি। মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহত হওয়ার ঘটনায় ফারুক জড়িত ছিলেন কি না জানতে চাইলে নয়মুল হাসান বলেন, ওই ঘটনায় ফারুক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-২।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ও দুই ব্যাংক কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ অপর একটি মামলা ও তার স্ত্রী শাহেনা পারভীন সামিয়ার ৬৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় সম্পদের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। মলার আসামিরা হলেন- হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রীর শাহেনা পারভীন সামিয়া, মিডল্যান্ড ব্যাংক এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম ও রিলেশনশিপ অফিসার মো. সারোয়ার হোসেন। অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে আসামিরা জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করে অন্য দুটি কোম্পানিকে জয়েন্ট ভেঞ্চারের কাজ করার কথা বলে টেন্ডার সিকিউরিটি বাবদ ৯৫ লাখ ৬১ হাজার টাকার পে-অর্ডার গ্রহণ করে। এরপর ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংক হিসাব খোলেন। পরে প্রতারণামূলকভাবে বিশ্বাস ভঙ্গ করে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন। শুধু তাই নয়, এই চক্রটি দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত ইএমডি ফান্ড থেকে অর্থ প্রথমে ফয়সাল করিম মাসুদের প্রতিষ্ঠান ‘এপল সফট আইটি’র হিসাবে জমা করে। সেখান থেকে তা স্থানান্তর করে মাসুদের নিজ নামে রাখা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হিসাবে নেওয়া হয়। পরে এই অর্থ আসামি মাসুদের স্ত্রী শাহেনা পারভীন সামিয়ার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের রূপনগর উপশাখায় এফডিআর হিসেবে জমা রাখা হয় বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় একটি মামলা মঞ্জুরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অন্যদিকে জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় আরো একটি মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এছাড়া ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী শাহেনা পারভীন সামিয়ার (পেশায় গৃহিণী) বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি তার স্বামীর মাধ্যমে ৬৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তা ও ভোগদখলে রাখার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (১) ধারায় তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিনদিন পর ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য হয়েছিলেন। বর্তমানে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আছেন বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ফয়সাল করিমের আইটি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। তার মালিকানাধীন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপেল সফট আইটি লিমিটেড’ কোম্পানিটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া ২০১৬ সালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সহযোগিতা ও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘ব্যাটল অব ৭১’ নামে একটি কম্পিউটার গেম তৈরি করেছিল ওয়াইসিইউ টেকনোলজি লিমিটেড। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকও ফয়সাল করিম মাসুদ। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের চতুর্থ তলায় অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলারও প্রধান আসামি ছিলেন ফয়সাল করিম। মামলা হওয়ার কিছুদিন পর ৭ নভেম্বর আদাবর এলাকা থেকে ফয়সাল করিমকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, তিনটি মুঠোফোন ও পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় যেসব অভিযোগ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় মরিয়ম ও নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ন্যাম ভবনের ওই বাসায় থাকতেন। বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তিনি বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব বিষয়ে জানাতেন। এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাসার একটি কক্ষে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার বাদীর দাবি, ঘটনাস্থলে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়। আসামিদের কথিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর পর আলোচনা এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ঘটনার পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হন। সেই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে হাইকোর্ট গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন দেন। পরবর্তীতে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে, নতুন মামলায় পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে। রিমান্ড আবেদনের ওপর আদালতের সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।