হোমওয়ার্ক থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশন তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি অনেকেই ব্যবহার করছেন। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবার দাবি করেছে, কেনাকাটা কিংবা দৈনন্দিন বাজেট তৈরির মতো মানুষের প্রাত্যহিক কাজগুলো এআই আরও নিখুঁতভাবে করতে শিখছে। এসব কাজে এআইয়ের দক্ষতা যাচাই করতে ওপেনএআই গত সোমবার একটি অভ্যন্তরীণ টুল এবং নিজেদের এআই মডেলগুলোর মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করেছে।
ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, বাসা বদলের পর সঠিক কিন্ডারগার্টেন খুঁজে বের করার কাজে তাদের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল ৯৩ দশমিক ১ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। এ ছাড়া বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে সাহায্য করতে এটি ৯৮ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস রোগীর সঠিক খাবার রুটিন তৈরিতে ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।
মেটা, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার এই সময়ে ওপেনএআইয়ের এই মূল্যায়ন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর ওপেনএআই এআইয়ের দক্ষতা মাপতে ‘জিডিপিভ্যাল’ নামের একটি টুল প্রকাশ করেছিল, যার মাধ্যমে শিল্প, সরকার বা অর্থনৈতিক খাতের কাজে এআইয়ের পারদর্শিতা যাচাই করা হতো।
কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে এআইয়ের মূল্যায়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, মানুষের কাজের ধরন ও উত্তর ভিন্ন হয়। ওপেনএআই প্রায় ৪ হাজার ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ চালিয়ে জেনেছে, তারা এআইয়ের কাছ থেকে কী ধরনের কাজ প্রত্যাশা করে।
জরিপ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা বাড়ি খোঁজা থেকে শুরু করে প্রিয়জনের যত্ন নেওয়ার মতো বিভিন্ন কাজে এআইয়ের সহায়তা চেয়েছেন। ওপেনএআই মূলত এআইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করার ক্ষমতা, পুরোনো চ্যাটের তথ্য মনে রেখে উত্তর দেওয়ার পারদর্শিতা এবং ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাধান দেওয়ার দক্ষতা যাচাই করছে।
ওপেনএআই চায়, চ্যাটজিপিটি সাধারণ কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও একজন দক্ষ সহকারীর ভূমিকা পালন করুক, যাতে মানুষের জীবনের কাজগুলো আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হোমওয়ার্ক থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশন তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি অনেকেই ব্যবহার করছেন। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবার দাবি করেছে, কেনাকাটা কিংবা দৈনন্দিন বাজেট তৈরির মতো মানুষের প্রাত্যহিক কাজগুলো এআই আরও নিখুঁতভাবে করতে শিখছে। এসব কাজে এআইয়ের দক্ষতা যাচাই করতে ওপেনএআই গত সোমবার একটি অভ্যন্তরীণ টুল এবং নিজেদের এআই মডেলগুলোর মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করেছে। ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, বাসা বদলের পর সঠিক কিন্ডারগার্টেন খুঁজে বের করার কাজে তাদের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল ৯৩ দশমিক ১ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। এ ছাড়া বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে সাহায্য করতে এটি ৯৮ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস রোগীর সঠিক খাবার রুটিন তৈরিতে ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। মেটা, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার এই সময়ে ওপেনএআইয়ের এই মূল্যায়ন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর ওপেনএআই এআইয়ের দক্ষতা মাপতে ‘জিডিপিভ্যাল’ নামের একটি টুল প্রকাশ করেছিল, যার মাধ্যমে শিল্প, সরকার বা অর্থনৈতিক খাতের কাজে এআইয়ের পারদর্শিতা যাচাই করা হতো। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে এআইয়ের মূল্যায়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, মানুষের কাজের ধরন ও উত্তর ভিন্ন হয়। ওপেনএআই প্রায় ৪ হাজার ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ চালিয়ে জেনেছে, তারা এআইয়ের কাছ থেকে কী ধরনের কাজ প্রত্যাশা করে। জরিপ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা বাড়ি খোঁজা থেকে শুরু করে প্রিয়জনের যত্ন নেওয়ার মতো বিভিন্ন কাজে এআইয়ের সহায়তা চেয়েছেন। ওপেনএআই মূলত এআইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করার ক্ষমতা, পুরোনো চ্যাটের তথ্য মনে রেখে উত্তর দেওয়ার পারদর্শিতা এবং ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাধান দেওয়ার দক্ষতা যাচাই করছে। ওপেনএআই চায়, চ্যাটজিপিটি সাধারণ কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও একজন দক্ষ সহকারীর ভূমিকা পালন করুক, যাতে মানুষের জীবনের কাজগুলো আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়।
ওপেনএআই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্য চ্যাটজিপিটিতে ‘গুগল হেলথ’ যুক্ত করার কথা ভাবছে। এই সুবিধাটি চালু হলে স্মার্টওয়াচ এবং ফিটনেস ট্র্যাকারের মাধ্যমে সংগৃহীত স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ডেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবটটির সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ পাবেন ব্যবহারকারীরা। এই ডেটা বিশ্লেষণ করে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে। এমনকি অতীত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ঘেঁটে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনগুলোও চিহ্নিত করতে পারবে এটি। অ্যান্ড্রয়েড অথরিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ (১.২০২৬.৩০০)-এর কোডে গুগল হেলথ যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। কোডে ‘অ্যান্ড্রয়েড হেলথ কানেক্ট’ সংক্রান্ত কিছু অনুমতির উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য চ্যাটজিপিটির সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অনুমতি হলো ব্যাকগ্রাউন্ডে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য পড়ার সুবিধা। এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে, ব্যবহারকারীকে বারবার অ্যাপ খোলার প্রয়োজন হবে না। এই অনুমতির আওতায় ওজন, শরীরের চর্বি, পেশি এবং হাড়ের ভরের মতো সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্য থাকবে। এ ছাড়া ঋতুস্রাব ও ডিম্বস্ফোটনের মতো প্রজনন স্বাস্থ্যের তথ্যও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। চ্যাটজিপিটি কেন নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য তথ্যের অ্যাক্সেস চাইবে এবং কীভাবে সেই ডেটা ব্যবহার করবে, তা বোঝাতে প্রতিবেদনে হেলথ কানেক্ট-এর দুটি নতুন ধাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াগুলো ঠিক কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে আইফোন ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে অ্যাপল হেলথ যুক্ত করে তাদের স্বাস্থ্য রেকর্ড শেয়ার করতে পারেন। তবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল হেলথের এই ধরনের কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা এখনো নেই। ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফিচারের ঘোষণা বা কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে, তা এখনো জানায়নি। কোডে শুধু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে; চূড়ান্তভাবে এটি চালু হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পানির ওপর দিয়ে ছুটবে, আবার বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে পানির ওপর ভেসে উড়তেও পারবে—এমন বৈদ্যুতিক ফেরি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। ডিজেলচালিত ফেরির বিকল্প হিসেবে ব্যাটারিচালিত নৌযান চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ কমতে পারে, অন্যদিকে কমবে পরিবেশদূষণও। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্ক হারবারে স্ট্যাচু অব লিবার্টির পাশ দিয়ে চলার সময় এমনই একটি বৈদ্যুতিক নৌযানে চড়েছিলেন জলযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভেসেভের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা এরিক লাকম্যান। নৌযানটি কাছের একটি পর্যটকবাহী ফেরির যাত্রীদেরও কৌতূহলের কারণ হয়ে ওঠে। ভেসেভের তৈরি এসব নৌযানে ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি। এতে নৌযানের তলায় থাকা ডানার মতো বিশেষ অংশ পানির নিচে থেকে গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল কাঠামোকে পানির ওপরে তুলে ধরে। ফলে পানির সঙ্গে ঘর্ষণ ও বাধা কমে যায়। নৌযানটি তখন অনেকটা পানির ওপর ভেসে চলার মতো গতিতে এগিয়ে যায়। এরিক লাকম্যানের ভাষ্য, গতি বাড়ানোর পর নৌযানটির মূল কাঠামো পানির প্রায় দেড় ফুট ওপরে উঠে আসে। এতে ঢেউয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে চলার বদলে যাত্রা অনেক বেশি মসৃণ হয়ে ওঠে। বৈদ্যুতিক নৌযান তৈরির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাটারির ওজন। ব্যাটারি ভারী হওয়ায় নৌযানের ওজন বেড়ে যায়। আবার পানির বাধা অতিক্রম করতেও প্রচুর শক্তি প্রয়োজন হয়। ফলে বৈদ্যুতিক নৌযানের চলার দূরত্ব ও কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে। হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি এ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। নৌযানের বড় অংশ পানির ওপরে উঠে থাকায় পানির সঙ্গে ঘর্ষণ কম হয়। এতে কম শক্তি ব্যবহার করে বেশি গতিতে চলা সম্ভব হয়। ভেসেভের দাবি, তাদের নকশা পানির বাধা প্রায় ৬৬ শতাংশ কমাতে পারে। এতে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করেও নৌযান চালানো সম্ভব হয়। ফলে ব্যাটারির ওজন ও খরচ কমে আসে। তবে শুধু ডিজেল ইঞ্জিনের বদলে বৈদ্যুতিক মোটর বসালেই একটি নৌযান পুরোপুরি কার্যকর হয়ে ওঠে না। কত দূর চলতে হবে, কতজন যাত্রী বহন করতে হবে, কত দ্রুত চার্জ দেওয়া সম্ভব এবং নৌযান কতটা ওজন বহন করতে পারবে— এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়। ভেসেভ বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে যাত্রী পরিবহনসেবা পরিচালনা করছে। অস্ট্রেলিয়াতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রথম সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে লেক তাহো এলাকায়। এরিক লাকম্যান মনে করেন, ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক নৌযান শুধু বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে নয়, নিয়মিত গণপরিবহনের অংশ হয়ে উঠতে পারে। পানিপথে এসব নৌযান বাস, পাতালরেল কিংবা ট্যাক্সির মতোই সাধারণ পরিবহনব্যবস্থায় জায়গা করে নিতে পারে বলে তার প্রত্যাশা। পানিপথ ব্যবহার করে যানজটপূর্ণ সড়কে অতিরিক্ত গাড়ি না বাড়িয়েও যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত নৌযান ডিজেল পোড়ানো ফেরির ধোঁয়া ও দূষণ কমাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহন খাত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের সবচেয়ে বড় উৎস। সড়কযানের পাশাপাশি জাহাজ ও অন্যান্য জলযানও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ায়। ফলে ডিজেলচালিত ফেরির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক নৌযান চালু হলে ব্যস্ত নৌবন্দর এলাকার বায়ুর মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান ক্যান্ডেলাও। স্টকহোমে তাদের তৈরি বৈদ্যুতিক হাইড্রোফয়েল ফেরিতে ইতোমধ্যে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত একই ধরনের নৌযানের তুলনায় তাদের প্রযুক্তিতে শক্তি খরচ সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। উপকূলীয় পরিবহনসেবার জন্য নরওয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ২০টি বৈদ্যুতিক হাইড্রোফয়েল নৌযান নেওয়ার আদেশ দিয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতেও চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ফেরি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করে শহরটির সবচেয়ে বড় ফেরি পরিচালনাকারী সংস্থা। সংস্থাটির প্রধান সীমাস মারফি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য বহু মানুষ ফেরির ওপর নির্ভর করেন। তবে বর্তমানে সংস্থাটির বহরে থাকা ১৮টি ফেরিই জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত। এ পরিস্থিতি বদলাতে আগামী দুই বছরে চারটি ব্যাটারিচালিত ফেরি যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদ্যুতিক রূপান্তর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ফেরিঘাটে চার্জ দেওয়ার অবকাঠামোও তৈরি করা হবে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে একের পর এক যাত্রা সম্পন্ন করতে হয় বলে ফেরির ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত শক্তি থাকা জরুরি। পাশাপাশি ঘাটে অবস্থানের সময় দ্রুত চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য নৌযানের চলার দূরত্ব, যাত্রার সময়সূচি ও চার্জিং সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। সান ফ্রান্সিসকোর নতুন ফেরিগুলোতে আপাতত হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে সংস্থাটির দাবি, এগুলো চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রে তারাই হবে প্রথম সংস্থা, যারা উচ্চগতির সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ফেরি পরিচালনা করবে। শুরুতে ব্যয় বেশি, দীর্ঘ মেয়াদে সাশ্রয়ের আশা বৈদ্যুতিক ফেরি চালুর ক্ষেত্রে বড় বাধা প্রাথমিক বিনিয়োগ। নতুন নৌযান কেনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণেও বিপুল অর্থ প্রয়োজন। তবে বৈদ্যুতিক মোটর সাধারণত ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় বেশি দক্ষ। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমতে পারে। সীমাস মারফির মতে, শুরুতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হলেও সময়ের সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমে আসবে। ডিজেলের বাড়তি দাম এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নতি বৈদ্যুতিক ফেরির পক্ষে অর্থনৈতিক যুক্তি আরও শক্তিশালী করেছে। তবে সব নৌপথের জন্য বৈদ্যুতিক ফেরি উপযোগী নয়। দীর্ঘ দূরত্ব, ব্যস্ত সময়সূচি, ব্যাটারির ওজন ও দাম এবং চার্জ দেওয়ার সীমিত সুযোগ— এসব বিষয় রূপান্তরের পথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।