মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সেবা ও কল্যাণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। প্রবাসীদের নানা সমস্যা দ্রুত তুলে ধরা এবং সমাধানে সহযোগিতা বাড়াতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিশন কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় একটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা, প্রবাসীদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সামনে আনা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমে হাইকমিশন ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও প্রবাসীদের ভোগান্তি, সেবা প্রাপ্তির জটিলতা এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়গুলো নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ প্রবাসীদের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাইকমিশন ও গণমাধ্যমের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগ এবং তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি পেলে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল ইসলাম খানও প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি একটি আধুনিক ও জনবান্ধব হাইকমিশন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা মনে করছেন, কূটনৈতিক মিশন ও গণমাধ্যমের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষা, সেবা সহজীকরণ এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লেবাননে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশীদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে। দ্বিতীয় ধাপে আরো ১৭০ জন বাংলাদেশী প্রবাসীর জরিমানা ছাড়া এক্সিট ভিসার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি। এর আগে প্রথম ধাপে ১৩০ জনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে বিশেষ এই সুবিধার আওতায় দুই ধাপে মোট ৩০০ জন বাংলাদেশী প্রবাসী কোনো রকম জরিমানা ছাড়াই নিজ দেশে ফেরার আইনি সুযোগ পেলেন। অনুমোদনপ্রাপ্তদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস, বৈরুত এক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। এতে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এক্সিট ভিসা সংগ্রহের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সার্ভিস চার্জ পরিশোধ, ভ্রমণ প্রস্তুতি এবং প্রত্যাবাসনের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে শুরু হওয়া বিশেষ এই কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ৬০০-এর বেশি অনিয়মিত বাংলাদেশী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। আবেদন গ্রহণ এখনও চলমান রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে আরো আবেদন লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। বর্তমানে লেবাননে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধের কারণে অনেকেই কর্মহীন, বাস্তুচ্যুত এবং মানবিক সংকটে রয়েছেন। তাই জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগকে স্বস্তিদায়ক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্তদের এক্সিট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তাদের দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
সৌদি আরবে কর্মরত এক প্রবাসী নিরাপত্তাকর্মীকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি খোলা স্থানে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রবাসী কর্মীকে তিনজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘিরে ধরেন। ওই কর্মীর পরনে নিরাপত্তারক্ষীর ইউনিফর্ম ছিল। ভিডিওতে তাদের ওই কর্মীকে ধাক্কা দেওয়া, পোশাক ধরে টানাটানি করা এবং উচ্চস্বরে ধমক দিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তারা জোর করে ওই প্রবাসীকে গাড়ির ভেতরে বসিয়ে দেন। ভিডিওর শেষাংশে একজনের হাতে কেবলের মতো দেখতে একটি কালো বস্তু দেখা যায়, যা দিয়ে কর্মীকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তামের হায়দার নামে এক ব্যবহারকারী ভিডিওটি প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টে তিনি দুর্বল শ্রমিকদের প্রতি এমন আচরণের সমালোচনা করে বলেন, জীবিকার অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো বা অধিকার ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে ভিডিওটির ঘটনার সময়, স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কাতারের দাফনা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আটক হওয়া সবাই আরব দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সংঘর্ষের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রকাশ্যে এ ধরনের সহিংস আচরণ দেশের আইন ও জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে বসবাসকারী সব নাগরিক ও প্রবাসীদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।