জাতীয়

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিচার শুরু

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গত চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাসিম, শেখ ফজলে শামস পরশসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শহীদ হওয়া আসিফ ইকবালের বাবা এমএ রাজ্জাক। জবানবন্দিতে রাজ্জাক বলেন, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি দারাজ-এ চাকরি করতো আমার ছেলে। ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এ আন্দোলনে অংশ নেয় ছেলেটি। সেদিন জুমার নামাজ ওই এলাকার একটি মসজিদে আদায় করে আসিফ। এরপর অসুস্থবোধ করায় জবানবন্দি অসমাপ্ত রেখে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল।


এ মামলায় পলাতক অন্য আসামিরা হলেন-সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। গত ২২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। এর আগে, ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে দুজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত।


এদিকে, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধীয় অপরাধের দায়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলায় সাফাই সাক্ষ্যের সাক্ষী আনতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু। আজ সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশন মিজানুল ইসলাম জানান, ‘ইনুর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে প্রথমে সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনর আসার কথা থাকলেও তাকে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে ইনুর আইনজীবী আরও ৩ জনকে সাক্ষীর নাম দিয়ে এবং দুটো ডকুমেন্ট দাখিল করা অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছিলেন এবং ৮ সপ্তাহের জন্য মামলাটি মুলতবি চেয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল দুই পক্ষের কথা শুনে ন্যায়-বিচারের স্বার্থে উনাদের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন। তারা যে ৩ জন সাক্ষীর নাম দিয়েছিলেন সেখানে একজন বিদেশীকে বাদ দিয়ে বাকি ২জনকে সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন।’


এই মামলায় প্রসিকিউশনের অভিযোগে উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে নামেন ছাত্র-জনতা। হাসানুল হক ইনুর নির্দেশে তাদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। তাদের গুলিতে শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এ ছাড়া উসকানি-প্ররোচনাসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ আনা হয় ইনুর বিরুদ্ধে।


ট্রাইব্যুনাল-২ এর আরেক মামলায়, জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রবাড়ী এলাকায় শহীদ হওয়া ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইমকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ আবারও পিছিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।


অন্যদিকে, জেআইসি সেলে গুমের মামলায় আজ আসামিদের হাজির করার কথা থাকলে সাক্ষী হাজির করতে না পারায় তার শুনানি হয় নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
‘তন্ত্র-মন্ত্রে নাম ওঠানো অমুক্তিযোদ্ধাদের ধরতে অভিযান

বিভিন্ন সময়ে ‘তন্ত্রর-মন্ত্রর’ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখানো অমুক্তিযোদ্ধাদের ধরতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।   মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এই অমুক্তিযোদ্ধা; যারা নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করি খুব অল্প দিনের মধ্যেই এই ধরনের অমুক্তিযোদ্ধা, যারা ‘তন্ত্রর-মন্ত্রর’ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় সন্নিবেশিত হয়েছেন, তাদের সন্তানদের চাকরি দিয়েছেন এবং তারাও নিজেরা বিভিন্নভাবে বেনিফিটেড হয়েছেন অবৈবধভাবে, আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।   আহমেদ আযম খান আরও বলেন, আশা করি অল্প দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে এর সংখ্যাও বলতে পারব এবং জাতির সামনে সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করতে পারব।   এর আগে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন সম্পূরক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, আমার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আমি প্রমাণসহ দিতে পারব যে এমনও হয়েছে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তাকে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিনত না, রাজাকার হিসেবেও চিনত না। কিন্তু ২০০৮ সালের পর দেখা গেছে কাউকে রাজাকার বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে, আবার অনেকে সত্যি সত্যিই রাজাকার ছিলেন, কোনো এক অজানা কারণে তারা গ্রেপ্তার হওয়ার কিছু দিন পর তারা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হয়েছেন। তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চান তিনি।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ

খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

শহীদ মুগ্ধের বাবার চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। ফাইল ছবি
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষক সহায়তায় সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আজ সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের (কুষ্টিয়া-১) তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং কৃষিখাতে সার্বিক সহায়তা প্রদানে সরকার কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য প্রতি কৃষককে ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রি-পাইলটিং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০১ দশমিক ৬০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে এবং এতে প্রায় ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে প্রতি কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সার, সেচের বিদ্যুৎ, আখসহ বিভিন্নখাতে ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯.৫ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি, ১০.৫ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬.৮৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭০৩টি মডেল আলু সংরক্ষণাগার এবং ৮০০টি মডেল পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সরকারের বাস্তবসম্মত নীতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ফলে ধান, ভুট্টা, আলু, সবজি, ফলসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

৩০ হাজার ৯ জন শ্রমিককে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদান

ফাইল ছবি

২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার: ইউসিবিএলের সাবেক দুই পরিচালক কারাগারে

ছবি : সংগৃহীত

৯ম পে স্কেলের দাবিতে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা

সংগৃহীত ছবি
সংসদে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে আলোচনা আজ

বিকেলে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের পঞ্চম দিনের  বৈঠক। আজকের আলোচ্য সূচিতে আছে সংবিধান সংস্কার। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে জনগুরুতত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা। বিরোধীদলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান ৬২ বিধিতে ২৯ মার্চ এ প্রস্তাব উত্থাপন করলে আজ আলোচনার জন্য দিন ধার্য করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।  এ ছাড়া দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা সংসদ সদস্যদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেবেন। কার্যপ্রণালীর ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুতত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়েও আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত আছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটে চরম দুর্ভোগ, রাত ৮টা থেকে থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধের প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্কুলের সময় যানজট নিরসনের উপায় খোঁজার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত, সংকট নেই: জ্বালানি বিভাগ

0 Comments