গতকাল শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন ৪৯ জন। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন, প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। টেকনোক্র্যাট তিনজন। জোটের শরিকদেরও মন্ত্রিসভায় রেখেছেন তারেক রহমান। গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান।
এবারের মন্ত্রিসভায় এক ঝাঁক নতুন মুখ রয়েছেন, যাঁরা আগে কখনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না। অনেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।
মন্ত্রীদের তালিকায় ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় থাকা ২৪ জনই নতুন। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন। নতুন এ মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারির কথা। রাত ১২টা পর্যন্ত তা জারি হয়নি।
গতকাল ৪টায় শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও বেলা দেড়টা থেকেই অতিথিরা আসতে শুরু করেন। বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ দেশিবিদেশি অতিথিদের পদচারণে মুখরিত হয় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা। শপথ পাঠের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের ঠিক মাঝ বরাবর পাশাপাশি রাখা হয় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির আসন। সেখানে বিছানো হয় লাল গালিচা। প্রধানমন্ত্রীর শপথমঞ্চের বামে ১৩ জন ও ডানে ১২ জন মন্ত্রীর আসন রাখা হয়। এ ছাড়া দুই পাশে ১২ জন করে প্রতিমন্ত্রীর আসন রাখা হয়।
৪টার দিকে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হন বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ৪টা ৪ মিনিটে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় স্পিকারে বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। এরপরই শপথস্থলে আসেন তারেক রহমান। শপথমঞ্চে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে আসন গ্রহণ করেন তাঁরা।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় মসজিদের ইমাম হাফেজ কারি মাওলানা মুফতি মো. আবু রায়হানের কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি তারেক রহমানকে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। ৪টা ১২ মিনিটে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ৪টা ১৪ মিনিটে শপথগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ও গোপনীয়তার শপথে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। এরপর সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ২ দফা অনুযায়ী প্রথমে মন্ত্রীদের ও পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে মন্ত্রীদের ও পরে প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান।
বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস অতিথিদের সঙ্গে বসে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। শপথগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানা গেছে, মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ইকবাল হাসান মাহমুদ; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. খলিলুর রহমান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আবদুল আউয়াল মিন্টু; ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; ভূমি মন্ত্রণালয়ে মিজানুর রহমান মিনু; সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিতাই রায় চৌধুরী; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে জহির উদ্দিন স্বপন; কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট); বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আসাদুল হাবিব দুলু; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মো. আসাদুজ্জামান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জাকারিয়া তাহের; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীপেন দেওয়ান; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ফকির মাহবুব আনাম; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে মো. শরিফুল আলম; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম; কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; ভূমি মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ; যুব ও ক্রীড়ায় (টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী) মো. আমিনুল হক; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান; জনপ্রশাসনে মো. আবদুল বারী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ে মীর শাহে আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ে মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি); মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইশরাক হোসেন; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফারজানা শারমীন; আইন, ধর্ম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মো. নুরুল হক নুর; তথ্যে ইয়াসের খান চৌধুরী; দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এম ইকবাল হোসেইন; স্বাস্থ্যে এম এ মুহিত; গৃহায়ন ও গণপূর্তে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর; শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষায় ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রথমবার মন্ত্রী হলেন যারা : তারেক রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং শেখ রবিউল আলম।
প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ : মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ বিশিষ্টজনকে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।
এর মধ্যে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ উপদেষ্টা হলেন- মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টারা হলেন- হুমায়ূন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি বহুল আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় একের পর এক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও রাষ্ট্রীয় অস্থিরতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই উত্তাল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি হয়ে ওঠেন এই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান ও কেন্দ্রীয় চরিত্র। সেদিনের ঘটনাপ্রবাহকে আধিপত্যবাদ, ষড়যন্ত্র ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই পটপরিবর্তনের পর খাদের কিনারায় থাকা দেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। ১৯৭৫ সালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর সংকটের প্রতীক। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ, দুর্ভিক্ষ, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল নানা সংকট। এর চূড়ান্ত ও মর্মান্তিক পরিণতি দেখা যায় ১৫ আগস্ট। এদিন শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই কলঙ্কজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তবে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে তৈরি হয় চেইন অব কমান্ডের চরম সংকট, মতবিরোধ ও ক্ষমতার তীব্র দ্বন্দ্ব। অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ঘটে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান। এ সময় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়। সেনাসদস্যদের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেনানিবাসের ভেতরে নতুন করে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর-এই চার দিনের রুদ্ধশ্বাস ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভোরে ঢাকা সেনানিবাসে শুরু হয় সিপাহিদের বিদ্রোহ। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের মধ্যে পুঞ্জীভূত অসন্তোষ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এই বিদ্রোহের পটভূমি তৈরি করেছিল। বিদ্রোহী সৈনিকরা গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করেন জিয়াউর রহমানকে। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের পাশাপাশি রাজপথে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ঘটনাটি রূপ নেয় ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে’। ঢাকার রাজপথে বেরিয়ে আসে সৈনিকদের ট্যাঙ্ক ও ট্রাকের বহর। সাধারণ মানুষের উল্লাস ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানী। কেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে জিয়াউর রহমান? ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহে জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি তখন দেশের সেনাপ্রধান। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর তাকে গৃহবন্দি করে রাখার বিষয়টি সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও দৃঢ়চেতা সামরিক কর্মকর্তা। তার মুক্তির মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণে পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার নতুন পথ তৈরি হয়। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে রাষ্ট্রনায়কের আসনে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না। এর শিকড় প্রোথিত ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের পর তিনি বিদ্রোহ করেন এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে আলোচনায় আসেন। মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকে। তবে তিনি সেদিনই সরাসরি রাষ্ট্রপতি হননি। তৎকালীন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানসহ তিন বাহিনীর প্রধানকে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েম পদত্যাগ করলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠা ও নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা রাষ্ট্রক্ষমতা সুসংহত করার পর জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে সামনে রেখে তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তার শাসনামলে দেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। মুক্তবাজার অর্থনীতি, বেসরকারি খাতের বিকাশ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলমগীর হোসেন সম্রাট বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তবে তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি আজও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে আছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কেবল একটি দিন নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহই জিয়াউর রহমানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। গৃহবন্দি এক সেনাপ্রধান থেকে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন রাষ্ট্রক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ও জিয়াউর রহমান তাই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই থাকবেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশকে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংকট থেকে উত্তরণের একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেনানায়ক। স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তার নেতৃত্বকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।’ তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। এই দিনটি আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের চেতনার সঙ্গে জড়িত। শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজকের প্রজন্মকে জানতে হবে, কী প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল এবং কীভাবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই আমরা তার অবদান স্মরণ করতে চাই।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের দুজন এবং খুলনা বিভাগের একজন রয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৫ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুলেটিনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৫৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জনে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এ বিভাগে নতুন করে ৭২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭৫ জন, খুলনায় ১৬১ জন, বরিশালে ১৪৩ জন, রাজশাহীতে ১০৪ জন, ময়মনসিংহে ৮৮ জন এবং রংপুরে ৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে সিলেট বিভাগে নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি।
‘হাইব্রিড’ নেতাদের অত্যাচার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল ও হামলার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়েও বর্তমানে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের কৃষকদল নেতা শামীম গাজী। তবে তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ফারুক আহমেদ কবিরাজ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শামীম গাজী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ ও তাঁর ভাই মেহেদি কবিরাজের নেতৃত্বে একটি পক্ষ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি, জমি ও মাছঘাট দখল এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তিনি। শামীম গাজী রায়পুর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্যসচিব এবং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর ছেলে। লিখিত বক্তব্যে শামীম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফারুক কবিরাজকে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যায়নি। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি ‘হাইব্রিড’ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হয়েছেন। তাঁর ভাই মেহেদি কবিরাজের নেতৃত্বে একটি অস্ত্রধারী বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে বলেও অভিযোগ করেন শামীম। তাঁর দাবি, ওই পক্ষ চরের অন্তত দুই হাজার একর জমি দখল করেছে। মাছঘাট দখল, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মীকে বাড়িছাড়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরে শামীম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১৩ বছরেও তিনি রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। সরকারের পতনের পরও হামলা ও ষড়যন্ত্রের কারণে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর কর্মীদের মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। শামীম বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে তিনি আরও বেশি কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নিজের ও নেতাকর্মীদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি এবং পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শামীম। তাঁর দাবি, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ও তাঁর নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ বলেন, একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত লোকজন শামীমের ফার্মেসিতে হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় তিনি বা তাঁর কোনো লোক জড়িত নন। অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়েও তাঁর জানা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, শামীম গাজীর মাছঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।