গতকাল শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন ৪৯ জন। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন, প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। টেকনোক্র্যাট তিনজন। জোটের শরিকদেরও মন্ত্রিসভায় রেখেছেন তারেক রহমান। গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান।
এবারের মন্ত্রিসভায় এক ঝাঁক নতুন মুখ রয়েছেন, যাঁরা আগে কখনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না। অনেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।
মন্ত্রীদের তালিকায় ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় থাকা ২৪ জনই নতুন। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন। নতুন এ মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারির কথা। রাত ১২টা পর্যন্ত তা জারি হয়নি।
গতকাল ৪টায় শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও বেলা দেড়টা থেকেই অতিথিরা আসতে শুরু করেন। বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ দেশিবিদেশি অতিথিদের পদচারণে মুখরিত হয় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা। শপথ পাঠের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের ঠিক মাঝ বরাবর পাশাপাশি রাখা হয় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির আসন। সেখানে বিছানো হয় লাল গালিচা। প্রধানমন্ত্রীর শপথমঞ্চের বামে ১৩ জন ও ডানে ১২ জন মন্ত্রীর আসন রাখা হয়। এ ছাড়া দুই পাশে ১২ জন করে প্রতিমন্ত্রীর আসন রাখা হয়।
৪টার দিকে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হন বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ৪টা ৪ মিনিটে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় স্পিকারে বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। এরপরই শপথস্থলে আসেন তারেক রহমান। শপথমঞ্চে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে আসন গ্রহণ করেন তাঁরা।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় মসজিদের ইমাম হাফেজ কারি মাওলানা মুফতি মো. আবু রায়হানের কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি তারেক রহমানকে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। ৪টা ১২ মিনিটে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ৪টা ১৪ মিনিটে শপথগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ও গোপনীয়তার শপথে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। এরপর সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ২ দফা অনুযায়ী প্রথমে মন্ত্রীদের ও পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে মন্ত্রীদের ও পরে প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান।
বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস অতিথিদের সঙ্গে বসে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। শপথগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানা গেছে, মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ইকবাল হাসান মাহমুদ; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. খলিলুর রহমান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আবদুল আউয়াল মিন্টু; ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; ভূমি মন্ত্রণালয়ে মিজানুর রহমান মিনু; সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিতাই রায় চৌধুরী; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে জহির উদ্দিন স্বপন; কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট); বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আসাদুল হাবিব দুলু; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মো. আসাদুজ্জামান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জাকারিয়া তাহের; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীপেন দেওয়ান; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ফকির মাহবুব আনাম; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে মো. শরিফুল আলম; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম; কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; ভূমি মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ; যুব ও ক্রীড়ায় (টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী) মো. আমিনুল হক; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান; জনপ্রশাসনে মো. আবদুল বারী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ে মীর শাহে আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ে মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি); মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইশরাক হোসেন; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফারজানা শারমীন; আইন, ধর্ম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মো. নুরুল হক নুর; তথ্যে ইয়াসের খান চৌধুরী; দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এম ইকবাল হোসেইন; স্বাস্থ্যে এম এ মুহিত; গৃহায়ন ও গণপূর্তে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর; শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষায় ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রথমবার মন্ত্রী হলেন যারা : তারেক রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং শেখ রবিউল আলম।
প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ : মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ বিশিষ্টজনকে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।
এর মধ্যে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ উপদেষ্টা হলেন- মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টারা হলেন- হুমায়ূন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেড। তবে এ সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে রাসিকের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এ সফরের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন কিংবা বাংলাদেশ সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। সফরের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সড়কবাতি নিয়ে জ্ঞান অর্জন করতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কোনো চলমান বা পূর্ববর্তী প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। রাসিক সূত্র জানায়, সফরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে মাত্র। এখন পর্যন্ত সরকার কোনো অনুমোদন বা সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেনি। ফলে প্রশাসক ফ্রান্স সফরে যাচ্ছেন—এমন তথ্য নিশ্চিতভাবে প্রচার করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহী মহানগরবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একটি মহল রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া সফরের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী নগরীর জনস্বার্থে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে আমি আগ্রহী। বিগত সময়ে প্রতিটি সড়কবাতি স্থাপনে প্রায় ৬৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে একটি প্রদর্শনী ও মতবিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে কত শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব, তা তুলে ধরা হবে। রাসিক প্রশাসক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার যাওয়ার কোনো আগ্রহ ছিল না। তবে রাজশাহীর মানুষের স্বার্থে এবং নগরীর জন্য উপকারী কোনো প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকলে সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ এটি রাজশাহীর উন্নয়ন ও সাশ্রয়ী নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে এক বার্তায় তাকে এই অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই অর্জন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বহুপাক্ষিক ও অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগাযোগ, সংলাপ ও সহযোগিতা গড়ে তুলবেন। আমরা এই নতুন দায়িত্বের জন্য তার সাফল্য কামনা করি।’’ প্রসঙ্গত, এর আগে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। তিনি জানান, মোট ভোট পড়েছে ১৯০টি। এর মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাইপ্রাসের বহুপাক্ষিকতা-বিষয়ক বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। অর্থাৎ ভোটের ব্যবধান ৮টি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর আস্থা ও সমর্থনের কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন এবং তিনি তা বিনয় ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। এসময় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় সহযোগিতাকারী দেশের জনগণ, তার টিম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কাকৌরিস একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রচারণা পরিচালনা করেছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ বর্তমানে এমন এক সময় নবম দশকে প্রবেশ করছে যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, মানবিক সংকট, উন্নয়নগত স্থবিরতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির মতো নানা চ্যালেঞ্জ সংস্থাটির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটও জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে আরও কার্যকর ও সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়া এসডিজি অর্থায়ন, ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থায়িত্ব, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচিসহ আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানান ইউএনজিএর নবনির্বাচিত সভাপতি।