বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সম্ভাবনা ও আশার সঞ্চার হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্বেগের কারণ রয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। টিআইবি বলছে, এই ১০০ দিনের মধ্যে গত মার্চ ও এপ্রিলেই ৬০৫ জন খুন হয়েছে। ধর্ষণ-চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। মেয়াদ শেষের আগেই ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ও বিভিন্ন মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
এসময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, যা হবে সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই লক্ষ্য অর্জনে আরো দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার বিষয়ে দুদকের ভূমিকা রাখা উচিত। কেউ-ই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।
দুদকের ক্ষেত্রে সরকার আত্মঘাতী অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশন থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাসেও কমিশন গঠন না হওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও বিব্রতকর। কমিশনের এখতিয়ার সচিবকে দেওয়া প্রতিহত করতে হবে। দলীয় পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন :
সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা-অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে টিআইবি। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি ও চুরির ঘটনা ঘটেছে দুই হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল তিন হাজার ৪৯৬টি। এই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।
প্রতিবেদনে টিআইবি বলেছে- বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও জনস্বাস্থ্য সংকটের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পরিহার, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ঘোষণা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপ সরকার প্রধানের সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
সংস্থাটি মনে করে- সরকারের কিছু পদক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের প্রকৃত অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের ১০০ দিনে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকার দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির চর্চা দৃশ্যমান।
পুলিশ, প্রশাসন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচনী অঙ্গীকারের পরিপন্থী। টিআইবি বলছে, মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি দমনের ঘোষণা সত্ত্বেও হাট-বাজার, পরিবহন খাত, বাস ও ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংসতা এবং মুক্তচিন্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।
কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা : টিআইবি জানায়, ইতিবাচক দিক থাকলেও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। অধিকাংশ সংসদীয় কমিটি গঠন না হওয়া ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কিংবা হামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে কার্যকর আলোচনা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ যাদের মধ্যে ফৌজদারি মামলার আসামি ও ঋণখেলাপিও রয়েছেন-এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।
বিচার বিভাগ :
টিআইবি প্রতিবেদনে বিচারিক কার্যক্রম অংশে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইসিটির প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ, মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ও ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা, সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ডের দশ বছর পর মামলায় অগ্রগতি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা করা, মামলা প্রত্যাহার বা জামিন দেওয়ার চর্চা অব্যাহত রয়েছে। ভিন্নমতের মানুষের বিচারে পুরনো সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে সরকারি দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাংবাদিকসহ ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং বারবার জামিন স্থগিত করা হচ্ছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, মুনিয়া ও ত্বকী হত্যার বিচারে জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি হলেও এসব মামলায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় জনমনে হতাশা দেখা দিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে টিআইবি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন ও রিসার্চ ফেলো রাজিয়া সুলতানা। উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, গবেষণা সহযোগী মো. সহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলে দুই মাস আগে গোলাপি বাস চালু হলেও এখনো সেই বাসে ওঠার সুযোগ হয়নি সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাবরিনার; তার কথায়, ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ হয় না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ শিক্ষার্থী বলেন, “যেসব জায়গায় যাওয়া হয়, তার কোথাও পিংক বাস সার্ভিস আজ অবধি পাইনি। তাই এখনো ওঠা হয়নি। আমার রুটে থাকলে অবশ্যই পিংক বাসই অগ্রাধিকার দিতাম।” মিরপুরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা হাবিবা সুরভী বলেন, “অনেক নারী জানেই না যে পিংক বাস সার্ভিস কোন রুটে আছে, কখন ছাড়ে। এসব বিষয়ে আরও ভালোমতো প্রচার দরকার। পাশাপাশি বাসের সংখ্যা ও রুট আরও বাড়াতে হবে। গত ১৮ অগাস্ট নারীদের জন্য ঢাকার ১০টি রুটে নামানো হয় ১০টি গোলাপি বাস। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় এসব বাস চলাচল শুরু হলেও যাত্রী সংকটের কথাও উঠছে। যদিও নারী যাত্রীরা বলছেন, হাতেগোনা বাসগুলো নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাওয়ার ফলে সেগুলো সব নারীর নাগালে নেই। ফলে ওই বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকারও যৌক্তিকতা দেখেন না অনেকে। তাদের ভাষ্য, সবসময় নাগালে থাকলে গোলাপি বাসেই চলতেন, কিন্তু সেই সুযোগ না থাকায় অপেক্ষা বাড়ানোর প্রয়োজনও মনে করেন না তারা। নারীদের যাতায়াত সহজ করতে আরও ১০০টি গোলাপি বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহনে ‘বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি’ চালু ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত না করে শুধু নতুন বাস নামালে অতীতের মতই ব্যর্থ হবে উদ্যোগ। ‘পুরোপুরি নির্ভর করতে পারি না’ ঢাকার মোহাম্মদপুর বাস ডিপোতে সাত-সকালে গোলাপি বাসের ভেতরে বসেছিলেন চার-পাঁচজন নারী, অপেক্ষায় ছিলেন কখন ৮টা ৪০ বাজে। সোয়া ৮টায় কয়েকজনকে ভেতরে দেখা গেলেও বাস ছাড়ার সময় কয়েকটি বাদে অন্য আসনগুলো যাত্রীতে ভরে গেল। তবে গোলাপি বাসের আগেই ওই ডিপো থেকে অন্য বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ছুটেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো নারী-পুরুষ যাত্রীতে ভরে গেছে। ওই ডিপো থেকে ছাড়া গোলাপি বাসের যাত্রীদের একজন সানজিদা জাহান বললেন, “এই বাস তো সবসময় থাকে না। তাই পুরোপুরি এর ওপর নির্ভরও করতে পারি না। অন্য সময় যেহেতু সাধারণ বাসে চড়তেই হয়, তাই কেউ আলাদাভাবে নির্দিষ্ট করে এই বাসে ওঠার জন্য বসে থাকেন না।” তবে পাশে বসা আরেক যাত্রী মাকসুদা সুমি বলেন, “এখান থেকে বের হওয়ার সময় কিছুটা ফাঁকা থাকে। দুয়েকটা স্টপেজ পার হলেই ভরে যায় যাত্রীতে।” আরেক যাত্রীর ভাষ্য, “বাসে যাত্রী কম দেখে বলা হচ্ছে, নারীরা পিংক বাস ব্যবহার করেন না। কিন্তু আমার মনে হয়, আগে দেখতে হবে বাসটা নারীদের প্রয়োজনের সময়ে এবং প্রয়োজনীয় রুটে চলছে কি না। “বাসের ব্যবস্থা না রেখে যাত্রী কেন কম, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করলে তো হবে না।” সাধারণ বাসে যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ার অভিজ্ঞতার কথা বললেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বৈশাখী কর্মকার। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “প্রতিদিন অফিসে যাতায়াতের সময় সাধারণ বাসে ভিড় ঠেলে ওঠা-নামার সময় দুঃসহ লাগে। পিংক বাসে সেই অস্বস্তিটা নেই বললেই চলে। তবে বাসটার আরও কয়েকটা রুটে আরও বেশি ট্রিপ থাকলে ভালো হত।” পিংক বাসে যাতায়াত করা মাজেদা বেগম বলেন, “অন্য বাসের তুলনায় যাত্রী কম থাকায় বসে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। দমবন্ধ করা পরিবেশও অন্য বাসের মত না। কিন্তু সবসময় এই বাসের জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব হয় না, পাওয়াও যায় না। তাই অন্য বাসেই উঠতে হয়।” আবার গোলাপি বাসের সুযোগ থাকলেও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতার কথা বললেন নারগিস খন্দকার নামে আরেক যাত্রী। তার কথায়, “এই বাসে অনেক সুবিধা, সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমার বাসা থেকে অফিস পর্যন্ত সরাসরি এই বাসের ব্যবস্থা নেই। মাঝপথে নেমে আবার অন্য বাস ধরতে হলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে, তাই চাইলেও উঠতে পারি না।” মিরপুরের বাসিন্দা নিশাত জাহান নূপুর বলেন, “কাজের সূত্রে প্রায়ই মতিঝিল যেতে হয়, তবে জানতাম না যে এখান থেকে মতিঝিলে পিংক বাস যায়। অবশ্যই সামনে থেকে পিংক বাস ধরেই যাব। “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একদিন আজিমপুর থেকে 'অপরাজিতা' নামের একটা ফিমেল ফ্রেন্ডলি বাসে উঠেছিলাম। একজন মহিলা কন্ডাক্টর সবার কাছ থেকে টাকা তুললেন, বিষয়টা খুবই ভালো লাগল। পিংক বাসের তো শুনছি বাসের ড্রাইভারও মহিলা, বিষয়টা সত্যিই খুব চমৎকার।” কোথায় থেকে কখন ছাড়ে বিআরটিসির পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম বলেন, ঢাকার পিংক বাসগুলো সকাল ৭টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যেই সব ডিপো থেকে ছাড়ে। ছাড়ার সময় সময়ের কোনো হেরফের হয় না। তবে ফেরার সময় বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ফেরার কথা থাকলেও যানজটের কারণে কখনো কখনো সন্ধ্যা ৭টারও বেশি বেজে যায়। ডিপো রুট আপ ডাউন মতিঝিল কোকাকোলা-নতুন বাজার-মতিঝিল ৮:১০ ৫:১০ তালতলা-মতিঝিল ৮:৪০ ৫:১০ যাত্রাবাড়ী ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও-গুলিস্তান ৮:৩০ ৪:৩০ কল্যাণপুর মিরপুর ১০-মতিঝিল ৮:৩০ ৪:১০ মিরপুর মিরপুর-মতিঝিল ৭:০০ ৪:০০ মিরপুর ১২-মতিঝিল ৭:৩০ ৪:৩০ নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ-মতিঝিল ৮:০০ ৪:৩০ মোহাম্মদপুর মোহাম্মদপুর-মতিঝিল ৮:৪০ ৪:৩০ জোয়ারসাহারা আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল ৭:৩০ ৪:৩০ গাজীপুর শিববাড়ী-এয়ারপোর্ট ৭:৩০ ৪:৩০ বগুড়া শেরপুর-মাটিডালী ৮:০০ ১:০০ বনানী-মোকামতলা ৮:১৫ ১:০০ চট্টগ্রাম কালুরঘাট-পতেঙ্গা ৭:৩০ ৩:০০ কালুরঘাট-পতেঙ্গা ৮:০০ ৩:৩০ গোলাপি বাস চালু থাকবে? যাত্রীদের ‘শঙ্কা’ বিআরটিসির অধীনে ১৯৯৮ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু হয়। এরপর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে মহিলা বাস সার্ভিস উদ্বোধন করা হয়। বহরে ১২টি বাস থাকার কথা থাকলেও সড়কে নামে মাত্র চার-পাঁচটি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা পেতেন না যাত্রীরা। ২০০৯ সালে এই সেবা ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। সবশেষ ২০১৮ সালে বেসরকারি উদ্যোগে ‘দোলনচাঁপা’ নামে চারটি বাস চালু হলেও ২০২২ সালের অক্টোবরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এবারের বাস সার্ভিসও আগের মত থেমে যায় কিনা, সেই শঙ্কার কথা বললেন মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো যাত্রী শামীমা খাতুন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এর আগেও তো নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু হয়েছিল। কিছুদিন পর আর দেখা যায়নি। এবারও শুরুতে অনেক প্রচার হচ্ছে। কিন্তু ছয় মাস পরও বাসগুলো রাস্তায় থাকবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।” তার সঙ্গে থাকা আরেক যাত্রী বলেন, “আমরা চাই না, এই বাসও আগেরগুলোর মত কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যাক। বরং বাসে সংখ্যা আরও অনেক বাড়াতে হবে। যে যাই বলুক, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নারীদের জন্য আলাদা বাসের প্রয়োজন আছে।” শুধু নারীদের জন্য বাস বড় চ্যালেঞ্জ’ গত ২৭ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে গোলাপি বাসের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়। দ্রুত আরও ১০০ বাস নামানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। বিআরটিসি পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম বলেন, “নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিসের চাহিদা যাচাইয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। এর চূড়ান্ত ফল এখনও পাওয়া যায়নি। “পিংক বাস সার্ভিস টেকসই করতে বিআরটিসি বিশেষ কিছু কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে সার্ভিসটির পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।” কেবল নারীদের জন্য বাস পরিচালনা করা ‘চ্যালেঞ্জ’ মনে করেন রাহেনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “পুরুষদের তুলনায় নারীরা রাস্তায় কম বের হন। একটি বাসে ৫০ জন পুরুষ যাত্রী থাকলে নারী যাত্রী থাকেন পাঁচ থেকে সাতজন। এভাবে ১০টি বাসের যাত্রী এক করেও একটি বাস পূর্ণ করা কঠিন। ফলে শুধু নারীদের জন্য বাস পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।” আগের কয়েক দফা নারী বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যা কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে এটি টেকসই করা সম্ভব।” তার কথায়, “ঢাকার বড় বড় বিপণিবিতান যেমন বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে কর্মরত নারী বিক্রয়কর্মীদের নিয়ে একটি ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাদের বেতন পাওয়ার পর মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে বাসে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হলে পাড়া-মহল্লা থেকে কর্মীদের তুলে বিপণিবিতানে পৌঁছে দেওয়া এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। “মতিঝিলের ব্যাংকপাড়া ও বিভিন্ন করপোরেট অফিসে কর্মরত নারীদেরও অঞ্চলভিত্তিতে সংগঠিত করা যেতে পারে। তাদের জন্য নির্দিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থা করা গেলে নারীরা সুবিধা পাবেন, পাশাপাশি বিআরটিসির সার্ভিসের যাত্রীও নিশ্চিত হবে।” রাহেনুল বলেন, এসব পরিকল্পনা এখনই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। বিআরটিসির বর্তমান বাসের মান ও সেবা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। “এসি বাস, আরামদায়ক আসন এবং নির্ধারিত সময়সূচি নিশ্চিত করা গেলে এসব নারী যাত্রী অবশ্যই আসবেন। তাদের উপযুক্ত সেবা দিতে না পারা বিআরটিসির একটি সীমাবদ্ধতা।” তিনি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। নারীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিসির ইলেকট্রিক ও আরামদায়ক বাস চালু করা গেলে মানুষ এতে আকৃষ্ট হবেন। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা ও পরিবারের পরিবহন ব্যয় কমবে। স্কুলে সন্তানকে আনা-নেওয়ার জন্য মায়েদের সারাদিন গাড়ি নিয়ে বসে থাকতে হবে না। জ্বালানি খরচও বাঁচবে।” নতুন বাস কেনার পরিকল্পনা নিয়ে রাহেনুল ইসলাম বলেন, “মোট ২০০টি ইলেকট্রিক বাস আসবে। এর মধ্যে ১০০টি নারীদের জন্য এবং বাকি ১০০টি ঢাকা শহরের সিটি সার্ভিসের জন্য। “বাসগুলো ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চের দিকে সড়কে নামানো হতে পারে। বর্তমানে দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান। এরপর বিদেশ থেকে বাস আনা ও উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।” নতুন সার্ভিস, সময় তো লাগবেই’ নতুন বাস সেবা হওয়ায় শুরুর দিকে যাত্রী কম পাওয়ার কথা বলছেন মিরপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার ওমর ফারুক মেহেদী। তবে ধীরে ধীরে যাত্রী বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মেহেদী বলেন, “এটা নতুন সার্ভিস, একটু সময় তো লাগবেই। আগের তুলনায় যাত্রী বাড়ছে। ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। যাত্রীসংখ্যা বাড়তে আরও কিছুটা সময় লাগবে। নারীদের মধ্যে সেবাটি নিয়ে আস্থা ও অভ্যস্ততা তৈরি হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।” ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক বাস যুক্ত হলে নারী যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন মেহেদী। রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাস ডিপো থেকে একটি গোলাপি বাস চলছে। এ ডিপোর হিসাব সহকারী (গ্রেড-১) মো. সুমন মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারী যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় গোলাপি বাস পরিচালনায় লোকসান হয়। বাসের আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ও মেটানো যায় না।” তার কথায়, “একটি বাসে দুজন চালক ও দুজন কন্ডাক্টর থাকেন। চারজন কর্মীর গড় বেতন ও জ্বালানি খরচ মিলিয়ে দৈনিক পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার টাকা। কিন্তু বাস থেকে প্রতিদিন সেই আয় হয় না। “শুক্রবার ও শনিবার গোলাপি বাস চলাচল বন্ধ থাকে, কারণ কর্মজীবী নারী যাত্রী পাওয়া যায় না। কিন্তু বাস বন্ধ থাকলেও স্থায়ী কর্মীদের সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতন দিতে হয়। অন্য বাসে নারী-পুরুষ, শিশু সবাই উঠতে পারে, ফলে আমাদের অন্যান্য সব বাস থেকে লাভ হয়।” তবে মিরপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার ওমর ফারুক মেহেদী বলেন, “আমরা এখন আস্তে আস্তে লাভজনক অবস্থার দিকে এগোচ্ছি।” নতুন বাস কেনার আগে ইতিহাস জানা উচিত’ অতীতে নারী বাস চালুর একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় সেই অভিজ্ঞতা ও ব্যর্থতার কারণ বিবেচনা করে নতুন বাস কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আগে অতীত ইতিহাস জানা উচিত। পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. শামসুল হক বলেন, “অতীতে সরকারি উদ্যোগে একাধিকবার নারী বাস সার্ভিস চালুর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো সফল হয়নি। অতীতের এসব অভিজ্ঞতা ও ব্যর্থতা কারণ বিবেচনা না করেই নতুন করে বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। “যারা সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প গ্রহণ ও কেনাকাটায় আগ্রহী, তারা অতীতের অভিজ্ঞতা সামনে আনেন না। বিআরটিসির মত প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের অতীতের ইতিহাস জানা উচিত। কিন্তু এসব বিষয় না বলে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এতে শুধু প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি নয়, সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বাসের বিশৃঙ্খলা কমানো। পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু বা মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি যাত্রী বহনকারী গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে হবে। এ জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। 'বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি' চালু করে নির্দিষ্ট করিডোরে নির্দিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।” বিআরটিসির কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি লোকসানকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না, কারণ ভর্তুকি পাওয়া যায়। সরকারি প্রকল্প ও কেনাকাটায় সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ থাকলেও জনগণ প্রকৃত সেবা পাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না।” তার পরামর্শ, “সরকারকে আরও চৌকসভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করতে হবে এবং প্রধান সড়কে ছোট ছোট যানবাহনের প্রতিযোগিতা নিরুৎসাহিত করতে হবে। “তা না করে নতুন নতুন রঙের বাস নামালে অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সেগুলো টেকসই হবে না। জোর করে চালু রাখলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় হবে।” বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রকল্প নয় বলে মনে করেন শামসুল হক। তার মতে, “হাতিরঝিল ও গুলশানে এ ধরনের উদ্যোগের পাইলটিং হয়েছে। এসব উদ্যোগে বড় বিনিয়োগ ছাড়াই নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করিডোরে বাস পরিচালনা করা হয়েছিল। “বাংলাদেশে বিপুল জনসংখ্যা একটি বড় বাজার। সরকার চাইলে ঢাকার গণপরিবহনের যাত্রীদের নির্দিষ্ট রুটে ভাগ করে কয়েকটি কোম্পানিকে বাস পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেল তুলে ধরে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব। সরকারকে মূলত নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।” তিনি বলেন, “হাতিরঝিলের বাস সার্ভিসে চালক যাত্রী উঠানোর জন্য প্রতিযোগিতা করেন না। কারণ সেখানে চালক বেতনভুক্ত কর্মচারী। কিন্তু ঢাকার অন্য বাসে চালককে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মালিককে দিতে হয়। এরপর বাকি আয় চালক ও হেলপারের। ফলে তারা যাত্রীকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতায় নামেন। “হাতিরঝিলে যাত্রী উঠুক বা না উঠুক, চালক মাস শেষে বেতন পান। অন্যদিকে ঢাকার প্রচলিত ব্যবস্থায় একজন চালককে সারাদিন বাস চালিয়ে ৮ হাজার টাকা মালিককে দিতে হয়। এই দুই ধরনের ব্যবসায়িক কাঠামোর পার্থক্য না বুঝলে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা দূর করা যাবে না।”
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিদেশে বাংলাদেশিদের সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কথিত ব্যর্থতার অভিযোগে হাইকোর্টে জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে কথিত ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানিয়েছেন রিটকারী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। এসব ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কাছে কী ধরনের নথি ছিল এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা যাচাইয়ের আবেদন জানিয়েছেন রিটকারী। রিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব বিদেশি মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর আদেশ চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মামলাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা, আপিল ও ক্ষমার আবেদনের সময়সীমা শনাক্ত এবং এ ধরনের মামলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ। পাশাপাশি আইনসম্মত কনস্যুলার যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও আবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা নথি এবং তাদের নেওয়া সহায়তামূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিবারের পক্ষে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা সব সময় সহজ হয় না। পরিবারের আর্থিক অসামর্থ্য, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং বিদেশের বিচারব্যবস্থায় আইনি সহায়তা পাওয়ার জটিলতা সংকটাপন্ন পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। এ কারণে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেও রিটকারী জানতে চেয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যথাসময়ে সহায়তা পেয়েছিলেন কি না। এ বিষয়ে সরকারি নথির ভিত্তিতে পর্যালোচনার আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয়, সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য এবং তাদের জন্য কী ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সমন্বিত সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কেবল কোনো একটি সংস্থার কাজ নয়; বরং সবার সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনার মতো মারাত্মক সমস্যা প্রতিহত করা সম্ভব। বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), চট্টগ্রাম-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সড়কে প্রতিদিনই মূল্যবান প্রাণ ঝরে যাচ্ছে এবং অপূরণীয় জানমালের ক্ষতি হচ্ছে। এই মানবিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিকারের উপায় বের করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। মহাসড়কে যেখানে-সেখানে যানবাহন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও যানবাহনের ফিটনেস সনদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অনিয়ম বা অন্যায্য তদবির সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, একমাত্র বিআরটিএ কর্তৃক বৈধভাবে সার্টিফায়েড ড্রাইভিং লাইসেন্সই দেশের সড়কে যানবাহন চালানোর জন্য গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা ও ‘চাঁদের গাড়ি’ ব্যবহার করে অপরাধীরা বিভিন্ন অসামাজিক ও সহিংস কার্যক্রম চালাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি চালক ও মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে কোনো অপরাধী চক্র সিএনজি অটোরিকশাকে অপরাধের বাহন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না পায়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হালিম এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।