জাতীয়

মার্চ-এপ্রিলে দেশে ৬০৫ জন খুন : টিআইবি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সম্ভাবনা ও আশার সঞ্চার হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্বেগের কারণ রয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। টিআইবি বলছে, এই ১০০ দিনের মধ্যে গত মার্চ ও এপ্রিলেই ৬০৫ জন খুন হয়েছে। ধর্ষণ-চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। মেয়াদ শেষের আগেই ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ও বিভিন্ন মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। 

 

এসময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, যা হবে সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই লক্ষ্য অর্জনে আরো দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন। 

 

তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার বিষয়ে দুদকের ভূমিকা রাখা উচিত। কেউ-ই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।

 

দুদকের ক্ষেত্রে সরকার আত্মঘাতী অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশন থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাসেও কমিশন গঠন না হওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও বিব্রতকর। কমিশনের এখতিয়ার সচিবকে দেওয়া প্রতিহত করতে হবে। দলীয় পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

 

সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন :  

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা-অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে টিআইবি। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি ও চুরির ঘটনা ঘটেছে দুই হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল তিন হাজার ৪৯৬টি। এই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।

 

প্রতিবেদনে টিআইবি বলেছে- বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও জনস্বাস্থ্য সংকটের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পরিহার, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ঘোষণা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপ সরকার প্রধানের সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

 

সংস্থাটি মনে করে- সরকারের কিছু পদক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের প্রকৃত অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের ১০০ দিনে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকার দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির চর্চা দৃশ্যমান। 

 

পুলিশ, প্রশাসন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচনী অঙ্গীকারের পরিপন্থী। টিআইবি বলছে, মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি দমনের ঘোষণা সত্ত্বেও হাট-বাজার, পরিবহন খাত, বাস ও ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংসতা এবং মুক্তচিন্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

 

কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা : টিআইবি জানায়, ইতিবাচক দিক থাকলেও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। অধিকাংশ সংসদীয় কমিটি গঠন না হওয়া ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কিংবা হামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে কার্যকর আলোচনা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ যাদের মধ্যে ফৌজদারি মামলার আসামি ও ঋণখেলাপিও রয়েছেন-এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

 

বিচার বিভাগ : 

টিআইবি প্রতিবেদনে বিচারিক কার্যক্রম অংশে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইসিটির প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ, মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ও ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা, সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ডের দশ বছর পর মামলায় অগ্রগতি হয়েছে। 

 

রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা করা, মামলা প্রত্যাহার বা জামিন দেওয়ার চর্চা অব্যাহত রয়েছে। ভিন্নমতের মানুষের বিচারে পুরনো সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে সরকারি দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাংবাদিকসহ ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং বারবার জামিন স্থগিত করা হচ্ছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, মুনিয়া ও ত্বকী হত্যার বিচারে জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি হলেও এসব মামলায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় জনমনে হতাশা দেখা দিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে টিআইবি।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন ও রিসার্চ ফেলো রাজিয়া সুলতানা।  উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, গবেষণা সহযোগী মো. সহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি কী?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে দেশে যাতে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক বৈঠকেই রেকর্ড প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) জোড়া বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত সভায় ১৫.৮০ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। সংশ্লিষ্ট একটি নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা এবং প্রণালিভিত্তিক (স্ট্রেট অব হরমুজ) নৌপথের নিরাপত্তার চরম হুমকির মুখে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপি) ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওমানভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি মাল্টিনেক্স কনভার্জেন্স টেকনোলজিস এলএলসি’ থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ায় এ ডিজেল কেনা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা (প্রায় ৪০.৭৯ মিলিয়ন ডলার)। ওই হিসাবে ১ লাখ টন ডিজেল কিনতেই সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১০০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।   প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। একই দিনে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ৮টি প্রধান ক্রয়ের চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (CCC) ও বিএডিসির মধ্যকার চুক্তির আওতায় ১২তম লটে ৪০,০০০ (+-১০%) টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তায়) ক্রয়ের প্রস্তাব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ক্রয়ের প্রস্তাব। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে টার্ন-কি ভিত্তিতে ব্যাটারি ব্যাক-আপ ও বিতরণ ব্যবস্থাসহ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।    এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫০ কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১ কোটি ৬০ লাখ পিস বস্তা ই-জিপি সিস্টেমে ক্রয়ের প্রস্তাব। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জিসিবি এলাকার ৫টি কার্গো বার্থ ৫ বছরের জন্য ডিপিআর-২০০৬ অনুসরণপূর্বক বার্থ অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনের কাঁচামাল জরুরি ভিত্তিতে ক্রয়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ন্যূনতম ৪২ দিনের পরিবর্তে ২১ দিন নির্ধারণের নীতিগত অনুমোদন চেয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।   জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক নথিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিএসসি) পূর্বনির্ধারিত চুক্তিভিত্তিক সরবরাহকারীরা সময়মতো তেল সরবরাহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস হিসাবে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেয় বিপিএসসি।    তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের ঝুঁকি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিপিআর বিধিমালা ব্যবহার করে সরাসরি কেনাকাটার বিধান থাকলেও এতে স্বচ্ছতা ও সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ, পরিবহণ ও কৃষি খাতের উৎপাদন সচল রাখতে আপৎকালীন মজুত বাড়াতেই দ্রুত এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশ-উত্তর কোরিয়ার যৌথ অবস্থান ৯৭তম

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে চার মাসের অনিশ্চয়তা শেষে দেশে ফিরলেন ১৭ নাবিক

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের ভোটাধিকার ব্যবস্থা নিয়ে ইসির জরুরি বৈঠক আজ

ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ মাসে ৭ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ করল কৃষি ব্যাংক

পাঁচ মাসে ৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটি।   কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে দেশের ৪৮টি জেলার মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। তথ্য যাচাই-বাছাই ও হিসাব সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।     চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন।   সরকারের এই উদ্যোগে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফের পরিকল্পনা রয়েছে, যার আওতায় প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হওয়ার কথা।   কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত মোট ঋণ মওকুফ কর্মসূচির প্রায় ৩৯ শতাংশ এককভাবে বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।     বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ তাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল।   প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারের মন্দা এবং নানা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে নতুন করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ঋণ মওকুফের ফলে এসব কৃষক আবারও নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসে নতুন করে কৃষিঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সঞ্চিয়া বিনতে আলী বলেন, সরকারের নির্দেশনার আলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষকদের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে নতুন ঋণ নিয়ে কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।   বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি ছিল। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’ চালু, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়।     এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আবারও কৃষিঋণ মওকুফের এমন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলো।     এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষিঋণ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) কৃষি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে একই সময়ে ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বেশি।

মারিয়া রহমান জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৬ বছর বয়সেই এনআইডি পাবে শিশুরা, ১৮ হলেই তারা স্বয়ংক্রিয় ভোটার

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলেন এমপি নজরুলের সহকারী

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াত এমপি নজরুলের কাবিননামা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন কাজী

শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান

তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখতে শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরের প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে ‘অধিকতর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন তারা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তান মনে করেন। তাদের শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, নৈতিক মূল্যবোধেও গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   তরুণদের প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, অনেক সময় তারা লেখাপড়া ছেড়ে মোবাইল ফোন ও মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। আনন্দময় শিক্ষা ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।   তিনি জানান, এ লক্ষ্যেই সারা দেশে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে প্রধানমন্ত্রী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিশুদের স্কুলমুখী করতে সরকার বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি মিডডে মিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন ছাড়া আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।   বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও থাকবে নজরদারিতে   সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী দিনে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও তাদের নজরদারির আওতায় আনা হবে।   অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।   প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থাপনা করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২১, ২০২৬
ফাইল ছবি

আকাশপথে বড় চমক, ১০ এয়ারবাস আনছে সরকার

বিমসটেকে ভিসা সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হ‌য়ে‌ছে : মহাসচিব

পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খান

0 Comments