ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতেমার বেন-গাভির বলেছেন, আজ রাতেই তেহরান পুড়বে।
রোববার (৭ জুন) রাতে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এভাবেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
তার এই মন্তব্য চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে বলে শঙ্কা আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, তারা ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে রোববারের হামলাকে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের প্রথম সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
ইরান জানিয়েছে, বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সরকার ও নিরাপত্তা মহলের কয়েকজন কর্মকর্তা তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আল-জাজিরাসহ একাধিক বৈশ্বিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির বরাতে জানা গেছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হামলার জবাব দিতে উত্তর ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
ইসরায়েলের স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। তবে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ইরান ছুড়েছে, তা জানা যায়নি। আইডিএফ জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের অনেক জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র সতর্ক অ্যালার্ম বেজেে উঠেছে।
পরে আইডিএফ জানায়, উত্তর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এ হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলজুড়ে স্কুলসহ যাবতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার। একইসঙ্গে নাগরিকদের বাড়িঘর ছেড়ে সেফ হোম এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
ইরানের তাসনিম এজেন্সির বরাত দিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে, ইরানি সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়ার একজন কমান্ডার বলেছেন, বৈরুতে হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে তাদের আক্রমণ বিস্তৃত করার মাধ্যমে ইসরায়েল ‘সমস্ত সীমা’ অতিক্রম করেছে।
উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি বলেছেন, আমরা বার বার বলেছি যে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং আগ্রাসন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান সহ্য করবে না। আজ রাতে আমরা আগ্রাসনকারীদের জবাব দিলোম।
তবে এটা শুধুমাত্র একটি সতর্কবার্তা। অশুভ শক্তি যদি এই সতর্কবার্তা আমলে না নেয়, পরবর্তী আঘাত হবে আরও ব্যাপক এবং এজন্য আগ্রাসনকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলের ওপর ইরানের এটিই প্রথম হামলা, যাতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সম্ভাব্য ইসরাইলি পালটা হামলার আশঙ্কায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। শুধু ইরানই নয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইরাক ও সিরিয়াও। দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরাইল অতীতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হয়। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও বৃহৎ পরিসরে পালটা আঘাত হানা হবে। আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ রাখা। কিন্তু লেবাননে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে ইরানের উপকূলীয় এলাকা এবং জাহাজে বারবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘রোববার রাতের অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা।’ একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে এর জবাব হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর। এদিকে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। তেহরানের এ পদক্ষেপের জবাব ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে। রোববার (৭ জুন) রাতে ইরানের হামলার পর ইসরাইলি দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরান অন্তত তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরাইলি সূত্রগুলোর একজনের ভাষ্য, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পালটাপালটি হামলা ও কড়া অবস্থানের কারণে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরাইল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিই ছিল সেই ‘আগ্রাসনের প্রধান উৎস’। এ কারণেই ঘাঁটিটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়েছে জার্মানি। কয়েক দশক ধরে নিয়মিতভাবে এই আসনে নির্বাচিত হলেও এবার প্রয়োজনীয় সমর্থন অর্জন করতে পারেনি দেশটি। এই ফলাফলের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জার্মানির অবস্থান, বিশেষ করে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের নীতিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য গ্রুপের জন্য নির্ধারিত দুটি অস্থায়ী আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল নির্বাচিত হলেও জার্মানি মাত্র ১০৪টি ভোট পায়, যা নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের চেয়ে ২৩ ভোট কম। নির্বাচনের পর জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাদেফুল ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েলের প্রতি বার্লিনের দৃঢ় সমর্থন এবং ইউক্রেন প্রশ্নে অবস্থান দেশটির বিরুদ্ধে কিছু ভোট প্রভাবিত করে থাকতে পারে। তাঁর মতে, কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জার্মানির অবস্থান সব রাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইউক্রেন ইস্যুর চেয়ে গাজা যুদ্ধ এবং ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিই জার্মানির জন্য বড় রাজনৈতিক মূল্য তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ট্রিটা পার্সির মতে, ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া জার্মানির পরাজয়ের মূল কারণ নয়। কারণ নির্বাচিত হওয়া অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালও ইউক্রেনের প্রতি শক্ত সমর্থন বজায় রেখেছে। তিনি মনে করেন, গাজা সংকটের সময় ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে তাদের নীতিই অনেক দেশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ক্রেইগ মোখাইবারও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে জার্মানির অবস্থান এবং মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর গণহত্যার ঐতিহাসিক দায় থেকে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এই কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে ইসরায়েল-সংক্রান্ত অনেক প্রস্তাবে দেশটি সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে থাকে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাবে জার্মানি ভোটদান থেকে বিরত থাকে। পরে যুদ্ধবিরতির কয়েকটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও সমালোচকদের মতে, ততদিনে আন্তর্জাতিক মহলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে জার্মানির ভেতরেও ফলাফলটি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে। সমালোচকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার এগোচ্ছিল, নিরাপত্তা পরিষদের এই পরাজয় সেই প্রচেষ্টার জন্য একটি বড় ধাক্কা। বিশ্লেষকদের ধারণা, জাতিসংঘে জার্মানির এই ব্যর্থতা শুধু একটি নির্বাচনী পরাজয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তুলে দিয়েছে।
ভারতে বেকারত্ব, চাকরি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে নতুন এক প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোটি কোটি তরুণের সমর্থন পাওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। চাকরি না পাওয়া ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেই মন্তব্যকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি অনলাইন আন্দোলন শুরু করেন। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। আন্দোলনের মূল দাবি হচ্ছে শিক্ষা ও চাকরি ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। সম্প্রতি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শত শত তরুণ অংশ নেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটি এবং ফলাফল নিয়ে বিতর্কের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের হতাশা ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো তরুণদের কেবল ভোটার হিসেবে দেখে, তাদের বাস্তব সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেয় না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সিজেপি সরাসরি মোদি সরকারের জন্য বড় কোনো নির্বাচনী হুমকি নয়। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তবুও আন্দোলনটির দ্রুত বিস্তার দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই ধরনের আন্দোলন ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘তেলাপোকা পার্টি’ হয়তো এখনো একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, কিন্তু এটি যে তরুণদের ক্ষোভ ও হতাশার নতুন ভাষা হয়ে উঠছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।