ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের পদত্যাগ এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান হামলা বন্ধের দাবিতে তেল আবিবের রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ বিক্ষোভকারী।
শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতভর চলা এই বিক্ষোভে জনতা সরকারের যুদ্ধনীতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চলতি বছরের শেষের দিকে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ইরান ও লেবানন ইস্যু এবং কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ৮৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ডেভিড আলকান বর্তমান সরকারকে একটি ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার জনগণকে প্রতিনিয়ত মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।
আলকান আরও উল্লেখ করেন, বহিরাগত শত্রু ইরানের চেয়েও তিনি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে দেশের জন্য বড় বিপদ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে কট্টর অর্থোডক্স গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিভিন্ন বিতর্কিত প্ল্যাকার্ড বহন করছেন। অনেক প্ল্যাকার্ডে ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘৭ অক্টোবর ভুলে যাও’-এর মতো স্লোগান দেখা যায়।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডাকনাম ‘বিবি’-র সঙ্গে কুখ্যাত কলম্বিয়ান ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের নাম জুড়ে দিয়ে তাকে ‘বিবি এসকোবার’ বলে ব্যঙ্গাত্মক সম্বোধন করতে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে চলমান বহুমুখী সংঘাত এবং দেশের ভেতরে বাধ্যতামূলক সামরিক সার্ভিস নিয়ে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নেতানিয়াহু প্রশাসনকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ এবং অন্যদিকে নিজ দেশের জনগণের এই ধারাবাহিক অসন্তোষ আসন্ন নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর এবার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য। দলের ভেতর থেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক মন্ত্রীরা তাকে সোমবারের (১১ মে) মধ্যে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নির্বাচনে হেনস্থা হওয়ায় পার্টির হেভিওয়েট পার্লামেন্ট সদস্যরা পদত্যাগ করলে স্টারমারের বিরুদ্ধে আনা হতে পারে অনাস্থা প্রস্তাবও। শনিবার (৯ মে) সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট রেডিও ফোরের সাক্ষাৎকারে এই আল্টিমেটামের কথা জানানোর পর ওয়েস্টমিনস্টারে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, সোমবারের মধ্যে স্টারমার দায়িত্ব না ছাড়লে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। যুক্তরাজ্যের কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের। ইংল্যান্ডের ১৩৬টি কাউন্সিলের প্রায় ৫ হাজার আসনের মধ্যে রিফর্ম একাই জিতেছে ১৪৫৩টি আসন। অন্যদিকে লেবার পেয়েছে মাত্র ১০৬৮টি। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসেও ক্ষমতাসীন লেবারকে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে নাইজেল ফারাজের দল। বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুসলিম ভোট ব্যাংক হারানো এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যু মিলিয়ে লেবারের এই হার হয়েছে। অনেক এমপি এমন ফল আশা করেননি। দলের পরিশ্রমী কাউন্সিলরদের হারিয়ে যাওয়ায় লেবার শিবিরে আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটা ভোটারদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তবে স্টারমারকে সরিয়ে দেওয়া সহজ নয়। লেবার পার্টির নিয়ম অনুসারে তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে হলে দলের ২০ শতাংশ এমপি, অর্থাৎ অন্তত ৮১ জনের সমর্থন লাগবে। ক্যাথরিন ওয়েস্ট এখন পর্যন্ত ১০ জনের বেশি এমপিকে নিজের পক্ষে আনতে পারেননি। স্টারমারের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, বাকি ৭০ জনের সমর্থন পাওয়া তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তবে আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম। তাকে অনেকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। বার্নহ্যামের সমর্থকরা চাইছেন, স্টারমার যেন পদত্যাগের একটা স্পষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেন। তবে জটিলতাও আছে। বার্নহ্যাম এখন পার্লামেন্ট সদস্য নন। তাকে প্রথমে উপ-নির্বাচনে জিতে এমপি হতে হবে, তারপর দলের নেতৃত্বের দৌড়ে নামতে পারবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এক-দুজন এমপির আপত্তিতে স্টারমারের পতন হবে না। কিন্তু যদি দলের হেভিওয়েটরা একে একে পদত্যাগ করতে শুরু করেন, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে স্টারমার এখনও আত্মবিশ্বাসী। আগামী সোমবার তিনি একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন, যেখানে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করবেন। আর বুধবার পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশনে আগামী বছরের কর্মসূচি তুলে ধরবে লেবার সরকার। পরিস্থিতি এখনও ঘোলাটে। আগামী কয়েকদিনেই দেখা যাবে, স্টারমার টিকে থাকতে পারেন নাকি লেবারের অভ্যন্তরীণ ঝড় তাকে ক্ষমতার বাইরে ঠেলে দেবে। সূত্র: বিবিসি
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিও চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার রাতে বান্নু শহরের উপকণ্ঠে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হলে ফাঁড়ির ছাদ ধসে পড়ে। সে সময় সেখানে থাকা ১৫ জন পুলিশ সদস্য হতাহত হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের পর জঙ্গিরা ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। পরে সহায়তায় আসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করেছে জঙ্গিরা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেয়। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামের একটি জঙ্গি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ হামলার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম ভাষণে নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি জোসেফ বিজয়। শনিবার চেন্নাইয়ে শপথ নেওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো রাজকীয় পরিবার বা রাজনৈতিক বংশ থেকে না আসলেও জনগণ আমাকে গ্রহণ করেছে। ৫১ বছর বয়সী বিজয় জানান, তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। তার নেতৃত্বে সত্যিকারের, ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ শুরু হবে বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারকে মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। ভাষণে বিজয় বলেন, আমাকে ছাড়া আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না। আমিই একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র। ‘মামা’ ও ‘থাম্বি’ নামে পরিচিত এই নেতা ইঙ্গিত দেন, তার সরকারের সব নীতির দায়ভার তিনিই নেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটসঙ্গীদের চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না— এমন বার্তাই দিতে চেয়েছেন বিজয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি রুপি। এর মধ্যে ২১৩ কোটি রুপি সঞ্চয়ী হিসাবে এবং প্রায় ১০০ কোটি রুপি বিভিন্ন ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে রয়েছে। স্বচ্ছতার স্বার্থে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কথাও বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন বিজয়। নতুন মন্ত্রিসভায় তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় রাখা হয়েছে। বিজয়ের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। শপথের পর সরকারি নথিতে তার প্রথম স্বাক্ষর ছিল গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে। মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ নেতা কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ান এবং তরুণ মুখ ডা. টি কে প্রভু ও এস কীর্তনা। এছাড়া আধব অর্জুনা, এন আনন্দ, আর নির্মল কুমার ও কে জি অরুণরাজও শপথ নিয়েছেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে শুরুতে সমর্থন দেওয়া রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস থেকে কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। সূত্র : এনডিটিভি