বিশ্ব

মেক্সিকোতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১০, আহত ৩২

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ 0

মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলের ভেরাক্রুজ রাজ্যে বাস দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ গতকাল (বৃহস্পতিবার) এ তথ্য জানিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বড়দিনের আগের দিন বাসটি মেক্সিকো সিটি থেকে চিকোন্টেপেক গ্রামে যাওয়ার পথে জোন্টেকোমাটলান শহরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। 

জোন্টেকোমাটলান মেয়রের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাস দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ মোট ১০ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেক্সিকোতে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় প্রায়শই বাস ও ট্রাকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত গতি কিংবা যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নভেম্বর মাসের শেষের দিকে, পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মিচোয়াকানে একই ধরণের দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করতে সিঙ্গাপুরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

পরিশোধিত জ্বালানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে দেশটি সফরে করছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।  সিঙ্গাপুর থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও জ্বালানির দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। অস্ট্রেলিয়া তাদের পরিশোধিত জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই সপ্তাহে দেশটির প্রায় ৩ শতাংশ পেট্রোল পাম্পে ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ সিঙ্গাপুরের নেতা লরেন্স ওং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে তিনি দেশটির প্রধান জ্বালানি ও রাসায়নিক শিল্প হাব জুরং দ্বীপ পরিদর্শন করবেন।  সিঙ্গাপুরের প্রধান তেল পরিশোধনাগারগুলোর ওই দ্বীপে অবস্থিত। দেশটি অস্ট্রেলিয়ার মোট পরিশোধিত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি সরবরাহ করে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া সিঙ্গাপুরের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী দেশ। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে পৌঁছে আলবানিজ বলেন, ‘পরস্পরের কাছে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করা উভয় দেশের স্বার্থেই জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের কঠিন সময়ে একে অপরের ওপর নির্ভর করতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ অস্ট্রেলিয়ার এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন অগ্রাধিকারের বিষয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ভালো সম্পর্ক বজায় রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন জানান, অস্ট্রেলিয়ার ২১৬টি পেট্রোল পাম্পে ডিজেল নেই, যা মোট স্টেশনের প্রায় ২.৭ শতাংশ। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশটিতে মাত্র ৩৯ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

হামলায় আহত ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খারাজি মারা গেছেন

ছবি : সংগৃহীত

মার্চে সমুদ্রের তাপমাত্রা ছিল রেকর্ডের কাছাকাছি: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা

ছবি : সংগৃহীত

অর্থনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার দূত: ক্রেমলিন

ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা : পোপ লিও’র সঙ্গে মাখোঁর বৈঠক

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ শুক্রবার ভ্যাটিকানে পৌঁছে পোপ পোপ চতুর্দশ লিও’র সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে ইরান যুদ্ধ। বৃহস্পতিবার রোমে পৌঁছানোর পর মাখোঁ তার স্ত্রী ব্রিজিত মাখোঁকে সঙ্গে নিয়ে এই সফরে অংশ নেন। তিনি পোপের পাশাপাশি ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়েত্রো পারোলিনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ভ্যাটিকান সিটি থেকে এএফপি জানায়, মাখোঁর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বৈঠকে মূলত ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সমাধান’ নিয়েই আলোচনা হবে। বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে লেবানন পরিস্থিতি, যেখানে ইসরাইলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পোপ চতুর্দশ লিও গত বছরের শেষ দিকে তার প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে লেবানন সফর করেন এবং সেখানে সংঘাতের শিকারদের জন্য বারবার প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে মাখোঁও লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি ক্যাথলিক সংগঠন সান্ট’এজিদিও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সংগঠনটি মধ্যপ্রাচ্য ও মানবিক ইস্যুতে ভ্যাটিকানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আন্দ্রেয়া রিকার্দি বলেন, ‘মাখোঁ একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ’ এবং তিনি লেবাননের কর্তৃপক্ষকে সমর্থন দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাখোঁ ও পোপ উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন। পোপ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন, আর মাখোঁ বলেছেন, ‘অনেক কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তা এলোমেলো।’ উভয়েই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। এর আগে মাখোঁর সঙ্গে পোপ ফ্রান্সিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি তিনবার পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে গর্ভপাতকে ফ্রান্সের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ‘সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু’ চালুর প্রস্তাব নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধও ছিল। মাখোঁ আশা করছেন, নতুন পোপকে শিগগিরই ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন। উল্লেখ্য, পোপ চতুর্দশ লিও আগামী তিন দিনের মধ্যে আলজেরিয়া সফরে যাচ্ছেন, যা হবে কোনো পোপের দেশটিতে প্রথম সফর।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং

ছবি : সংগৃহীত

এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি মেলানিয়া ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সীমা বেঁধে দিল ইরান

ইরানের রাজপথে নাগরিকরা। ছবি: সংগৃহীত
পাল্টাপাল্টি হুমকিতে টালমাটাল যুদ্ধবিরতি, বিশ্ব নজর এখন ইসলামাবাদে

যুদ্ধবিরতির পর পাল্টাপাল্টি হুমকি দিয়ে চলেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি না হলে আরও বড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন নেতারা। অস্ত্রের ট্রিগারে হাত এখনো রয়েছে—এমন হুমকি দিচ্ছে ইরানের নেতৃত্ব। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে কর্তৃত্ব ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে বাগযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। তেহরান ও পাকিস্তান শুরু থেকে বলে আসছে, লেবাননও যুদ্ধবিরতির অংশ। তবে তা মানতে নারাজ তেল আবিব ও ওয়াশিংটন। ইসরায়েল লেবাননের ইরানপন্থি হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে বড় বড় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা রীতিমতো ঝুঁকিতে ফেলেছে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে। হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো টেলিফোনে আলাপ করেছেন ইরান ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তারা যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন। যুদ্ধ, হামলা, হুমকির মধ্যে সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে বসছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। আজ শুক্রবার পাকিস্তানের এই রাজধানী শহরে তারা একত্রিত হচ্ছেন। এ বৈঠক ঘিরে বিশ্বের যুদ্ধবিরোধী শান্তিপ্রিয় মানুষের নজর এখন ইসলামাবাদে।   পাকিস্তানে বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগেই নিশ্চিত করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাবে।   ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এ কথা জানিয়েছে। সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে কিছু শর্ত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে। এই অঞ্চলে যে কোনো শান্তির ক্ষেত্রে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে উল্লেখ করে সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, ‘আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’   ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন, লেবাননও যুদ্ধবিরতির অংশ। ইরানও একই কথা বলছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, লেবানন যুদ্ধবিরতিতে যুক্ত নয়। আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে গিয়ে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালাবে ইসরায়েল। বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলা যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এর ফলে আলোচনাগুলো অর্থহীন হয়ে যাবে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান লেবাননের জনগণের সঙ্গেই থাকবে। এদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতির ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি মানতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় বুধবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে এই হুমকি দেন।   চুক্তি মানা বা না মানা প্রসঙ্গে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি কোনো কারণে তা না হয় (চুক্তি মানা না হয়)—তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম—তাহলে গোলাবর্ষণ শুরু হবে। আরও বড়, আরও ভয়াবহ এবং আরও শক্তিশালীভাবে তা হবে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’   ট্রাম্প এদিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ ও যুদ্ধবিমান ইরানের আশপাশে অবস্থান করবে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত। হুমকি পাল্টা হুমকির মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে একটি ইরানি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই আলোচনা ইরান প্রস্তাবিত ১০ দফার ভিত্তিতে হবে। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন দেশটির স্পিকার।   তবে দফাগুলো ঠিক কী কী, তা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। মোগাদ্দাম আরও বলেছেন, ইসরায়েলের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইরানি জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। সেই সংশয় থাকা সত্ত্বেও এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।   উপসাগরীয় উত্তেজনার মধ্যে সৌদি-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। অঞ্চলের নিরাপত্তা-স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও জবাব দেয়। এর অংশ হিসেবে তারা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালায়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইরান ও সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হলো।   বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে: হঠাৎ ঘোষিত দুদিনের সরকারি ছুটিতে নিস্তব্ধ ইসলামাবাদের রাজপথ। তবে কড়া নিরাপত্তার আড়ালে পর্দার অন্তরালে চলছে ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতা। পুরো বিশ্বের নজর এখন এ শহরের দিকেই। এখানেই সাপ্তাহিক ছুটিতে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সেই বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি বৈঠক, যা সফল হলে থামতে পারে হাজার হাজার মানুষের প্রাণঘাতী এক যুদ্ধ।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেই পাকিস্তান কিছু দিন আগেও উগ্রবাদ আর নড়বড়ে অর্থনীতির কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত ছিল, সে ইসলামাবাদই এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়। অথচ প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রতারণা’ ছাড়া কিছুই পায়নি। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনের অ্যাবোটাবাদে ধরা পড়ার ঘটনা দেশটিকে বিশ্বদরবারে প্রায় একঘরে করে দিয়েছিল। এমনকি জো বাইডেন তার পুরো মেয়াদে পাকিস্তানের কোনও প্রধানমন্ত্রীকেই ফোন করেননি।   কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সব ওলটপালট হয়ে গেছে। ট্রাম্প এখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তার ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে ডাকছেন। এই বিস্ময়কর পরিবর্তনের মূলে রয়েছে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদের ভান্ডার।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ থামানোর পেছনে ইসলামাবাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। পাকিস্তান তার জ্বালানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে রিয়াদ যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানেরও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফারওয়া আমের বলেন, ‘পাকিস্তান নিজেকে এমন এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখান থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখা সম্ভব হয়েছে।’   পাকিস্তানের এই সাফল্যে বেইজিংয়ের পরোক্ষ সমর্থন বড় ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইছহাক দারের বেইজিং সফর ইরানের নমনীয় হওয়ার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের সম্মতির সঙ্গে পাকিস্তানের তদবির মিলে যাওয়ায় ইরানিদের জন্য আলোচনার টেবিলে আসা সহজ হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পরস্পরবিরোধী দাবি, উত্তেজনা বৃদ্ধি

ছবি : সংগৃহীত

রুটির অভাবে গাজায় তীব্র খাদ্য সংকট

ছবি : সংগৃহীত

নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি কারামুক্ত

0 Comments