ভারতের উত্তর সীমান্তের দিকে মুখ করে পঞ্চম প্রজন্মের ভয়াবহ ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ (J-20 Mighty Dragon) যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। স্যাটেলাইট ইমেজিং সংস্থা ‘ভ্যান্টর’ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে দুটি প্রধান চীনা বিমানঘাঁটিতে কমপক্ষে ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে আকাশে চীনের এই শক্তিশালী চ্যালেঞ্জের বিপরীতে নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক জবাব বা নিজস্ব স্টিলথ ফাইটার পেতে ভারতকে এখনো বহু বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৯ জুলাই শিনজিয়াং প্রদেশের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল উইঘুরে অবস্থিত ‘হোতান’ বিমানঘাঁটির রানওয়েতে এক সারিতে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান পার্ক করা রয়েছে। এই ঘাঁটির অবস্থান লাদাখের লেহ শহর থেকে মাত্র ৩৮৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ও উত্তর লাদাখে অবস্থিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম কৌশলগত ঘাঁটি ‘দৌলত বেগ ওল্ডি’ থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে এখন পর্যন্ত কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখতে পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এই স্যাটেলাইট তথ্য ও প্রতিরক্ষামূলক উদ্বেগের বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত দ্বিতীয় উপগ্রহ চিত্রটিতে তিব্বতের লহাসা প্রিফেকচারের অধীনস্থ ‘দামশুং’ বিমানঘাঁটির ফ্লাইটলাইনে আরও চারটি জে-২০ স্টিলথ ফাইটার পার্ক করা অবস্থায় দেখা গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং অঞ্চল থেকে উত্তর-পশ্চিমে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সাবেক ফাইটার পাইলট এবং ভারতের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘নিউস্পেস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সমীর জোশী বলেন, হোতানে সাতটি ও দামশুংয়ে চারটি জে-২০-এর উপস্থিতি এটিই নিশ্চিত করে যে, ভারতের মুখোমুখি উচ্চতর বিমানঘাঁটিগুলো থেকে পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ বিমানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা এখন চীনা বিমানবাহিনীর জন্য রুটিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কোনো সাময়িক সিগন্যালিং বা প্রদর্শন নয়। ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য উত্তর সীমান্তে এই ধরণের অদৃশ্য বা কম-শনাক্তযোগ্য হুমকি এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্ট্যান্ডঅফ স্ট্রাইক ক্ষমতার জরুরি আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
জে-২০ এর প্রযুক্তিগত সুবিধা ও ভারতের এএমসিএ সংকট
জে-২০ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর আধুনিক স্টিলথ বৈশিষ্ট্য, যা শত্রুর চোখ এড়িয়ে নিখুঁত আক্রমণ চালাতে ও আকাশে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম। উন্নত স্টিলথ কাঠামোর কারণে সাধারণ রাডারে এই বিমানের উপস্থিতি ধরা অত্যন্ত কঠিন। ফলে ফ্রান্স থেকে কেনা ‘রাফায়েল’-এর মতো ভারতের চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত কিন্তু নন-স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলোর ওপর এই বিমানটি বিশাল প্রযুক্তিগত সুবিধা ধরে রাখে। বর্তমানে ভারতের হাতে কোনো নিজস্ব স্টিলথ যুদ্ধবিমান নেই। দেশটির সম্পূর্ণ স্বদেশী প্রথম স্টিলথ বিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে ব্যাপক ফ্লাইট-টেস্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে মূল প্রযুক্তিগুলোর সফল যাচাইকরণ সত্ত্বেও, এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক বা ১০ বছরের বেশি সময় লাগবে।
চীনের অবিশ্বাস্য উৎপাদন ক্ষমতা
‘দ্য ওয়ার জোন’-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চীনা জে-২০ বহরের দ্রুত বৃদ্ধির বিস্তারিত চিত্র সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে যেখানে চীনের হাতে আনুমানিক ৫০টি জে-২০ ছিল, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০০টিতে। পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০টিতে, যার ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক ডজনেরও বেশি পিএলএএএফ ইউনিটে এই বিমানের সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-তে পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যের ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’ ধারণা করছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন প্রায় ১ হাজারটি জে-২০ আকাশে উড়াতে সক্ষম হবে।
গত বছর মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত ৮৮ ঘণ্টার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর উপ-প্রধান পদে কর্মরত অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, প্রতি বছর ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা প্রদর্শন প্রমাণ করে যে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা কতটা উন্নত। তারা প্রায় বাণিজ্যিক বিমানের মতো যুদ্ধবিমান তৈরি করছে, যা কেবল তখনই সম্ভব যখন সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণ নিখুঁত হয় ও উচ্চমানের মানবসম্পদ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে।
উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চীনের জে-২০ বিমান মোতায়েনের তথ্য কভার করে আসছে। ২০১৬ সালে তিব্বতের চরম উচ্চতায় অবস্থিত দাওচেং ইয়াডিং বিমানবন্দরে প্রথমবার জে-২০ দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের মে-তে সিকিম সীমান্ত থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে শিগাতসে বিমানঘাঁটিতেও চীনা জে-২০ অবতরণ করতে দেখা গিয়েছিল।
ভারতের বর্তমান স্কোয়াড্রন সক্ষমতা
ভারতের কাছে বর্তমানে মাত্র ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা হরিয়ানার আম্বালা ও পশ্চিমবঙ্গের হাশিমারা বিমানঘাঁটিতে দুটি স্কোয়াড্রনে বিভক্ত। এছাড়া ভারত ৭৫০ কোটি ডলারের চুক্তিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আরও ২৬টি রাফায়েল অর্ডার করেছে ও বিমানবাহিনীর জন্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অতিরিক্ত ১১৪টি রাফায়েল কেনার বিষয়ে দ্যাসোঁ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারতীয় বিমানবাহিনী ২৬০টিরও বেশি রাশিয়ান ডিজাইনের সুখোই-৩০ এমকেআই ফাইটার পরিচালনা করছে, যা বড় ধরনের আধুনিকীকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। এর পাশাপাশি মিরাজ ২০০০ ও মিগ-২৯ এর মতো কিছু পুরনো মডেলের যুদ্ধবিমানও বহরে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসী আটকা পড়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। মরক্কো থেকে ব্যাপক অভিবাসন প্রবাহের দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পরও তাদের আশ্রয় ও আইনি অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সেউতা ও মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। মরক্কোর মাধ্যমে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এগুলো ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২৯ ও ৩০ জুলাইয়ের ব্যাপক প্রবেশের সময় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ সাময়িকভাবে সেউতায় ঢুকে পড়েছিলেন। পরে তাদের বেশির ভাগই স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যান। স্পেন ও মরক্কোর তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ফ্রান্স২৪ জানিয়েছে, এখন যারা সেউতায় রয়ে গেছেন, তাদের মধ্যে ইরাকি, সিরীয়, ইয়েমেনি, ফিলিস্তিনি, মিসরীয়, আলজেরীয়, তিউনিসীয়, মরক্কান, সুদানি, নাইজেরীয়, সেনেগালিজ, বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। অনেক অভিবাসী সেউতার এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করেছেন। খড়, কাপড় ও হাতের কাছে পাওয়া বিভিন্ন জিনিস দিয়ে বানানো এসব আশ্রয়ে রাত কাটাচ্ছেন তারা। খাবার ও পানির সংকটের পাশাপাশি মানবেতর পরিবেশে দিন কাটছে তাদের। কেউ সমুদ্রের পানিতে কাপড় ধুচ্ছেন, কেউ কার্ডবোর্ডের ওপর ঘুমাচ্ছেন। আটকে পড়াদের একজন ইরাকের মসুলের তরুণ আবদুলরহমান। কয়েক বছর মরক্কোয় থাকার পর তিনি সেউতায় পৌঁছান। এখন তার আশা, স্পেনে নিজের অবস্থান বৈধ করে সুইডেনে যেতে পারবেন, যেখানে তার এক আত্মীয় থাকেন। সিরিয়ার এক নাগরিক মোহাম্মদও সেউতায় আটকে আছেন। তিনি জানান, মরক্কো থেকে একটি সিরীয় পরিবারের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করেন। পরে কয়েকজন সিরীয়কে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হলেও তিনি থেকে যান। তার সন্তান এখনো মরক্কোতে রয়েছে। ইয়েমেনের আবদুলমাজিদ মূল প্রবেশের এক দিন আগে প্রায় আট কিলোমিটার সাঁতরে সেউতায় পৌঁছান। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছেন তিনি। ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্পেন তার আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন তিনি। মিসরীয় দুই অভিবাসী তারেক ও রমাদান জানান, তারা লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও মরক্কো হয়ে সেউতায় পৌঁছেছেন। লিবিয়ায় যাত্রাপথে সহিংসতা ও গোলাগুলির মুখেও পড়তে হয়েছে বলে জানান তারা। সুদানের এক নাগরিক মুজাম্মিল জানান, ৩০ জুলাই সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছানোর পর প্রথম তিন দিন তার কাছে খাবার ও পানি ছিল না। নাইজেরিয়ার কামারাও এখন ত্রাণ ও মানুষের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। তবে আটকে থাকা সবার আইনি পরিণতি এক হবে না। স্পেন প্রত্যেকের আশ্রয়ের আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করবে। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়ের আবেদন করলে সেটির সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে। তবে আবেদন করলেই আশ্রয় পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এদিকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর কারণে সেউতার আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা আশ্রয় ও অভ্যর্থনা ব্যবস্থা আরও সংকটে পড়েছে। আশ্রয়ের আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিতে পুলিশের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়াতেও অনেকে সমস্যায় পড়ছেন। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, গত ১৫ দিনে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ অভিবাসী চিকিৎসা নিয়েছেন। জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়ার চাপ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এখনো ২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। রোববার সেউতায় শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। তারা আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ এবং মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেউতায় আরও ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে স্পেন। এতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, নতুন করে বড় আকারের সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে মরক্কোও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সূত্র: শাফাক নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তোলা একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করেছেন। ছবিতে দুজনের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ নয় এমন চেহারা’ নিয়ে রসিকতা করলেও কিমের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো বলে আবারও দাবি করেছেন ট্রাম্প। রোববার (১৬ আগস্ট) বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘এই নির্দিষ্ট ছবিতে আমাদের চেহারা বন্ধুত্বপূর্ণ না হলেও এমন আরও অনেক ছবি আছে, যেখানে আমরা হাসছি। কিম জং উন এবং আমার সম্পর্ক দারুণ!’ কোরীয় উপদ্বীপে জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের ৮১তম বার্ষিকী ও উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়ার সমালোচনা করে পিয়ংইয়ং বলেছে, এ ধরনের মহড়া কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়াবে। উলচি ফ্রিডম শিল্ড নামে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ১৭ আগস্ট শুরু হয়ে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। মহড়ায় ড্রোন হামলা মোকাবিলা, জিপিএস ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সাইবার হামলা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ থাকবে। উত্তর কোরিয়ার পরিবর্তিত সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এসব প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার নিয়মিত সমালোচনা করে আসছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং এসব মহড়াকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা ধীরে ধীরে ‘পারমাণবিক জোটে’ পরিণত হচ্ছে। মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা একটি পারমাণবিক জোটে পরিণত হচ্ছে। নতুন মাত্রার হুমকির জবাব উত্তর কোরিয়া নতুন মাত্রার প্রতিরোধ সক্ষমতার মাধ্যমে দেবে। মুখপাত্র আরও বলেন, আসন্ন সামরিক মহড়া গত পাঁচ বছরে অনুষ্ঠিত মহড়াগুলোর তুলনায় ভিন্ন। আধুনিক যুদ্ধের নতুন দিকগুলোর ভিত্তিতে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের নীতি হলো, নতুন মাত্রার হুমকির জবাব নতুন মাত্রার প্রতিরোধ সক্ষমতার মাধ্যমে দেওয়া। এদিকে গত ১২ আগস্ট উত্তর কোরিয়া সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল দেশটির দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ। সূত্র : এএনআই
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ভবিষ্যতে আরও দেশকে এই জোটে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, গত শুক্রবার মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরের কোনো পক্ষ হামলা চালালে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এরদোয়ানের মতে, এই চুক্তি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিয়েছে। চুক্তিতে মিসরের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আরও দেশকে এতে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেকটা ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলেছেন, এটিকে ন্যাটোর সমতুল্য জোট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে এই চুক্তি করা হয়নি বলেও জানিয়েছে ইসলামাবাদ। সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া তুরস্কের অগ্রাধিকার। দীর্ঘ সময় প্রণালিটি বন্ধ থাকলে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় কাতারের ভূমিকাও প্রশংসা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও তুরস্কের অবস্থান তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে তুরস্ক একা ছেড়ে দেবে না। সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে আঙ্কারা কাজ করবে। সিরিয়ার কুর্দিরাও শান্তি ও স্থিতিশীলতার অংশীদার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গাজা প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক গাজাকে একা ছেড়ে দিতে পারে না। সেখানকার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে আঙ্কারা। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সুদান ও লিবিয়ার প্রতিও তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান এরদোয়ান। ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের সদস্যপদ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। এরদোয়ানের মতে, ইইউ এখন তুরস্ককে সদস্য হিসেবে নিতে আগ্রহী নয়। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া এখন আর আঙ্কারার প্রধান অগ্রাধিকার নয় বলে জানান তিনি। তুরস্ককে দূরে রাখার কারণে শেষ পর্যন্ত ইউরোপই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন এরদোয়ান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আবার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার বিষয়েও আশাবাদী এরদোয়ান। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে আঙ্কারা। তবে তুরস্কের রুশ এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি জটিল হয়ে আছে। ২০১৯ সালে এস-৪০০ কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। ফলে এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরে আসা এবং নতুন করে যুদ্ধবিমান পাওয়ার পথে এখনো মার্কিন কংগ্রেস ও আইনি বাধা রয়েছে।