সারাদেশ

ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল রামিসার আর বন্ধুদের দেওয়া হলো না চকলেট

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় শ্রেণির ফার্স্ট গার্ল রামিসা আক্তার ক্লাসের পরীক্ষায় আবারও প্রথম হয়েছিল। বন্ধুদের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে স্কুলে তার চকলেট ও মিষ্টি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আর পরিকল্পনা ছিল সহপাঠীদের সঙ্গে খেলবে। কিন্তু স্কুলে আর ফেরা হয়নি তার। এর আগেই পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে তাকে।

 

রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনায় সবসময় ভালো ফল করতো। শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছে পরিচিত ছিল শান্ত ও মেধাবী শিশু হিসেবে।

 

রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার (২০ মে) স্কুল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ‘পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী রামিসা হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীর জনসম্মুখে ফাঁসি চাই’- এমন ব্যানার নিয়ে তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে রামিসার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

 

মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে লেখা ছিল ‘খুনি সোহেল রানা ও স্বপ্না বেগমের ফাঁসি চাই’, ‘রামিসা আক্তার, শ্রেণি: দ্বিতীয়, রোল: ০১’, ‘রামিসা হত্যার বিচার চাই’সহ আরও অন্যান্য দাবি।

 

এসময় স্কুল প্রাঙ্গণ ভারি হয়ে ওঠে শোক ও ক্ষোভে। সহপাঠীর নির্মম হত্যাকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। শিক্ষকরা বলেন, একটি মেধাবী ও প্রাণবন্ত শিশুকে এভাবে হারানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয় হয়েছে সে। তার পুরস্কারগুলো এখনো আমাদের এখানে রয়েছে। খুবই মেধাবী ও ভদ্র একটা মেয়ে ছিল। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’

 

রামিসার সহপাঠীদের কণ্ঠে ছিল শোক আর অপূর্ণ অপেক্ষার কথা। এক সহপাঠী বলে, ‘পরীক্ষার রেজাল্টের দিন ও খুব খুশি ছিল। বলছিল, কালকে মিষ্টি আর চকলেট নিয়ে আসবে। আমরা সবাই মিলে খাবো, খেলবো, অনেক মজা করবো।’

 

আরেকজন বলে, ‘ও আমার সঙ্গে বসতো, খেলতো। খুব ভালো ছিল। ও আমাদের ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করতো। বলছিল চকলেট-মিষ্টি নিয়ে আসবে, কিন্তু ও আর আসেনি।’

 

কাঁদতে কাঁদতে আরেক সহপাঠী বলে, ‘ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। এখন আমার পাশে নেই। খুব মন খারাপ লাগে।’

 

রামিসা পল্লবীতে বাবা, মা ও বড় বোনের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। গত ১৯ মে সকালে একই ভবনের আরেকটি ফ্লাটে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ভবনের ভাড়াটিয়া মো. সোহেল রানা। বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, ঘটনার পর আসামি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

 

একই ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় তদন্তাধীন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতেই চাঁদপুরের আড়তে ইলিশের ছড়াছড়ি

নিরাপদ ইলিশ প্রজননের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকারে নেমেছেন হাজার হাজার জেলে। ইলিশ পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার নৌ এলাকায় বিচরণ করছেন জেলেরা। কিছু জেলে আড়তে নিয়ে আসছেন ইলিশ, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।   এতে সরগরম হয়ে উঠেছে নদী উপকূলীয় আড়ত ও শহরের সব বাজার।   তিন সপ্তাহ অবসর সময় কাটিয়ে ব্যবসায়ী, শ্রমিক সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তবে ইলিশের দাম কমেনি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বড় সাইজের ইলিশ।   শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে অবস্থান করে দেখা গেছে জেলেদের ইলিশ আহরণ ও কেনাবেচার চিত্র।   বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে অনেক জেলে ইলিশ ধরার জন্য পদ্মা-মেঘনায় নেমেছেন। ওই সব জেলে ভোরের আলো দেখা দিতেই ভিড়েছেন মাছঘাটে। হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড়ছে। জেলেরা প্লাস্টিকের ট্রেতে করে নিয়ে আসছেন ইলিশসহ অন্যান্য জাতের মাছ।   এই মাছঘাটে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ২০টি ইলিশের আড়ত। জেলেরা এসব আড়তে এনে মাছের স্তূপ করছেন এবং কিছু সময়ের মধ্যে হাঁকডাকে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটে সংরক্ষণ করে ইলিশ বিক্রি করা হয় খুবই কম। শহরে বিক্রির জন্য এক ধরনের খুচরা ব্যবসায়ী এবং বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রি করার জন্য আরেক ধরনের ব্যবসায়ী এই ঘাট থেকে তাজা ইলিশ ক্রয় করে নিয়ে যান।   ঘাটের পাশের গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার বলেন, রাতে নদীতে নেমে ভোরে ঘাটে এসে ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। যদি এভাবে ইলিশ পাওয়া যায়, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যে তাদের ঋণ পরিশোধ হবে। তিনি প্রত্যাশা করছেন আরও ইলিশ পাবেন।   আরেক জেলে আবুল কালাম খান বলেন, তারা ৭ জন মিলে মধ্যরাতে নদীতে নেমেছেন। তাদের পাওয়া ইলিশ বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টাকায়। কিছু সময় পর আবারও নামবেন ইলিশ শিকারে। কয়েক দিন পরে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসবে বলে জানালেন তিনি।   ঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইলিশের দাম কমবে না। কারণ চাহিদা বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ছোট সাইজের অর্থাৎ ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, কিছু জেলে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ মাছ পাচ্ছেন। এর মধ্যে বড় সাইজের পাঙাশ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা এবং ছোট সাইজের পাঙাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের আমদানি ভালো থাকলে দাম কমবেশি হতে পারে।   আরেক আড়তদার মো. সেলিম বলেন, সকাল থেকে মাছ আসা শুরু হয়েছে। আজ এবং আগামীকাল পর্যন্ত বোঝা যাবে ইলিশের আমদানি কেমন। কারণ বিগত বছরগুলোতে দুই দিন পরে ইলিশের আমদানি কমে গেছে।   এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরে বড় সাইজের ইলিশ বেশি আসছে। ছোট সাইজের ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। ইলিশ পরিমাণে কম পাওয়া গেলেও পাঙাশ মাছ পাওয়ায় জেলেরা লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।   হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এই সময় নদীতে ইলিশ ভরপুর থাকত; কিন্তু অভিযান দিয়ে লাভ হয়নি। কারণ এক শ্রেণির জেলে মা ইলিশ মেরেছে। প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারেনি।   শুক্রবার শহরের বিভিন্ন বাজারে ব্যাপক ইলিশের আমদানি দেখা যায়। তবে বেশ কিছু মাছ নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধরা ইলিশ হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিকালের বাজার হিসেবে পরিচিত শহরের বিপণীবাগ বাজারে এমন চিত্রই দেখা যায়।   চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় দুটি অভিযান কঠোর থাকায় জেলেরা সুফল পাচ্ছেন। তারা ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ পাচ্ছেন। সরকারিভাবে পাঙাশ বেড়ে ওঠার জন্য প্রকল্প দেওয়া হলে এটি ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যু: উদ্ধারকৃত বাইক ও ছোট ভাই ঘিরে ধোঁয়াশা

ছবি: সংগৃহীত

রেলওয়ের বহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০ নতুন কোচ, চালু হবে নতুন ট্রেন

সেবা ও রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আনতে আসছে গ্রাম সরকার

ভোলায় শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী কবি গানের আসর

ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ বাপ্তা রতন মাহাজন বাড়ির আঙিনায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ২৫৯তম তিন দিনব্যাপী কবি গানের আসর।   বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পাল্টাপাল্টি যুক্তি, তর্ক আর গানে-গানে দুই কবিয়ালের লড়াইয়ে মধ্যে দিয়ে কবিগান শুরু হয়। গানের আসর হারমনিয়াম, গানের আসর হারমনিয়াম, ঢোল, বাঁশি, কাশা ও বেহালাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত-শত দর্শক শ্রোতা এ গান উপভোগ করেন।   রতন মাহাজন বাড়ির লেকজন মহাজনের বাড়ির উঠোনে ৩ দিনব্যাপী এ গানের আসরে আয়োজন করেন। শেষ হবে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর)।   এবারের আসরে পালা গান পরিবেশন করছেন পিরোজপুর নাজিরপুর এর কবিয়াল রতন সরকার ও গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া গ্রামের নরত্তম সরকার।   এক সময়ের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কবি, জারি, সারি আর পালাগানের মাঝে বাঙালি তার প্রাণের আনন্দ খুঁজে পেত। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রায় বিলুপ্তির পথে এ সব জনপ্রিয় গান। তাই বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ভোলায় আজও আয়োজন করা হচ্ছে কবিগানের আসর।   আর এমন লোকজ উৎসবে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধসহ প্রায় হাজারোধিক শ্রোতা-দর্শক। আগামী শনিবার শেষ দিন লোকসমাগম আরো বাড়বে বলে আয়োজকরা জানান।   এ গানের আসরকে কেন্দ্র করে খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি, বসে গ্রামীণ মেলা। আড়াইশর বছরের বেশি সময় ধরে লক্ষীপূজার পর স্থানীয় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে এ কবিগানের আয়োজন করেন। তাদের আয়োজন করা কবিগানের মাধ্যমে বাঙালির লোক সাংস্কৃতি বিকাশ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজক কপিল দে।   কবি গান বাংলা লোক সংগীতে বিশেষ একধারা। যেখানে মুখে মুখে পদ রচনা করে তাৎক্ষণিক সুর রচনা করে করে প্রতিযোগিতা হয়৷ আর কবিগান পরিবেশন কারিদের বলা হয় কবিয়াল।   একটা সময় গ্রাম বাংলায় নিয়মিত বসতো কবি গানের আসর। কিন্তু কালের বির্বতনে এখন বিরল। তবে ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ বাপ্তা রতন মাহাজন বাড়ির আঙিনায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ২৫৯তম তিন দিনব্যাপী কবি গানের আসর সেই পুরানো ঐতিহ্যকে লালন করে আসছে। কবি গানের পাশাপাশি থাকে ছোট পরিসরে মেলাসহ নানা আয়োজন।   বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতা এবছর কবি গানের আসর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় এবছরের আসর। কবি গানকে গিরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মাঝে উৎসবের আমেজ।   মাহাজনবাড়ির কবি গানের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম অপু জানান, প্রতি বছর মাহাজন বাড়ির কবি গানের আসরে আমাদের বাড়ির যত আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে দূর দুরান্ত থেকে অনেকেই কবি গানের আসরে ছুটে আসেন। এমনকি আমাদের আশে পাশের হিন্দু মুসলিম সবাই শুনেতে আসেন কবি গান। এটা যেমন মাহাজন বাড়ির ঐতিহ্য তেমনি করে গ্রামীণ সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহক। আমরা আশা করি সরকার গ্রামীণ এই সাংস্কৃতিক ধরে রাখার জন্য এগিয়ে আসবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ৩০, ২০২৬

দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বহিষ্কার

টহল গাড়ির সামনে যুবলীগের মিছিল: সিরাজগঞ্জে চার পুলিশকে ক্লোজড

ছবি: সংগৃহীত

চলন্ত ট্রেন থেকে ছুরিকাঘাতের পর যুবককে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্র দখল বা জালিয়াতি ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি ও সংঘর্ষের অভিযোগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।     আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।     রুহুল কবির রিজভী বলেন, সকাল থেকেই চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে।       তিনি বলেন, সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি আশাবাদী।     এসময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে অভিযোগ তৈরি না করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহে ঘুস নিতে গিয়ে দুদকের হাতে ধরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে রায়হান হত্যা মামলার রায়: সাবেক এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় ৫২৯টি বিশেষ অভিযান, ২৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ও ২১৩ কিশোর-কিশোরী আটক

0 Comments