সারাদেশ

আর্জেন্টিনা ভক্তদের সঙ্গে মিলেমিশে ব্রাজিলের ৪০০ ফুট পতাকা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের এখনও বাকি প্রায় তিন সপ্তাহ। তবে ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের হাওয়া। চলছে উন্মাদনা। সমর্থকরা জানান দিতে শুরু করেছে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।

 

কাজেই দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। তাই আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপকে ঘিরে নওগাঁতেও শুরু হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। তবে এবার শত্রুতা নয়, বরং এক অনন্য সম্প্রীতির চিত্র দেখা গেল জেলার পোরশা উপজেলায়।

 

সেখানকার কাচারী পাড়া গ্রামের ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ প্রিয় দল ব্রাজিলের সমর্থনে টানিয়েছে ৪০০ ফুট দীর্ঘ একটি পতাকা। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো পতাকাটি তৈরিতে ব্রাজিলের পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। আমাদের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই যেখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কথার লড়াই আর উত্তেজনা, সেখানে কাচারী পাড়া গ্রামের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই পতাকা নির্মাণ ও টাঙানোর পেছনে অবদান রেখেছেন আল আমিন, নাকিব, শামীমের মতো কট্টর ব্রাজিল ভক্তরা; আবার সমান তালে সহযোগিতা করেছেন মঞ্জিল ও মাসরুলের মতো কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও। উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সবার সামনে ও সম্মানের স্থানে রেখে তার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ব্রাজিলের পতাকাটি। উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের কাচারী পাড়া গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকার ছোট-বড় সবাই মিলে নিজেদের পকেট থেকে চাঁদা তুলে সাড়ে আট হাজার টাকা ফান্ড তৈরি করেন। সেই অর্থ দিয়েই তৈরি করা হয় ৪০০ ফুটের বিশাল এই ব্রাজিলিয়ান পতাকা।

 

এলাকার আমিনুল ইসলাম বাচ্চু মাস্টারের বাড়ি থেকে শুরু করে রাশেদা মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত পুরো এলাকা এখন এই পতাকা শোভা পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রিয় তারকা ও স্ট্রাইকার নেইমার জুনিয়র দলে থাকায় স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এখন আকাশচুম্বী।

 

আর্জেন্টিনার সমর্থকরা বলেন- এখানে আমরা যারা কাজ করেছি, সবাই শুধু ব্রাজিলের সমর্থক নই। আমাদের মধ্যে আর্জেন্টিনার সমর্থকও আছেন। বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ। আমরা সবাই মিলেমিশে একসাথে খেলা উপভোগ করতে চাই এবং এই আনন্দঘন মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই সকলে মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছি।

 

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের প্রচলিত নিয়ম মেনে এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সমুন্নত ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে যদি কেউ নিজ পছন্দের দলের পতাকা টাঙায়, তাতে কোনো আইনি বাধা নেই।

 

আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধের জায়গা থেকে ফুটবলকে ঘিরে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে তিনি স্বাগত জানান। তবে একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে ইউএনও বলেন, সমর্থকদের প্রিয় দল নিয়ে কোনো ধরনের হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগেই নওগাঁর পোরশার এই সম্প্রীতির বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। ফুটবল যে কেবল বিভেদ নয়, বরং মিলনমেলাও তৈরি করতে পারে তা-ই প্রমাণ করল কাচারী পাড়ার যুবসমাজ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
বাবার ঋণ পরিশোধে ২৮ বছর পর পাওনাদারকে খুঁজছেন সন্তান

১৯৯৮ সালে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিরোজপুরের আবদুল খালেক শিকদার। সেই ঋণ শোধ করে যেতে পারেননি তিনি। মারা গেছেন ২০১১ সালে। ২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারকে খুঁজছেন খালেক শিকদারের জ্যেষ্ঠ সন্তান কাঞ্চন শিকদার। তবে খোঁজ মিলছে না পাওনাদারের।   ‘বঙ্গভিটা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এমন একটি পোস্ট করা হয় ১৪ সেপ্টেম্বর। পোস্টের সূত্র ধরে প্রথম আলো যোগাযোগ করে কাঞ্চন শিকদারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, মৃত্যুর আগে ঋণের কথা তাঁকে বলে যান বাবা খালেক শিকদার। তবে সে সময় তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল না থাকায় ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিতে পারেননি। এখন সেই ঋণ শোধ করতে চান তিনি।   কাঞ্চন শিকদারের বয়স এখন ৪৫ বছর। তিনি পিরোজপুর সদরে খামারে গরু লালন–পালন করেন। এলাকায় মাছের ব্যবসাও রয়েছে তাঁর। একসময় তাঁর বাবা পিরোজপুর থেকে কাঁচা–পাকা ফল এনে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের আড়তে বিক্রি করতেন। সেখানকার একজন আড়তদার ছিলেন রণজিত ঘোষ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘প্রদীপ ভান্ডার’।   নব্বইয়ের দশকে যখন খালেক শিকদার প্রথম ঢাকায় ব্যবসা করতে আসেন, তখনই রণজিত ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সে সময়েই রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন তিনি। কথা ছিল ব্যবসা করে সেই টাকা শোধ করবেন। তবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করেও টাকা শোধ করতে পারেননি। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রামে ফিরে যান। ২০১১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।   খালেক শিকদার যখন ব্যবসা করতেন, সে সময় পিরোজপুর থেকে লঞ্চে করে মালামাল কাঞ্চনই ঢাকায় আনতেন। সেই সূত্রে রণজিত ঘোষের সেই সময়কার বাসস্থান শাঁখারীবাজারে কয়েকবার গিয়েছেন তিনি।   ২৮ বছর আগের সেই স্মৃতিকে সম্বল করে পাওনাদারের খোঁজে মাস তিনেক আগে ঢাকায় এসেছিলেন কাঞ্চন শিকদার। তবে খোঁজ পাননি। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘৯৮ সালে যে বাসাবাড়ি দ্যাখছি, বর্তমানের লগে তো হ্যার কোনো মিল নাই। হ্যার বাসার এক পাশে মন্দির, এক পাশে মসজিদ ছেলো। মসজিদ–মন্দির ওই জায়গায় আছে কিন্তু হেই বাসা নাই। হেইখানে ওহন বড় বড় বাসাবাড়ি।’   কাঞ্চন শিকদারের কাছে সেই সময়কার একটি রসিদ রয়েছে। যেখানে ঠিকানা লেখা ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’। রণজিত ঘোষের আড়তের খোঁজে গত বুধবার সরেজমিনে যাই পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে। তবে প্রদীপ ভান্ডার নামে কোনো আড়তের খোঁজ পাওয়া যায়নি।   ওই এলাকার বেশ পুরোনো একজন ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একসময় রণজিত ঘোষ সেখানে ব্যবসা করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে গেছেন। বর্তমানে তাঁরা কোথায় থাকেন, সেই খোঁজ তাঁর কাছে নেই।   সদরঘাট থেকে পাটুয়াটুলী হয়ে ইসলামপুরের দিকে এগিয়ে বুড়িগঙ্গার পাড়ে এসে যেখানে সড়ক শেষ হয়েছে, সেটিই ওয়াইজঘাট। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ঢাকার পুরোনো বাণিজ্যিক এই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বর্তমান ওয়াইজঘাট। ১৮৪০ সালে প্রকাশিত জেমস টেইলরের ‘আ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’ বইয়ে তৎকালীন ঢাকার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বুড়িগঙ্গার ঘাটগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বর্ণনা পাওয়া যায়। নদীপথে পণ্য ও মানুষের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে দোকান, গুদাম ও ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। নদীর দিকে যাওয়া সড়কগুলোর শেষ প্রান্তে এসব ঘাট ছিল পণ্য পরিবহন ও বেচাকেনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। টেইলরের বর্ণনায় ঢাকার ব্যবসায়ীরা নদীর ঘাটমুখী সড়কগুলোতেও দোকান ও গুদাম স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই ঘাটই ওয়াইজঘাট নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।   উনিশ শতকে ঢাকায় ওয়াইজ পদবির তিনজন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন—একজন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ, একজন সিভিল সার্জন এবং অন্যজন নীলকর। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নীলকর ওয়াইজের নামেই বুড়িগঙ্গার তীরের এই ঘাটের নামকরণ করা হয়।   ২৮ বছর আগে নেওয়া এই ঋণকে বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত দায় হিসেবে দেখেন কাঞ্চন শিকদার। বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজে যাচ্ছেন পাওনাদারকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় আমরা অভাবগ্রস্ত ছিলাম। দেনা শোধ করতে পারি নাই। অহন আল্লায় সুযোগ দিছে। বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত

আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা

সংগৃহীত ছবি

ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক সেই ওসি, পরে মিলল মুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সাত জায়গায় বোমাবাজি, বাসে আগুন

শিশু কলি ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁর বহুতল ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়।   শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কুলোনিয়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির দিকে যান। একপর্যায়ে তাঁরা ভবনটির বিভিন্ন অংশে হামলা ও ভাঙচুর চালান।   ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, কলির মতো একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।   ভাঙচুরের খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ ছিল। তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’   পুলিশ জানিয়েছে, শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।   এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাঁদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তাঁরা অংশ নেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তিন এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সৈকতের ভাঙন কেন তীব্র হচ্ছে, এ কিসের ইঙ্গিত

ছবি: সংগৃহীত

স্বস্তিদায়ক সেবা, তবু পিংক বাসে যাত্রী সংকট

রমনা পার্কের পাশে ফুটপাত থেকে মর‌দেহ উদ্ধার

রামনা পার্কের পাশে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত পুরুষ (৬৫) এক (ভবঘুরে) ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর হাসান বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টায় দিকে এনএসআই হেড কোয়াটার্স-এর বিপরীতে রমনা পার্কের পাশে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত পুরুষ (৬৫) (ভবঘুরে) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।   তিনি বলেন, লোকটির শরীরে কোমরের নিচের অংশে পচন ধরা। ধারনা করা হচ্ছে, হযতো অনেক দিন ধরে অসুস্থ থেকে মারা গেছে। পরে তার মর‌দেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ম‌র্গে পাঠানো হয়েছে।    তিনি বলেন, মৃতের পরিচয় পাওয়া চেষ্টা করা হয়েছে। বাকি আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

রংপুরে অযত্নে-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ৪০০ বছরের মন্দির

পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে একজন নিহত

হা‌নিফ ফ্লাইওভারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

0 Comments