জাতীয়

কীর্তিনাশায় নৌকাবাইচ, বৈঠার তালে মেতেছে হাজারো দর্শক

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বৈঠার ছন্দে নদীর বুকে ছুটছে একের পর এক নৌকা। প্রতিযোগীদের দ্রুতগতির লড়াই দেখতে কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের তেতুলিয়া থেকে রাজগঞ্জ ব্রিজ হেলিপ্যাড পর্যন্ত নদীপথে নৌকাবাইচের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

 

ফাইনালে আমগ্রাম এক্সপ্রেস প্রথম, সাত সমাজ এক্সপ্রেস-১ দ্বিতীয় এবং মামা ভাগিনা এক্সপ্রেস তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

 

আয়োজক কমিটি জানায়, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ আয়োজনে বিভিন্ন এলাকার ১৪টি নৌকা অংশ নেয়। ১৪ ও ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে শুক্রবার ফাইনালের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।

 

ফাইনাল ঘিরে সকাল থেকেই কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। নৌকাগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার সময় দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে নদীর পাড়।

 

প্রতিযোগীদের নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের জরুরি সেবায় মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বে রাখা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকার জন্য একটি করে ফ্রিজ এবং অংশ নেওয়া প্রতিটি নৌকার জন্য একটি করে টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।

 

আয়োজকেরা বলেন, বিনোদনের পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে এই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাও আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
 

অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন কালু।

 

এ ছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল বেপারী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক মোল্লাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ৪

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যমানের জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং অপর দুজন বরগুনার তালতলী উপজেলার বাসিন্দা।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব জাল নোট উদ্ধার করা হয়।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ৬১০টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এসব নোটের মোট মূল্য ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৪৬) ও আবু সাঈদ (২৫)। অন্য দুজন হলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার কবিরাজপাড়া গ্রামের মোস্তফা ফকির (৪৮) এবং মেনেপাড়া গ্রামের ইসমাইল বিশ্বাস (৪৯)।   ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন।   পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার করা জাল নোটের উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জাল নোটের বিস্তার রোধ এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মাঠে বিজিবির ৫ প্লাটুন

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের নতুন বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম

ছবি: সংগৃহীত

ইতালি থেকে দেশে ফিরে সাভারে নিখোঁজ প্রবাসী, থানায় জিডি

ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিক কারাগারে, জামিন আবেদন খারিজ

সীমান্ত পেরিয়ে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় দুই নাগরিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন রংপুরের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৭ অক্টোবর।   আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ইসমাইল হোসেন ও আব্দুল আলীম মন্ডল। তাঁদের বাড়ি ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরের একটি ক্লিনিকে খোঁজ নেয় পুলিশ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই ভারতীয় নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁরা আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরে তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে পাসপোর্ট ও ভিসা দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেছে পুলিশ।   পুলিশের অভিযোগ, ওই দিন সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দইখাওয়ার চর সীমান্ত দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বৈধভাবে প্রবেশের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাঁদের বিরুদ্ধে দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর ৪ ধারায় মামলা করা হয়।   বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার পর আসামিপক্ষের জামিন আবেদন শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।   আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ রয়েছে। সেদিন আদালতে আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সোনারগাঁয়ে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩

ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু অর্থায়নের ৫৮ শতাংশই ঋণ, অনুদান বাড়ানোর তাগিদ

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

ছবি: সংগৃহীত
সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখবেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা এবং প্রয়োজনে তাঁদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।   বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ। এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।   আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে পূর্ণ নিরাপত্তায় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।   জামায়াতের আমির আরও বলেন, দেশের ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও স্বস্তির সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।   এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।   বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।  

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, আটক ৭

ছবি: সংগৃহীত

দৌলতদিয়া ঘাটে অনিয়মের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি

শাহ আমানত বিমানবন্দরে দেড় মাসে ৯ বার চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

0 Comments