বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন ও সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণকে (টিভেট) প্রধান হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং শিল্প চাহিদার সামঞ্জস্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আজ শুক্রবার চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’- এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপনকালে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘টিভেট: পরিবর্তনকে যৌথভাবে গ্রহণ, যৌথভাবে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং যৌথভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণ’। উচ্চপর্যায়ের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী, ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, ইউনেস্কোর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান এবং কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি।’
তিনি টিভেটকে এমন এক অপরিহার্য সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে।
ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে কেবল একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত এবং ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য।
বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি কেবল নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেখানে পাঠ্যক্রম বাস্তবভিত্তিক শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; শিক্ষকরা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের নিয়মিত হালনাগাদ রাখবেন; শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিল্প-সংযুক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে; এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো সরাসরি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা।
গত জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উভয় দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের টিভেট খাতকে আধুনিকায়ন, শিল্প-প্রতিষ্ঠান সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে।
সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের আলোকে শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানান।
১. উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করা।
২. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক মানদণ্ড নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের আলোকে অভিযোজিত করতে পারা।
৩. সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং তরুণ সমাজকে অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।
চীন-বাংলাদেশ যৌথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব
সম্মেলনের ফাঁকে শিক্ষামন্ত্রী মিলন চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে একটি ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাবা পেশায় দিনমজুর। যে আয় করেন, তা দিয়ে পাঁচজনের সংসারের খাওয়ার খরচ চলে যায়। মা কাপড় সেলাই করে তিন ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালান। তিন সন্তানের মধ্যে এবার এইচএসসি পাস করা রিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার অর্থ যোগাড় করা তার এবং তার পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় চার ইউনিটে আবেদনের ফি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে গত আট বছরে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনে খরচ বেড়েছে চার গুণ পর্যন্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান; কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা ধরা হয়েছে। চারুকলা ইউনিটের আবেদন ফি ১ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। সবশেষ শিক্ষাবর্ষে চারুকলা অনুষদের ভর্তি ফি ২০০ টাকা বাড়লেও অন্যান্য ইউনিটে অপরিবর্তি ছিল। এখন একেক ইউনিটে একেক রকম ফি নির্ধারণ হলেও আগে সমান ছিল। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ছিল ৩৫০ টাকা। ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই ফি ৪৫০ টাকা করা হয়। পরের শিক্ষাবর্ষে (২০২০-২১) আরও ২০০ টাকা বাড়িয়ে আবেদন ফি করা হয় ৬৫০ টাকা। এরপর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন ফি একলাফে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে বাড়েনি। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আবেদন ফি আরও ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। এর কারণ ছিল আবেদনের অনলাইন সার্ভিস চার্জ ৪০ টাকা বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা এবং মূল ফি ১০ টাকা বাড়ানো। ভর্তির আবেদনের ফি বাড়ানোর বিষয়ে রিফাত বলেন, “এবার পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছি। ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চান্স পাব, তা তো নিশ্চিত না। আমাকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন করতে হবে। এখন শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ইউনিটে আবেদন করতে চাইলে দরকার ৪ হাজার ৫০০ টাকা। যেখানে ঠিকমতো একটা কোচিং করার সুযোগ নাই, সেখানে কীভাবে এত টাকা দেব? এই দুশ্চিন্তা শুধু রিফাত বা তার পরিবারের নয়, একই ধরনের উদ্বেগের কথা বলেছে আরও অনেক পরিবার। উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে তিন সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন সৈয়দা রেজাউন্নহার শিফন। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবার বেতন বাড়ছে না। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও সাধারণ দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের আয় একই রয়ে গেছে। ফলে এসব পরিবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।” আরেক অভিভাবক তৌফিকুর রহমান মিঞা বলেন, তার ছেলে এ বছর এইচএসসি করেছে; জিপিএ ৪ দশমিক ৮৬। এখন সে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর মতো আর্থিক অবস্থা তাদের নেই। “দুঃখের বিষয়, আমার ছেলে কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবে, আর তাতেই মোট আবেদন ফি চলে আসছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।…আবেদন ফি যদি এত বেশি হয়, তাহলে কীভাবে পরীক্ষা দেওয়াব সন্তানদের? কীভাবে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে?” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কী যুক্তি এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি’র দোহাই দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, “সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কাগজের দাম বেড়ে গেছে। আর গত দুই বছর আমরা ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি বাড়াইনি। এক্ষেত্রে প্রতিবছর যে মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে, সে তুলনায় ১৫০ টাকা কিছুই না। এছাড়া আমাদের চারুকলা ও বিজনেস অনুষদ যে ভর্তি আবেদন ফি নিচ্ছে, তাতে তাদের ব্যয় সংকুলান হচ্ছে না।” অন্যরা কী বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ১৫০ টাকা বৃদ্ধির কথা শুনে বলেন, “হায় আল্লাহ, আমার সময়ে এত টাকা ভর্তির আবেদন ফি হলে আমি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পড়তেই পারতাম না।” তিনি বলেন, “এখানে আমার মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এ আবেদন ফি নির্ধারণ করে না। তারা দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে সামনে রেখে কতটুকু বাড়ালে দেশের প্রান্তিক মানুষের ছেলে-মেয়েরাও পরীক্ষা দিতে পারবে, তা বিবেচনা করেনি। “শুধু শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের কথা ভাবলে তো হবে না। এক্ষেত্রে প্রতিবছর যদি এ হারে বাড়তে থাকে, প্রান্তিক অঞ্চল থেকে ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষায় আর আসতে পারবে না। প্রতিবছর কত বাড়বে, তার একটা নীতিমালা থাকা উচিত।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, “১২০০ টাকা ভর্তি আবেদন ফি বেশি না। যারা মধ্যবিত্ত শ্রেণি আছে, তারা এটা বহন করতে পারবে। বরং তাদের জন্য আবেদন ফি আরও বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য ভর্তি আবেদন ফি পুরোপুরি মওকুফ করা উচিত। এটাই হচ্ছে ‘বৈষম্য নিরসন’। আর গরিব-ধনী দুপক্ষ যদি সমান টাকা দেয়, সেটাই বৈষম্য সৃষ্টি করে। আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাই ফলো করে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নাগরিকদের সক্ষমতার চেয়ে অনেক গুণ বেশি দাম চাপিয়ে দিয়েছে সকল পণ্য ও সেবায়। এই ধারাবাহিকতায় এখন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফি ১৫০ টাকা বাড়িয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং অযৌক্তিক। এই আরোপিত ফি অবশ্যই বাতিল করতে হবে। আমরা ডাকসুর পক্ষ থেকে ভিসি কার্যালয়ে এই বিষয়ে যাব এবং এই সিদ্ধান্ত সংশোধনের জন্য চাপ প্রয়োগ করব।” সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, “বিভিন্ন ইউনিটে ভর্তির আবেদন ফি প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকে আরও ত্বরান্বিত এবং শিক্ষার অধিকারকে আরও সংকুচিত করবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বেশি সংকটে পড়বে।” বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সামি আব্দুল্লাহ বলেন, “প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে ফি বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি পরীক্ষাকে ব্যবসায়িক আয়ের উৎসে পরিণত করেছে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতেই দেড় হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগটুকুও এখন আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল।” জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি বাড়ানোর বিষয়ে ছাত্র সংগঠনসহ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো মতামত না নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অংশীদারদের বাদ দিয়েই সেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া। “এসব বিষয়ে সব পক্ষের যথাযথ মতামত গ্রহণপূর্বক শিক্ষার্থীদের সীমিত আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে ভর্তি আবেদনের ফিসহ অন্যান্য খরচ কমিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করি।”
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি বা বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ পরীক্ষা নেওয়া এবং একই মাসের শেষ দিকে ফল প্রকাশের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাপ্লিমেন্টারিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চলতি শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মেডিকেলসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকলে নতুন করে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বড় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন। তবে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ২০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকতে পারে। তথ্যমতে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ডিসেম্বর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এবং ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। এরপর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই মাসের ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ভর্তি পরীক্ষা হবে ১, ২, ৮ ও ৯ জানুয়ারি। ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে কৃষি গুচ্ছের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৮ জানুয়ারি। ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই দিনে, ৮ জানুয়ারি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ১৪ জানুয়ারি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হবে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হবে ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে। ১৯ মার্চ ‘বি’ ইউনিট, ২০ মার্চ ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ২৭ মার্চ ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়ার কথা। অন্যদিকে, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৪ ডিসেম্বর আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়ের ওপর নির্ভর করছে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি। সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ ডিসেম্বর হওয়ায় ডিসেম্বরের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়গত জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা ও এইচএসসি উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত আলাদা। ফলে বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা কোন কোন প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ভর্তি কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি সংগ্রহ করে শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিবদের বিষয়টি জানিয়েছেন। সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যেন চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধও জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। অথবা বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিক্ষামন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই বিবেচ্য। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে অনির্দিষ্টকাল ভর্তি পরীক্ষা আটকে রাখাও সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ তৈরি হবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত। ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ সোমবার (২ নভেম্বর)। এ ধাপে আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পর্যন্ত। যারা আগে আবেদন করেনি, আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি কিংবা নির্বাচিত হয়েও নির্ধারিত সময়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা এ ধাপে ভর্তির সুযোগ পাবে। রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে শেষ ধাপের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তৃতীয় ধাপে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল রোববার রাত ৮টায় প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২ ও ৩ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে হবে। এবার একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তির তৃতীয় ধাপকেই সর্বশেষ ধাপ হিসেবে গণ্য করা হবে। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে বোর্ড। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, শেষ ধাপে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য আসন বিবেচনায় সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে হবে। এ জন্য একাদশ শ্রেণির ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন করে ২২০ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে না। তাদের ভর্তি ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজের পছন্দক্রম সংশোধন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিশ্চায়ন ফি পরিশোধ ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন বা ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভুলের কারণে কোনো জটিলতা তৈরি হলে এর দায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।