আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির খসড়া নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তাতে ৯টি দফা বা ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল অ্যারাবিয়া এ খবর জানিয়েছে।

 

আল অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই চুক্তির খসড়ায় সব যুদ্ধক্ষেত্রে একটি তাৎক্ষণিক, ব্যাপক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সামরিক, বেসামরিক কিংবা অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু না করার নিশ্চয়তা, সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দুই দেশের মধ্যকার প্রোপাগান্ডা অবসানের বিষয়টি খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খসড়া চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এছাড়া পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে, চুক্তিস্বাক্ষরের সাত দিনের মধ্যে দুইপক্ষের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করার বাধ্যবাধকতা খসড়ায় রাখা হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান শর্তগুলো মেনে চললে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে এবং উভয়পক্ষই জাতিসংঘ সনদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। দুইপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রাথমিক চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনাকে একটি সূত্র সতর্কতামূলক আশাবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে দুইপক্ষের অত্যধিক দাবির কারণে বিদ্যমান ব্যবধানগুলো কমিয়ে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি এখনও আলোচনার প্রধান জটিলতা হিসেবে রয়ে গেছে।

সম্ভাব্য এই চুক্তিটি মাত্র এক পাতার একটি নথি হবে এবং এর নাম ‘ইসলামাবাদ ঘোষণা’ রাখা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফকে আবারও আলোচনা দলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নিযুক্ত একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তেহরান সফর করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল। টানা ৪০ দিন লড়াইয়ের পর গত ৮ এপ্রিল ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

এই যুদ্ধবিরতির পর গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদল একদফা শান্তি আলোচনায় বসলেও কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। তবে গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাতের স্থায়ী অবসানের শর্ত উল্লেখ করে দুইপক্ষ বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বিনিময় করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: সিনহুয়া

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরান অবরোধে ১৪৪ বাণিজ্যিক জাহাজ ফিরিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে এবার ১৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অবরোধ অমান্য ঠেকাতে এসব জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে জাহাজগুলোকে অন্য পথে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবরোধের নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   অবরোধ কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি জর্জ ওয়াশিংটনও ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। রণতরিটি থেকে পরিচালিত সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে অবরোধ বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   সেন্টকমের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের বন্দর অভিমুখী ১৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল। নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৪৪টিতে দাঁড়িয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর রয়েছে। এই অবরোধের আওতায় ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন বাহিনী।   তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে যে নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রীদের সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠালেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় হতে পারে সরাসরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের নীতি বদলে প্রথমবার শ্রমিক সংগঠন গড়ল বিজেপি

দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের নীতি বদলে প্রথমবারের মতো নিজেদের শ্রমিক সংগঠন গড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) । এর প্রথম কর্মসূচী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।   আনন্দবাজার ডটকম জানিয়েছে, শনিবার কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঠিকাশ্রমিকদের জন্য শ্রমিক সংগঠন চালু করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয়ভাবে এ শ্রমিক সংগঠনের কোনো নাম রাখা হয়নি, বরং অঞ্চলভিত্তিতে ‘এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট কনট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স মোর্চা’ নাম রাখা হয়েছে।   পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সামাজিক মাধ্যমে এটিকে ‘বিজেপি ট্রেড ইউনিয়ন সেল’ বলে বর্ণনা করেছেন।   ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হওয়ার পর থেকে দলটির কোনো শ্রমিক সংগঠন ছিল না। দলটির আনুষ্ঠানিক কোনে ছাত্র সংগঠনও নেই। বিজেপির দাবি, রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থানের কারণেই এতোদিন এ ধরনের কোনো শাখা সংগঠন তৈরি করেনি তারা।   রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শিক্ষার্থী শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ভারতব্যাপী বিজেপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করে। আরএসএস এর শিক্ষক, অধ্যাপকদের সংগঠনও আছে। একইভাবে আরএসএসের শ্রমিক শাখা ভারতীয় মজদুর সংঘও (বিএমএস) আছে।   কিন্তু বিজেপির সরাসরি এ ধরনের কোনো শাখা সংগঠন ছিল না। কিন্তু এবার দীর্ঘদিনের নীতি বদলে নিজস্ব শ্রমিক সংগঠনের ঘোষণা দিল বিজেপি।   এতোদিন তাদের কোনো শ্রমিক সংগঠন না থাকার বিষয়ে বিজেপির রাজ্য প্রধান শমীক বলেছেন, “আদর্শগত বা রাজনৈতিক অবস্থানগতভাবে আমরা বিশ্বাস করি, যদি কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন থাকে, তবে সেই দল ক্ষমতায় থাকলে শ্রমিক তার অধিকার, বঞ্চনা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ, আন্দোলন করতে পারবে না।”   কিন্তু তাদের নতুন সংগঠন তেমনটা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের জন্য কাজ করবো, কাজের জন্য প্রাপ্য অর্থ নেবো, এই অবস্থান থেকেই আমরা সংগঠন তৈরি করেছি।”   দমদমের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলও। তিনিও ‘এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট কনট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স মোর্চা’কে বিজেপির ‘প্রথম আনুষ্ঠানিক শ্রমিক সংগঠন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।   দিনটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে বনসল বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির প্রথম শ্রমিক সংগঠনের সূচনা হচ্ছে এই বিমানবন্দরে। আগামী দিনে আমাদের শ্রমিক সংগঠন অন্য অঞ্চলেও গড়ে উঠবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইরানের হামলায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তার পরিবারে ৩৬ টি ভিলা, দুর্নীতির তদন্তে তোলপাড় রাজস্থান

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে করলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, কনে কে

ছবি: সংগৃহীত
স্লোভেনিয়ায় ২০ বাংলাদেশিসহ ১৪৭ অভিবাসী আটক

ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়ায় অনিয়মিতভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ১৪৭ জন অভিবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। চলতি মাসের ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে দেশটির ব্রেজিসে ও চেরনোমেলজ পুলিশ স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। ব্রেজিসে পুলিশ স্টেশন এলাকার ওব্রেজে, দোবোভা, রিগোনৎসে, ভেলিকি ওব্রেজ, কাপেলে ও লোচে অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৮১ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৯ জন আফগানিস্তানের, ১২ জন মিসরের, ১০ জন পাকিস্তানের, সাতজন বাংলাদেশের, পাঁচজন সুদানের, চারজন নেপালের, দুজন আলজেরিয়ার, দুজন জর্ডানের, দুজন ইয়েমেনের, চারজন ইরাকের, দুজন সোমালিয়ার এবং একজন করে মরক্কো ও ফিলিস্তিনের নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, চেরনোমেলজ পুলিশ স্টেশন এলাকার ভিনিৎসা, পোদক্লানেত্স, মারিন্দোল, রাস্ট প্রি ভিনিৎসি, বোইয়ানৎসি ও বালকোভৎসি অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে আরও ৬৬ জনকে আটক করা হয়।  তাদের মধ্যে ১৯ জন সুদানের, ১৮ জন আফগানিস্তানের, ১৫ জন পাকিস্তানের, ১৩ জন বাংলাদেশের এবং একজন নেপালের নাগরিক। আটক অভিবাসীদের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ বলকান রুট ব্যবহার করেছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ৪২ শতাংশ কম। ইনফোমাইগ্রেন্টস।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
রয়টার্স ছবি

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানের যোগদান নিয়ে যা বলল পাকিস্তান

ছবি : ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

নেপালে গণমাধ্যমের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, ৩ সাংবাদিক আটক

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির আকাশসীমায় ফের ড্রোন হামলা, প্রতিহতের দাবি

0 Comments