রাজনীতি

ক্রসফায়ার শুরু হলে বিএনপির একটা লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না: হাসনাত

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘তারেক রহমানকে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ নামক গাড়িটি ইঞ্জিন নষ্ট করে দিয়েছে। তাই রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশ সঠিকভাবে চলতে পারবে না।’


শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশোর শহরের মুড়লি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় এসব কথা বলেন ‍তিনি।


সরকারের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি সরকার, আপনারা যদি ক্রসফায়ার দেওয়া শুরু করেন, তাহলে আপনাদের দলের একটা লোককেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ ক্রসফায়ার দিতে হলে চাঁদাবাজদের দিতে হবে, টেন্ডারবাজদের দিতে হবে। যারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা নেয়, যারা চাকরির কথা বলে ঘুষ নেয়, তাদের ক্রসফায়ার দিতে হবে। আর পুলিশ যখন এই ক্রসফায়ার দেবে, তখন আপনাদের নিজ দলের ব্যক্তিদেরই দিতে হবে। বিএনপির সবাই চাঁদাবাজি করে না- এটা যেমন সত্য, আবার যারা চাঁদাবাজি করে তারা প্রত্যেকেই বিএনপি, এটিও তেমন সত্য।’


সম্প্রতি দেশে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজ এমন এক পরিস্থিতিতে আপনাদের সামনে কথা বলতে এসেছি, আমরা দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা প্রান্তে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। যেখানে আমাদের মন খারাপ করার অধিকার নেই, যেখানে আমরা নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কথা বলি, নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা দেখতে পাই বিএনপি সরকার পুলিশ দিয়ে বাসা থেকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়।’ 


ময়মনসিংহে সাথী আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে পুলিশ বাসা থেকে নিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই নারী বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন বলেছেন। বিএনপিকে ভোট দেওয়া তার উচিত হয়নি বলেছেন। তিনি ফেসবুক লাইভে এসে এই বক্তব্য দেওয়ার পর বাসা থেকে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা এমন এক সময়ে কথা বলছি, যখন প্রতিবাদ করলে আইজিপি আমাদের ক্রসফায়ারের ভয় দেখান।’


কর্মসংস্থান সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেলেরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরির আশায় ঘরে ঘরে যেতে হয়, দুয়ারে দুয়ারে ফিরতে হয়, কিন্তু চাকরি নেই। আমরা দেখলাম, জাপান থেকে ফিরে এসে সরকার একধরনের অসত্য তথ্য প্রচার করলো। জাপান নাকি এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু জাপান সরকার বললো, তাদের সঙ্গে এমন কোনও চুক্তি হয়নি।’


মালয়েশিয়া সফর নিয়েও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এসে বলা হলো, দুই লাখ কর্মসংস্থান করা হবে। কিন্তু মালয়েশিয়া বললো, এমন কোনও চুক্তি হয়নি। দেশের মানুষ ভাত চায়, কর্মসংস্থান চায়, নিরাপদে বাঁচতে চায়। বিএনপি সরকার, আমাদের বাঁচতে দিন, আমাদের কর্মসংস্থান দিন। না হলে দেশের জনতা আবার রাস্তায় নেমে আসবে।’


রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাদের বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার করা হবে। কিন্তু কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যে, বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানির লোকদের এনে সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে বসানো হচ্ছে। অথচ এই ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের কারণে সংকটে পড়েছে। ব্যাংকগুলোকে আবার ঘুরে দাঁড় করানোর কোনও প্রকল্প এই বিএনপি সরকারের নেই।’


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান এসে বলেছিলেন, ‘হি হ্যাজ এ প্ল্যান’। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, তার এমন পরিকল্পনা যেখানে নেতার হাতে কর্মীকে খুন হতে হয়। এমপির ছেলের হাতে কর্মীকে খুন হতে হয়। নিজের দলের হাতে নিজের দলের নেতাকর্মীদের খুন হতে হয়। এই ধরনের মাস্টারপ্ল্যান আমরা চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম দেশ গড়ার পরিকল্পনা। কিন্তু দেখতে পেলাম, বিএনপির কোনও পরিকল্পনাই নেই।’


পথসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, নায়েবে আমির হামিদ হোসেন আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

রাজনীতি

আরও দেখুন
আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় নিয়ে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মির্জা আব্বাসের
টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক: মির্জা আব্বাস

দলের ভেতরে থেকেই একটি পক্ষ অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।   তিনি বলেছেন,‘আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে আসছে। তারা অবস্থান নিয়েছে সিদ্ধেশ্বরীতে। তো এখন আমাদের বিভিন্ন এলাকায় কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ওরা কিন্তু আসা শুরু করেছে। আপনারা দয়া করে চোখ কান খোলা রাখবেন, কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। মাথায় রাখবেন। এবং সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো যে ওদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে কারা জানেন? এই আমাদের বিএনপির কিছু লোক। আমাদের বিএনপির কিছু লোক টাকার বিনিময়ে আশ্রয় দিচ্ছে। নিজেদের স্বার্থে টাকার বিনিময়ে আশ্রয় দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ সবাইকে চিহ্নিত করা হবে। আওয়ামী লীগ হোক আর বিএনপির অভ্যন্তরে এই ধরনের যারা শত্রু আছে তাদেরকে একযোগে প্রতিরোধ করতে হবে। আমি আবারও বলছি, এদেরকে একযোগে প্রতিরোধ করতে হবে। কোনো ছাড় নাই।’   শনিবার বিকালে রাজধানীর শাহজানপুরে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার পাঁচ থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতকারীদের হুঁশিয়ার করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‌‘কোনো রাজনৈতিক শক্তি না পেয়ে একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-মিটিং করার চেষ্টা করছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির এমন অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।’   তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম করার অধিকার সবার রয়েছে। তারা রাজনীতি করুক, তাতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু কেউ অপকর্ম করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; শক্ত হাতে তা প্রতিহত করবে।’   দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেকেই অনেক কিছু ভাবছেন। কিন্তু বিএনপি এখনো মাঠে নামে নাই। আজকে ছোট্ট পরিসরে এবং বৃষ্টির মধ্যে এই সভায় মানুষের যে বাঁধভাঙা সাড়া ও আবেগ দেখা গেছে, তা থেকে বুঝে রাখুন—ঢাকা শহরে বিএনপি মাঠে নামলে কী হবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘শত্রুপক্ষের মিত্ররা কখনো বিএনপির বন্ধু হতে পারে না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ নিজের অবস্থান বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলে দল তাদের ছাড় দেবে না।’   সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ক্রসফায়ার শুরু হলে বিএনপির একটা লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না: হাসনাত

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামানত হারালেন ৩ প্রার্থী

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াত থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তে এনসিপিকে সাধুবাদ জানালেন রাশেদ খান

বক্তব্য দিচ্ছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
কলকাতায় গ্যাসের দাম ১ হাজার, বাংলাদেশে আড়াই হাজার কেন: আখতার

ভারতের কলকাতায় এক হাজার টাকায় গ্যাস পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে একই গ্যাস কিনতে আড়াই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। গ্যাসের দামের এমন পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব কলকাতায় পড়লে সেখানে কম দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে কীভাবে? এ বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে।   একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়ী করেছেন তিনি।   শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।   গ্যাসের দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘কলকাতায় গ্যাস কিনবেন হাজার টাকা, আর বাংলাদেশে গ্যাস কিনতে লাগে দুই হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের কোনো প্রভাব পড়ে না? যদি কলকাতা এক হাজার টাকায় গ্যাস দিতে পারে, বাংলাদেশের জনগণকে কেন দুই হাজার ৫০০ টাকায় গ্যাস কিনতে হয়? এই উত্তর জ্বালানিমন্ত্রীকে দিতে হবে।’   দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, ‘যে ব্যর্থ বাংলাদেশ আপনারা তৈরি করেছেন, এই ব্যর্থ বাংলাদেশের দায় সরাসরি তারেক রহমানকেই নিতে হবে।’   দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে বাজেট বাড়ানো হয়, দ্রব্যমূল্যের কিছু দাম বাড়ে। কিন্তু আমরা দেখলাম, বিএনপি সরকার বলল বাজেটের সময় নাকি কোনো কিছুর দাম বাড়েনি। অথচ উল্টো ঘটনা। বাজেটের আগে, বাজেটের পরে, এখনো পর্যন্ত প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়তির দিকে।’   মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। আখতার হোসেন বলেন, ‘সব জায়গায় ব্যর্থতার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার নিয়ে তারা উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করেছে। আমরা চেয়েছিলাম, বাংলাদেশে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পরে মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী আইন হবে। কিন্তু এই সরকার শক্তিশালী আইন প্রণয়নের কথা বলে সবগুলো দুর্বল আইন প্রণয়ন করেছে, যাতে তারা ইচ্ছেমতো মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে পারে। সেই পথ তারা প্রশস্ত করেছে।’   তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের আগে বারবার বলেছে, নির্বাচন হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। নির্বাচন হয়েছে, নয় মাস হয়ে গেছে। দেশের পরিস্থিতি কি ঠিক হয়েছে? দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক হয়নি।’   দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার কী পরিস্থিতি, আপনারা সকলে জানেন। গতকাল একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’   তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সেই তাহসিফ সাউরিকে নিয়ে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের লোকেরা উল্লাস প্রকাশ করছে। আওয়ামী লীগ উল্লাস প্রকাশ করার সাহস পায়, কারণ এখনো পর্যন্ত চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময় যে আওয়ামী লীগ হত্যা করেছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল, বিএনপি সরকার গঠন করার এত দিন পরেও আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি।’   এ সময় সরকারের দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আখতার হোসেন বলেন, ‘স্পষ্ট করে সরকারের কাছে দাবি জানাতে চাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিদ্যুৎমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের জীবন নিয়ে নয়ছয় করছেন। তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতের একক নির্বাচনী প্রস্তুতি, এনসিপির সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

ছবি: সংগৃহীত

‘দলের ভেতর দল গড়লে ক্ষতি নিজেদেরই’: নেতাকর্মীদের আবদুস সালাম

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ১১ দলের

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব দায়িত্ব

ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত করে সংস্থাটির সব দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের হাতে ন্যস্ত করেছে সরকার। গত ২৬ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ শাখা ২ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।   নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বোর্ডের দায়িত্বগুলো আপাতত এককভাবে পালন করবেন ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামান। তবে বোর্ড বিলুপ্ত করার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।   প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে   স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ৪২(খ) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা বোর্ড অপসারণকালীন সময়ে বোর্ডের সব দায়িত্ব বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহলিমা শিরিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।   তবে নতুন ব্যবস্থায় বোর্ডের দায়িত্ব কত দিন এমডির হাতে থাকবে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।   কে এই ড. মুহা. মনিরুজ্জামান   ড. মুহা. মনিরুজ্জামান গত ২৫ আগস্ট ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোর্ড বিলুপ্তির পর ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তাঁর ওপর সংস্থাটির বোর্ডের সব দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।   ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান ছিলেন সাব্বির মোস্তফা খান   এর আগে গত ২ আগস্ট বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সাব্বির মোস্তফা খানকে তিন বছরের জন্য ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।   ঢাকা ওয়াসা রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। সংস্থাটির প্রশাসনিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
মো. তারেক রহমানের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় সম্মানও সহ্য হচ্ছে না জামায়াত-এনসিপির: তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন মহিউদ্দিন রনি

বক্তব্য দিচ্ছেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ

জনগণের টাকায় তেলবাজদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

0 Comments