শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের বক্স এল্ডার কাউন্টিতে প্রস্তাবিত "স্ট্রাটোস প্রজেক্ট"-এর একটি এআই ডেটা সেন্টার প্রতিদিন ২৩টি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সমান তাপ নির্গত করবে। সংবাদমাধ্যম দ্য সল্ট লেক ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
অলাভজনক পরিবেশবাদী সংবাদমাধ্যম গ্রিস্ট-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশাল এআই ডেটা সেন্টারটি একাই ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে, যা পুরো উটাহ রাজ্যের মোট ব্যবহারের দ্বিগুণেরও বেশি। নিজস্ব গ্যাস জেনারেটরের মাধ্যমে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে ২৪ ঘণ্টা চলতে থাকা এই প্রজেক্টটি আয়তনে ২,০০০ ওয়ালমার্ট স্টোরের সমান হলেও, এর শক্তির ব্যবহার হবে ৪০,০০০ ওয়ালমার্ট সুপারসেন্টারের সমান।
উটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট ডেভিসের হিসাব অনুযায়ী, ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎপন্ন তাপের পাশাপাশি কেন্দ্রটি আরও ৭ থেকে ৮ গিগাওয়াট সমমানের অতিরিক্ত বর্জ্য তাপ উৎপন্ন করবে, ফলে এর মোট “থার্মাল লোড” বা তাপের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ গিগাওয়াটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তাপ গ্রাহক পর্যায়ে অল্প অল্প করে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তেমন সমস্যার কারণ হয় না। কিন্তু হ্যানসেল উপত্যকার ভৌগোলিক গঠনের কারণে প্রতিদিন ২৩টি অ্যাটম বোমার সমান এই বিপুল পরিমাণ তাপ একই স্থানে আটকা পড়বে। উপত্যকার এই আবদ্ধ পরিবেশের মধ্যে ঘনীভূত তাপ স্থানীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর এক অবিশ্বাস্য ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে।
এই তাপমাত্রার প্রভাবে এলাকাটিতে দিনের বেলায় ৫ ডিগ্রি এবং রাতে ১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা স্থানীয় পরিবেশকে সাহারা মরুভূমির মতো রুক্ষ করে তুলবে।
বাস্তুবিদ্যা বিশেষজ্ঞ বেন অ্যাবট জানান, এর ফলে গ্রেট সল্ট লেক শুকিয়ে মারাত্মক ধুলোর বিপর্যয় দেখা দেবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নিয়মিত বিরতিতে কেঁপে ওঠে পৃথিবী। ঠিক প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর সৃষ্টি হয় এক ধরনের ছন্দময় ভূকম্পন। এতটাই সূক্ষ্ম এই কম্পন যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা অনুভব করা সম্ভব নয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত অত্যাধুনিক ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রে ধরা পড়েছে এই অস্বাভাবিক সংকেত। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এর কারণ অনুসন্ধান করলেও এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর এই রহস্যময় স্পন্দন নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। খবর এনডিটিভির। এই অদ্ভুত কম্পন প্রথম শনাক্ত করেন ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী জ্যাক অলিভার। ষাটের দশকের শুরুর দিকে গবেষণার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সিসমোমিটারে নির্দিষ্ট বিরতিতে একই ধরনের কম্পন রেকর্ড হচ্ছে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হয়, এর উৎপত্তিস্থল নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো একটি অঞ্চল। এমনকি বছরের নির্দিষ্ট কিছু মৌসুমে এই কম্পনের তীব্রতাও বেড়ে যায়। তবে সে সময় পর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ না থাকায় রহস্যটির সমাধান করতে পারেননি অলিভার। ফলে দীর্ঘদিন বিষয়টি বিজ্ঞানীদের আলোচনার আড়ালে থেকে যায়। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকেরা ডিজিটাল ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের সময় আবারও এই অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করেন। গবেষক মাইক রিটজওলারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এমন একটি সংকেত পান, যা ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক, নিয়মিত এবং দীর্ঘস্থায়ী। পরবর্তী বিশ্লেষণে এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী গিনি উপসাগরকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর থেকেই পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ নিয়ে গবেষণায় নতুন গতি আসে। বিজ্ঞানীরা কম্পনটির উৎপত্তি সম্পর্কে কয়েকটি সম্ভাব্য তত্ত্ব সামনে এনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো তত্ত্বই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাত কি কারণ? বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাত থেকেই এই কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত মহীসোপানে ঢেউ আছড়ে পড়লে সেখান থেকে ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি হতে পারে। বিষয়টি বোঝাতে গবেষকেরা টেবিলের উদাহরণ দিয়েছেন। টেবিলের এক প্রান্তে আঘাত করলে যেমন অন্য প্রান্তেও কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তিও সমুদ্রতলদেশে ছড়িয়ে পড়ে নিয়মিত ভূকম্পন সৃষ্টি করতে পারে। আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের যোগসূত্র এই রহস্যের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা উঠে আসে ২০১৩ সালে চীনা বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায়। তাদের ধারণা, গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি অঞ্চলে সাও তোমে দ্বীপের কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ থেকে এই কম্পনের উৎপত্তি হতে পারে। সম্ভাব্য উৎসস্থলের কাছাকাছি এই অঞ্চলটির অবস্থান তত্ত্বটিকে বিজ্ঞানীদের কাছে আরও আগ্রহের বিষয় করে তুলেছে। তবে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের সঙ্গে প্রতি ২৬ সেকেন্ডের এই কম্পনের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা রহস্যময় এই ভূকম্পন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো এর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। গবেষক মাইক রিটজওলারের মতে, পৃথিবীর এই নিয়মিত স্পন্দনের মৌলিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিজ্ঞানীদের আরও গবেষণা প্রয়োজন। ফলে প্রতি ২৬ সেকেন্ডে পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ ঠিক কী কারণে সৃষ্টি হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
ফোন বা ল্যাপটপ চার্জে থাকা অবস্থায় সেটি স্পর্শ করে হাতে হালকা শিরশিরানি অনুভব করেছেন কখনো? অনেকেই এমন অভিজ্ঞতাকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে চার্জে থাকা ডিভাইসের গায়ে বিদ্যুতের মতো অনুভূতি হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। চার্জারের নকশা, বৈদ্যুতিক লিকেজ, ক্ষতিগ্রস্ত কেবল কিংবা বাড়ির আর্থিংয়ের ত্রুটির কারণে এমন হতে পারে। অনুভূতিটি সামান্য হলেও এর পেছনে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। চার্জে থাকা ফোনে শিরশিরানি হয় কেন? চার্জ দেওয়ার সময় ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ধাতব অংশ স্পর্শ করলে হালকা ঝিনঝিন অনুভূতি হতে পারে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো চার্জারের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক ফিল্টার সার্কিট। বিদ্যুতের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব কমাতে ব্যবহৃত এই সার্কিটের কারণে কিছু চার্জারে অতি সামান্য বৈদ্যুতিক কারেন্ট অনুভূত হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে এর কারণ এক নয়। নিম্নমানের বা নষ্ট চার্জার, ক্ষতিগ্রস্ত তার, ত্রুটিপূর্ণ সকেট এবং বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগের সমস্যাও এমন অনুভূতির কারণ হতে পারে। তাই শুধু শিরশিরানি হচ্ছে বলে চার্জার স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আর্থিংয়ের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী? বাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় আর্থিং একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাব্যবস্থা। বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত কারেন্ট তৈরি হলে সেটিকে নিরাপদ পথে মাটিতে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে আর্থিং। এই ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ না করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক শকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কোনো চার্জার বা ডিভাইসে সামান্য বৈদ্যুতিক লিকেজ থাকলে উপযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থার অভাবে সেটি স্পর্শ করার সময় শিরশিরানি অনুভূত হতে পারে। খালি পায়ে মেঝেতে দাঁড়িয়ে থাকলে বা শরীর অন্য কোনো পরিবাহী বস্তুর সংস্পর্শে থাকলে অনুভূতিটি বেশি স্পষ্ট হতে পারে। তবে শুধু এই লক্ষণ দেখে বাড়ির আর্থিংয়ে সমস্যা রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। প্রকৃত কারণ জানতে চার্জার, সকেট ও বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ফোন বা ল্যাপটপের ক্ষতি হতে পারে? চার্জে থাকা ডিভাইসে শিরশিরানি অনুভব হলেই যে ফোন বা ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যাবে, এমন নয়। আবার অনুভূতিটি হালকা বলে সেটিকে নিরাপদ বলেও ধরে নেওয়া যায় না। চার্জার বা বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকলে বিদ্যুতের ঝটকা, অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা অন্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চার্জার থেকে স্ফুলিঙ্গ বের হলে, পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে, কেবল ছিঁড়ে গেলে বা চার্জার অস্বাভাবিক গরম হয়ে উঠলে সতর্ক হতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করুন। নিরাপদে সম্ভব হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করুন। ভেজা হাতে বা ভেজা মেঝেতে দাঁড়িয়ে প্লাগ খুলতে যাবেন না। প্রয়োজনে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান কিংবা অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের সাহায্য নিন। এই সমস্যা এড়াতে কী করবেন? ১. বাড়ির আর্থিং পরীক্ষা করান চার্জে থাকা ডিভাইস স্পর্শ করলে বারবার শিরশিরানি অনুভব হলে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে বাড়ির আর্থিং ও বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করান। সমস্যা পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামত করান। ২. ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন ফোন বা ল্যাপটপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আসল অথবা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করুন। অজানা প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের চার্জার এড়িয়ে চলুন। ৩. কেবল ও সকেটের অবস্থা দেখুন চার্জারের তার কাটা, প্লাগ ঢিলা কিংবা সকেটে পোড়ার দাগ রয়েছে কি না, খেয়াল করুন। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন না। নিজে খুলে মেরামতের চেষ্টা না করে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। ৪. তিন-পিনের প্লাগ দেখেই নিশ্চিন্ত হবেন না তিন-পিনের প্লাগ থাকলেই বাড়িতে কার্যকর আর্থিং রয়েছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সকেট ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় আর্থিং সঠিকভাবে সংযুক্ত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। ৫. এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকুন নিম্নমানের বা ক্ষতিগ্রস্ত এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহার করবেন না। প্রয়োজন হলে এতে উপযুক্ত আর্থিং ও সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে কি না, ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে যাচাই করান। ৬. অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা রাখুন বাড়িতে আরসিসিবি (RCCB) বা উপযুক্ত রেসিডুয়াল কারেন্ট সুরক্ষাব্যবস্থা স্থাপন করা প্রয়োজন কি না, তা ইলেকট্রিশিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এই যন্ত্র নির্দিষ্ট ধরনের বৈদ্যুতিক লিকেজ শনাক্ত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে পারে। তবে এটি আর্থিংয়ের বিকল্প নয় এবং সব ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে না। খালি পায়ে ফোন ব্যবহার না করলেই কি সমস্যার সমাধান? চার্জে থাকা ডিভাইসে শিরশিরানি অনুভব করলে খালি পায়ে মেঝেতে দাঁড়িয়ে সেটি ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। তবে শুধু জুতা পরে বা অন্য কোনো নিরোধক ব্যবহার করে সমস্যাটিকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। এতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দূর হয় না। মনে রাখবেন: চার্জে থাকা ফোন বা ল্যাপটপ স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক অনুভূতি হলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। সামান্য শিরশিরানির পেছনে চার্জারের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, আবার বৈদ্যুতিক ত্রুটিও থাকতে পারে। তাই অনুমানের ওপর নির্ভর না করে চার্জার ও বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের অর্থ জোগাতে নতুন ধরনের শেয়ার চালুর পরিকল্পনা করেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। তবে এই পরিকল্পনার বিশেষ দিক হলো, নতুন শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করলেও কোম্পানির ওপর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের নিয়ন্ত্রণ কমবে না। এ জন্য ভোটাধিকারহীন ‘ক্লাস সি’ শেয়ার চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার মেটা জানিয়েছে, নতুন শেয়ার ইস্যু করে এআই খাতে বিনিয়োগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ এবং কর্মীদের পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হবে। নতুন শেয়ারগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কেনাবেচার সুযোগ থাকবে। তবে এসব শেয়ারের মালিকেরা কম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারবেন না। মেটার নতুন শেয়ার পরিকল্পনা কী? মেটা ‘ক্লাস সি’ নামে নতুন এক ধরনের শেয়ার চালুর পরিকল্পনা করেছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান ক্লাস এ ও ক্লাস বি শেয়ারের প্রতিটির বিপরীতে একটি করে ক্লাস সি শেয়ার দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কার্যত শেয়ারের সংখ্যা দুই গুণ হবে। নতুন শেয়ারগুলো ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে বাজারে লেনদেন শুরু করতে পারে। কম্পানিটি জানিয়েছে, নতুন শেয়ার থেকে পাওয়া অর্থ এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন, অধিগ্রহণ এবং কর্মীদের পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন করপোরেট কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে নতুন শেয়ারও ইস্যু করতে পারবে মেটা। কেন এআই খাতে বিনিয়োগের জন্য নতুন শেয়ার? এআই খাতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ, উন্নত চিপ কেনা এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মূলধনি ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এত বড় বিনিয়োগের জন্য ঋণ নিলে কম্পানির ঋণের বোঝা বাড়তে পারে এবং ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ঋণের পরিবর্তে শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্টক ট্রেডার নেটওয়ার্কের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ডেনিস ডিকের মতে, এআই সম্প্রসারণে অর্থ সংগ্রহের জন্য নতুন শেয়ার ইস্যু করা ঋণ বাড়ানোর তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এআই খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ নেওয়ায় ওরাকল ও কোরউইভের মতো কোম্পানির শেয়ারের ওপর চাপ তৈরি হতে দেখা গেছে। কীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখবেন জাকারবার্গ? মেটার নতুন পরিকল্পনার মূল বিষয় হলো, অর্থ সংগ্রহ করলেও জাকারবার্গের ভোটাধিকার কমানো হবে না। বর্তমানে কম্পানির ক্লাস বি শেয়ারের মাধ্যমে তিনি অন্য শেয়ারধারীদের তুলনায় বেশি ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। নতুন ক্লাস সি শেয়ারে ভোটাধিকার না থাকায় এসব শেয়ার বিক্রি করলেও কম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত জাকারবার্গের কাছে প্রায় ৩৪ কোটি ১২ লাখ ক্লাস বি শেয়ার এবং ১২ লাখ ক্লাস এ শেয়ার ছিল। এসব শেয়ারের মাধ্যমে মেটার মোট ভোটক্ষমতার প্রায় ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল। যদিও কোম্পানিতে তার মালিকানার পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারগুলোর বিপরীতে তিনি প্রায় ৩৪ কোটি ২৪ লাখ ক্লাস সি শেয়ার পাবেন। তবে প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারীদের জন্য করা আলাদা চুক্তি অনুযায়ী, এ গ্রুপের পাওয়া ক্লাস সি শেয়ারের মাত্র ২০ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাকি শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে, যাতে ভোটক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে নিজের শেয়ার থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে। আগে কি এমন পরিকল্পনা নিয়েছে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান? এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। ২০১২ সালে গুগলও ভোটাধিকারহীন ক্লাস সি শেয়ার চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। পরে এ নিয়ে শেয়ারধারীদের পক্ষ থেকে আইনি মামলা হয়। ২০১৩ সালে আদালত সমঝোতা অনুমোদন করে। সমঝোতা অনুযায়ী, প্রথম বছরে ক্লাস সি শেয়ারের দাম ক্লাস এ শেয়ারের তুলনায় ১ শতাংশের বেশি কমে গেলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের এপ্রিলে শেয়ারগুলো বিতরণ করা হয়। পরের বছর গুগল নির্ধারণ করে, দামের পার্থক্যের ভিত্তিতে ক্লাস সি শেয়ারধারীদের ৫২২ মিলিয়ন ডলার সমন্বয়মূল্য দিতে হবে। জাকারবার্গের ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়টিও কি আছে? রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের ওপর প্রস্তাবিত করও এ পরিকল্পনার আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের ব্যালটে থাকা প্রস্তাবিত এ কর কার্যকর হলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হিসেবে বিবেচিত বিলিয়নিয়ারদের নিট সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হতে পারে। মেটার নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই করের কারণে জাকারবার্গ ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে বিশেষ কমিটিকে জানিয়েছেন। ভোটাধিকারহীন শেয়ার থাকলে তিনি নিজের ভোটক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে না কমিয়েও কিছু শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মেটার পরিচালনা পর্ষদের বক্তব্য, কম্পানিতে জাকারবার্গের বিদ্যমান মালিকানাই শেয়ারধারীদের সঙ্গে তার স্বার্থের যথেষ্ট সামঞ্জস্য তৈরি করে। তাই তাকে অতিরিক্ত নগদ পারিশ্রমিক বা নতুন ইকুইটি পুরস্কার দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে পর্ষদ। মেটার নতুন শেয়ার পরিকল্পনার লক্ষ্য একদিকে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করা, অন্যদিকে কম্পানির ওপর জাকারবার্গের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখা। তবে নতুন শেয়ার বাজারে আসার পর বিনিয়োগকারীরা কীভাবে সেগুলো গ্রহণ করেন, তা নির্ভর করবে শেয়ারের চাহিদা, মূল্য এবং কম্পানির ভবিষ্যৎ আর্থিক ফলাফলের ওপর।