ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে তার জবাব সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের এই নেতা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব নির্দেশ দেন মোজতবা খামেনি।
ইরান সরকারের এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, যেকোনো পর্যায়ের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা মেনে চলা হবে না।
বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন।
সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই মোজতবা খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
বৈঠকে সামরিক কমান্ডারদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দেন তিনি। এ তালিকায় ‘আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর হুমকির পর সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুমকির মধ্যে মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য এলো। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহান্তে তিনি ইরানকে ‘একেবারে শেষ করে দেওয়ার’ কথা ভাবছেন বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনো দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এখনো সরকার গঠন হয়নি।
নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর মার্চ মাসে তার ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবাও আহত হয়েছিলেন।
ওই হামলার মধ্য দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনা ও সম্পদে হামলা চালায় ইরান। বর্তমানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ থাকলেও নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা রয়েছে।
যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। মূলত দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু এবং নতুন করে মার্কিন হামলা এড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও জানিয়েছেন, আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই তেহরানের।
এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে শত্রুতা শুরু হলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। তার ভাষায়, যুদ্ধের আগুন আরও বড় ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।
তথ্যসূত্র: এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল