আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কৌশল নিতে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। অঞ্চলটিতে ইরানের প্রভাব ঠেকানো এবং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জোরদার করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।

 

দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও এ বিষয়ে অবগত আরও দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

পরিকল্পনার সম্ভাব্য তিনটি প্রধান দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক জোট বা সমন্বয় কাঠামো তৈরি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর সৃষ্ট আঞ্চলিক সংকটের অবসান এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডস আরও বিস্তৃত করা।

 

এর অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও এগিয়ে নিতে চায় ওয়াশিংটন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর গ্যারান্টার হতে পারে এবং ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তির উদ্যোগ নিতে পারে।

 

গাজা নিয়েও ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে গাজার পুনর্গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের বিষয় থাকতে পারে। ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি বাস্তবায়ন এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

 

তবে পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনও পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি তৈরি হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বলেছেন, পরিকল্পনাটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র শেষ পর্যন্ত এতে একমত হবে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।

 

সূত্র: ইউরোনিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে অভিজিৎ দীপকে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটক দুই আন্দোলনকর্মীর মধ্যে অভিজিৎ দীপকে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় অনলাইন আন্দোলন প্ল্যাটফরম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাদের আটক করা হয়। শনিবার ভোরের দিকে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হলেও অভিজিৎ দীপের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারার অধীনে অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিনের পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।   অভিজিতের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ অভিজিৎ দীপের অবস্থান ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিজেপি। সংগঠনটির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং অভিযোগ করেছেন, অভিজিৎকে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে এবং আইনজীবীরা এখনো তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রত্না সিং জানান, অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করে এসইএম আদালতে হাজির করার কথা বলা হলেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সিজেপিও এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, পুলিশ অভিজিৎকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনটির।   মুক্তির পর পুলিশের বিরুদ্ধে নেহার অভিযোগ মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা অভিযোগ করেন, প্রতিবাদকারীদের বৈধ কারণ ছাড়াই আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে রাখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করা হচ্ছে। নেহা বলেন, আন্দোলনকারীদের আটক করে পরদিন সকাল বা সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, এসব আটকের পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে। তাঁর মতে, এভাবে বিক্ষোভকারীদের হেফাজতে রেখে নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি অভিজিৎ দীপসহ আটক অন্য বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। নেহার ভাষ্য, তাঁরা জবাবদিহি ও ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। এ কারণে তাঁদের আটক রাখা কিংবা সারা রাত থানায় আটকে রাখার যৌক্তিকতা নেই।   আটক নিয়ে উদ্বেগ সিজেপি ও আইসার শুক্রবার সিজেপি ও আইসা তাদের নেতাদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানায়। সংগঠন দুটির অভিযোগ, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ ও নেহাকে আটক করে। এরপর তাঁদের আইনজীবী ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সিজেপির দাবি, অভিজিৎকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আইসার অভিযোগ, নেহা বোরাকে মঙ্গলপুরীর অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্সের কার্যালয়ে একা আটকে রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। নেহা মুক্তি পেলেও অভিজিৎ দীপের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও তাঁর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর।   সূত্র: এনডিটিভি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা তুরস্কে, নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৫ দিনেই চাকরি হারালেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেটি জাকারিয়া

ছবি: সংগৃহীত

এবার বিক্ষোভে নামছে থালাপতি বিজয়ের দল

ছবি: সংগৃহীত
বিজেপি কেন ‘সরকার বদলের পাঁয়তারা’ দেখছে, কেন আলোচনায় বাংলাদেশ?

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তাতে হঠাৎ করেই ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।   দিল্লিতে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন এবং এর ধরনকে ২০২৪ সালের অগাস্টে ঘটে যাওয়া ‘বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের’ পাঁয়তারা বলে আখ্যায়িত করছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।   এ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা।   বুধবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভারতে চলমান আন্দোলনকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত বলে মন্তব্য করেন আইসা নেতা।   মূলত এর পর থেকেই বিজেপি নেতারা দিল্লির আন্দোলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে আনছেন।   ইতোমধ্যে বিজেপি নেতারা নেহার এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।   উত্তরপ্রদেশের লখনউতে শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জ্ঞানেশবিরোধী বিক্ষোভকে বিরোধীদের নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা বলে বর্ণনা করেছেন।   দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বিরোধী দল কংগ্রেস ও তাদের মিত্রদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।   রাজনাথের দাবি, বিরোধীরা তরুণদের উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে ‘বাংলাদেশের আদলে’ নৈরাজ্য ও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।   তিনি বলেন, “কেউ প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণের কথা বলছেন। কেউ সরকার বদলের চেষ্টার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা অরাজকতা তৈরি করে সরকার বদল করতে চায়। ঠিক যেমন বাংলাদেশে হয়েছে।”   এর আগে বৃহস্পতিবার বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেন।   বার্তা সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, “একটি সাক্ষাৎকারে নেহা বোরা বলেছেন যে তিনি বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত এবং বাংলাদেশে যা ঘটেছে ভারতেও তা হওয়া উচিত। এগুলো কেবল নেহা বোরার বক্তব্য নয়, এটি মূলত রাহুল গান্ধীর মনোভাবেরই প্রতিফলন।   “তারা ভারতে বাংলাদেশের মতো জেন-জি আন্দোলন তৈরি করতে চায় এবং তাদের আসল উদ্দেশ্য সরকার পরিবর্তন করা। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ নয়; এটি একটি নৈরাজ্যবাদী পদযাত্রা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা।”   ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ২ অক্টোবর থেকে দিল্লিতে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।   দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও তাদের জোট ‘ইনডিয়া’ এ আন্দোলনে তাদের সমর্থন দিয়েছে।   এ আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতারা হঠাৎ কেন ঢালাওভাবে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, নেহা বোরার বক্তব্য ছাড়াও এর পেছনে আরও কারণ আছে কিনা তা নিয়ে শুক্রবার একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে।   সেখানে বলা হয়, এমন এক সময় ভারতের রাজনৈতিক আলোচনা ও বিশ্লেষণে ‘সরকার পরিবর্তন’ শব্দটি মূল প্রতিপাদ্য হয়ে উঠেছে, যখন ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে হাজার হাজার মানুষ দিল্লির রাজপথে নেমে আন্দোলন করছেন।   সিজেপি ও বামপন্থি ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করছে; অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেস ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে নিজস্ব রাজনৈতিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কংগ্রেসের ওপর এক তুমুল রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করছে এবং ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অগণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।   বিজেপি সতর্ক করে বলেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেভাবে শেখ হাসিনা সরকারকে ‘উৎখাত’ করা হয়েছিল, ভারতেও ঠিক একই মডেলের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।   ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, নেহা বোরার বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রশংসার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণের একটি মন্তব্যও বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ।   বৃহস্পতিবার সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তনের দাবি জানানো কোনও অপরাধ নয়। ভারতে শাসন পরিবর্তন অবশ্যই হবে। আমরা সবাই শাসন পরিবর্তন চাই। এতে কি কোনো সমস্যা আছে?”   ইন্ডিয়া টুডের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, প্রকাশ্যে ‘সরকার পরিবর্তনের’ যৌক্তিকতা সমর্থনের পরই মূলত বিজেপির প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির ভারতের সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি।   বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র ও সংসদ সদস্য সম্বিত পাত্র বলেছেন, “তার (ধ্রুব রাঠি) চেয়ে বড় দেশবিরোধী আর কেউ হতে পারে না।”   অন্যদিকে রাজনাথ সিংয়ের শুক্রবারের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ‘জজ্ঞু গোয়েন্দা’ ও ‘শার্লক হোমস’ হিসেবে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পর নির্বাচনে যেভাবে সরকার পরিবর্তন হয়েছিল, বিরোধী দলও তেমনি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।”   পবন খেরা স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতে গণতন্ত্রে সরকার কীভাবে পরিবর্তিত হয়? অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমে। যখনই কোনো বিরোধী দল রাজপথে নামে, সেখানে একটি আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং সরকার পরিবর্তিত হয়। নির্বাচন ছাড়া বিরোধীদের আর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে?”   ইন্ডিয়া টুডের মতে, দিল্লিতে প্রতিবাদকারীদের ওপর পুলিশি নিপীড়ন, এসআইআর বিতর্কের মধ্যে এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ চরম রূপ নিয়েছে। এমনকি বিজেপির জাতীয় শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এতে ‘বিদেশি শক্তির হাত’ থাকার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।   বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস ও সিজেপি ‘বিদেশি শক্তির’ নির্দেশে কাজ করছে।   ঠিক কী বলেছিলেন প্রশান্ত ভূষণ দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়াতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আইসা সভাপতি নেহা বোরা, রাজ্যসভার সংসদ সদস্য কপিল সিব্বল, অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং অন্যান্য নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।   নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।   সেখানে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “এই সরকার বারবার বলে চলেছে, এটি নাকি বিরোধীদের পরিচালিত সরকার পরিবর্তনের নীল নকশা। আমরা তো কেবল এই দেশের নির্বাচনি গণতন্ত্রকে বাঁচানোর আবেদন জানাচ্ছি। কিন্তু এই ধরনের বর্বরতা যদি চলতেই থাকে, তবে নিশ্চিতভাবেই সরকার পরিবর্তন হবে।   “আমরা সবাই তো শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনই চাই। এতে ভুল বা অন্যায়ের কী আছে? সরকার পরিবর্তন প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার, আর সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়।”   তার এ বিস্ফোরক মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে গ্রহণ করে বিজেপি দাবি করেছে, সিইসির পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য কেবল নির্বাচনি সংস্কার নয়, বরং নরেন্দ্র মোদী সরকারকে উৎখাত করা।   যেভাবে উঠে এল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যের আগেই ভারতে চলমান আন্দোলনকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছিল।   ওই আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।   বুধবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় আইসা সভাপতি নেহা বোরা ২০২৪ সালের বাংলাদেশে শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।   ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বলেন, “আজ আমরা ভারতে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা প্রথমে বাংলাদেশে হয়েছিল। আমাদের পথ দেখানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন। আমরা আপনাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাই। আপনাদের পরিচালিত লড়াই থেকে আমরা অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা গ্রহণ করছি।”   ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত জুনে দিল্লিতে সিজেপির যে আন্দোলন হয়েছিল সেখানেও অংশ নিয়েছিলেন জেএনইউ শিক্ষার্থী নেহা।   এছাড়া সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে পদযাত্রাও করেছে কংগ্রেস তথা ইনডিয়া জোট, সেখানেও তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে।   ফলে নেহার এ বক্তব্য বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিজেপি। নেহার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে শেয়ার করেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি।   এই ছাত্রনেতাকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘পোস্টার গার্ল’ আখ্যা দিয়ে ভান্ডারি লেখেন, “নেহা বোরা বলছেন বাংলাদেশ নাকি আমাদের বিপ্লবের পথ দেখিয়েছে! এটা কি সরকার পরিবর্তনের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি নয়? রাহুল গান্ধী এবং তার সঙ্গীরা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি!”   ইন্ডিয়া টুডে বলছে, নেহা বোরা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার রক্ষার অনুপ্রেরণা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু বিজেপি সেটিকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনাকে হঠানোর কৌশলকে সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো কিছু অভিযোগ, যেখানে দাবি করা হচ্ছে বিরোধীদের আন্দোলনের পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জড়িত রয়েছে।   ‘বাংলাদেশি মডেলের’ চক্রান্ত দেখছে বিজেপি ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, বিজেপি মনে করছে প্রশান্ত ভূষণ ও নেহা বোরার বক্তব্যগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সিজেপির আন্দোলন, বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি এবং কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’ প্রচারণার একটি বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ।   রাজপথে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মোদী সরকারকে অস্থিতিশীল করার এটি এক সুসংহত প্রচেষ্টা বলেও বিজেপি মনে করেছে।   প্রদীপ ভান্ডারি বৃহস্পতিবার নেহার বক্তব্য নিয়ে রাহুল গান্ধীকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করেছেন, সেটিকে শুক্রবার নতুন মাত্রায় নিয়ে যান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।   তিনি অভিযোগ করেন, “দেশের তরুণ সমাজকে অরাজকতার রাজনীতিতে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো রাজপথে সহিংসতা উসকে দিয়ে বাংলাদেশের মতো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে।”   রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। সংঘাতের পথ ছেড়ে আমাদের সংলাপ ও রাষ্ট্রগঠনের পথ বেছে নিতে হবে।”   পরবর্তীতে একে একে বিজেপির অন্য শীর্ষ নেতারাও এ নিয়ে মন্তব্য করেন।   মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এক্সে এক পোস্টে লেখেন, “শেষ পর্যন্ত দেখা গেল সবই ছিল সরকার পরিবর্তনের কৌশল। ছাত্র ও কৃষকদের উসকে দিয়ে, জাতিগত ও ভাষাগত বিভেদ ছড়িয়ে এবং দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে ক্ষমতা দখলই এদের প্রধান লক্ষ্য।”   গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেন, “বিরোধীরা কি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন চায় নাকি সংবিধানবহির্ভূত আন্দোলনের মাধ্যমে? ভারতে জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত ও পরিবর্তিত হয়, বলপ্রয়োগ বা সংবিধান লঙ্ঘন করে নয়।”   বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “প্রশান্ত ভূষণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের লড়াই সরকার পরিবর্তনের জন্য। এই দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের নয়। এটি ১৪০ কোটি মানুষের। তাদের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, সিইসি বা এসআইআর বিষয়গুলো কেবল বাহানা, আসল উদ্দেশ্য অরাজকতা তৈরি করা।”   সিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা ইন্ডিয়া টুড লিখেছে, বিজেপির তীব্র আক্রমণের মুখে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরকার পতনের অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।   বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা কেবল নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা দাবি করছি। আমরা সরকার পরিবর্তনের কথা বলছি না। আমরা শুধু বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে এক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হোক। এটি কি কোনো অপরাধ?”   দীপকে তাদের আন্দোলনকে কংগ্রেস এবং নেহা বোরার বাংলাদেশ কেন্দ্রিক বক্তব্য থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও, বিজেপি তাদের সবাইকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন একই সূত্রে গাঁথছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ককরোচ জনতা পার্টির পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা, মোতায়েন হাজারো পুলিশ

বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে ইসরাইল : বারাক ওবামা

ফাইল ছবি

ইরানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার ও স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের জন্য থাইল্যান্ডের বড় ঘোষণা

কৃষি ও নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে থাইল্যান্ড সরকার। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   গত ১৩ অক্টোবর থাইল্যান্ডের শ্রমনীতি-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে নতুন তিনটি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।   থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে কৃষি ও নির্মাণ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই দুই খাতে শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে গিয়ে নতুন দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।   সম্ভাব্য শ্রমিকের উৎস হিসেবে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শ্রমিক সংকট কমানোর পাশাপাশি কর্মী নিয়োগের উৎস আরও বিস্তৃত করতে চায় থাইল্যান্ড।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিন দেশের জন্য এখনো নির্দিষ্ট নিয়োগ কোটা বা কর্মীর সংখ্যা চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে নিয়োগের প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথম দফার কর্মীরা থাইল্যান্ডে যেতে পারেন। এরপর বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে পারে।   থাইল্যান্ডের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি ও নির্মাণ খাতে কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে কর্মী নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সূচি, সংখ্যা, বেতন, ভিসার শর্ত এবং আবেদনপ্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চাকরির আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাগরের তলদেশে মিলল ৪৭০০ বছরের প্রাচীন জাহাজের নিদর্শন

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে ফের গোপন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের ৪ দেশের কোম্পানির সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে রাশিয়া

0 Comments