সাগর ও নদীর মোহনায় যেখানে মিঠাপানি ও লোনাপানি এসে মেশে, ঠিক সেখানে তৈরি হওয়া চাপকে কাজে লাগিয়েই এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দিনরাত ২৪ ঘণ্টা একটানা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চলেছে। রোদ থাকুক বা না থাকুক, বাতাস বয়ে যাক বা না যাক—কিছুতেই এর কিছু যায়-আসে না।
প্রকৃতি লাখোকোটি বছর ধরে পৃথিবীর প্রতিটি উপকূলে এই চাপ তৈরি করে আসছে। আর এখন জাপানি প্রকৌশলীরা সেই প্রাকৃতিক শক্তিকেই নিজেদের কাজে লাগানোর উপায় বের করে ফেলেছেন।
স্কুলের বিজ্ঞান বইয়ে আপনি নিশ্চয়ই অভিস্রবণের কথা পড়েছেন। যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের শিকড় মাটি থেকে পানি টেনে নেয় বা আমাদের শরীরের কোষগুলো আর্দ্র থাকে, এটি ঠিক সেই একই প্রক্রিয়া। অজমোটিক পাওয়ারের ধারণাটি মূলত এই অভিস্রবণের নীতির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।
সত্তরের দশকে প্রথম ধরিত্রী দিবসের সময় এই ব্লু এনার্জির ধারণা সামনে আসে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যখন একটি বিশেষ অর্ধভেদ্য পর্দার এক পাশে কম ঘনত্বের লবণাক্ত পানি এবং অন্য পাশে বেশি ঘনত্বের লবণাক্ত পানি রাখা হয়, তখন প্রাকৃতিক নিয়মেই মিঠাপানি লোনাপানির দিকে ছুটে যায়।
পানি ও আয়নের এই ছুটে চলার কারণে লোনাপানির অংশে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপকে কাজে লাগিয়েই ঘোরানো হয় বিশাল টারবাইন। সেই টারবাইন ঘুরলেই জেনারেটরের মাধ্যমে তৈরি হয় বিদ্যুৎ।
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ফুকুওকা। এ শহরের আশপাশে বড় কোনো নদী নেই। কিন্তু বৃহত্তর ফুকুওকার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের এই শহরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সুপেয় পানির প্রয়োজন হয়।
এই চাহিদা মেটাতে শহরটিতে আছে উমিনোনাকেমিচি নাতা সি ওয়াটার ডিস্যালিনেশন সেন্টার। স্থানীয়ভাবে একে মামিজুপিয়া বলা হয়। ২০০৫ সাল থেকে এই প্ল্যান্ট সমুদ্রের লোনাপানি থেকে লবণ আলাদা করে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ মানুষের জন্য ৫০ হাজার কিউবিক মিটার সুপেয় পানি তৈরি করে আসছে।
কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় একটি বড় সমস্যা ছিল। সুপেয় পানি আলাদা করার পর যে অতিরিক্ত ঘন লবণাক্ত পানি অবশিষ্ট থাকত, তা আবার সাগরে ফেলে দেওয়া হতো। অন্যদিকে শহরের পয়োনিষ্কাশন কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত মিঠাপানিও সাগরে গিয়ে পড়ত।
জাপানি প্রকৌশলীরা ভাবলেন, এই দুধরনের অব্যবহৃত পানিকে একসঙ্গে কাজে লাগালে কেমন হয়?
এ ভাবনা থেকেই ফুকুওকায় গড়ে তোলা হয়েছে এশিয়ার প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অজমোটিক পাওয়ার প্ল্যান্ট।
২০২৩ সালে ডেনমার্কে প্রথম এমন একটি প্ল্যান্ট চালু হয়েছিল। তবে জাপানের এই প্ল্যান্ট আকারে বেশ বড় এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক বেশি আধুনিক। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার কিলোওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে, যা দিয়ে ২২০ থেকে ৩০০টি সাধারণ পরিবারের সারা বছরের বিদ্যুতের চাহিদা অনায়াসে মেটানো সম্ভব। আপাতদৃষ্টিতে পরিমাণটি খুব বিশাল না হলেও এটি আদতে দুটি ফুটবল মাঠের সমান সোলার প্যানেলের উৎপাদিত বিদ্যুতের সমান।
নবায়নযোগ্য শক্তির কথা উঠলেই আমাদের মাথায় সবার আগে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের নাম আসে। কিন্তু এই দুটি উৎসেরই একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো নির্ভরযোগ্যতা।
সূর্য ডুবে গেলে বা মেঘলা দিনে সোলার প্যানেল কাজ করে না। আবার বাতাস না থাকলে উইন্ড টারবাইন ঘোরে না। এ কারণে এই বিদ্যুৎগুলোকে জমিয়ে রাখার জন্য বড় বড় ব্যাটারির প্রয়োজন হয়।
কিন্তু অজমোটিক পাওয়ারের ক্ষেত্রে এমন কোনো ঝামেলা নেই। ফুকুওকার এই প্ল্যান্ট বছরের ৩৬৫ দিনই ২৪ ঘণ্টা একটানা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। সমুদ্রের লোনাপানি কখনো ফুরিয়ে যায় না, অভিস্রবণপ্রক্রিয়াও কখনো বন্ধ হয় না। আবহাওয়া বা জলবায়ুর ওপর এর কোনো নির্ভরতা নেই।
প্ল্যান্টটির পরিচালনাকারী সংস্থা সিওয়াটার ডিস্যালিনেশন সেন্টারের পরিচালক কেনজি হিরোকাওয়ার মতে, এটি কার্বন নিঃসরণমুক্ত এবং সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য একটি পদ্ধতি। এর প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা আছে।
শুনতে খুব সহজ মনে হলেও অজমোটিক পাওয়ারের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ কিন্তু পাহাড়সম। এর সবচেয়ে বড় বাধা হলো দক্ষতা। লোনা ও মিঠাপানি মেশালে শক্তি তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু এই পানিগুলোকে পাম্প করে পর্দার কাছে আনতে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।
আবার মেমব্রেনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় ঘর্ষণের কারণে শক্তির একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে এর আগে গবেষণাগারে এটি কাজ করলেও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করা কঠিন ছিল।
তবে জাপানের আধুনিক মেমব্রেন প্রযুক্তি এবং শক্তির অপচয় রোধকারী পাম্প এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান করেছে। জাপান ডিস্যালিনেশন মেমব্রেনের বিশ্ববাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
মেমব্রেন বা পর্দার যে সমস্যা বিজ্ঞানীদের এত দিন ভাবাচ্ছিল, জাপানের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান টয়োবো তার সমাধান নিয়ে এসেছে। তাদের তৈরি রিভার্স অজমোসিস মেমব্রেনগুলো বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ টন সুপেয় পানি তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দিয়ে ৬৪ লাখ মানুষের পানির চাহিদা মেটে।
ফুকুওকার বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই উন্নত মেমব্রেন ব্যবহার করায় তা অত্যন্ত উচ্চ চাপেও নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ ছাড়া সাধারণ সমুদ্রের পানির বদলে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ফেলে দেওয়া অতিরিক্ত ঘন লোনাপানি ব্যবহার করায় লবণাক্ততার পার্থক্য অনেক বেড়ে গেছে। ফলে শক্তি উৎপাদনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অজমোটিক শক্তির এ ধারণা নিয়ে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ কাজ করছে। জাপান ও ডেনমার্কের পাশাপাশি নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন ও কাতারেও এর পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সাউথ ওয়েলস ও সিডনির চারপাশের বিশাল লবণাক্ত হ্রদগুলো ব্যবহার করেও এই শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ফুকুওকার প্ল্যান্টটি প্রমাণ করেছে, এই প্রযুক্তি এখন পরীক্ষাগারের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
জাপান শুধু অজমোটিক পাওয়ার নিয়েই থেমে নেই। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য আরও অনেক বড়। তারা এমন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নিয়ে তাকে কৃত্রিম জ্বালানিতে রূপান্তর করবে। এই প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ফটোসিনথেসিস বা কৃত্রিম সালোকসংশ্লেষণ।
গাছপালা যেমন সূর্যের আলো, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে নিজেদের খাবার তৈরি করে, ঠিক একই পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা সূর্যের আলো ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে ইথানল বা হাইড্রোকার্বনের মতো প্রয়োজনীয় রাসায়নিক জ্বালানি তৈরির চেষ্টা করছেন।
জাপানে একে নাসার অ্যাপোলো প্রজেক্টের মতো একটি বৈশ্বিক মিশন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা ফুয়েল সেলে ব্যবহৃত বিশেষ গ্যাস ডিফিউশন ইলেকট্রোড ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে সরাসরি হাইড্রোকার্বনে রূপান্তর করতে সফল হয়েছেন।
এর মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে আগে পানিতে দ্রবীভূত করার ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলেছে। এ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে হাইড্রোকার্বনে রূপান্তরের দক্ষতা পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক সালোকসংশ্লেষণের প্রায় সমান।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই কৃত্রিম সালোকসংশ্লেষণ প্রযুক্তির আংশিক সামাজিক বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করারও পরিকল্পনা আছে, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে পৃথিবীর নির্ভরতা কমানো যায়।
যদি কৃত্রিম সালোকসংশ্লেষণ থেকে তৈরি ইথানলের দাম সাধারণ গ্যাসোলিন বা বায়োইথানলের চেয়ে কমে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে এর বিশাল চাহিদা তৈরি হবে।
গত কয়েক দশকে পুরো বিশ্বের শক্তি উৎপাদনব্যবস্থা একটি দ্বিমুখী সংকটে আটকে আছে। একদিকে পরিবেশ ধ্বংসকারী জীবাশ্ম জ্বালানি, অন্যদিকে সৌর বা বায়ুশক্তির মতো অনিয়মিত নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা। কিন্তু অজমোটিক পাওয়ার ও কৃত্রিম সালোকসংশ্লেষণের মতো প্রযুক্তিগুলো এই দুইয়ের মাঝখানে একটি নতুন পথের সন্ধান দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত বাধাগুলো পার হতে পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ মেটানো সম্ভব হতে পারে এই অজমোটিক পাওয়ারের সাহায্যে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অব্যবহৃত নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে।
এসব প্রযুক্তি এখন আর কোনো তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়; বাস্তবেই কাজ করছে।
ফুকুওকার প্ল্যান্টটি প্রমাণ করেছে, ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট, বন্দর, উপকূলীয় শহর ও দ্বীপ অঞ্চলগুলোয় এই প্রযুক্তি স্থাপন করা সম্ভব। পৃথিবীর যেকোনো উপকূলীয় দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।
আগামী দশকের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলো হয়তো বিশাল কোনো জমকালো ঘোষণার মাধ্যমে আসবে না; আসবে খুব নীরবে। টোকিওর কোনো ল্যাবরেটরিতে কিংবা ফুকুওকার কোনো প্ল্যান্টে সেসব এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। যখন বাকি বিশ্ব এই নতুন প্রযুক্তিগুলোর দিকে নজর দেবে, তত দিনে এর অবকাঠামো পুরোপুরি দাঁড়িয়ে যাবে।
এককথায় বললে, অবশ্যই সম্ভব। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা শত শত নদী এঁকেবেঁকে সোজা গিয়ে মিশেছে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে। অজমোটিক পাওয়ার বা ব্লু এনার্জির মূল শর্তই হলো মিঠাপানি ও লোনাপানির মিলনস্থল।
পদ্মা, মেঘনা বা ব্রহ্মপুত্রের মতো বিপুল জলরাশির মিঠাপানি যেখানে সাগরের লোনাপানির সঙ্গে মিশছে, প্রাকৃতিকভাবেই সেখানে তৈরি হচ্ছে অজমোটিক চাপের বিশাল এক আধার।
আমাদের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা বা মোংলার মোহনাগুলো এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য আদর্শ জায়গা হতে পারে।
তবে জাপানের মতো আমাদেরও কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ আছে। এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র চাইলেই বানানো যাবে, কিন্তু তাতে কতটা লাভ হবে, তা–ও বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি সম্ভব কি না, তা জানতে কথা বলেছিলাম ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্স রিসার্চের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের পরিচালক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম রেজওয়ান খানের সঙ্গে।
এম রেজওয়ান খান বলেন, ‘বিদ্যুৎ তৈরির অনেক পদ্ধতি। গরম ও ঠান্ডার পরিবর্তন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে, সমুদ্রের ঢেউ থেকে হতে পারে। কিন্তু এসব সাধারণত বেশি ব্যবহার করা হয় না। কারণ, এসবে যে খরচ, তা আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থার চেয়ে কম নয়। জাপানের মতো দেশের এই সামর্থ্য আছে। ভবিষ্যতে তারা হয়তো আরও বড় প্রজেক্ট করবে। বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি কাজ না করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, খরচ কত পড়বে। ল্যাবে ছোট টেস্টের জন্য তৈরি করলে তা ভিন্ন জিনিস, কিন্তু আপনি যদি বড় পরিসরে এটা করতে চান, তাহলে খরচের ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই)। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী এ দিন রাখেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য জানান। গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে– এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি। তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়। সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। মামলাটি এরপর তদন্ত করে র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন। তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি। পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়। ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি। গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।
যশোরের শার্শা উপজেলায় ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের শেষ সীমানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে মিদুল হাসান নাহিদ (২৫) এবং একই গ্রামের জমাত আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন ঊষা (২৭)। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের রুবেল (৩০), ট্রলিচালক আমিরুল এবং ট্রলির হেলপার নীরব। আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রোববার রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফুটবল ম্যাচ দেখে ভোরে নাহিদ, ঊষা ও রুবেল একটি মোটরসাইকেলে রুদ্রপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে একটি ইটভাটা থেকে ইট বোঝাই করতে গোগার দিকে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল একটি ট্রলি। রুদ্রপুর এলাকায় পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ ও ঊষার মৃত্যু হয় এবং অপর তিনজন আহত হন। শার্শা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চঞ্চল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেল ও ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর মোজাফ্ফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে বুধবার রাতে মেজর (অব.) মোজাফ্ফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে ডিবি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশ ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় পর তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ডিবি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।