জাতীয়

জাতিসংঘে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন জাইমা রহমান

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক পদে তার অন্তর্ভুক্তির পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে পদটির দায়িত্ব, পরিধি ও নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা চলছে।

 

 

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ১৯০টি সদস্য দেশের গোপন ভোটাভুটিতে ৯৯ ভোট পেয়ে তিনি এ গৌরবময় দায়িত্ব লাভ করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শপথ নেন তিনি। এর আগে ১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। বর্তমানে খলিলুর রহমানের অধীন এক্সিকিউটিভ অফিসের আওতায় লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করবেন জাইমা রহমান।

 

 

 

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী লিগ্যাল অফিসার মূলত জাতিসংঘের প্রধান বা কেন্দ্রীয় আইন বিভাগের কর্মকর্তা নন; বরং তিনি সরাসরি সাধারণ পরিষদের সভাপতির ব্যক্তিগত আইনি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে থাকেন।

 

 


সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ পরিষদে রেজুলেশন বা প্রস্তাব কীভাবে উত্থাপিত হবে, কোনো সদস্য রাষ্ট্র ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুললে সভাপতি কী ধরনের রুলিং দেবেন কিংবা কোনো সংশোধনী আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য কি না—এসব বিষয়ে সভাপতিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াই এই কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব।

 

 

বিশেষ করে ফিলিস্তিন বা ইউক্রেন সংকটের মতো আন্তর্জাতিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে সাধারণ পরিষদের বিতর্কে সভাপতি যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পারেন এবং তার কোনো সিদ্ধান্তকে যেন পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দেওয়া না যায়, সে জন্য জাতিসংঘ সনদের ধারা ও অতীতের নজির বিশ্লেষণ করে সভাপতিকে আইনি সুরক্ষাবলয় তৈরি করে দেন লিগ্যাল অফিসার।

 

 

 

এ ছাড়া কোনো প্রস্তাব জাতিসংঘের প্রচলিত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না অথবা বাজেট সংক্রান্ত প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন দরকার কি না, তাও যাচাই করেন তিনি। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মূল আইন বিভাগসহ বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সভাপতির কার্যালয়ের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে সভাপতির বক্তব্যের খসড়া তৈরিতেও লিগ্যাল অফিসার সহায়তা করেন। সার্বিকভাবে সভাপতির সামগ্রিক কার্যক্রম যেন জাতিসংঘের আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতির ভেতরে থাকে, তা নিশ্চিত করাই এ পদের কাজ।

 

 

 

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে ২৯টি দেশের ছয়টি ভিন্ন ভাষার মোট ৪০ জন কর্মকর্তার একটি দল কাজ করছে। এ তালিকায় জাইমা রহমানসহ মোট ছয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন। অন্য পাঁচজন হলেন কূটনীতিক মো. আব্দুল আলিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা।

 

 

 

নিয়োগের প্রক্রিয়ার বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাতিসংঘের নিজস্ব স্থায়ী পেশাদার কর্মীদের পাশাপাশি সভাপতি তার নিজস্ব এখতিয়ার থেকেও প্রয়োজনীয় লোকবল যুক্ত করতে পারেন। সাধারণত আন্তর্জাতিক আইনে অভিজ্ঞ বা বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের এই পদে নিয়োগের ঐতিহ্য রয়েছে।

 

 

 

সভাপতির কার্যালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে একজন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে যৌথভাবে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের 'দি অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল' থেকে বার-অ্যাট-ল সনদ লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত একজন অ্যাডভোকেট। যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ আইনের ওপর বিনামূল্যে আইনি সহায়তা (প্রো বোনো) দিয়েছেন তিনি। সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিচার পাওয়ার অধিকার এবং শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা তার কাজের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে।

 

 

 

জাইমা রহমানের এই দায়িত্ব প্রাপ্তি প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, এই পদে কাজ করার প্রাথমিক যে প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, তা তার রয়েছে। সভাপতির আইনি সহায়তা টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক আইনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এটি তার জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ সুযোগ।

 

সূত্র: বিবিসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের বিমানবন্দর বিধিনিষেধ: ঢাকা রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ঢাকা-সৌদি রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিটসহ সর্বমোট ১০৭টি ফ্লাইট ব্যাহত বা বাতিল হয়েছে।     সরাসরি এসব ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগো (২২টি), এমিরেটস (১৪টি), কাতার এয়ারওয়েজ (৯টি), সালাম এয়ার (৭টি), ফ্লাই দুবাই (৬টি), এয়ার ইন্ডিয়া (৪টি) ও ইজিপ্ট এয়ারের (১টি) ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।       এসব ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার ফলে সর্বমোট ১৬ হাজার ৬২০ জন বিমানযাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এয়ারলাইনসগুলোর সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ করছে বেবিচক।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ফাইল ছবি

মাঠ পুলিশের জন্য আইজিপির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি

ছবি: সংগৃহীত

এনআইডির নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব নথি লাগবে

ছবি: সংগৃহীত
সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। কর্মসূচি থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের কর্মীরা অংশ নেন।   সাংবাদিক হত্যায় উদ্বেগ, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। এ ধরনের সহিংসতা শুধু একজন গণমাধ্যমকর্মীর জীবন কেড়ে নেয় না, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, আলিফ ফকির হত্যার পেছনে পূর্বপরিকল্পনা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।   অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাঁরা আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদার এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন যারা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সভাপতি এম আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় এবং টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বাবুল হোসেন। এ ছাড়া নিউজ চ্যানেল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক এএসএম হোসাইন শাহীদ, ময়মনসিংহ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম উজ্জ্বল এবং সাংবাদিক নিয়ামুল কবীর সজলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   যেভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরির উৎরাইল এলাকার তেলুনজিয়া গ্রামে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা বলে জানা গেছে। নিহত আলিফ ফকির একজন সাবেক সেনাসদস্য ছিলেন। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন তথ্য ও পোস্ট প্রকাশ করতেন বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকরা।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফের হেফাজত থেকে ফিরলেন দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্য

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানে ৯২টি ককটেলসহ প্রায় ১২ কেজি গানপাউডার উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা সীমান্তে দুই পুলিশ সদস্য বিএসএফের হেফাজতে, ফেরাতে যোগাযোগ করছে বিজিবি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্ত থেকে বাংলাদেশ পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।   হেফাজতে নেওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন এএসআই ইমরান ও কনস্টেবল রোহিত। বিজিবি জানিয়েছে, তাঁরা অক্ষত রয়েছেন এবং তাঁদের শিগগিরই ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।   বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। তাঁদের শিগগিরই ফেরত পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তিনি আরও জানান, দুই পুলিশ সদস্যের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে এবং তাঁদের কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি বলে জানা গেছে। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।   পাহাড় ও জঙ্গলঘেরা সীমান্ত এলাকা ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কখনো কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে ঘটনাটি ঘটেছে এমন একটি এলাকায়, যেখানে পাহাড় ও জঙ্গল রয়েছে। তিনি জানান, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার আওতাধীন শশীদল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কমলনগরে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইলিশ পরিবহন, আটক ৪; জব্দ ৩ মণ মাছ

ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২৬ বছর বয়সী যুবক

0 Comments