বিশ্ব

জাতীয় সরকার নয়, এককভাবেই ক্ষমতায় যাবে বিএনপি : তারেক রহমান

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া এই প্রস্তাব নাকচ করে তিনি বলেছেন, তার দল এককভাবেই সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী।

 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন। লন্ডনে প্রায় দুই দশক নির্বাসনে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ও তার মায়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা। তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি সম্প্রতি আবার সক্রিয় হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুই দল একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। দেশকে স্থিতিশীল করতে জাতীয় সরকার গঠনের জন্য আবারও অংশীদারত্বে আগ্রহের কথা জানিয়েছে জামায়াত।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলছে।

বিএনপির কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, মা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বাবার ছবির নিচে বসে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। কিন্তু তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা ভালো বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।’

বিএনপির অন্যান্য সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

তবে আসনের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব।’

সব মতামত জরিপেই বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস থাকলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলছে। এই জোটে রয়েছে একটি জেনারেশন জেড রাজনৈতিক দল, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।

ঢাকার একটি আদালত গত বছর দমন-পীড়নে ভূমিকার দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে এবং এরপরও ভারত তাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। এর ফলে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পায়।

জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না; এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সক্ষম এমন অংশীদার প্রয়োজন বাংলাদেশের।’

তিনি বলেন, আমরা যদি সরকারে আসি, ‘তাহলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি হয় এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমাদের মানুষের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে; কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।’

শেখ হাসিনার সন্তানরা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, জনগণ যদি তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে।’

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও চরম দারিদ্র্যপীড়িত দেশ বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবেশী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে একাধিক দমন-পীড়নের মুখে তারা পালিয়ে আসে।

অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানায়, নানা চ্যালেঞ্জের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান জানায়।

 

তারেক রহমান বলেন, ‘তিনিও চান রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক, তবে তা কেবল নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে।আমরা চেষ্টা করব যেন তারা নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। সেখানে যাওয়ার মতো নিরাপদ পরিস্থিতি থাকতে হবে। যত দিন তা নিরাপদ না হবে, তত দিন তারা এখানে থাকতে পারবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হোটেলে আগুন লাগতেই পালালেন মালিক, গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় তিনি ভবনের কাছেই ছিলেন, কিন্তু ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। ইন্ডিয়া টুডের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বাজাজ ঘটনার দিন কী কী ঘটেছে তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আগুন লাগার পর তিনি ভবনটির পাশ দিয়ে গেলেও পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান। পরে তিনি বাড়িতে না ফিরে দীর্ঘ সময় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। এরপর পুলিশ তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। বুধবার সকালে দিল্লির ওই হোটেলটিতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবন থেকে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও বিদেশি নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, হোটেলটির জন্য কখনও ফায়ার সেফটি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে বাজাজ নিজেই এই তথ্য স্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিদ্যমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ভবনটি হয়তো এমন ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্যই ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, বাজাজ ২০২২ সালে ভবনটি কিনে নেন। এর আগে সেখানে একটি খাদি দোকান ছিল এবং ভবনটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। পরে তিনি ভবনটি ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি এটিকে হোটেল ও গেস্ট হাউসে রূপান্তর করেন। বাজাজ দাবি করেছেন, তিনি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট, পর্যটক আবাসন এবং একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে এসব অনুমোদনের বৈধতা ও পরিধি এখন যাচাই করছে পুলিশ। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হোটেলটির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যিনি ছিলেন, তিনি একই সঙ্গে হিসাবরক্ষকের দায়িত্বও পালন করতেন। হোটেল-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও লাইসেন্স তার নামেই নিবন্ধিত বলে জানা গেছে। বর্তমানে সেই ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, ভবন নির্মাণ বিধিমালা ও লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে মামলা করেছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিশানায় কিউবার প্রেসিডেন্ট

ছবি : সংগৃহীত

ইউরেনিয়াম উৎপাদন কেন্দ্র খুলল উত্তর কোরিয়া

ল্যান্ডিং গিয়ার ভেঙে পড়ে আছে উড়োজাহাজ। ছবি : সংগৃহীত

জার্মানিতে ভেঙে পড়লো উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
হাদি হত্যা নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, মমতার বিরুদ্ধে মামলা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২ জুন রানি রাসমণি রোডের এক জনসভায় বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বক্তব্যে ওসমান হাদির নাম উল্লেখ না করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার ইঙ্গিত দেন। এরপরই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি,  ডিসেম্বরে বাংলাদেশে বিতর্কিত ওসমান হাদি খুন হন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এলে রাজ্যের এসটিএফ দুজনকে গ্রেফতার করে। রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় বলেন, উনি মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যে কথাই হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে উনি কোনোদিন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি উনি মৌলবাদীদের উসকে দিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২ জুনের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত করেন যে, অন্য দেশে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তিনি জানেন এবং সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামও টানেন। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেই অভিযোগকারীর দাবি। অভিযোগে বলা হয়েছে ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল। অন্যদেশের কথা বলছি না, আমি যে পয়েন্ট বলছি ওরা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় আসে। এখানে আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। হোম মিনিস্টার নিজে বলছেন…এতদিন বলিনি আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বললাম। উনি বললেন…আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন এই কথা বাইরে যেন না বলে। এটা দেশের জন্য। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল…আমি সব জানি। আমার হৃদয় সত্য ভান্ডার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫২ ধারা, ১৫৩ ধারা (দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উসকানি ও জাতি-ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো), ১৫৩এ ধারা (ধর্ম, জাতি, ভাষা বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, হিংসা বা ঘৃণা ছড়ানো), ১৯১ ও ১৯২ ধারা (দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা), ১৯৬ ধারা (ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিদ্বেষ ছড়িয়ে জনসম্প্রীতি বিনষ্ট), ৩৫১ ধারা (ভয় দেখিয়ে কাউকে কোনও কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা) এবং ৩৫২ ধারা (ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্য)। সূত্র: টিভি নাইন

মারিয়া রহমান জুন ০৪, ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ফাইল ছবি: এপি

ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি

তিন অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন যুদ্ধ ও শান্তির এক অস্বস্তিকর দোলাচলে ঝুলে রয়েছে। ফাইল ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি, বাস্তবে রণক্ষেত্র গাজা-লেবানন-ইরান

ছবি : সংগৃহীত

সামরিক পরাজয়ের পর শত্রুরা গুপ্তযুদ্ধে নেমেছে: মোজতবা খামেনি

ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েলকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব : আইআরজিসি কমান্ডার

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স প্রধান ইসমাইল কানি বলেছেন, লেবাননের প্রধান দাবি হলো ইসরায়েলি সেনাদের যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।   তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা তাদের প্রতিরোধের ফল খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন।  লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহকে সমর্থন করা ‘সব মুসলমানের দায়িত্ব’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েলকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব। এদিকে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাশেম বৃহস্পতিবার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি, চলমান আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা সফল হওয়ার এটাই হয়তো শেষ সুযোগ। তার মতে, আলোচনার সময় বেশ কয়েকবার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হস্তক্ষেপ করায় আলোচনা আবার এগিয়ে যায়। সব পক্ষ সম্মতি দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব পাস হওয়ায় ক্ষোভ ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলি জেনারেলের গাড়িতে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা

ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পরিবর্তন

0 Comments