সারাদেশ

জঙ্গল ছলিমপুরে ১০ কিমি সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনী

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনন্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ সোমবার দুপুরে জঙ্গল ছলিমপুরে রাস্তা নির্মান নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনন্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ সোমবার দুপুরে জঙ্গল ছলিমপুরে রাস্তা নির্মান নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।


সোমবার দুপুরে সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনন্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।


তিনি বলেন, “রাস্তাটি আলীনগর স্কুল থেকে ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোডের তিন নম্বর বাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে সংযুক্ত হবে। এখানে আলীনগর স্কুল থেকে চারটা রোড চারদিকে বিস্তৃত আছে। এই সড়কগুলো নির্মাণ হয়ে গেলে বায়েজিদ লিংক রোড থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে এবং ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড থেকে এই তিনদিক থেকেই খুব সহজেই মানুষ চলাচল করতে পারবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এটা অত্যন্ত সুগম হবে।


“তারা তাদের দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে পারবে। কিছুটা মহাসড়ক থেকে বাইপাস করে বায়েজিদ লিংক রোডে আসার একটু সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য, এই এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মান যেন উন্নয়ন হয়। তারা যেন এই রাস্তার উপকারটা ভোগ করতে পারে।”


সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুট হবে জানিয়ে কামরুল আল মাসুদ বলেন, “নির্মাণের সময়টা এখনো পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সব প্রাক্কলন ও প্রকল্প অনুমোদন হলে আরো নিশ্চিত করে বলতে পারব। সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৬-৭ মাস লাগবে।


“এটা এলজিইডির মাধ্যমে হচ্ছে। ডিপিএম (ডেলিকেট প্রকিউরমেন্ট মেথড) সেনাবাহিনীকে অর্পিত করা হবে। অর্থায়ন এলজিইডির মাধ্যমে হলেও সেনাবাহিনী এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করবে।”


এর আগে গত ৩১ মে জঙ্গল ছলিমপুরে পরিদর্শনে এসে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কর্তৃক জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই এলাকার জনগণের সুবিধার্থে এখানকার রাস্তা নির্মাণের বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং প্রাক্কলনের কাজ এলজিইডি কর্তৃক চলমান রয়েছে।


“তবে দেশের স্বার্থে এবং জঙ্গল ছলিমপুরের সাধারণ জনগণের স্বার্থে সেনাবাহিনীর মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে আমরা কাজটি অতি দ্রুততার সঙ্গে শুরু করেছি। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমাদের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা হচ্ছে, এই এলাকার যে দুর্বল পাহাড়গুলো আছে সেগুলোকে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা। অতি দ্রুততার সঙ্গে আমরা এটা করব ইনশাল্লাহ।”


জঙ্গল ছলিমপুর এলাকাটি যেহেতু পাহাড়ি তাই ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনার পাশাপাশি সেখানে বেশকিছু কালভার্ট এবং নূন্যতম তিনটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন এ সেনা কর্মকর্তা।


এছাড়া এখানকাটিতে ভূমি ধস এবং অন্যান্য বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এসে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রিটেইনিং স্ট্রাকচারও এই রাস্তার সঙ্গে সংযোজন করা হবে তথ্য দেন তিনি।


কামরুল আল মাসুদ বলেন, “এই এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের নিজস্ব সিকউরিটি ক্লোজ প্রোটেকশন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। আমরা শতভাগ নিশ্চিত করে কাজ করছি। প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি সবার সহায়তায় আমরা এই কাজটি চলমান রেখেছি।”


চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের 'দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য' তকমা পাওয়া জঙ্গল ছলিমপুর বেশ কিছুদিন ধরেই নানাভাবে আলোচিত। গত ১৯ জানুয়ারি র‌্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে সেখানে অভিযানে যায়। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র‌্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।


এরপর গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩১৮৩ জন সদস্যকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানে সন্ত্রাসীদের অনেককে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলেছিল পুলিশ। সে সময় জঙ্গল ছলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পূর্ণ অধিকার ও আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও দাবি করেছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।


তবে সবশেষ ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল ছলিমপুরের মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে আবার ত্রিমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চালানোর পাশাপাশি নির্মাণাধীণ একটি ক্যাম্প তারা ভেঙে দেয় সেদিন।


এর পরই ৩১ মে জঙ্গল ছলিমপুরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনীর কী কী সুযোগ সুবিধা করা যায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা বলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনন্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ সোমবার দুপুরে জঙ্গল ছলিমপুরে রাস্তা নির্মান নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জঙ্গল ছলিমপুরে ১০ কিমি সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনী

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। সোমবার দুপুরে সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনন্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “রাস্তাটি আলীনগর স্কুল থেকে ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোডের তিন নম্বর বাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে সংযুক্ত হবে। এখানে আলীনগর স্কুল থেকে চারটা রোড চারদিকে বিস্তৃত আছে। এই সড়কগুলো নির্মাণ হয়ে গেলে বায়েজিদ লিংক রোড থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে এবং ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড থেকে এই তিনদিক থেকেই খুব সহজেই মানুষ চলাচল করতে পারবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এটা অত্যন্ত সুগম হবে। “তারা তাদের দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে পারবে। কিছুটা মহাসড়ক থেকে বাইপাস করে বায়েজিদ লিংক রোডে আসার একটু সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য, এই এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মান যেন উন্নয়ন হয়। তারা যেন এই রাস্তার উপকারটা ভোগ করতে পারে।” সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুট হবে জানিয়ে কামরুল আল মাসুদ বলেন, “নির্মাণের সময়টা এখনো পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সব প্রাক্কলন ও প্রকল্প অনুমোদন হলে আরো নিশ্চিত করে বলতে পারব। সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৬-৭ মাস লাগবে। “এটা এলজিইডির মাধ্যমে হচ্ছে। ডিপিএম (ডেলিকেট প্রকিউরমেন্ট মেথড) সেনাবাহিনীকে অর্পিত করা হবে। অর্থায়ন এলজিইডির মাধ্যমে হলেও সেনাবাহিনী এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করবে।” এর আগে গত ৩১ মে জঙ্গল ছলিমপুরে পরিদর্শনে এসে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কর্তৃক জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই এলাকার জনগণের সুবিধার্থে এখানকার রাস্তা নির্মাণের বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং প্রাক্কলনের কাজ এলজিইডি কর্তৃক চলমান রয়েছে। “তবে দেশের স্বার্থে এবং জঙ্গল ছলিমপুরের সাধারণ জনগণের স্বার্থে সেনাবাহিনীর মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে আমরা কাজটি অতি দ্রুততার সঙ্গে শুরু করেছি। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমাদের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা হচ্ছে, এই এলাকার যে দুর্বল পাহাড়গুলো আছে সেগুলোকে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা। অতি দ্রুততার সঙ্গে আমরা এটা করব ইনশাল্লাহ।” জঙ্গল ছলিমপুর এলাকাটি যেহেতু পাহাড়ি তাই ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনার পাশাপাশি সেখানে বেশকিছু কালভার্ট এবং নূন্যতম তিনটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন এ সেনা কর্মকর্তা। এছাড়া এখানকাটিতে ভূমি ধস এবং অন্যান্য বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এসে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রিটেইনিং স্ট্রাকচারও এই রাস্তার সঙ্গে সংযোজন করা হবে তথ্য দেন তিনি। কামরুল আল মাসুদ বলেন, “এই এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের নিজস্ব সিকউরিটি ক্লোজ প্রোটেকশন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। আমরা শতভাগ নিশ্চিত করে কাজ করছি। প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি সবার সহায়তায় আমরা এই কাজটি চলমান রেখেছি।” চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের 'দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য' তকমা পাওয়া জঙ্গল ছলিমপুর বেশ কিছুদিন ধরেই নানাভাবে আলোচিত। গত ১৯ জানুয়ারি র‌্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে সেখানে অভিযানে যায়। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র‌্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এরপর গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩১৮৩ জন সদস্যকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানে সন্ত্রাসীদের অনেককে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলেছিল পুলিশ। সে সময় জঙ্গল ছলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পূর্ণ অধিকার ও আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও দাবি করেছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। তবে সবশেষ ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল ছলিমপুরের মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে আবার ত্রিমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চালানোর পাশাপাশি নির্মাণাধীণ একটি ক্যাম্প তারা ভেঙে দেয় সেদিন। এর পরই ৩১ মে জঙ্গল ছলিমপুরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনীর কী কী সুযোগ সুবিধা করা যায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা বলেন।

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রবিন খুদা দেশে এক টাকাও বিনিয়োগ করেননি, কিন্তু কেন?

ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে স্মার্ট ও নিরাপদ করার নির্দেশ বিদ্যুৎ মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

দোকানপাট খোলার সময় বাড়ানোর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যবসায়ীদের চিঠি

ছবি: সংগৃহীত
বাঘ-কুমিরের চেয়েও বড় আতঙ্ক দস্যু

রাত তখন প্রায় ১১টা। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর ‘বাচা কলাগাছিয়া’ এলাকায় কাঁকড়া শিকার করছিলেন দুই ভাই। হঠাৎ তিনটি নৌকায় এসে হাজির ১১-১২ জন সশস্ত্র দস্যু। নিজেদের ‘নানা ভাই বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে তারা একজনকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে অন্য ভাই জানান, বনে ঢোকার আগেই বিকাশে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ‘অনুমতি’ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দস্যুদের কাছে নম্বরের সঙ্গে সেই নম্বরের মিল না পাওয়ায় শেষ রক্ষা হয়নি। গভীর রাতে বাড়ি থেকে আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পর ভোরে মুক্তি মেলে দুই ভাইয়ের।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী দুই ভাই বলেন, ‘টাকা দিয়েও এখন বনে যেতে ভয় লাগে। দস্যুরা কীভাবে সব খবর আগেই পেয়ে যায়, সেটাই বুঝি না।’   গত ১১ মে খুলনার বটিয়াঘাটার মো. হাসান ও তার তিন সহযোগী শরীফ বাহিনীর হাতে জিম্মি হন। দস্যুরা মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ২০ মে শরণখোলা রেঞ্জে বন বিভাগের স্মার্ট প্যাট্রল টিমের অভিযানের পর তারা মুক্ত হন।   সুন্দরবনের বনজীবীদের কাছে এমন ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়। মাছ, কাঁকড়া, মধু কিংবা গোলপাতা সংগ্রহে বনে ঢুকতে হলেই দিতে হচ্ছে চাঁদা। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও মিলছে না নিরাপত্তা। অপহরণ, নির্যাতন আর মুক্তিপণের আতঙ্কে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলের হাজারো পরিবার।   দস্যুমুক্ত’ ঘোষণার পর ফের পুরোনো আতঙ্ক   ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন ছোট-বড় প্রায় ৩৫টি বাহিনীর কয়েকশ সদস্য আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু বনজীবীদের দাবি, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কারাগার ভাঙার ঘটনায় খোকা বাবু বাহিনীর প্রধান খোকা বাবুসহ কয়েকজন দস্যু সহযোগী পালিয়ে যায়– এ তথ্য নিশ্চিত করেন সাতক্ষীরা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার।    বর্তমানে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে আলিম ওরফে আলিফ বাহিনী, জোনাব বাহিনী, নানা ভাই বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি বনজীবীদের। একইভাবে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জেও কয়েকটি নতুন উপদল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে করিম শরীফ বাহিনী, ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর, শরীফ বাহিনী, আছাফুর বাহিনী, গাজী বাহিনী, মুক্তার বাহিনী ও দুলাভাই বাহিনী অন্যতম।   হরিনগর গ্রামের সবুর গাইন বলেন, ‘আগে বাঘ-কুমিরের ভয় ছিল, এখন তার চেয়েও বড় ভয় জলদস্যু।’ বাগেরহাটের শরণখোলার এক মৌয়াল বলেন, ‘এখন মধু কাটার চেয়ে ডাকাতদের চোখ ফাঁকি দেওয়া বেশি কঠিন।’   পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও এজেডএম হাসানুর রহমান জানান, সুন্দরবনের দস্যু দমনের মূল দায়িত্ব এখন কোস্টগার্ডের ওপর রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই কোস্টগার্ডকে তথ্য দেওয়া ছাড়াও দস্যু দমনে যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নতুন কয়েকটি তালিকাভুক্ত বাহিনীর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। তবে সীমিত জনবল ও অস্ত্র নিয়ে বিস্তীর্ণ জলসীমায় সংঘবদ্ধ দস্যুদের নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।   ‘ছয় মাসের কার্ড’, দেড় মাসেই নতুন দাবি   শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের বনজীবী জবেদ আলীর কণ্ঠে ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব স্পষ্ট। প্রায় তিন দশক ধরে সুন্দরবনে যাতায়াত করা এই বনজীবী বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দুই সহযোগীসহ বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিভিন্ন বাহিনীকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ‘কার্ড’ও সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু দেড় মাস পার হতেই আবার নতুন করে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ‘সমিতির ঋণ শোধ করতে পারিনি। আবার ডাকাতরা টাকা চাইছে। এখন না পারছি বনে যেতে, না পারছি সংসার চালাতে’– বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।   একই ধরনের অভিজ্ঞতা পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের জেলে-বাওয়ালিদেরও। মোংলার রামপাল থানার ভাগা বাজার এলাকার হাসান জানান, দস্যুদের দেওয়া টোকেন বা কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বনের গহিন খালে নতুন কোনো উপদলের মুখে পড়তে হচ্ছে। সেখানে আগের কার্ডের কোনো স্বীকৃতি মিলছে না, দিতে হচ্ছে নতুন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা।   স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, আগে দস্যুরা বনের ভেতরে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করলেও এখন ‘কার্ড সংস্কৃতি’ চালু করেছে। ৫, ১০ ও ২০ এবং ৫০ টাকার নোটকে ‘কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে আগেভাগেই টাকা আদায় করা হচ্ছে। পাঁচ টাকার নোটের ভিত্তিতে এক গোন আর ১০ ও ২০ টাকার নোটে এক মৌসুম এবং ৫০ টাকার নোটের মাধ্যমে ফিশিং ট্রলারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট নম্বরের সেই নোট দেখিয়েই বনজীবীদের বনে চলাচল করতে হচ্ছে।   প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়’ দস্যু তৎপরতা   সুন্দরবনের মাছ ধরার লাভজনক এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু প্রভাবশালী নৌকার মালিক, মাছ ব্যবসায়ী, আড়তদার ও মহাজন চক্র জলদস্যুদের পেছন থেকে সহায়তা দেয়। সাধারণ জেলেরা যাতে সব এলাকায় স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য দস্যুদের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।   বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের জেলে আব্দুল হাকিম গাজী বলেন, ‘বড় কোম্পানির সঙ্গে বিরোধ করে বনে টেকা যায় না। তাদের বিরাগভাজন হলে দস্যুদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়।’ তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী অয়ন কোম্পানির মালিক মোজাহিদুল ইসলাম অয়ন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দস্যুদের সঙ্গে কোনো আর্থিক সম্পর্ক নেই, বিপদে পড়া জেলেদের মানবিক সহায়তা করা হয় মাত্র।’   খুলনা রেঞ্জের কয়রা উপজেলার গোবরা এলাকার বনজীবী সফি ও বিল্লাল হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া শিকার ও মধু সংগ্রহে জড়িত। বর্তমানে সুন্দরবনে যেতে হলে মহিদুল ও মিন্টুর মালিকানাধীন ‘খাটো মিন্টু কোম্পানি’ থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে হয়।    কোটি টাকার ‘কার্ড বাণিজ্য’   ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকারি ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জ– সাতক্ষীরা, খুলনা, চাঁদপাই ও শরণখোলায় প্রায় ১১ হাজার অনুমোদিত নৌকার বিপরীতে প্রায় ২৬ হাজার বনজীবী ও জেলে লক্ষাধিকবার বনে প্রবেশ করেছেন। তবে এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জ ও চাঁদপাই রেঞ্জের চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে বনজীবীদের কাছ থেকে চলতি মৌসুমে দস্যুরা মোট দুই কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই রেঞ্জে ১৫০০টি নৌকা থেকে ১০-২৫ হাজার টাকা দরে ‘অগ্রিম কার্ড’ বিক্রি করে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং দুই শতাধিক জেলেকে জিম্মি করে আরও ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া মৌয়ালদের কাছ থেকে মৌসুমি চাঁদা বাবদ ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং জিম্মি হওয়া ৩০ জন মৌয়ালের কাছ থেকে আরও ৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে।    একইভাবে খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জ থেকে প্রায় সমপরিমাণ মুক্তিপণ ও চাঁদাবাজি বাবদ অর্থ আদায় করা হয়েছে। তবে চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায়ের তথ্য রয়েছে। চলতি মৌসুমে সেখানকার জেলেপ্রতি ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা আদায় করছে দস্যুরা। এভাবে অন্তত ২৫ কোটি টাকার ওপরে আদায় হয়েছে এ রেঞ্জ থেকে। সহজ কথায়, বৈধ পারমিট নিয়ে বনে গেলেও সুন্দরবনের নিরীহ জেলে ও মৌয়ালদের দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।   অভিযান চলছে, আতঙ্ক কাটছে না   কোস্টগার্ড জানায়, ‘রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযানে গত ১৯ মাসে ৬৯ দস্যু ও সহযোগী আটক হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ৬৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০০ রাউন্ড গুলি। জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়েছেন ১০৪ জেলে ও দুই পর্যটক।   শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, মুক্তিপণের টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত মোবাইল ট্র্যাক করে কয়েকজন বিকাশ ব্যবসায়ী ও দস্যুদের সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। তবে বনজীবীরা বলছেন, সমন্বিত অভিযান ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। ‘দস্যুমুক্ত’ সুন্দরবন আবারও জলদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৫০% ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে ‘বিপাকে’ আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক সংকটের ধাক্কায় কাঁপছে খাতুনগঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত ২

মগবাজারে মোটরসাইকেল চালকের ধাক্কা, বাসচাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের

রাজধানীর মগবাজারে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় এ আর আক্তারুল আলম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর আগে এক মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা ও তর্কবিতর্কের ঘটনায় তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে বাসটি তাকে চাপা দেয়। রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাতিরঝিল এলাকার মগবাজার ওয়্যারলেস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আক্তারুল আলমের বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ডেপুটিয়া গ্রামে। তিনি ইউসুফ মল্লিকের ছেলে। বর্তমানে পরিবারসহ রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশসূত্রে জানা গেছে , সন্ধ্যার দিকে আক্তারুল আলম ওয়্যারলেস মোড় দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল চালক তাকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। ঠিক তখনই আজমেরী গ্লোরি পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা প্রথমে তাকে স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন জানান, ঘটনার পরপরই মোটরসাইকেল চালককে আটক করা হয়েছে এবং বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক পালিয়ে গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালে নিহতের ছেলে ইমাম মেহেদী পরম জানান, তার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তিনি বাবার মরদেহ দেখতে পান।  

মারিয়া রহমান জুন ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

অসহায়ের ছদ্মবেশে আশ্রয়, পরে আশ্রয়দাতার শিশু অপহরণ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের উত্তেজনায় টিভি শোরুমে ক্রেতাদের ঢল

ছবি: সংগৃহীত

‘শুধু ফাঁসির রায় নয়, তা কার্যকরও করতে হবে’

0 Comments