আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে রুশ হামলায় শিশুসহ নিহত ৫

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে চার বছরের চলা সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনার তোরজোড়ের মধ্যেই ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটিতে চালানো পৃথক হামলায় এক শিশুসহ পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

 

দক্ষিণাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের একটি শিল্পকেন্দ্রে চালানোর বিষয়ে স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর হানঝা বলেন, শিল্পকেন্দ্রে কাজ করার সময় শত্রুপক্ষের হামলায় শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই অঞ্চলের নিকোপোল জেলায় পৃথক আরেকটি হামলায় ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ও একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলের দুটি ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয় কারখানাগুলোকে ইউক্রেনের সামরিক উৎপাদনের জন্য ধাতব পণ্যের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে বর্ণনা করেছে।

 

অন্যদিকে ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রাতের বেলা রাশিয়ার হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো। বোরিসপিল জেলায় হামলার ফলে সৃষ্ট আগুনে নয়তলা একটি আবাসিক ভবন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, রুশ বাহিনী রাতের বেলা দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলের একটি শপিং সেন্টারে বারবার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী আহত হয়েছেন। জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের বারবার নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছিল এবং পরিস্থিতি অনুকূল হওয়া মাত্রই তারা আবার কাজে ফিরেছিলেন।

 

দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া তাদের রোস্তভ ও ভোরোনেজ অঞ্চল থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং রাতের বেলা ১৬৭টি আক্রমণকারী ড্রোন মোতায়েন করেছে। ড্রোনগুলোর মধ্যে ছিল শাহেদ-টাইপ (যার প্রায় অর্ধেকই জেট-চালিত), গেরান এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বা ‘ডিকয়’। বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১২৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

 

অন্যদিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতের বেলা ইউক্রেনের ৫৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

 

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া রাতে কিয়েভ ও বোরিসপিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। তিনি এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে রাশিয়ার এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিমানে করে ইউক্রেন সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতিরই একটি প্রতিক্রিয়া। আমরা রাশিয়ার এই পদক্ষেপটি আমলে নিয়েছি এবং আগামী সপ্তাহে রুশ আকাশসীমা নিয়ে আমাদের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করব।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি জানান, মস্কো ও কিয়েভ উভয় স্থানেই বৈঠকের জন্য প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের আলোচক দল মার্কিন পক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৫ দিনেই চাকরি হারালেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেটি জাকারিয়া

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে পাঁচ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন ও রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জাকারিয়াকে পদে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।   শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জাকারিয়াকে তিনি বলেছেন, “সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি নিয়ে আবার ভাবতাম।”   ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে জাকারিয়ার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন এবং সিদ্ধান্ত তার ওপর ছেড়ে দেবেন। তবে এই দায়িত্বের জন্য জাকারিয়ার আদৌ উপযুক্ত কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।   “আমি তাকে বলেছি, ‘কেটি, আপনার কি এই দায়িত্বের প্রয়োজন আছে? আমার মনে হয় না আপনার এটা প্রয়োজন’।   এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, জাকারিয়া প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে যাচ্ছেন।   পরে রয়টার্সকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজও জানিয়েছিল, তিনি পদটি ছেড়ে দিচ্ছেন।   গত সোমবার দায়িত্ব শুরু করেন জাকারিয়া। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।   কিন্তু ওই সংবাদ সম্মেলনের পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পর থেকেই তার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।   জাকারিয়া এর আগে রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে টেলিভিশনে কাজ করেছেন। পাশাপাশি যোগাযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তিনি।   গত ৯ অক্টোবর তাকে প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।   ট্রাম্প সে সময় জাকারিয়াকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তার আইনজীবী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া জাকারিয়া আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণী বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   পরে ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া স্বীকার করেন, ওই পরীক্ষায় তিনি পাস করেননি।   মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়াকে বেশ স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়। তিনি মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন।   পরে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বললে তা নিয়ে সমালোচনা হয়।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম সংবাদ সম্মেলনের পর ট্রাম্প নিজে জাকারিয়ার পারফরম্যান্সকে তার কয়েকজন উপদেষ্টার মত অতটা খারাপ মনে করেননি। তবে পরের সাক্ষাৎকারগুলো, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে শন হ্যানিটির সঙ্গে ফক্স নিউজে তার কথোপকথন, এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা দেখে ট্রাম্পের মন বদলে দেয়।   ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, চলতি সপ্তাহে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাকারিয়া হয়ত বড় পরিসরে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।   তবে প্রেসিডেন্ট জাকারিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন বজায় রেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।   ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে ‘অন্যায়’ আচরণ করেছে। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্টের হয়ে কথা বলার দায়িত্বের জন্য হয়ত জাকারিয়া উপযুক্ত নয়।   রয়টার্স লিখেছে,জাকারিয়ার পাঁচ দিনের দায়িত্বকাল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক অ্যান্টনি স্কারামুচির মেয়াদকালের চেয়েও সংক্ষিপ্ত।   ২০১৭ সালে স্কারামুচি ওই পদে ১০ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এবার বিক্ষোভে নামছে থালাপতি বিজয়ের দল

ছবি: সংগৃহীত

বিজেপি কেন ‘সরকার বদলের পাঁয়তারা’ দেখছে, কেন আলোচনায় বাংলাদেশ?

ছবি: সংগৃহীত

ককরোচ জনতা পার্টির পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা, মোতায়েন হাজারো পুলিশ

বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে ইসরাইল : বারাক ওবামা

সামরিক শক্তির দাপট দেখিয়ে কখনোই স্থায়ী শান্তি পাওয়া যায় না—ইসরাইলকে ঠিক এই সতর্কবার্তাই দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ফিলিস্তিনিদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আর তাদের ভিটেমাটি কেড়ে নেওয়ার কারণে ইসরাইল নিজের নৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।   সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি নিতে গিয়েছিলেন ওবামা। সেখানেই এক অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সাংবাদিক সুসান ম্যাককের সঙ্গে আলোচনার সময় গাজা যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ওবামা বলেন, গাজার এই ধ্বংসযজ্ঞ আর রক্তপাত যেকোনো মানুষের মনকেই ব্যথিত করবে। বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা ক্ষোভের কারণেই আজ এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।   ইউরোপে ইহুদিরা যে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, তা মেনে নিয়েই ওবামা মনে করিয়ে দেন—নিজেদের জমি হারিয়ে ফিলিস্তিনিরাও কম অন্যায়ের শিকার হয়নি। ইসরাইল সাধারণ মানুষের জমি দখল করেছে এবং শক্তির অপব্যবহার করেছে। তাই নিজের হারানো জমি ফেরত পাওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের লড়াই করাটা একবারে স্বাভাবিক।   ওবামা আরও বলেন, প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা কিংবা সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হওয়াই শেষ কথা নয়। ‘আমরা শক্তিশালী তাই যা খুশি তা-ই করব, কাউকে ছাড় দেব না’—ইসরাইল সরকারের এমন চিন্তাভাবনা সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের নৈতিক অবস্থান ধ্বংস করে দিচ্ছে।   বর্তমান ইসরাইলি সরকারকে বাস্তবমুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওবামা স্পষ্ট জানান, প্রায় ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ড ছেড়ে কোথাও যাবে না। নিজেরা যা মেনে নেওয়া অসম্ভব, তা ফিলিস্তিনিদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিয়ে কখনোই শান্তি আনা সম্ভব নয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ফাইল ছবি

ইরানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার ও স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য থাইল্যান্ডের বড় ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

সাগরের তলদেশে মিলল ৪৭০০ বছরের প্রাচীন জাহাজের নিদর্শন

ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ফের গোপন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা

জাপানের টোকিওতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এটি ছিল গত এক মাসের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় বৈঠক।   ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর যে জেনারেলদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল, তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটন পুনরায় যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। খবর রয়টার্সের।   রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে অনুষ্ঠিত আগের আলোচনায় মূলত একজন মার্কিন ব্যবসায়ীর মুক্তি নিশ্চিত করা এবং আমেরিকানদের লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো (স্ক্যাম সেন্টার) বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এই আলোচনা মিয়ানমারের বিরল খনিজ সম্পদের মতো আরও বিস্তৃত বিষয়ের আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে।   এই আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের বৈঠকে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। বৈঠকের সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন মার্কিন কর্মকর্তাও রয়েছেন।   সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, টোকিওতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছিলেন। তবে মিয়ানমারের পক্ষে কে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তা রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি।   সর্বশেষ এই আলোচনার বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো সাড়া দেয়নি। তবে তারা জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তারা মিয়ানমারের সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রাখে। মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের একজন মুখপাত্রও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।   আলোচনা আয়োজনে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইমেইলের মাধ্যমে জানায়, তারা উভয় পক্ষের সঙ্গেই ‘প্রয়োজনীয় যোগাযোগ’ বজায় রেখেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনা বা আদান-প্রদান নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এর আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, গত মাসে নেপিদোতে মাইকেল ভ্যান্স এবং মিয়ানমারের অভ্যুত্থানকারী নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের মধ্যকার বৈঠকটি আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। টোকিওতে দ্রুত পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয়, উভয় পক্ষই এই সংলাপ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।   সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রচেষ্টার একটি বড় লক্ষ্য হলো—মিয়ানমারে গড়ে ওঠা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে মিয়ানমারের সহায়তা নেওয়া। এসব কেন্দ্র থেকে রোমান্টিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি চালানো হয়, যার মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।    গবেষকদের মতে, অনেক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এমন সব এলাকায় পরিচালিত হয়, যা সেনাবাহিনী-সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছায়। মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, তারা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো দমনের লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিচ্ছে।   মার্কিন কর্মকর্তারা মিয়ানমারে থাকা ভারি বিরল উপাদানের বিশাল মজুত নিয়ে আলোচনার সুযোগ খুঁজছেন। বৈদ্যুতিক যানবাহন থেকে শুরু করে উইন্ড টারবাইন—এমন নানা পণ্য তৈরিতে এই উপাদানগুলো ব্যবহৃত হয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা রয়েছে। এই খনিজ মজুতগুলো মূলত এমন সব অঞ্চলে অবস্থিত, যা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা উপাদানের প্রধান ক্রেতা চীন—তারাও হয়তো মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকাকে ভালোভাবে নেবে না।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের এক ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি মিয়ানমারের বিষয়ে তাদের নতুন কৌশলের অংশ।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বলেছে, ‘এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে, দেশটিতে নিজেদের প্রধান স্বার্থ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে যেসব উপায় বা কৌশল ব্যবহার করে এসেছে, সেগুলোকে নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতিও এতে রয়েছে।’   মিন অং হ্লাইং এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো, পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থান দমন করা এবং ২০১৬-২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার ঘটনায় তার ভূমিকা রয়েছে—যা ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বিমান হামলায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, যা দেশটিতে ব্যাপক গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘লোউই ইনস্টিটিউটের’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক হান্টার মার্সটন মনে করেন, জাপানে সাম্প্রতিক এই আলোচনাগুলো প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারকে কেবল একটি ‘লেনদেনভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’ থেকে দেখছে।   মার্সটন বলেন, ‘মিয়ানমারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা উপাদানগুলোকে সম্ভবত সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার প্রতি ওয়াশিংটনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের ৪ দেশের কোম্পানির সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সৌদি প্রতিরক্ষা মুখপাত্রের বিস্ফোরক মন্তব্য

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, নিহত ১৯

0 Comments