রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে দেশটিকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য ন্যাটোর সমন্বয়ে পরিচালিত অস্ত্র কেনার একটি কর্মসূচি স্থগিত এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে কিয়েভ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তার ফোন পাওয়ার কথা জানানো এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন কিয়েভসহ ইউরোপের সবাইকে ফোন করছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ন্যাটোর সমন্বয়ে পরিচালিত অস্ত্র কেনার কর্মসূচিটির নাম ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ (পিইউআরএল)। এর আওতায় ন্যাটোর সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর অর্থায়নে ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়। ন্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য মিত্রদেশগুলো ৬০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরই মধ্যে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের কার্যক্রম চলছে।
এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ এ ধরনের সমঝোতায় রাজি থাকলেও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াকেও এ সমঝোতায় সম্মত হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার বাহিনী এখনো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের উচ্চমূল্যের পেছনে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এ কারণেই তিনি হামলা বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছেন।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহের জন্য রাশিয়া ডিজেল সরবরাহ করবে। জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াতে ১ হাজার ৩০০টি গোলাপি রঙের ইলেকট্রিক অটোরিকশা (ই-অটো) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও সহজ করাও এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বিশেষ করে ভোরে বা রাতে মেট্রো স্টেশন থেকে বাড়ি কিংবা কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এসব অটোরিকশা কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিল্লি সরকার রোববার জানিয়েছে, ‘দুর্গা ই-অটো’ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা অটোরিকশাগুলোকে বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক যাতায়াত সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে রাইড-হেইলিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের চালকদের নিবন্ধন বা সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফের অনুরোধ জানানো হবে। কোম্পানিগুলো রাজি হলে যাত্রীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসব অটোরিকশা ভাড়া করতে পারবেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের নেতৃত্বে দিল্লির মন্ত্রিসভা প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ করা ১ হাজার ৩০০টি অটোরিকশার মধ্যে ১ হাজার ১৭০টি নারীদের জন্য এবং ১৩০টি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। তারা এসব অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন এবং নিজেই চালিয়ে আয় করতে পারবেন। দিল্লির ১৩টি রাজস্ব জেলায় অটোরিকশাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ ৯০টি অটোরিকশা নারীদের এবং ১০টি তৃতীয় লিঙ্গের আবেদনকারীদের জন্য রাখা হবে। দিল্লির পরিবহনমন্ত্রী পঙ্কজ কুমার সিং বলেন, নারীদের ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং পরিবহন খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। আবেদন ও অটোরিকশা বরাদ্দ জাতীয় তথ্যবিজ্ঞান কেন্দ্রের (এনআইসি) তৈরি একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আবেদন যাচাই করবে। এ জন্য প্রতি সপ্তাহে যাচাই কার্যক্রম চালানো হবে। কোনো জেলায় যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা বরাদ্দ করা অটোরিকশার চেয়ে বেশি হলে অনলাইন লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিদের দেওয়া হবে আগ্রহপত্র। নিবন্ধিত মালিকদের পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ‘দুর্গা’ লেখা জ্যাকেট ও টুপিও দেওয়া হবে। দিল্লির ২০২৬ সালের বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি অনুযায়ী, প্রথম বছরে নিবন্ধিত যোগ্য বৈদ্যুতিক অটোরিকশা কেনার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক চালককে অটোরিকশা কিনতে শেষ পর্যন্ত কত টাকা ব্যয় করতে হবে, তা সরকার এখনো জানায়নি। এর আগে ২০২২ সালে দিল্লিতে নারীদের জন্য ১ হাজার ৪০৬টি বৈদ্যুতিক অটোরিকশার অনুমতি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে প্রথম দফায় আবেদন করেছিলেন মাত্র ৭৪৩ জন। ফলে পরে আবার আবেদন নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হয়। নতুন প্রকল্পটি চালুর পর উপকারভোগীদের আয় ও জীবিকার ওপর এর প্রভাব যাচাই করতে দুই ধাপে গবেষণার পরিকল্পনাও করেছে দিল্লি সরকার। সূত্র: এনডিটিভি
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। নৌকাটিতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। রবিবার আইওএমের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি জানায়, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে জিবুতির পূর্ব উপকূলে গুহেরে এলাকার কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। শুক্রবার ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার পর ৮০ জনের বেশি যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। তাঁদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে জানিয়েছে আইওএম। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে জিবুতির কর্তৃপক্ষের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়েসাক বলেন, সংস্থাটির কর্মীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা দিচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রাণহানির ব্যাপকতায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, নিহতের যে সংখ্যা জানানো হয়েছে, তা কেবল জিবুতির কর্তৃপক্ষের দাফন করা ব্যক্তিদের হিসাব। অভিবাসীদের কেউ কেউ নিজেরাই মরদেহ দাফন করেছেন। কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলোর পরিচয় ও সংখ্যা যাচাই করার পর সেগুলো সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আইওএমের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সুযোগ ও নিরাপদ জীবনের আশায় আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের বহু মানুষ জিবুতি থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ যাত্রায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি পাড়ি দিতে হয়, যা সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে জিবুতি ও ইয়েমেনকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্বে আলাদা করেছে। তবে পথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও অভিবাসীদের এই যাত্রা থেমে নেই। আইওএম জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষের আগমন নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি। গত বছর এই পথ ধরে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে অথবা তাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন। আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যাওয়ার পথে অভিবাসীদের প্রাণহানির ঝুঁকি যে কতটা ভয়াবহ, জিবুতির উপকূলে সর্বশেষ নৌকাডুবির ঘটনা তা আবারও সামনে এনেছে। সূত্র : আলজাজিরা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই তামিলনাড়ুর চেন্নাই সফর করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার (১১ অক্টোবর) চেন্নাইয়ে পৌঁছে ১৩ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকালে চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। পরে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে সংক্ষিপ্ত রোড শোতে অংশ নেন মোদি। এ সময় রাস্তার দুই পাশে ব্যারিকেডের পেছনে অবস্থান নেওয়া ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। সমর্থকেরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোড শো শেষে চেন্নাই মেট্রোর একটি নতুন অংশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন মোদি। সেখানে মেট্রোর দ্বিতীয় পর্যায়ের চতুর্থ করিডরের পুনামাল্লি থেকে ভাদাপালানি পর্যন্ত অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন মেট্রোপথে ১১টি উড়াল স্টেশন রয়েছে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একই ট্রেনে ভ্রমণ করেন। নতুন এই যোগাযোগব্যবস্থা চালু হওয়ায় নগরীর যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিল্লিতে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা জোরদার এদিকে মোদির চেন্নাই সফরের সময় রাজধানী নয়াদিল্লিতে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাজনীতিবিদ, অভিনয়শিল্পীসহ তিন হাজারের বেশি ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। পরে গভীর রাতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বড় ধরনের জমায়েত ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করে। পুলিশের বাধায় বিক্ষোভকারীরা এক জায়গায় সমবেত হতে না পারলেও বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যান। একদিকে রাজধানীতে রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ, অন্যদিকে চেন্নাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন—এমন পরিস্থিতিতে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।