আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ নির্বাচনের পর ইসরায়েলে একটি ইহুদি-আরব কোয়ালিশন বা যৌথ সরকার গঠনের দাবিতে তেল আবিবে প্রায় ২ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েল। 

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) হাবিমা স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ইবনে গাবিওল সড়ক ধরে রবিন স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। 

 

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ঢোল বাজিয়ে এবং বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘পরিবর্তনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ এবং ‘সবার জন্য সমতা’ প্রভৃতি স্লোগান লেখা ছিল।

 

বিক্ষোভকারীরা হিব্রু ভাষায় ‘অংশীদারত্ব ও সমতার মাধ্যমে আমরা সরকার বদলাচ্ছি’ এবং আরবি ভাষায় ‘শান্তি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ বলে স্লোগান দেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি: লুটপাট-ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ

শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় বাজেট সংকোচন, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে জার্মানির বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার তরুণ। খবর রয়টার্স।    শনিবার (৩১ অক্টোবর) ‘জেন-জি রেগেল্ট’ সংগঠনের ডাকে বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ প্রায় ৩৪টি শহরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। তবে জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং টুপি পরিহিত দাঙ্গাকারীরা কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালায়।    ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে মলোটোভ ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া হামবুর্গ শহরেও কিছু জায়গায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আগুন জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে।   ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি তরুণদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় জার্মানিতে এই বিক্ষোভ হলো। আয়োজক সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিচ বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ বা বলপ্রয়োগের জন্য নয়, বরং শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করতে এখানে এসেছি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নত সহায়তা এবং সামরিক সেবার বিরোধিতাই আমাদের প্রধান দাবি।’   আয়োজকরা ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগমের আশা করলেও পুলিশ জানিয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সবমিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। এদিকে সম্ভাব্য সহিংসতা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় বার্লিনের বিলাসবহুল কুরফুর্স্টেনডাম শপিং বুলেভার্ডসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের জানালা ঢেকে দেয় এবং দোকানপাট আগেভাগে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করে।   জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ‘চরমপন্থি’ গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সের বিক্ষোভের চিত্র স্মরণ করে হেস রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পিসেখ জানান, ফ্রান্সের মতো ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি জার্মানিতে মডেল হতে পারে না. বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেঞ্জের সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা চাপানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০১, ২০২৬

ইসরায়েলে ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

ইরান অবরোধে ১৪৪ বাণিজ্যিক জাহাজ ফিরিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে যে নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রীদের সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠালেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজ মন্ত্রিসভার সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণের মুখোমুখি করেছেন তিনি। সেনাবাহিনীর অনুশাসন, কৌশল ও সুশৃঙ্খল মানসিকতা বেসামরিক প্রশাসনে প্রয়োগ করে দেশকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও চিত্রে দেখা গেছে, রাজধানী ও অন্যান্য প্রশাসনিক কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে দেশের প্রথম সারির আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রীরা সেনাপোশাকে অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন। পূর্বাঞ্চলীয় হুরসো সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ নিজে উপস্থিত থেকে অন্যান্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় অংশ নেন।    ইথিওপিয়ার ইতিহাসে বেসামরিক আমলা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এমন নিবিড় সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার ঘটনা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।   প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর ও ব্যতিক্রমী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন দেশের বেশ কয়েকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাউস অব ফেডারেশনের স্পিকার মুফরিয়াত কামিল, অর্থমন্ত্রী ফিতসুম আসেফা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেকদেস দাবা। তবে এই প্রশিক্ষণ ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে কিংবা ঠিক কত দিন ধরে চলবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে নির্দিষ্ট করে কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।   এই সামরিক মহড়ার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ জানান, ইথিওপিয়ার জন্য সর্বজনীন সমৃদ্ধি অর্জন কেবল মুখে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয় নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন শারীরিক সামর্থ্য, নৈতিক দৃঢ়তা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা। সামরিক বাহিনী থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা কীভাবে প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে পারে, সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৈন্যরা মাঠে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোয়, আর বেসামরিক ব্যক্তিরা লক্ষ্য স্থির করেন সাধারণ কাঠামোর ওপর। কিন্তু দিনশেষে দুই পক্ষই বিজয়ের চূড়ান্ত স্বাদ পেতে চায়। সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে আহরিত শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, দলগত কাজ ও জবাবদিহি সরকারি কাজের গতিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে এবং লক্ষ্য অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বর্তমান ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। ইথিওপিয়া বর্তমানে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলীয় টিগ্রে অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের স্মৃতি এখনো তাজা, পাশাপাশি আমহারা অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত এবং ওরোমিয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা দেশকে একধরনের চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেশকে প্রতিনিয়ত সতর্ক অবস্থানে রাখছে। এমন নাজুক সামরিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দেশের প্রশাসনিক যন্ত্রকে এক ছাতার নিচে এনে শারীরিক ও মানসিকভাবে তৈরি রাখার এই অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছেন।   সূত্র: বিবিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় হতে পারে সরাসরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের নীতি বদলে প্রথমবার শ্রমিক সংগঠন গড়ল বিজেপি

সংগৃহীত ছবি

ইরানের হামলায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তার পরিবারে ৩৬ টি ভিলা, দুর্নীতির তদন্তে তোলপাড় রাজস্থান

ভারতের রাজস্থানের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন জ্যেষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা ও তার আইপিএস স্ত্রী। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)।   অভিযোগ উঠেছে, শিল্প বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব শিখর আগরওয়াল সরকারি পদের অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি রিসোর্ট সংস্থাকে অহেতুক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন এবং বিনিময়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে একাধিক বিলাসবহুল ভিলা কিনেছেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এসিবি সূত্রে জানা গেছে, এই অনিয়মের শিকড় ছড়ানো রয়েছে উদয়পুরের বুঝড়া এবং আলওয়ারের অজবগড় এলাকায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে উদয়পুরের বুঝড়ায় মোট ২০টি ভিলা কেনা হয়, যার মধ্যে ১০টি শিখর আগরওয়ালের নামে এবং বাকি ১০টি তাঁর স্ত্রী, আইপিএস কর্মকর্তা প্রশাখা মাথুরের নামে নিবন্ধিত হয়। প্রতিটি ভিলার আনুমানিক ক্রয়মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে তা অনেক কম বলে দাবি করা হচ্ছে।    একই দিনে অর্থ দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটিকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়, যা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং পদের অপব্যবহারের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা।   শুধু উদয়পুরেই নয়, আলওয়ারের অজবগড় এলাকায় অবস্থিত একই রিসোর্ট গ্রুপের আরও ১৬টি ভিলার মালিকানা নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে আগরওয়াল ও তার স্ত্রীর নামে আটটি, তাদের দুই ছেলের নামে চারটি এবং শ্বশুড়-শাশুড়ির নামে আরও চারটি ভিলা কেনা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দম্পতি ও তাঁদের স্বজনদের নামে মোট ৩৬টি ভিলার সন্ধান পাওয়া গেছে, যার লিখিত নথিপত্র অনুযায়ী ঘোষিত আর্থিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।   আইএএস অফিসার শিখর আগরওয়াল এর আগে উদয়পুরের জেলা কালেক্টর এবং রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসিবি খতিয়ে দেখছে, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে থাকাকালে তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংস্থাকে লাভবান করেছিল এবং সেই সুবিধার বিনিময়েই এই সম্পত্তিগুলো অর্জিত হয়েছিল কি না।    রাজস্থান দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী আগরওয়াল, তার স্ত্রী এবং হোটেল সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে।    সূত্র: এনডিটিভি 

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে করলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, কনে কে

ছবি: সংগৃহীত

স্লোভেনিয়ায় ২০ বাংলাদেশিসহ ১৪৭ অভিবাসী আটক

রয়টার্স ছবি

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানের যোগদান নিয়ে যা বলল পাকিস্তান

0 Comments