আন্তর্জাতিক

ইরানি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ করল আমিরাত-ওমান

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তেহরানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের এটিই প্রথম বড় প্রভাব।

 

উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম ভ্রমণ কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নতুন নীতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করছে।

 

ইরানের আধা সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ওমান, জর্জিয়া, আজারবাইজান এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, কর্তৃপক্ষ ইরাকের আরেকটি বিমানবন্দর নাজাফ এর দিকে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরের যেসব বৈশ্বিক কোম্পানি ইরানি এয়ারলাইন্সের সাথে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

 

বৃহস্পতিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, ইরাক, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে নির্ধারিত ফ্লাইট ওঠানামার তালিকা দেখা গেছে। কিন্তু নিকটবর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর যাদের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের সাথে কোনো ফ্লাইটের তালিকা দেখা যায়নি।

 

ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিত আকাশপথের অবরোধ কার্যকর করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। বুধবার দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা কোনো আঞ্চলিক দেশের বিমানবন্দরগুলোকে ‘ব্যবহারের অযোগ্য’ করে দেওয়া হবে।

 

গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের বিমান চলাচল খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসগুলো অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটিকে সহায়তা করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

 

অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপগুলোকে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট, গাল্ফ নিউজ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ইরানের নিখুঁত হামলায় চাপে যুক্তরাষ্ট্র : রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক নিখুঁত হামলা চালিয়েছে ইরান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।    এসব হামলায় তেল রফতানি, গ্যাস উৎপাদন, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানিশোধন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলও জটিল হয়ে পড়েছে।   ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত সাতটি দেশে ৮৪টি অবকাঠামোগত স্থাপনায় কমপক্ষে ১৩৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।   রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলাগুলোর অনেকগুলোই ছিল নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো। এতে কিছু ক্ষেত্রে পুরো স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, আর কোথাও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।   তেল ও গ্যাস স্থাপনায় বড় ক্ষতি ইরানের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর। হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত এই বন্দরটি ইরানের অবরোধ এড়িয়ে তেল রফতানির গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দরটিতে অন্তত ১৯ বার হামলা হয়েছে বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।   হামলায় তেল স্থানান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মে মাসের একটি ড্রোন হামলার পর পরিশোধিত জ্বালানি রফতানি প্রায় এক মাস বন্ধ ছিল। পরে কার্যক্রম পুনরুদ্ধার হলেও বারবার হামলায় বন্দরটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।   কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। এতে গ্যাস তরল করার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শীতলীকরণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   কাতারএনার্জির প্রধান সাদ আল-কাবির মতে, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ে।   সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রফতানির এই বিকল্প পথে সেপ্টেম্বরের এক হামলার পর অপরিশোধিত তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়ে।   বিমানবন্দর, ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হামলা শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। কুয়েতের বিমানবন্দরে আটবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনের একটি স্থাপনায় হামলার ছয় মাস পরও সেবা পুরোপুরি চালু করা যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   আবুধাবির এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়ামের আল তাওয়েলা কারখানায় হামলায় ১ হাজার ২৬২টি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন সেলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আগস্টের শেষ নাগাদ সেগুলোর মাত্র এক-চতুর্থাংশ চালু করা সম্ভব হয়েছিল। স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।   কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানিশোধন স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে। মরুভূমিপ্রধান দেশটি পানীয় জলের প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার স্থাপনাগুলোর ওপর নির্ভরশীল। রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে দেশটির আটটি যৌথ বিদ্যুৎ ও পানিশোধন স্থাপনার অন্তত চারটিতে হামলা হয়েছে।   সৌদি আরবের তেল উৎপাদনে ধাক্কা সৌদি আরবের নয়টি বৃহত্তম শোধনাগারের পাঁচটি এবং তিনটি বড় তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসের বেশির ভাগ সময় দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ৭০ লাখ ব্যারেলের নিচে ছিল। যুদ্ধের আগে উৎপাদন ছিল দৈনিক এক কোটির বেশি ব্যারেল।   এতে বর্তমান দরে সৌদি আরবের ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব হারানোর হিসাব দিয়েছে রয়টার্স। দেশটির জাজান শোধনাগারেও জুলাইয়ের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত অন্তত চারবার হামলা হয়। হামলার পর শোধনাগারটির উৎপাদন শূন্যে নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইরানের নিখুঁত লক্ষ্যভেদ নিয়ে উদ্বেগ রয়টার্স ৩৬ জনের সাক্ষাৎকার, স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও এবং সরকারি বিবৃতি বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধানটি তৈরি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর শিল্পবিশেষজ্ঞ ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জনের মূল্যায়ন ছিল, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতি কেবল আকাশ থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়ে হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।   তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকার অনেক ঘটনায় দাবি করেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি দেশে হামলার পরের ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংবেদনশীল স্থাপনার নকশা ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিল বলে কয়েকজন কর্মকর্তা ধারণা করছেন। রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও মার্কিন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন; তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।   এই ধারাবাহিক হামলা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, তা নতুন করে সামনে এসেছে। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

১ নভেম্বর থেকে ভারতে ফোন এলেই দেখা যাবে কলারের নাম-নম্বর

ফাইল ছবি

ইরানের হয়ে হামলার ষড়যন্ত্র, জার্মানিতে দুজনের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

‘ককরোচ পার্টির’ পক্ষে রায় দিল্লি হাইকোর্টের

মদিনা শহর। ছবি: সংগৃহীত
মদিনা অঞ্চলে ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

মুসলিমদের দ্বিতীয় পবিত্র নগরী মদিনায় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন  ইয়েমেনি জোট।   তবে বৃহস্পতিবারি (১৫ অক্টোবর) সৌদি আরবে কোনো হামলা চালানো হয়নি বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি।    ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী মদিনা এলাকায় একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।   এদিকে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, আজ সৌদি আরবে কোনো হামলা করা হয়নি।   সৌদি-সমর্থিত জোট বাহিনী মদিনার দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানানোর পরপরই হুথির তরফ থেকে এই ঘোষণা এলো। সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
স্যাটেলাইট চিত্রে এসব স্থাপনা দেখা গেছে। সংগৃহীত ছবি

মাত্র ৬ সপ্তাহে রাশিয়ার বিশাল ড্রোন ঘাঁটি, বাড়ছে ইউরোপের উদ্বেগ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’।

বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা নিয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ছক

সংগৃহীত

আধুনিক যুগে উল্টো পথে রাশিয়া, ফিরছে ল্যান্ডফোনের দিন!

ছবি: সংগৃহীত
চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা ঠেকাতে নতুন ছক ফিলিপাইনের

পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক তৎপরতা ও চাপ মোকাবিলায় শুধু ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ফিলিপাইনকে।   অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন, ফিলিপাইনের নৌযানের চলাচলে বাধা এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে ফিলিপাইন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও সক্রিয় হয়েছে। তবে শুধু এসব ঘটনা প্রকাশ করে চীনের আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও তথ্যগত কৌশলও শক্তিশালী করতে হবে।   বিতর্কিত এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন ফিলিপাইনের পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পালাওয়ান প্রদেশের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের কাছে চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ৯৬২২ নম্বর জাহাজটি ২২টি ছোট নৌযান নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওই এলাকায় ফিরে আসে।   টাস্কফোর্সের অভিযোগ, এসব নৌযান সেখানে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা এবং সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার সঙ্গে জড়িত ছিল।   এর আগে ৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন শোল এলাকায় ফিলিপাইনের একটি চিকিৎসা ও উদ্ধার মিশনে জলকামান ব্যবহার করে চীনা কোস্টগার্ড। মিশনটির উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপাইনের সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হয়ে থাকা বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজ থেকে একজন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া।   স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের বিতর্কিত মিসচিফ রিফ এলাকায় চীনের সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে ফিলিপাইন ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজটি আয়ুঙ্গিন শোলে স্থাপন করে। এরপর থেকে জাহাজটি ওই এলাকায় ফিলিপাইনের উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।   সমঝোতার পরও কমেনি উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়। তবে ফিলিপাইনের অভিযোগ, সমঝোতার পরও বিতর্কিত এলাকায় তাদের সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।   গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজে সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে চীনের কোস্টগার্ড এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বাধা দেয় বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন। এর কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপিনো জেলেদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফিলিপাইনের মাছ ধরার সহায়ক নৌযান বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত।   এদিকে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের সামরিক ও কোস্টগার্ড জাহাজের উপস্থিতিও বেড়েছে। ফিলিপাইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পাক-আসা দ্বীপ, আয়ুঙ্গিন শোল, এসকোদা শোল ও স্কারবরো শোলের আশপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ১০১টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৫৬।   চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল সামুদ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি তথ্য প্রচারের মাধ্যমেও চীন ফিলিপাইনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যা, ফিলিপাইনের স্বাধীনতার গুরুত্ব খাটো করে দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার মতো বিষয় রয়েছে।   এ ধরনের প্রচার ফিলিপাইনের প্রভাবশালী মহলে চীনের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারি বিবৃতি বা সামুদ্রিক ঘটনার ছবি প্রকাশ নয়, বরং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও জরুরি।   সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ফোর্বস গ্লোবাল সিইও সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বাস্তবতা তার দেশ উপলব্ধি করে। তবে এটিকে চীনের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ফিলিপাইন এখন নীরব কূটনীতির পরিবর্তে সামুদ্রিক এলাকায় চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর লক্ষ্য জনসচেতনতা বাড়ানো, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিশি রায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা।   তবে এসব উদ্যোগ চীনের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশের কৌশলের পাশাপাশি চীনের আগ্রাসী তৎপরতার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।   প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র সরকারের ‘কমপ্রিহেনসিভ আর্কিপেলাজিক ডিফেন্স কনসেপ্ট’ বা সমন্বিত দ্বীপপুঞ্জ প্রতিরক্ষা ধারণায় সামরিক ঘাঁটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রবেশ-প্রতিরোধ ও নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   এ লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি সামরিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ নির্ধারণ এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথায় ও কীভাবে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।   একই সঙ্গে চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ফিলিপাইনের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংবাদ ও তথ্যের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানো ঠেকানো এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।   এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রসমর্থিত বা রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   আসিয়ানের নেতৃত্ব কাজে লাগানোর সুযোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতেও ফিলিপাইনের সামনে সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে দেশটি।   মিয়ানমার সংকট, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা মোকাবিলায় আসিয়ান কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   ১৯৬৭ সালে আসিয়ান প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক নীতিমালা হালনাগাদ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণেও নেতৃত্ব দিতে পারে ফিলিপাইন।   সব মিলিয়ে, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে তা যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং আসিয়ানভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর করার সমন্বিত পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে ফিলিপাইনের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে তলিয়ে গেল আড়াই হাজার কনটেইনার

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরামকোর সদরদপ্তরে হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর

প্রতীকী ছবি

বিশ্বজুড়ে ডিজেল সংকট কাটবে কবে, যা জানাল আইইএ

0 Comments