আন্তর্জাতিক

ইরানের অর্থ ছাড়ের খবরে বিতর্ক, দাবি অস্বীকার করল আমিরাত

আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার তহবিল ছাড় করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্মত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে। তবে এই তথ্য প্রকাশের পরই আমিরাত সরকার তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনার অংশ হিসেবে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, মোট ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং এর একটি অংশ ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ইরানি তহবিল ছাড়, স্থানান্তর বা এমন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার ঘটনা ঘটেনি।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উত্তেজনা প্রশমন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সম্পর্কিত হতে পারে। কিছু সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা বন্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবেও আলোচনা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, কোনো বৈঠক বা চুক্তিতে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে অর্থ দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য যেকোনো অর্থনৈতিক সুবিধা ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, খবরটি সত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে আমিরাতের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির কারণে বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা খাতে ব্যয় কমছে, দারিদ্র্যে নতুন রেকর্ড পাকিস্তানের

পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।  একই সময়ে শিক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির মাত্র ০.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৩ অর্থবছরে এই হার ছিল ১.৫ শতাংশ।    পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬–এ এই তথ্য জানানো হয়েছে।   খবর জিও নিউজের।  সার্ভে অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২১.৯ শতাংশ, যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে বহু মানুষ আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এটিকে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় সামাজিক অবনতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরে এই হার ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭.৪ শতাংশ হয়েছে। প্রদেশভিত্তিক হিসাবেও সব এলাকায় দারিদ্র্য বেড়েছে। বেলুচিস্তানে দারিদ্র্য সবচেয়ে বেশি, ৪৭ শতাংশ। খাইবার পাখতুনখোয়ায় ৩৫.৩ শতাংশ, সিন্ধে ৩২.৬ শতাংশ এবং পাঞ্জাবে ২৩.৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। সার্ভেতে আরও বলা হয়েছে, দেশে আয় বৈষম্যও বেড়েছে।  একটি পৃথক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাহ্যিক সংকট বা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষ আবার দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। শিক্ষা খাতে ব্যয় কমে ২০২৫ অর্থবছরে ৯৬২ বিলিয়ন রুপি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম। বিশেষ করে পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় শিক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। অবকাঠামোর দুর্বল চিত্রও উঠে এসেছে। দেশের মাত্র ৫৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। বেলুচিস্তানে এটি মাত্র ২১ শতাংশ, আর সেখানে টয়লেট সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে (০.৩ শতাংশ)। সার্ভেতে বলা হয়েছে, বর্তমানে পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার ৬৩ শতাংশ, নারীদের ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশ। এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতে টেকসই সংস্কার এবং আরও বিনিয়োগ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

৩৫০ বছরের পুরোনো দুর্গ থেকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর হোটেল

ছবি : সংগৃহীত

লক্ষ কোটি টাকার মালিক, তবু ৪০০ বর্গফুটের ঘরেই থাকেন ইলন মাস্ক

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজের সংকটের সমাধান পাকিস্তানের হাতে!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আগামী বুধবার (১৭ জুন) এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।  খবর এনডিটিভির।    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে পাতা মাইন অপসারণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ হলে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ করতে সহায়তা করতে আগ্রহী।   ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি ‘চমৎকার সমঝোতা’ হয়েছে, যা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে পারে।    তিনি বলেন, চুক্তি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।   এর আগে ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা, বিশেষ করে খারগ দ্বীপে সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।   হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। সংঘাতের কারণে এই পথের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।   অনেক দেশ জ্বালানির বাড়তি খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিলেও ভারত দীর্ঘ সময় ধরে অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রেখেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ সংকটের প্রথম ৭৬ দিন পর্যন্ত ভারত বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে একমাত্র দেশ ছিল, যারা জ্বালানির দাম বাড়ায়নি।   ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরে মোদি নরেন্দ্র মোদি এক সপ্তাহের সফরে ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে ফ্রান্সের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মোদি বলেন, ‘ফ্রান্স ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এ বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভারত সফর করেন এবং আমরা আমাদের সম্পর্ককে ‘বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করেছি।’ উল্লেখ্য, ভারত ফ্রান্সের ড্যাসো অ্যাভিয়েশনের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানের অন্যতম বড় ক্রেতা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অর্থ ছাড়ের খবরে বিতর্ক, দাবি অস্বীকার করল আমিরাত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

খামেনির জানাজা কবে- কোথায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

তেল-গ্যাস রপ্তানি সবার জন্য, না হলে কারও জন্যই নয়: মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি

ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিল ফিলিস্তিনের পক্ষে, আর্জেন্টিনা কেন ইসরায়েলের পাশে?

দক্ষিণ আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। মাঠের চিরবৈরী এই দুই প্রতিবেশীর বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে অবস্থানও সম্পূর্ণ বিপরীত। মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক সংকট ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে লাতিন আমেরিকার এ দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই সুর বাজাচ্ছে।   একদিকে, ব্রাজিল (Brazil) যখন ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও গাজায় চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে; তখন আর্জেন্টিনা (Argentina) বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বরাজনীতিতে দুই প্রতিবেশীর এই কূটনৈতিক বৈরিতা এখন আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো কণ্ঠস্বর ব্রাজিল ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে থাকার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ব্রাজিলের। বিশেষ করে বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভার আমলে এই অবস্থান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট রূপ নিয়েছে।   ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ব্রাজিলের ফিলিস্তিনপিন্থি অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ ছিল ২০১০ সাল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার সরকার ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে (Palestine) একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। ব্রাজিলের এই সিদ্ধান্তের পর লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, যাদের মধ্যে আর্জেন্টিনাও ছিল। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের পক্ষে একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় ছিল।   গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের (Israel) বিরুদ্ধে অন্যতম সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে ব্রাজিল। প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ (Genocide) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এটি কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, এটি একটি আধুনিক যুগের সুপরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’   ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন ২০২৪ সালের শুরুতে ইথিওপিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে লুলা ডি সিলভা গাজার পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের ইহুদি নিধনের (হলোকস্ট) সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের পর ইসরায়েল লুলাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিল সরকার তেল আবিব থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ব্রাজিলে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে নেমে আসে।   দক্ষিণ আফ্রিকার ‘গণহত্যা’ মামলায় সমর্থন ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা দায়ের করে, ব্রাজিল শুরু থেকেই তাতে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়। শুধু মুখে সমর্থন দিয়েই ব্রাজিল ক্ষান্ত থাকেনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিজে (ICJ) বিধির ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে এই মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করে। এর মাধ্যমে ব্রাজিল ‘গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার’ আইনি লড়াইয়ে সরাসরি অংশীদার হয়।   ইসরায়েলের ‘বন্ধু’ আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলপন্থি অবস্থান সবসময় এমন ছিল না। তবে অতি-ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ক্ষমতায় আসার পর আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আসে। মিলেই নিজেকে ইসরায়েলের একজন ‘কট্টর মিত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেন।   মিলেইয়ের ইসরায়েল সফর এবং কান্নায় ভেঙে পড়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাভিয়ের মিলেই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরের জন্য ইসরায়েলকে বেছে নেন। জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেওয়ালে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ঘোষণা করেন, আর্জেন্টিনা কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, আধ্যাত্মিকভাবেও ইসরায়েলের পাশে রয়েছে। এমনকি মিলোই নিজে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।   তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর ইসরায়েল সফরকালে মিলেই একটি বড় কূটনৈতিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আর্জেন্টিনার দূতাবাস তেল আবিব থেকে বিতর্কিত শহর জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করা হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হলেও মিলেই যুক্তরাষ্ট্রের (ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের সিদ্ধান্ত) পথ অনুসরণ করে ইসরায়েলকে খুশি করতে এই সিদ্ধান্ত নেন।   হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা   ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আর্জেন্টিনার সরকার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে হামাসের সব আর্থিক সম্পদ আর্জেন্টিনায় ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর্জেন্টিনা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার অবস্থান স্পষ্ট।   জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘না’ ভোট   জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যখনই গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতি বা ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো প্রস্তাব আনা হয়েছে, আর্জেন্টিনা হয় তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, নয়তো ভোটদানে বিরত থেকেছে। যেমন—২০২৫ সালের জুনে সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনকে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে আনা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা সরাসরি বিপক্ষে ভোট দেয়। এছাড়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্ব বন্ধের আন্তর্জাতিক প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয় বুয়েনস আয়ার্স।   আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রশাসন মনে করে, ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার’ রয়েছে এবং এই অধিকারের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক চাপ থাকা উচিত নয়।   বিপরীত মেরুতে অবস্থানের কারণ কী? ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এই সম্পূর্ণ ভিন্নমুখী অবস্থানের পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:   আদর্শিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা   ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা একজন প্রগতিশীল বামপন্থি নেতা। লাতিন আমেরিকার বামপন্থিদের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি একটি আত্মিক ও রাজনৈতিক সহমর্মিতা রয়েছে, যা তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেখে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই একজন কট্টর ডানপন্থি এবং উগ্র-পুঁজিবাদী নেতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে ‘মুক্ত পৃথিবীর’ বাতিঘর মনে করেন এবং তাদের সঙ্গে কৌশলগত জোট বাঁধাকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছেন।   জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি   ব্রাজিল এবং চিলির মতো লাতিন দেশগুলোতে বিশাল আরব ও ফিলিস্তিনি অভিবাসী (Diaspora) জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। এর বিপরীতে, আর্জেন্টিনায় লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস (প্রায় আড়াই লাখ)। ফলে আর্জেন্টিনার রাজনীতিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বেশ জোরালো। তাছাড়া, প্রেসিডেন্ট মিলেই নিজে খ্রিষ্টধর্মে বড় হলেও ইহুদি ধর্মের প্রতি তার গভীর অনুরাগ রয়েছে, এমনকি প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হতে চান বলে জানিয়েছেন।   ইতিহাসের ক্ষত   আর্জেন্টিনা অতীতে সরাসরি দুটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বুয়েনস আয়ার্সে ইসরায়েলি দূতাবাসে এবং ১৯৯৪ সালে একটি ইহুদি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বোমা হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। আর্জেন্টিনা সরকার এই হামলার জন্য ইরান ও হিজবুল্লাহকে দায়ী করে থাকে। মিলেই প্রশাসন এই ঐতিহাসিক ক্ষতকে সামনে এনে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তামূলক জোটকে বৈধতা দিচ্ছে।   বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে প্রভাব   লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তির ভিন্ন ভিন্ন নীতি পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। ব্রাজিল যখন গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, আর্জেন্টিনা তখন লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থের প্রধান পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে।   ফুটবলের মাঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ দর্শকদের আনন্দ দিলেও, বিশ্বরাজনীতির এই মঞ্চে তাদের মধ্যকার ফিলিস্তিন-ইসরায়েল কেন্দ্রিক কূটনৈতিক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লাতিন আমেরিকার ভূমিকাকে এক নতুন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।   সূত্র: আল-জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ওমান উপকূলে আবার ট্যাংকারে হামলা, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় সরাসরি অংশ নয় ইসরায়েল - নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভাষা নিয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়েছে: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

0 Comments