ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটির তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন ও সহিংস অভিযানে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে সতর্ক করেছে তারা।
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে গুলি, টিয়ার গ্যাস এবং বলপ্রয়োগ করছে। এতে বিক্ষোভকারী ছাড়াও সাধারণ মানুষ, নারী ও কিশোর-কিশোরীরাও প্রাণ হারাচ্ছেন। নিহতদের মধ্যে অনেকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি দাবি করেছে, সরকারি বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযানও চালানো হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। আটক ব্যক্তিদের পরিবারগুলো তাদের খোঁজ পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারীরা মূলত রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসানের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। তবে সরকার এই আন্দোলনকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকারি ভাষ্যমতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে। একই সঙ্গে তারা নিহতদের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
চলমান এই সহিংস পরিস্থিতিতে ইরানের বিভিন্ন শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লাতিন আমেরিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্য উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও রাজনৈতিক তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে চীনকে লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, লাতিন আমেরিকা ঐতিহাসিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অঞ্চল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সেখানে বন্দর, অবকাঠামো, খনিজ সম্পদ, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এসব বিনিয়োগের আড়ালে কৌশলগত স্বার্থ লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের কিছু প্রকল্প শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে। এতে করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ওয়াশিংটন আরও জানায়, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বিপরীতে, চীনের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে ঋণনির্ভর চুক্তি ও অস্বচ্ছ শর্ত জড়িত থাকে, যা ভবিষ্যতে ওই দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, চীনা বিনিয়োগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে এই অঞ্চলে দুই পরাশক্তির কৌশলগত দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
ইরানের হুমকির মোকাবিলায় জেরুজালেমে রোববার ইসরায়েল ও জার্মানির মধ্যে একটি নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ইরান ও তার মিত্রদের সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলায় এ চুক্তি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল মনে করছে, ইরান ও তার মিত্ররা শুধু দেশটির জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোবরিন্ট। গত বছর আগস্টে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েল অস্ত্র ব্যবহার করার আশঙ্কায় জার্মানি সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি স্থগিত করেছিল। এ সময় জার্মানির যুক্তি ছিল, তাদের সরবরাহ করা অস্ত্র গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরায়েলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ জার্মানি। এদিন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। গিদেওন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জার্মানি এ অবস্থান নিয়েছে, এবং আজ এই বিষয়টির গুরুত্ব সবার কাছে স্পষ্ট। ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানিয়েছে, হামলা করলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রাজধানী তেহরান থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিক্ষোভ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তারও প্রভাব ফেলছে। এই চুক্তি এবং নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইসরায়েল ও জার্মানির মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও ইরানের হুমকির মোকাবিলায়।
ভারতের মুম্বাই থেকে অবৈধ অভিবাসী উচ্ছেদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে একটি আধুনিক এআই টুল তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস। রোববার (১১ জানুয়ারি) মুম্বাই পৌরসভা (বিএমসি) নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন মহাযুতি জোটের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের সময় এই ঘোষণা দেন তিনি। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। ফড়নবিস বলেন, মুম্বাইকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গামুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য আইআইটির সহায়তায় একটি এআই টুল তৈরি করা হবে, যা অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রতিটি পৌর স্কুলে এআই ল্যাব স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট প্রযুক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মুম্বাইকে একটি বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। ফড়নবিস দাবি করেন, অবৈধ অভিবাসীরা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে জাল নথিপত্র সংগ্রহ করে, পরে মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে—এমন একটি নির্দিষ্ট ধারা তাদের নজরে এসেছে। বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মুম্বাইয়ে বসবাসরত বৈধ অ-মারাঠি ভাষাভাষীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তার মতে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের বিভ্রান্ত করছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এনডিএ সরকারের মূল লক্ষ্য মুম্বাইকে একটি টেকসই ও প্রাণবন্ত মহানগরীতে রূপান্তর করা। এ লক্ষ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের পাশাপাশি যানজট নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। দলটির মুখপাত্র শচীন সাওয়ান্ত ফড়নবিসকে ‘স্বপ্নের সওদাগর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সরকার বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী শনাক্তের দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, সরকার যদি সত্যিই এত বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করে থাকে, তবে সেই তথ্য জনসমক্ষে আনা উচিত। শচীন সাওয়ান্ত আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও অতীতের ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০১৭ সালের মধ্যে মুম্বাইকে বন্যামুক্ত করার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন, যা এখনো বাস্তব রূপ পায়নি।