দেশে নির্বাচনের আমেজ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তার দাবি, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। তাই সরকারকে এদিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে দলটির যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
আজ সোমবারও ইসিতে আপিল শুনানিতে অংশ নেন তিনি। পরে তিনি গণমাধ্যমকে এই কথা বলেন।
জাপা মহাসচিব জানান, গত তিন দিনে তার দলের প্রার্থীর ২৫টি আপিল শুনানি হয়েছে, যার মধ্যে ২১ জনের আপিল মঞ্জুর হয়েছে। বাকি ৪ জন উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
এদিকে, গণভোটের বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের সময় আরও এক ঘণ্টা বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপ অনুযায়ী, বিএনপিকে ভোট দিতে চান ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার এবং জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর পক্ষে রয়েছেন ৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার। অন্যান্য দলকে সমর্থন দিয়েছেন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। জরিপে দেখা গেছে, বড় একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। এই ভোটারের সংখ্যা ১৭ শতাংশ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপ ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। জরিপটি গত ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে দেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্ট্র্যাটিফায়েড স্যাম্পলিং পদ্ধতি এবং সর্বশেষ আদমশুমারির ভিত্তিতে ওয়েটিং প্রয়োগ করা হয়। জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের মেশিন লার্নিং প্রজেকশন অনুযায়ী, সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য ঝোঁক যুক্ত করলে বিএনপির সমর্থন বেড়ে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং জামায়াতের সমর্থন ৪০ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ ও দল বেছে নেওয়ার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা বড় ভূমিকা রাখছে। দলটির ৭২ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থক অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাকেই সমর্থনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডেমোগ্রাফিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে কৃষক (৪২ দশমিক ৬ শতাংশ) ও শ্রমিকদের (৪০ দশমিক ৬ শতাংশ) মধ্যে দলটির শক্ত অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটিকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত (৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং সততার ভাবমূর্তি (৪০ দশমিক ৭ শতাংশ)–এর কারণে সমর্থন করছেন। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে দলটির সমর্থন সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো দলের তুলনায় বেশি। জরিপে আরও দেখা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার ‘জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা’কে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। সিদ্ধান্তহীন ১৭ শতাংশ ভোটারের মধ্যে ৩০ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। আর ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো মতামত দেননি। এই অংশটিই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। জরিপের বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে একদিকে অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রাজনীতি এবং অন্যদিকে সততা ও ন্যায়বিচারের রাজনীতির মধ্যে এক ধরনের আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে ভোটারদের বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
প্রতি বছর পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণে দীর্ঘসূত্রতার নেপথ্যে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অবৈধ গাইড বই বাণিজ্য—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। টানা ১৫ বছর ধরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মার্চ-এপ্রিলের আগে সব পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও মার্চের আগে মাধ্যমিক স্তরের সব বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অথচ বছরের শুরুতেই বাজার ভরে গেছে গাইড ও নোট বইয়ে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের নোট-গাইড বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে লেকচার পাবলিকেশন। অবৈধ এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানটিতে গোপনে মাসিক বেতনে কাজ করছেন শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা, যারা নোট ও গাইড বই লেখার সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয়, গাইড বই বিক্রি বাড়াতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিশন ও ঘুষ বাবদ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন অভিভাবক ইত্তেফাককে জানান, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই নির্দিষ্ট প্রকাশনার নোট, গাইড ও ব্যাকরণ বই কিনতে বলা হয়। না কিনলে উপায় থাকে না। এতে আমাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ পড়ে।” উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে হাইকোর্টের আদেশে নোট ও গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয়। আইন অনুযায়ী এ অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলছে এই বাণিজ্য। ‘গাইড’ শব্দটি বাদ দিয়ে বইগুলোকে এখন ‘সহায়ক বই’ বা ‘অনুশীলনমূলক বই’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত ১৫ ডিসেম্বর এনসিটিবিতে গাইড বই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মকর্তার গোপন বৈঠক হয়। অভিযোগ রয়েছে, পাঠ্যবই যত দেরিতে ছাপা হয়, গাইড বইয়ের বিক্রি তত বাড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—পাঠ্যবই বিতরণের আগেই বাজারে গাইড বই চলে আসে, যা নতুন পাঠ্যবইয়ের পাণ্ডুলিপি ফাঁসের ইঙ্গিত দেয়। প্রতি বছরের মতো এবারও এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বইয়ের সিডি, নম্বর বণ্টন ও সিলেবাসের আগাম তথ্য মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করেছে লেকচার পাবলিকেশন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেকচার প্রকাশনীর সদ্য সাবেক এক পরিচালক জানান, প্রতিষ্ঠানটি বছর শুরুর আগেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে। রাজধানীর নামী কয়েকটি স্কুলে একেকটিতে বরাদ্দ রাখা হয় অর্ধ কোটি টাকা পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, এসব অনিয়ম জানার পর তাকে হঠাৎ অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়, কাগজপত্র ও পাসপোর্ট আটকে রাখা হয় এবং মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এদিকে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের ইতিহাসও হতাশাজনক। ২০১০ সাল থেকে শুরু করে প্রায় প্রতি বছরই মার্চ-এপ্রিলের আগে বই বিতরণ শেষ করা যায়নি। করোনাকালে তো বই ছাপা শেষ করতেই লেগেছে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২৭ মার্চ বই বিতরণ শেষ হয়। অথচ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেও মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থী কোনো বই পায়নি। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন, “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন পরীক্ষানির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে নোট ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রকৃত মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” অন্যদিকে, রাজধানীর একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শুধু ঢাকা নয়—দেশের প্রতিটি জেলাতেই গাইড বই বাণিজ্য চলছে অবাধে। কিছু অসাধু শিক্ষকই এই বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি। বছরের শুরুতে গাইড প্রকাশনার প্রতিনিধিরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের হাতে টাকা দেন, যাতে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড কিনতে উৎসাহ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বছরের পর বছর অবাধে চলছে গাইড বইয়ের এই বিশাল বাণিজ্য? আর কেনই বা বারবার দেরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই পৌঁছাতে?
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ’। খবরে বলা হয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার, শিল্প-কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ স্বল্পতা শুরু হয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। দেশে জ্বালানি অনুসন্ধানে বিনিয়োগ না করে আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ ঠিক রাখার নীতি অনুসরণ করা হয় সে সময়ে। কিন্তু অর্থ সংকট এবং আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে দফায় দফায় জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু এসব উদ্যোগ ক্রমেই ভয়াবহ উদ্বেগে রূপ নিচ্ছে, এমনকি আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ঢেউ এসে চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়। একদিকে যেমন জ্বালানি সংগ্রহে রাজস্ব আয় থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনা সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এরই মধ্যে দেশে এলপিজি সংকট তৈরি হয়েছে। এলএনজি সরবরাহ চেইনে যদি কোনো কারণে বিঘ্ন হয়, তা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক তৎপরতাকে বড় রকমের বিপদে ফেলতে পারে। দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫৮ কোটি ঘনফুট। চাহিদা ও সরবরাহে বর্তমানে ঘাটতি থাকছে দৈনিক ১২২ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে বর্তমানে যে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে তা গত বছরের এ সময়ের (১০ জানুয়ারি, ২০২৫) তুলনায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট কম। ওই সময়ে দেশে গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২৭৫ কোটি ঘনফুট। দেশে গ্যাস উত্তোলনে নিয়োজিত পাঁচ কোম্পানির চারটির উৎপাদন গত এক বছরে হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনের এ ঘাটতি মেটাতে বিকল্প সমাধান হিসেবে বিপুল অর্থে কেনা হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও অন্তত সাড়ে ৫১ হাজার কোটি টাকার ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। কিন্তু সেখানেও রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজার নিয়ে পরাশক্তিগুলোর কৌশলে আটকে গেলে আগামীতে গভীর জ্বালানি সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজার থেকে পণ্যটি আমদানিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশনের বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে জ্বালানি খাত বিশেষত গ্যাসের সরবরাহ সংকটের এ পরিস্থিতি একদিনের নয়। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে এ পরিস্থিতি অব্যাহত আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতির প্রাণশক্তি জ্বালানি খাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বল্পসময়ে একটা কার্যকর ও টেকসই কৌশল বাস্তবায়ন করা। যার মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, গ্যাসের সরবরাহ সংকট আগের চেয়ে প্রকট হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এলএনজি আমদানির একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। এ সিন্ডিকেটের কারণে রুদ্ধ ছিল স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পথ। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরও স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। যদি নেয়া হতো তার প্রভাব আর্থিক ব্যয়ে উঠে আসত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দেশে কর্মরত বেশির ভাগ কোম্পানির উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। দেশে গ্যাস উত্তোলনে স্থানীয় তিনটি কোম্পানির পাশাপাশি দুটি বিদেশী কোম্পানি নিয়োজিত রয়েছে। কোম্পানিগুলোর গত এক বছরের গ্যাস উৎপাদনচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চারটি কোম্পানিরই উৎপাদন কমেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন করেছে ৫ হাজার ৩১৪ এমএমসিএম (মিলিয়ন ঘনমিটার), যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৮৩৭ এমএমসিএম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ৫২৩ এমএমসিএম। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) গত অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন করেছে ১ হাজার ৩৯২ এমএমসিএম, যা তাদের আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ছিল ১ হাজার ৭৩ এমএমসিএম। কোম্পানিটির গ্যাস উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। বাপেক্সের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৫৫ এমএমসিএম, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৩৩৪ এমএমসিএম। এক বছরের ব্যবধানে বাপেক্সের গ্যাস উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। দেশের স্থলভাগে বিদেশী কোম্পানি হিসেবে গ্যাস উত্তোলন করছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোম্পানির আওতাধীন গ্যাস ফিল্ডের হিস্যা মোট সরবরাহের প্রায় অর্ধেক। সেখান থেকেও গ্যাস সরবরাহ এক বছরের ব্যবধানে বড় আকারে কমেছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, শেভরনের তিনটি গ্যাস ফিল্ড থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৩৬৮ এমএমসিএম, যা আগের বছরে ছিল ১২ হাজার ৪০৭ এমএমসিএম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১ হাজার ৩৯ এমএমসিএম। দেশের অভ্যন্তরে বিদেশী আরেকটি কোম্পানি তাল্লো গ্যাস উৎপাদন করছে। কোম্পানিটির উৎপাদনও কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৩৬৯ এমএমসিএম গ্যাস উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরে ছিল ৪২১ এমএমসিএম। পেট্রোবাংলা বলছে, স্থানীয় মজুদ-সরবরাহ কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিগুলোর উৎপাদনও কমছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন কূপ খনন করে গ্রিডে সংযোগ দেয়া হলেও তা খুব বেশি কাজে আসছে না। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন গ্রিড থেকে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে যাচ্ছে। এ কারণে গ্রিডে নতুন করে সরবরাহ যুক্ত হলেও সে বাড়তি গ্যাসের কোনো ইতিবাচক প্রভাব সার্বিকভাবে পড়ছে না। স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে জ্বালানি বিভাগ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্পট থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ পরিমাণ কার্গো আমদানিতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকার এলএনজি কেনা হয়েছে। এর আগে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারও বড় আকারে এলএনজি আমদানি করেছিল। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪২ হাজার ৮৪৫ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৫ হাজার ২৭৪ কোটি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার এলএনজি কেনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে পরিকল্পিত ১১৫টি কার্গো আমদানি করা হলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পর থেকে এ যাবত দেশে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার এলএনজি আমদানি হবে। দেশে স্থানীয়ভাবে গ্যাসের উত্তোলন বৃদ্ধিতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করেছিল। এ দরপত্রে বিদেশী কয়েকটি কোম্পানি তথ্য-উপাত্ত কিনলেও পরে একটি কোম্পানিও দরপত্রে অংশ নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ দরপত্র আহ্বান নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। দেশে এলএনজি সরবরাহে দুটি টার্মিনাল রয়েছে। দুটির সক্ষমতা দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট। গ্যাসের সরবরাহ সংকট মেটাতে তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি করে গ্রিডে দিতে নতুন অবকাঠামো প্রয়োজন। এ বিষয়ে কোনো বড় অগ্রগতি দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। জ্বালানি বিভাগ বলছে, নতুন করে আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবশ্য এখনো এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কোনো কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে অন্তত তিন বছর সময় প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে এসব টার্মিনাল নির্মাণ করে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তাদের মেয়াদের বেশির ভাগ সময় শেষ হয়ে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু যেকোনো দেশে বিনিয়োগের আগে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান বিদেশীরা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিগত সরকারের সময়ে নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও গ্যাস দেয়া যাচ্ছে না। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা বছরের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ পান না। এজন্য রফতানিমুখী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের পর বছর এলএনজি আমদানি করে জ্বালানি খাত ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে এ অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। যখন থেকে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান কমতে শুরু করেছে তখন থেকে আমদানি বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা প্রয়োজন ছিল, যা বিগত সরকার করেনি। অন্তর্বর্তী সরকারও এখান থেকে বেরিয়ে আসতে বড় কোনো কাজ করতে পেরেছে বলে মনে করছেন না তারা। বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমদ ফারুক চিশতী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের গ্যাস খাতের সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল অনুসন্ধান-উত্তোলনে জোর না দেয়া। বলা চলে, দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ওই অর্থে হয়নি। এ খাতে বিনিয়োগ অন্যান্য খাতের মতো নয়। এ খাতে বিনিয়োগে একধরনের ঝুঁকি রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এ খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তাদের ওপর নির্ভর করে এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আসবে বিষয়টি এমন নয়। বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কোনো অনিশ্চিত সরকারের ওপর বিনিয়োগে ঝুঁকতে চায় না। এটা রাজনৈতিক সরকারের ওপর নির্ভর করে।’ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বলেন, ‘গ্যাস খাতে সহসা কোনো সমাধান নেই। এ খাতে বিনিয়োগ দরকার। বিশেষ করে একটা পদ্ধতি প্রয়োজন, যা দিয়ে নির্ধারিত একটি সময়ের মধ্যে এলএনজি আমদানি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে দেশের অর্থনীতি ঠিক রাখা সম্ভব নয়। এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে ধরনের হস্তক্ষেপ চলছে, তাতে আমাদের মতো দেশ যেকোনো সময় বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে। ফলে এ সরকারকে এমন একটা পদ্ধতি নির্ধারণ করে যেতে হবে যাতে পরবর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করতে পারে।’ দেশে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে স্থানীয়ভাবে পরিকল্পনা করা হলেও আমদানির বড় হিস্যা রাখা হয়েছে। দু’ভাবে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সামাল দেয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনায় তিন ধাপে জ্বালানি খাতকে সাজানো হয়েছে, যা ২০২৬ থেকে শুরু করে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জ্বালানি খাতে ৭০-৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটাতে আমদানি ও স্থানীয় গ্যাস উত্তোলন দুটোই বাড়াবে সরকার। এক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য এলএনজির আরেকটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ল্যান্ডবেইজ এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান-উত্তোলনে বাপেক্সসহ অন্যান্য কোম্পানি কাজ করছে। দুটি নতুন রিগ কেনা হচ্ছে। গভীর ড্রিলিং হচ্ছে। আগে যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল, সেগুলো সমন্বিত কোনো উদ্যোগ ছিল না, যে কারণে গ্যাস খাতে নানা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’ দেশের গ্যাস খাতে সংকট কাটাতে সরকারের পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘স্থানীয় গ্যাস খাতে জরিপে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনায় কীভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে তা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে ১০০ কূপ খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্পটের ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমিয়ে স্বল্পমেয়াদে (তিন বছর) এলএনজি চুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ তবে জ্বালানি খাত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থায়ী ও দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মনে করেন না দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকে। তারা বলছেন, সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। অথচ গ্যাস খাতের ওপর দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। জানতে চাইলে দেশের ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি জ্বালানি খাত। বিশেষ করে গ্যাস খাতের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। বিগত সরকারের সময়ে গ্যাস খাত সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই দরকার ছিল জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় শক্ত অবস্থান তৈরি করা। কিন্তু সেটা তারা করতে পারেনি। দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে সবচেয়ে বড় যে কাজটি করার সুযোগ ছিল তা হলো ডিপ সিতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া। গ্যাসের মজুদ ব্যবস্থাপনা তৈরি করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের সস্তার গ্যাস ব্যবহারের বড় সুযোগ নেয়া যেত। এলপি গ্যাস নিয়ে এখন সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট যে হবে সেটা সরকার জানত। স্যাংশনভুক্ত দেশ থেকে এলপিজির কার্গো এসেছে দেশে, বিষয়টি জানানোর পরও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, জাহাজের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি খাতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় যে পরিস্থিতি এখন চলছে, তা পরবর্তী সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তৈরিতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’ যদিও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকট কাটাতে বাপেক্সকে অনুসন্ধান কার্যক্রমে পুরোপুরি নিয়োজিত করা হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০ কূপ খনন করা হবে। এ খাতের প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিশেষ আইন বাতিল করা হয়েছে। স্পট থেকে এলএনজি আমদানি কমাতে স্বল্পমেয়াদে গ্যাস সরবরাহ চুক্তিতে যাওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুটি গ্যাস কূপ খননে রিগ কেনা হচ্ছে। স্থলভাগে বিদেশী কোম্পানি দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান করতে পিএসসি হালনাগাদ করাসহ আরো বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রথম আলো ‘১৯০ আসন রেখে সমঝোতা চূড়ান্ত করার পথে জামায়াত’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। আলাদা বৈঠকের মধ্য দিয়ে কোন আসনে কারা প্রার্থী থাকবেন, তা নির্ধারণে শেষ মুহূর্তের দর-কষাকষি চলছে। শিগগিরই সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। নির্বাচনী সমঝোতায় আসা এই দলগুলোর একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, জামায়াত ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকি আসনগুলো নিয়ে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে চায়। এর মধ্যে নিজস্ব জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ১৭০টি আসন নির্দিষ্ট করেছে, যেগুলোতে জামায়াত অন্য কাউকে ছাড় দিতে চায় না। এর বাইরে আরও ২০টি আসনের বিষয়েও পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সেগুলো অন্য দলকে দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে না; তাই ওই ২০টিও জামায়াত প্রার্থী দিতে চায়। আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হলেও সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১ দলের মধ্যে মোটামুটি একটা সমঝোতা হয়েছে। এতে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি আসন, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৪টি, এবি পার্টিকে ৩টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে জামায়াত। যদিও চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন আরও কয়েকটি আসন চায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে গত কয়েক দিনে জামায়াত একাধিক বৈঠক করেছে। ৪০টির বাইরে আরও যেসব আসন ইসলামী আন্দোলন চায়, সেগুলোতে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও প্রার্থী আছে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা যাচাই করে ইসলামী আন্দোলনকে আরও কয়েকটি আসনে জামায়াত ছাড় দিতেও পারে। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ গতকাল শনিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আসন সমঝোতার আলোচনা চলমান। সেটি চূড়ান্তের দিকে যাচ্ছে। তবে কত আসনে সমঝোতা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। এনসিপি যখন আসন সমঝোতার আলোচনায় যুক্ত হয়, তখন তাদের ৩০ আসনে ছাড় দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা। তবে এরপর আসন কিছুটা কমতে পারে—এমন গুঞ্জন ছিল। তবে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, এনসিপিকে ৩০ আসনেই ছাড় দেওয়া হতে পারে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জোটে তাঁরা কতটি আসন পাচ্ছেন, তা দু-এক দিনের মধ্যেই জানানো হবে। মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫ থেকে ৩০টি আসন চেয়েছিল। দলটিকে ১৩টি আসন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিল জামায়াত। তাতে সমঝোতা হয়নি। এখন ১৫টি আসনে দলটিকে ছাড় দিতে চায় বলে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ গতকাল সকালে প্রথম আলোকে বলেন, আসন সমঝোতার আলোচনা অনেকখানি এগিয়েছে। আগের চেয়ে আসনসংখ্যাও বেড়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের নির্বাচন করবেন যথাক্রমে হবিগঞ্জ-২ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে। দলটিকে জামায়াত সাতটি আসন ছাড়তে পারে। তবে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও দু-একটি আসন বাড়তে পারে। এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। তাঁর ছেলে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী। জামায়াত এই আসনসহ চারটি আসন এলডিপিকে ছাড় দিতে পারে। তবে কোনো কোনো সূত্রমতে, এই সংখ্যা সাতটিও হতে পারে। যুগান্তর দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘এখনো আস্থা অর্জনের পরীক্ষায় ইসি’। খবরে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার ১৩ মাস পার হলেও এখনো আস্থা অর্জনের পরীক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ওপর নির্ভর করছে ইসির গ্রহণযোগ্যতা। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজনে ইসির ওপর পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছে না কয়েকটি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন। তারা নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগী ও কঠোর হওয়ার জন্য বারবার পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে ইসির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি বিএনপি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেয় কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে এবার ৩০টির বেশি রিট হয়েছে। তিনটি রিটের রায়ও হয়েছে। আদালতের রায়ে কয়েকটি আসনের সীমানায় ফের পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আইন আরপিও এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় বারবার সংশোধনী এনেছে ইসি। এভাবে বারবার সংশোধনী আনায় ইসির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও ইসির মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসিকে আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইন প্রয়োগে কঠোর হতে পারে তাহলে ইসির ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে। নির্বাচনও ভালো হবে। ইসি মনে করছে, তাদের কার্যক্রমে কিছুটা ভুলত্রুটি থাকলেও মোটাদাগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পেরেছে। এ কারণে কমিশনের ওপর কারও অনাস্থা নেই। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যেভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাতে প্রতীয়মান হচ্ছে ইসির ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। আস্থার সংকট থাকলে এত দল ও প্রার্থী অংশ নিতেন না। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর যখন নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে তখনই স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হবে বলে আমরা মনে করি। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম মূল্যায়ন বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, কমিশন মনে করে তাদের ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে। আমরাও তা বিশ্বাস করতে চাই। কিন্তু তাদের কিছু কার্যক্রম তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও তাদের ওপর আস্থা রাখার বিষয়ে প্রশ্নের উদ্রেক করে। তিনি বলেন, পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির আগেই তা প্রত্যাহার করা এবং এ দুটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও বলেন, এছাড়াও তাদের আরও কিছু কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে নিয়ম ও আইন প্রয়োগে তাদের কঠোরতা দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ওই শঙ্কা দূর করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জাগে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ইসি কঠোর হতে পারবে কিনা? দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও জনমনে উদ্বেগ আছে। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর পুলিশ ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকলেও ইসির চাহিদা অনুযায়ী ওই দুটি বিভাগ পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু দেশে একের পর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। অনেকের মতে, আইনশৃঙ্খলার এই অবনতির দায়ও পরোক্ষভাবে ইসির ওপর পড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে-আইনশৃঙ্খলা ভালো রেখে এ ইসি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারবে কিনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটিও ইসির অন্যতম আরেকটি পরীক্ষা। কালের কণ্ঠ ‘বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এমনটাই মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও মন্থর সরকারি ব্যয় বাস্তবায়ন—এসব মিলিয়ে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় নতুন সরকারকে দ্রুত ও সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬ : নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরি হয় না, আর কর্মসংস্থান না হলে বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ে। তাঁর মতে, সমাজে ন্যায়সংগত সুযোগের অভাব থাকলে একদিকে বৈষম্য বাড়ে, অন্যদিকে অস্থিরতা তৈরি হয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার পেছনেও এই বাস্তবতা কাজ করেছে। চাকরির বাজারে সুযোগের সংকট, সরকারি চাকরিতে কোটা-জটিলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি—সব মিলিয়ে মানুষের জীবনে প্রবল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। তিনি সতর্ক করেন, বর্তমানে যে বিনিয়োগ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে এই সমস্যাগুলো দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাঁর মতে, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর গড় বয়স ২৬-২৭ বছর। এই তরুণদের দক্ষতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে অর্থনীতিতে আবার গতি ফিরবে। মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৩ সাল থেকে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা কমলেও সেই গতি খুবই ধীর। ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়ে গেছে। ফলে খাদ্যের দাম সামান্য কমলেও অন্যান্য পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য এখনো চাপ তৈরি করছে। দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টন হলেও উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ উৎপাদনে ঘাটতি নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে, কিন্তু দেশের বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। তাঁর মতে, চালের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এর প্রধান কারণ। একই চিত্র চিনি ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে দাম না কমা বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও নজরদারির অভাবকে স্পষ্ট করে। ইত্তেফাক দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘ডেভিল হান্টে’ গ্রেফতার হচ্ছে সাধারণ মানুষও’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে পুলিশের গ্রেফতার অভিযান চলছে। অপরাধী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এর আগে পুলিশ দুই দফা অপারেশন ডেভিল হান্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭ হাজার ৬৯ জনকে গ্রেফতার করে। বিশেষ এই অভিযানের পাশাপাশি জুলাই-আগস্ট আন্দোলন পরবর্তীতে দায়ের করা বিভিন্ন মামলা, ওয়ারেন্ট ও অভিযোগের মূলে গ্রেফতার হয় ৬০ হাজার। সব মিলিয়ে ৫ আগস্ট পরবর্তী এ পর্যন্ত ৫২৬ দিনে রাজনৈতিক বিবেচনায় ৮৮ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় সাধারণ মানুষ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের সমর্থকদের গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু হয়। ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে ১৫ হাজার ৯৩৬ জন গ্রেফতার হন। তবে এই অভিযানেও চিহ্নিত, পেশাদার ও বড় সন্ত্রাসী গ্রেফতারের সংখ্যা খুবই কম। তা ছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। এই সময়ে মোট অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ২৩৬টি। তবে ঢাকার অপরাধ জগতের বড় সন্ত্রাসী বা তাদের সহযোগীদের কাছ থেকে তেমন কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আবার যারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অস্ত্র ভাড়া দেয়, তাদের থেকেও উদ্ধারের ঘটনা খুব বেশি নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৩টি এখনো উদ্ধার হয়নি। অবৈধ অস্ত্রও নির্বাচনে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘চলমান অভিযানে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো নিরীহ মানুষ যদি গ্রেফতার হন অবশ্যই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলে তাকে গ্রেফতারের সুযোগ নেই। নিরীহ মানুষ গ্রেফতারের কোনো তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা অবশ্যই সেটা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পাশাপাশি সমর্থকদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। কারণ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যেসব নেতা লুটপাট, গুম, খুন, চাঁদাবাজি, দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রায় বেশির ভাগই পালিয়ে গেছে, আত্মগোপন করেছে এবং গ্রেফতার হয়েছে। সেক্ষেত্রে নিরপরাধ সমর্থকদের গ্রেফতার করা হলে সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বিরূপ প্রভাব পড়বে। নয়া দিগন্ত ‘জটিল সমীকরণের ফাঁদে অভিন্ন নদীর পানি চুক্তি’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি আজ প্রায় সাত দশক ধরে জটিল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণের ফাঁদে আটকে আছে। স্বাধীনতার পর একাধিক সরকার ক্ষমতায় এলেও- জাতীয় পার্টি, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ- কেউই ভারতের সাথে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ থাকা সত্ত্বেও এই সঙ্কটের কার্যকর সমাধান আনতে পারেনি। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারও বিষয়টিকে অগ্রাধিকারে আনতে সক্ষম হয়নি। ফলে সময় যত যাচ্ছে, সঙ্কট ততই জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, নদী-নির্ভর জীবিকা ও পরিবেশ ভারসাম্যের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঙ্কটের সমাধান কেবল কারিগরি আলোচনায় নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব। কারণ পানিবণ্টন শুধু হাইড্রোলজিক্যাল হিসাব নয়-এটি ক্ষমতা, আঞ্চলিক রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রশ্ন। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া অচলাবস্থা ভাঙবে না পানি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সঙ্কটের সমাধান কেবল কারিগরি আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ। কারণ পানির প্রশ্নটি দুই দেশের সার্বভৌম স্বার্থ, খাদ্য নিরাপত্তা, সীমান্ত রাজনীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের সাথে সরাসরি যুক্ত। উজানে পানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ভারতের হাতে থাকায় আলোচনায় শক্তির ভারসাম্য একতরফা হয়ে পড়ে, যা সমঝোতাকে আরো কঠিন করে তোলে। বিগত সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ভালো থাকলেও তিস্তা কিংবা অন্যান্য অভিন্ন নদীর চুক্তিতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এটি প্রমাণ করে যে, কেবল সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্পষ্ট জাতীয় কৌশল, দক্ষ নেগোসিয়েশন টিম এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক রোডম্যাপ। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা, আমলানির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলায় দুর্বলতা এই অচলাবস্থাকে দীর্ঘায়িত করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তন, উজানে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে এই সঙ্কট আরো গভীর হবে। সময়মতো রাজনৈতিক উদ্যোগ না নিলে পানি ইস্যু কেবল কূটনৈতিক বিরোধেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি কৃষি উৎপাদন, খাদ্য মূল্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আজকের পত্রিকা দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সংকট কাটছে না শিগগির’। খবরে বলা হয়, দেশে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট শিগগির অবসানের কোনো আভাস নেই। জ্বালানি মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত মজুতের কথা বললেও এলপি গ্যাস আমদানিকারকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, সরবরাহ সংকটই এই অবস্থার কারণ। এলপিজি সংকটের মধ্যে পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সুযোগ বুঝে বেড়েছে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দাম। এলপিজি সরবরাহে সংকটের চাপ পড়েছে পরিবহন খাতেও। এদিকে এলপি গ্যাসের সরবরাহ ঠিক করতে সরকার কোম্পানিগুলোর আমদানির কোটা বাড়ানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলসি (ঋণপত্র) খোলার পর এলপি গ্যাস দেশে আসতে কমপক্ষে ১৯ থেকে ৪৩ দিন লাগবে। এলপি গ্যাস সংকটের সমাধান কবে নাগাদ হতে পারে, জানতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এলপিজির ৯৮ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। সরকারের কাছে মাত্র ২ শতাংশ। সংকটের কারণগুলো আমরা কয়েক দিন ধরে ব্যাখ্যা করছি। তারা ধর্মঘট করেছিল। এখন প্রত্যাহার করেছে। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।’ এলপিজির সরবরাহ সংকটের কারণে এক মাস ধরে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজির সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও বাড়তি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে শীতকালে এলপি গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন। গত ডিসেম্বরে সব মিলিয়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টন। এরপরও সংকট কমেনি। পাড়ামহল্লার বেশির ভাগ এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রয়েছে। ভোক্তা ও এলপি গ্যাস খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বাজারে এলপি গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। দিনে দিনে এ সংকট তীব্র হয়। এর সুযোগ লুফে নেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। সমকাল ‘১০২ হতদরিদ্রের নামে ৯৬৩ কোটি টাকা ঋণ’— সমকালের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চট্টগ্রামের পাঁচটি শাখা থেকে ১০২ হতদরিদ্রের নামে ৯৬৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। এই ১০২ জনের কেউ দিনমজুর, ভ্যানচালক; কেউ আবার কৃষক। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পত্রিকাটির প্রতিবেদক ১৩ জন ঋণগ্রস্তের বাড়ি যান। সবার গল্প প্রায় এক। সাহায্য দেওয়ার কথা বলে পরিচিত বা অপরিচিত কেউ তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছেন। এখন তাদের নামে কোটি কোটি টাকা ঋণের নোটিশ বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে ব্যাংক। কিন্তু তারা কেউ এই ঋণ নেননি বা ঋণের কোনো সুবিধা ভোগ করেননি বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন কর্মচারীকে ব্যবসায়ী দেখিয়ে ইউসিবির ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ঋণ। ব্যাংকটির নথি অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে এসব ভুয়া ঋণ দেওয়া হয়। ওই সময় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পরিবারের হাতে। তার পরিবারকে এসব ঋণের সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। সংস্থাটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুয়া এসব অ্যাকাউন্টে ঋণের অর্থ যাওয়ার পর নগদে উত্তোলন করে জাবেদ পরিবারের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করার পর জাবেদ পরিবারের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব ঋণ প্রতিবছর শাখা থেকে নবায়ন করায় খেলাপি হয়নি। দেশ রূপান্তর ‘জনপ্রিয়দের নামে গণপ্রতারণা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ফেসবুক, ইউটিউবে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ‘বিকল্প চিকিৎসা’ কিংবা ওষুধ-পথ্যের পরামর্শ দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন জাহাঙ্গীর কবীর, মঞ্জুরুল কবির, তাসনিম জারা বা জয়নাল আবেদীনের মতো চিকিৎসকরা। তারা নিজেরা দাবি করেন, তাদের বিক্রি করা পণ্যের মান ভালো, গ্রাহকরাও সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট। ইতিমধ্যে দেশে এই ধরনের ‘চিকিৎসা সেবা’ ও ওষুধ-পথ্যের বাজার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। দিন দিন এর প্রসারও বাড়ছে। এই সুযোগে ওইসব ‘জনপ্রিয়’ চিকিৎসকদের পরামর্শমূলক ভিডিও কাটছাঁট করে তাদের ‘প্রেসক্রাইব’ করা ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট খাবারের (পথ্য) নকল বাজারে ছাড়ছে কয়েকটি চক্র। আর ওইসব চিকিৎসকদের নামে খোলা হয়েছে অসংখ্য ভুয়া আইডি, পেইজ চ্যানেল। হাজার হাজার মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিদিন। গতকাল শনিবার অনলাইনে ভুয়া তথ্য যাচাই করা প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে ৫০টিরও বেশি এমন ফেসবুক পেইজ শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো তাসনিম জারার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন যৌন স্বাস্থ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। তাসনিম জারার পরিচয়ে ভুয়া ফেসবুক পেজ তৈরি করে তার ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে ফটোকার্ড তৈরি করে এই বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। মেটার অ্যাড লাইব্রেরির বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় নিয়মিতভাবেই নতুন পেজ খুলে বা পুরনো পেজের নাম পরিবর্তন করে তাসনিম জারাকে জড়িয়ে একই ধরনের ভুয়া বিজ্ঞাপন ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য ও ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে কযেকদিনের অনুসন্ধানে তাসনিম জারা ছাড়াও অন্য ‘জনপ্রিয়’ চিকিৎসকদের নামে এমন শতাধিক ভুয়া পেজ পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যকর্মী ও অনলাইন গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা চিকিৎসকের নামে চালানো ভুয়া পেজ থেকে অর্ডার দিয়ে টাকা দেওয়ার পর পণ্য পাননি। যারা পেয়েছেন তারা নিম্নমানের পণ্যও পেয়েছেন। প্রচারণার কৌশল হিসেবে প্রতারকরা পরিচিত চিকিৎসকদের ভিডিও বা ছবি ব্যবহার করে বিপণন করছেন, যাতে সাধারণ ক্রেতারা বিশ্বাস করে অর্ডার করেন। এক্ষেত্রে অর্ডার নিয়ে অগ্রিম অর্থও হাতিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে প্রতারকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, অনলাইনে পণ্য ও সাপ্লিমেন্ট কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন এই ভেজাল পণ্যের ব্যবসা করে আসছিলেন। এ কাজে আরও অনেকেই জড়িত বলে ধারণা পুলিশের। নকল ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট চক্রে জড়িত সন্দেহে জাহিদ, তৌহিদ আলম শান্ত, রিপন, আলামিন ও শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, একই উপকরণ দিয়ে অন্তত ২০-২২ ধরনের পণ্য তৈরি করত চক্রটি। তারা ভেষজ ও বিকল্প চিকিৎসার কয়েক হাজার কোটি টাকার নকল ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের রমরমা ব্যবসা করে। বছরে প্রায় ২০ শতাংশ হারে এই বাজারের বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সুযোগই নিচ্ছে চক্রটি।