৬ মাস বয়সী বিএনপি সরকারের ইতিবাচক পরিবর্তন বোধহয় এটাই। জনদুর্ভোগকে আমলে নিয়ে খোদ সরকারপ্রধান দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এমন সংস্কৃতি বদলের চেষ্টাকে সব মহল ইতিবাচকভাবে যেমন দেখছে, তেমনি তার কেবিনেটের অন্য সদস্যদের পরিবর্তনের হাওয়া গায়ে না লাগানোরও অভিযোগ উঠেছে।কেমন ছিল বিএনপির প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণের ১৮০ দিন? প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান কি আকাশ-জমিন, নাকি প্রচেষ্টার পারদ ভারী?
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকার তার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা এবং জনগণের প্রতি প্রাধান্য রেখে, গণমানুষের ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনায় সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। একটা ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সামনে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষে আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তারপরও যতটুকু করা সম্ভব, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ততটুকুই করতে। সম্ভব হলে আরও একটু বেশি করতে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে।’
তারেক রহমানের কেবিনেটের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, সরকার ১৮০ দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। উদাহরণ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খননের মতো কর্মসূচি সামনে আনছেন।
প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমার মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটা রিভিউ মিটিং হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। প্রেজেন্টেশন গেছে। কী করা হয়েছে, কী করা হয়নি এবং এটা শুধু আমার মন্ত্রণালয় নয়, প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় থেকেই করা হচ্ছে। সো, এখানেও পরিষ্কার যে, প্রধানমন্ত্রী পর্যালোচনা করছেন, ফুল রিভিউ নিচ্ছেন, স্কোরবোর্ড দেখছেন।’
এদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রথম ছয় মাসে আমরা নির্ধারণ করেছিলাম যে আমাদের কর্মপরিকল্পনা এবং প্রকল্পগুলো কী অগ্রাধিকার পাবে, সেটা চিহ্নিত করতে পেরেছি। যারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকলে প্রকল্পটা স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়, অর্থনীতির ব্যয়টা যাতে ন্যায্য হয় এবং সুফলটা যাতে জনগণ পায়, সেটা বিবেচনা করেই প্রকল্প হচ্ছে।’
৬ মাসে সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করার পাশাপাশি, জ্বালানি সংকট নিয়ে জনগণকে ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছে বলে দাবি বিশ্লেষকদের। সংকট উত্তরণে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বীর আহম্মেদ বলেন, ‘এক ধরনের সৎ ইচ্ছার প্রকাশ তিনি দেখিয়েছেন। গভর্নমেন্টের উচিত তার নীতিগত বিষয়ে পার্লামেন্টে খোলামেলা আলোচনা করা। খোলামেলা আলোচনা করলে এটা কোনো প্রবলেম তৈরি করবে না, বরং গভর্নমেন্টের প্রতি মানুষের সিম্প্যাথি।’
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এখানে মন খুলে আলোচনা, সমালোচনার পথ খোলা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যেহেতু সে সুযোগ আরও উন্মুক্ত, সেহেতু ৬ মাসে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে পর্যালোচনা ও সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে উত্তর কোরিয়ায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল টিভি চোসুন এক অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরীয় কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় দায়িত্বে থাকা ২০ থেকে ৩০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গত আগস্টের শেষ দিকে একই সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছিল, ভয়াবহ বন্যার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ কর্মকর্তাদের কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির নেতা কিম জং উন। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন। গত জুলাইয়ে উত্তর কোরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। সীমান্তবর্তী সিনুইজু ও উইজু এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, সড়ক ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজারের বেশি বাড়ি পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে নিজেই দুর্গত এলাকায় গিয়েছিলেন কিম জং উন। এ সময় তিনি পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে অস্থায়ীভাবে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়। এদিকে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ কোরীয় সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে বলে দাবি করা হলেও উত্তর কোরিয়ার সরকারিভাবে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে এসব সংখ্যার মিল নেই। কিম জং উনও উচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত কিছু খবরকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটিও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উত্তর কোরিয়ার কঠোর নিয়ন্ত্রিত তথ্যব্যবস্থার কারণে দেশটির অভ্যন্তরের এমন ঘটনা যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকেরা। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাও এ ধরনের খবরের বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছিল। বন্যার পর চাগাং প্রদেশের দলীয় কমিটির প্রধান কাং বং হুনসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। তবে তাদের পরবর্তী পরিণতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
কলম্বিয়ার একটি সামরিক স্থাপনায় সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত তিন সেনা নিহত ও চার সেনা আহত হয়েছেন। শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী ওকানিয়া পৌর এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। খবর আল জাজিরার। কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, হামলাটি চালিয়েছে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)। এ সময় বিদ্রোহীরা বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। পরে স্থাপনার ভেতরেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই সেনা নিহত হন। আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহত অন্য চারজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর সান্তান্দার প্রদেশের সামরিক স্থাপনায় প্রথমে ড্রোন থেকে বিস্ফোরক ফেলা হয়। এরপর সেখানে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদনে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত ২০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ইএলএনের উদ্দেশে তার বার্তা স্পষ্ট। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সেনাকে হত্যা করা হলে সংগঠনটির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পূর্ণ শক্তি ও বৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় আসার সময় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আবারও সামরিক সংঘাত জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দেশজুড়ে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। তবে তার সামরিকীকরণ নীতির কারণে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পরও দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্রোহীদের হামলাটি হয় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাটাতুম্বো এলাকায়। অঞ্চলটি ইএলএনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কলম্বিয়া সরকার নিয়মিত সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এদিকে দে লা এসপ্রিয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে সামরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আগামী সপ্তাহে ক্যারিবীয় শহর বারানকিয়ায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। সূত্র : আল জাজিরা
পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে টানাটানির মাঝেই লাদাখে কঠোর এক পদক্ষেপ নিয়ে নিল ভারত। লেহ জেলার উপশি এলাকায় সিন্ধু নদের ওপর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে প্রথম একটি বিশেষ শিলা বাঁধ তৈরি করেছে ভারত। কোনো সিমেন্ট ব্যবহার না করেই কেবল বড় বড় পাথর সাজিয়ে বানানো এই বাঁধের কারণে নদীতে পানির উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট বেড়ে গেছে। ফলে সীমান্ত লাগোয়া এই খরাপ্রবণ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হাসির ফোয়ারা। এতদিন পাহাড়ি গভীর খাদ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়ায় সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি তোলা কৃষকদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। বিশেষ করে বসন্তকালে যখন জমিতে বীজ বোনার আসল সময় আসত, তখন পানির চরম অভাব দেখা দিত। এতে ফসল ফলানো তো দূরের কথা, কৃষক পরিবারগুলোর জীবন চালানোই দায় হয়ে পড়েছিল। নতুন বানানো এই বাঁধটিতে এখন একসাথে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি আটকে রাখা যাচ্ছে। সেই পানি খালের মাধ্যমে সরাসরি চলে যাচ্ছে শুকনো ও খরাকবলিত ফসলের ক্ষেতে। তবে এই বাঁধ শুধু চাষাবাদের জন্যই নয়, দেশটির সুরক্ষার দিক থেকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সাথে চুক্তি সংক্রান্ত ঝামেলা শুরুর পর সীমান্তে নদীর পানিকে নিজেদের কাজে লাগানোর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে ভারত। এই প্রকল্পটি সেই কৌশলেরই এক বড় প্রমাণ। উপশির এই সফলতা দেখে লাদাখ প্রশাসন সিন্ধু নদসহ আশেপাশের নদীগুলোতে আরও ৩৬টি এমন ছোট ছোট বাঁধ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে লেহ ও কারগিল অঞ্চলে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা খরচে এগুলো তৈরি করা হবে। উঁচু পাহাড়ি এই দুর্গম এলাকায় পানির তীব্র সংকট মেটাতে এবং সীমান্ত এলাকাকে অর্থনৈতিকভাবে শক্ত করতে এই উদ্যোগ নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে