আন্তর্জাতিক

ইরানে বিক্ষোভ ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধে’ পরিণত, দাবি আরাগচির

Unknown জানুয়ারী ১২, ২০২৬

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের কারণে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এখন “সন্ত্রাসী যুদ্ধে” রূপ নিয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ বা যুদ্ধের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তাদের দেশ প্রস্তুত।


আজ সোমবার তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আরাগচি বলেন, “ইরানে যা হচ্ছে, তা আর বিক্ষোভ নয়—সন্ত্রাসী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের আড়ালে সন্ত্রাসীরা নাশকতা চালাচ্ছে, সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করছে। এসব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের এবং সামরিক বাহিনীর তৎপরতায় দেশ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
আরাগচি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করে বলেন, “ট্রাম্পের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে বিদেশি সন্ত্রাসীরা উৎসাহী হয়েছে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, যুদ্ধ বা সংলাপ—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত।”
গত দু’সপ্তাহ ধরে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকারে চলছে। বিক্ষোভের মূল কারণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। ইরানি রিয়েলের মূল্য ডলারের বিপরীতে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ পৌঁছেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার মধ্যে অন্যতম। এর ফলে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন।
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের মাধ্যমে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে দেশের কার্যক্রম অচল করে দেয়।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইরানি সরকার যদি কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করে, তা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রবিবার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ড্রোন অভিযান মামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির পক্ষে পরিবেশ তৈরি করতে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে।   আদালতের রায়ের বিষয়ে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করলেও রায়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।   মামলার তদন্তে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন থেকে প্রচারণামূলক লিফলেট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনার পর দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং সীমান্ত পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।   তবে ইউন সুক ইয়ল শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট কখনও এ ধরনের কোনো ড্রোন অভিযানের নির্দেশ দেননি বা অনুমোদনও দেননি। তাদের মতে, সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সামরিক বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ইউনকে আরেক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেই মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।   সাংবিধানিক আদালতে অভিশংসন বহাল থাকার পর তিনি প্রেসিডেন্ট পদ হারান। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে উদারপন্থি নেতা লি জে-মিয়ং দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম আলোচিত বিচারিক রায়। তবে ইউন সুক ইয়লের পক্ষে আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।   এদিকে চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এক সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চার বছর কোমায় থাকার পর না ফেরার দেশে থাইল্যান্ডের রাজকন্যা

ছবি- সংগৃহীত

সুদানে ড্রোন হামলায় ২৩ জন নিহত

ছবি- সংগৃহীত

ইরান ইস্যুতে বড় অগ্রগতির কথা জানালেন ট্রাম্প

ছবি- সংগৃহীত
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন,  ইরান শুধু পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করারই নয; সেগুলো না কেনারও প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। তিনি এটিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনার একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।   শুক্রবার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই সমর্থকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, চুক্তির আগের খসড়ায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়টি ছিল, তবে অস্ত্র কেনার ওপর কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তাদের একটি ধারা ছিল যে তারা অস্ত্র তৈরি করবে না। আমি বললাম, ‘কেনার বিষয়টি কী হবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই দিন পর তারা সেটিতেও সম্মত হয়েছে। আমরা যা চেয়েছিলাম, সবই পেয়েছি।’ তবে সম্ভাব্য এই চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে ইরান এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ দেয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘ইরান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লাখ লাখ ব্যারেল তেল’—ট্রাম্প

সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

সোনিয়া-মমতার একান্ত বৈঠক, কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা তুঙ্গে

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

‘বড্ড দেরি করে ফেলেছে ইরান’, চড়া মূল্য চাইলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আস্থাহীনতায় পেন্টাগনে অস্থিরতা

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগনে এখন চরম আস্থাহীনতা আর সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁর চারপাশের সামরিক–বেসামরিক কর্মকর্তাদের আনুগত্য নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন। এ পরিস্থিতির সর্বশেষ শিকার মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জ, যাঁকে আকস্মিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পেন্টাগনের বর্তমান ও সাবেক ১৫ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।   অভিযোগ উঠেছে, হেগসেথ পেন্টাগনের সব তথ্য তাঁর দপ্তরের মধ্যে কঠোরভাবে গোপন রাখছেন। তাঁর প্রচণ্ড অবিশ্বাসের কারণে সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানতে কিছু সেনাকে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তিতে (এনডিএ) স্বাক্ষর করতে হচ্ছে এবং পেন্টাগনে ‘পলিগ্রাফ টেস্ট’ বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এমনকি সেনাপ্রধানের কর্মজীবনেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করছিলেন হেগসেথ; সম্প্রতি তিনি নিজে চারজন কর্নেলের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের পদোন্নতি আটকে দেন। এই টানাপোড়েন কমাতে গত ১ এপ্রিল সেনাপ্রধান জেনারেল জর্জ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন; কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি। পরদিনই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের খবরটি এতটাই সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ছিল যে কোনো ব্যাখ্যা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। জেনারেল জর্জের এই বিদায় পেন্টাগনে আস্থাহীনতার জন্ম দিয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের হিসাব কষে কাজ করতে হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বসের চাকরি থাকবে তো, নাকি তিনি বরখাস্ত হবেন? এমন পরিস্থিতি সত্যিই নজিরবিহীন।’ তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের ভেতরে এখন পদে টিকে থাকার একমাত্র উপায়—যথাসম্ভব চুপচাপ থাকা এবং হেগসেথের নজর এড়িয়ে চলা। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও বিশ্বাসের অভাবে এখন পেন্টাগনে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হেগসেথ এই সংঘাতকে বিশাল সাফল্য হিসেবে চিত্রিত করতে ব্যস্ত এবং সংবাদমাধ্যমের সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইরানের পদক্ষেপের ফলে উদ্ভূত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ায় হেগসেথ আবারও তথ্য ফাঁসের তদন্তে মেতে উঠেছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখন সেনাদের তথ্য ফাঁসের বিষয়ে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এক সেনা কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে, যেন আমরাই শত্রু।’ হেগসেথের এই দ্বন্দ্ব কেবল সেনাবাহিনীর সঙ্গেই নয়, অন্যান্য বিভাগের প্রধানদের সঙ্গেও চলছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে সেনাবাহিনীরসচিব ড্যান ড্রিসকলকে শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন হেগসেথ। এ ছাড়া জেনারেল জর্জকে সরানোর কয়েক মাস আগেই তিনি সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল জেমস মিঙ্গুসকে সরিয়ে নিজের সামরিক সহকারী জেনারেল ক্রিস লানেভকে সেই পদে বসান, যিনি এখন ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান। জেনারেল জর্জের বিদায়ের কয়েক সপ্তাহ পর নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকেও আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। জাহাজ নির্মাণে ধীরগতি এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ফেলানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে হেগসেথের সন্দেহের কারণেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে। পেন্টাগনের ভেতরে এত নাটকীয়তা ও অসন্তোষ চললেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো হেগসেথের পাশেই রয়েছেন। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক শুনানিতে নিজের পাশে বসা হেগসেথকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ একদম উপযুক্ত চরিত্র। ও যুদ্ধ ভালোবাসে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হিজাব নিয়ে ধরপাকড়ের প্রতিবাদে আফগানিস্তানে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২ জন নিহত

ছবি: সংগৃহীত

জোহানেসবার্গে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১২

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপদ থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছাড়ার আহ্বান ইরানের

0 Comments