আন্তর্জাতিক

গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের বাধার অভিযোগ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েল বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হামাস ও কয়েকটি ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া কায়রোতে ফাতাহর ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কারেন্টের প্রধান মোহাম্মদ দাহলানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গাজার রাজনৈতিক ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি আলোচনা এবং মানবিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

 

হামাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে বাধ্য করার প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

 

আল-হাইয়া পরে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি মধ্যস্থতাকারী ও মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে তাদের অবহিত করেন।

 

বৈঠক শেষে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে এবং আগে সম্মত হওয়া কয়েকটি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।

 

এদিকে গাজা যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি কায়রোতে আল-হাইয়ার সঙ্গে এবং পরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে ইসরায়েল হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে যে কোনো সেনা প্রত্যাহার ও পুনর্গঠনের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখায়। ফলে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো অচলাবস্থা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
আলাস্কার ভোটারদের কাছে নির্বাচন ঘিরে কারসাজির অভিযোগ গুরুত্ব পাচ্ছে না

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে সোমবার সকালে আলাস্কার বৃহত্তম শহর অ্যাঙ্কোরেজে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ থাকলেও ভোটারদের বেশির ভাগের মধ্যে তা নিয়ে তেমন উদ্বেগ দেখা যায়নি।   সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলীয় বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের ভোট কমাতে একই নামের আরেক ব্যক্তিকে প্রার্থী করার অভিযোগ উঠেছে।   ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা।   অ্যাঙ্কোরেজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত খবরে বলা হয়, অ্যাঙ্কোরেজে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি থাকলেও ভোট দিতে আসা খুব কম মানুষকেই এ অভিযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে দেখা গেছে।   হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তা ব্যাপক আলোড়ন তুললেও আলাস্কার ভোটারদের মধ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। রাজ্যটির ভোটার ডেল ব্রাউন সংক্ষেপে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘কে পরোয়া করে?’   ২৫ বছর বয়সী এই কাঠমিস্ত্রি অন্য নামের প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশলকে ‘অনৈতিক’ বলে মনে করেন। তবে তার মতে, ‘এটি বেআইনি নয়।’    তিনি বলেন, ২০২০ সালে ফ্লোরিডার সিনেট নির্বাচনেও রিপাবলিকানরা একই কৌশলে নামসর্বস্ব প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল।   স্বতন্ত্র ভোটার ব্রাউন এএফপিকে বলেন, ‘আমেরিকার রাজনীতি এখন পুরোপুরি মিথ্যার এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে।’    তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, নৈতিকতা বলতে যা বোঝায়, তা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে।’   তবে এ বিতর্ক তার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মূল্যস্ফীতি বিরক্তকর বলেও জানান তিনি।   গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে হেরে গেলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে ট্রাম্পের দল। এ কারণে আলাস্কায় নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা তীব্র। অ্যাঙ্কোরেজে প্রতিবেশীদের বাড়ির বেড়ার দুই পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারপত্র ও সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেলটোলার নির্বাচনী প্রচারশিবিরই একই নামের আরেক প্রার্থী দাঁড় করানোর পরিকল্পনায় সহায়তা করেছে। তবে এ বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন পেলটোলা।   প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প আগেভাগেই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগ নেন।    রোববার এক ফেডারেল বিচারক তার আবেদন খারিজ করে দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ অব্যাহত রয়েছে।   এরই মধ্যে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্তের আইনি ভিত্তি কী, সে বিষয়ে তারা কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   বরফে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যায় এমন একটি বিপণিবিতানের ভোটকেন্দ্রে আসেন রে হার্ট। তিনি স্বীকার করেন, ব্যালটে একই নামের দুজন ড্যান সুলিভান থাকায় ভোটারদের মধ্যে ‘বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে’।   তবে রিপাবলিকান দলের এই ভোটার মনে করেন, প্রতারণার এ কৌশলে খুব কম মানুষই বিভ্রান্ত হয়েছেন।   ৩৭ বছর বয়সী অপরাধ তদন্তকারী হার্ট বলেন, ‘আমি ভোটারদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে বলতে শুনেছি, সঠিক ড্যান সুলিভানকে ভোট দিতে ভুলবেন না।’   আলাস্কায় এএফপি’র সঙ্গে কথা বলা অনেক ভোটার জানান, বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা প্রচারপত্র, বিজ্ঞাপন ও নানা ধরনের ডাকযোগে পাঠানো বার্তা পেয়েছেন।   তবে ব্যালটে দুই সুলিভানকে সহজেই আলাদা করা যায়। সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের পাশে ‘নিবন্ধিত রিপাবলিকান’ ও ‘বর্তমান সিনেটর’ পরিচয় উল্লেখ রয়েছে।    অন্যদিকে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়রের নামের পাশে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ট্রাম্প তাকে ‘ভুয়া’ সুলিভান বলে অভিহিত করেছেন।   বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে ভোটকর্মীরাও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন।   তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ভোটকেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘মনে হচ্ছে, বিষয়টি ভোটারদের কাছে বেশ স্পষ্ট।’   বিমান সংস্থার পাইলট লুক ক্লেমেন্টও মনে করেন, ব্যালটে কে আসল প্রার্থী, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে।   তবে ৪৭ বছর বয়সী ক্লেমেন্টের আক্ষেপ, এবারের নির্বাচনী প্রচার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে কাদা ছোড়াছুড়িতে পরিণত হয়েছে।   ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন তিনি।   ক্লেমেন্ট বলেন, অন্য মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় আলাস্কার মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি অনুভব করছেন। কারণ, রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ‘সবকিছু বাইরে থেকে আনতে হয় এবং সবকিছুই জ্বালানির দামের ওপর নির্ভরশীল।’   ভোটারদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যদের আলোচনায় উঠে আসে অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে স্যামন মাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও রাজ্যের বিপুল তেলসম্পদ কতটা কাজে লাগানো উচিত— এমন সব বিষয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্কুল খোলার পরই ফ্রান্সে ফের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র আঘাত, তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড জনজীবন

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের চার শহরে বিমান হামলা, শিশুসহ নিহত ১৫

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কেঁপে উঠল কেশম দ্বীপ

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম।   বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কেশম দ্বীপে হামলার খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   এমন এক সময়ে হামলার খবর সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন।   মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল।   আমরা জিতেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’   তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।   এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। আনাদোলুর পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।   তবে এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে মার্কিন হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।   হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান করছে। কাতারের মধ্যস্থতায় এই যোগাযোগ সহজ করতে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও জানান তিনি।   এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়।   হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের শর্ত মেনে নিলেই দুদিনের মধ্যে খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

ছবি: সংগৃহীত

অন্ধ্র প্রদেশে তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্নে দীর্ঘ অপেক্ষা, বেশির ভাগের লাগবে ১০ বছর

ছবি: সংগৃহীত
রুশ তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধে ট্রাম্পের আহ্বান, জেলেনস্কি বললেন ‘ক্ষেপণাস্ত্র দিন’

যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দিলে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে প্রস্তুত ইউক্রেন। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ প্রস্তাব দেন। দুই দেশের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির জবাবে নিজের অবস্থান জানান তিনি।   জেলেনস্কি বলেন, এ বিষয়ে ট্রাম্প ও তার দলের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের মানুষ হত্যা এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল শোধনাগারে হামলা চালালে জবাব না দিয়ে থাকা সম্ভব নয় বলে তাদের জানিয়েছেন তিনি।   হামলা বন্ধের জন্য দুটি বিকল্প তুলে ধরেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। প্রথমত, রাশিয়াকে ইউক্রেনের জ্বালানিব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিতে হবে। শুধু সহায়তা হিসেবে নয়, ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে অর্থের ব্যবস্থাও ইউক্রেন করবে বলে জানান তিনি।   জেলেনস্কির প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এক মাসের জন্য প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সরবরাহ করলে একই সময় রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখবে কিয়েভ। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র প্যাট্রিয়ট।   এই প্রস্তাব ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হতে পারে কি না, জানতে চাইলে জেলেনস্কি উদ্বেগ নাকচ করেন। তার ভাষায়, অংশীদারদের কাছে সত্য তুলে ধরতে তার কোনো উদ্বেগ নেই।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সরবরাহ পেতে কয়েক বছর লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেন কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার কথা জানাচ্ছে।   দ্রুত ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের নিজস্ব মজুত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন জেলেনস্কি। নতুন কেনাকাটার মাধ্যমে পরে সেই মজুত পূরণ করা যেতে পারে। এদিকে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া মেয়াদ বাড়াতে রাজি না হওয়ায় খেরসনের পূর্বাংশে সীমিত যুদ্ধবিরতি রোববার শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনা চলতি মাসে আবার শুরুর কথা রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০ হাজার ভোট আটকে দিতে আদালতে ট্রাম্প

গাদি আইজেনকোট। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের অনুরোধেও নেতানিয়াহুর সরকারে যোগ দিচ্ছেন না আইজেনকোট

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। ছবি: রয়টার্স

ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে সার্বভৌমত্ব ভাঙা যাবে না: মস্কো

0 Comments